LATEST ARTICLES

আদা খাওয়ার ১০টি স্বাস্থ্য উপকারিতা

আদা খাওয়ার ১০টি স্বাস্থ্য উপকারিতা

আদা নিত্য ব্যবহৃত একটি মসলা। উপমহাদেশে মশলা ব্যবসার কারণে এটি এক সময় মূল্যবান পণ্য ছিল। খ্রিস্টীয় প্রথম শতাব্দীতে মসলা ইউরোপে রপ্তানি করা হয়। এটি ভারতীয় এবং চীনারা টনিক তৈরির জন্য ব্যবহার করেছিল। আদা এখনও বাংলাদেশ সহ ভারত উপমহাদেশে সর্বাধিক ব্যবহৃত মশলাগুলির মধ্যে একটি। বায়োঅ্যাকটিভ যৌগ এবং পুষ্টিতে সমৃদ্ধ আদার বেশ কিছু স্বাস্থ্য উপকারিতা রয়েছে।

আদার যাদুকরী ১০টি স্বাস্থ্য গুণাগুণ

আদা অন্যান্য ভেষজ এর তুলনায় বেশি গুরুত্বপূর্ণ। এটি সহজে চাষ করা যায়। এখন এর চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ায় এবং বহু উপকারের কারণে মানুষ বাড়িতে আদা চাষ করে। অনেকেই তাদের বাড়ীর আঙ্গিনায় বা বাসার ছাদে টবে আদা চাষ করছে। আদার গুণাগুণ বলে শেষ করা যাবেনা। এখানে আদার কিছু আশ্চর্যজনক স্বাস্থ্য উপকারিতার একটি তালিকা দেয়া হলো।

১। আদা হৃদরোগ এবং স্ট্রোকের ঝুঁকি কমায়

হৃদরোগ এবং স্ট্রোক প্রতিরোধে আদা অন্যতম সেরা ঘরোয়া প্রতিকার। আদায় প্রচুর পরিমাণে রক্ত ​​জমাট বাঁধা প্রতিরোধী বৈশিষ্ট্য রয়েছে। এটি আপনার হার্টকে সুস্থ রাখবে এবং স্ট্রোক অথবা হার্ট অ্যাটাক থেকে রক্ষা করবে।

২। আদা হজমে সাহায্য করে

আদা হজমে সাহায্য করে এবং আপনার পরিপাকতন্ত্রকে সুস্থ রাখতে আদার ভূমিকা অপরিসীম। আদা প্রাচীনকাল থেকে ঐতিহ্যগতভাবে পেটের ব্যথা এবং অস্বস্তির চিকিত্সার জন্য ব্যবহার করা হয়েছে। আদায় রয়েছে কারমিনেটিভ নামে একটি যৌগ, যা পরিপাকতন্ত্রকে প্রশমিত করে এবং সিস্টেম থেকে অতিরিক্ত গ্যাস দূর করে পরিপাকতন্ত্রকে সুস্থ রাখে।

৩। আদা গর্ভাবস্থায় বমি বমি ভাব দূর করে

গর্ভাবস্থার সাথে সম্পর্কিত সকালের অসুস্থতা, বমি বমি ভাব বা বমির বিরুদ্ধে আদা কার্যকর। এটি ক্যান্সার রোগীদের এবং অস্ত্রোপচারের পরে বমি করা থেকেও মুক্তি দিতে পারে। আপনি যদি সব সময় বমি বমি ভাব অনুভব করেন তবে এক টুকরো আদা মুখে দিয়ে চিবাতে থাকবেন। খুব দ্রুত বমি বমি ভাব দূর হবে। তবে এই বমি বমি ভাব প্রতিরোধ করতে আপনি ১-১.৫ গ্রাম আদা খেতে পারেন।

৪। আদা ইমিউন সিস্টেম উন্নত করে

আদা লিম্ফ্যাটিক সিস্টেমকে পরিষ্কার করার সাথে সাথে ইমিউন সিস্টেমকে উন্নত করে। অর্থাৎ রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে আদার রয়েছ যথেষ্ট ভূমিকা। এটি অঙ্গপ্রত্যঙ্গে জমে থাকা টক্সিন ভেঙ্গে শরীরকে উষ্ণ রাখে। আপনার শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি আদা শ্বাস-প্রশ্বাসকেও উন্নত করে।

৫। আদা পেশী ব্যথা কমায়

পেশী ব্যথা এবং ব্যথার বিরুদ্ধে আদা কার্যকর একটি ভেষজ। এটি আপনাকে ব্যথা থেকে তাৎক্ষণিক উপশম না দিলেও পেশীতে ব্যথার অগ্রগতি হ্রাস করবে। তাই আদার গুণাগুণ অগ্রাহ্য করা যায়না।

৬। বিরোধী প্রদাহজনক প্রভাব

অস্টিওপোরোসিসে আক্রান্ত রোগীদের ব্যথা কমানোর জন্য আদার গুরুত্ব রয়েছে। কারণ আদার মধ্যে রয়েছে জিঞ্জেরল, যার রয়েছে প্রদাহ বিরোধী বৈশিষ্ট্য। এটি নিয়মিত সেবনে রোগীদের ব্যথা কমবে। সেই সাথে তাদের গতিশীলতাও উন্নত করবে। অস্টিওপোরোসিসে আক্রান্ত ২৪৭ জন রোগীর উপর পরিচালিত একটি সমীক্ষা হয়েছিল। সেই সমীক্ষা অনুসারে আদার নির্যাস খাওয়া রোগীদের জন্য কম ব্যথার ওষুধের প্রয়োজন ছিল। আর তাদের ব্যথাও তুলনামূলক ভাবে কম ছিল।

৭। আদা মহিলাদের মাসিকের ব্যথা কমায়

মহিলাদের মাসিকের ব্যথা এবং অস্বস্তি দূর করতে আদা খাওয়া যেতে পারে। কারণ এই মসলাটি আইবুপ্রোফেন এবং মেফেনামিকের মতো ওষুধের মতোই কার্যকর। এর জন্য যা করতে হবে তা হল মাসিকের প্রথম তিন দিনে দিনে একবার ১ গ্রাম আদা খাওয়া। এটি মাসিকের রক্তপাতের সময় ব্যথা কমিয়ে দেবে।

৮। আদা ছত্রাক এবং ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণ রোধ করে

আদার মধ্যে উপস্থিত জিঞ্জেরল ছত্রাক এবং ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণের ঝুঁকি কমাতে পারে। আদার মধ্যে রয়েছে স্ট্রেপ্টোকক্কাস পাইজেনেস এবং স্ট্যাফিলোকক্কাস অরিয়াসের মতো ব্যাকটেরিয়া মেরে ফেলার ক্ষমতা। আদা বিভিন্ন ধরনের ক্ষতিকারক ব্যাকটেরিয়ার বৃদ্ধি রোধে কার্যকর। এছাড়াও আদায় আরও বেশ কিছু ছত্রাক-বিরোধী বৈশিষ্ট্যও রয়েছে।

৯। ডায়াবেটিস প্রতিরোধে আদা সাহায্য করে

বায়োঅ্যাকটিভ যৌগ জেরোল ইনসুলিন সংবেদনশীলতা বাড়ায় এবং ডায়াবেটিস প্রতিরোধে সাহায্য করে। এটি আপনাকে ডায়াবেটিস এবং ডায়াবেটিস সংক্রান্ত জটিলতা থেকে রক্ষা করতে পারে। এটি ডায়াবেটিসের সাথে সম্পর্কিত জটিলতা গুলিকেও উন্নত করে। আদার অন্যান্য গুণগুলোর মতো এটিও অনেক উপকারী।

১০। পাকস্থলীর আলসার নিরাময়ে আদার ভূমিকা

আদা পেটের আলসারের বিরুদ্ধে কার্যকর। আদা আপনার হজম ঠিক রাখবে এবং আপনার পেট সুস্থ রাখবে। আলসারের চিকিৎসায় ব্যবহৃত ওষুধের চেয়ে মশলাটি বেশি কার্যকর বলে জানা যায়।

এই লেখাটি আপনাদের কেমন লাগছে জানিনা। উপকার করার জন্য পোস্ট করেছি। যদি ভালো লেগে থাকে তবে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্টটি শেয়ার করুন।

কোষ্ঠকাঠিন্য কি? কেন হয় এবং কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করার উপায়-২০২২

কোষ্ঠকাঠিন্য কি, কেন হয় এবং প্রতিরোধের উপায়

কোষ্ঠকাঠিন্য বর্তমানে একটি অতিপরিচিত একটি রোগ। এই রোগে ভোগে নাই এমন মানুষ হয়তো খুব কমই আছে। কিন্তু অনেকেই জানেনা এর নাম কোষ্ঠকাঠিন্য। অনেকেই প্রশ্ন করে কোষ্ঠকাঠিন্য কি? কোষ্ঠকাঠিন্য কাকে বলে? কোষ্ঠকাঠিন্য কেন হয়? এটি একটি যন্ত্রণাদায়ক এবং বিরক্তিকর রোগ। হয়তো অনেকে মলত্যাগে কষ্টের কথা ভেবে টয়লেটে যেতে ভয় পায়। শিশু-বৃদ্ধ, নারী-পুরুষ যে কেউ এ রোগে আক্রান্ত হতে পারে। টয়লেটে বসে ঘণ্টার পর ঘণ্টা কেটে যাওয়ার পরও যদি মলত্যাগ না হয় তবে কি যে বিরক্ত লাগে সেটা শুধু ভুক্তভোগীরাই বোঝে। এই রকম পরিস্থিতির জন্য অস্বস্তিতে ভুগতে হয়। কারও কারও ক্ষেত্রে এটা একটা দীর্ঘ মেয়াদী রোগ হয়ে যায়।

কোষ্ঠকাঠিন্য কি?

এক সপ্তাহে যদি তিনবার বা তার কম সংখ্যক বার মলত্যাগ হয় অথবা মলের পরিমাণ কম অথবা অস্বাভাবিক ধরণের শক্ত বা শুকনো এবং অনেকক্ষণ ধরে চেষ্টা করলেও মলত্যাগ হয়না তখন তাকে কোষ্ঠকাঠিন্য বলে

কোষ্ঠকাঠিন্য কেন হয়?

কোষ্ঠকাঠিন্য হলে সাধারণত মল বা বর্জ্য পরিপাকতন্ত্রের মধ্য দিয়ে খুব ধীরে চলে যায়। মল সঠিকভাবে মলদ্বার থেকে বের হতে পারে না বিধায় মল শুষ্ক ও শক্ত হয়। এছাড়াও কোষ্ঠকাঠিন্য হবার কারণ অনেক থাকলেও আমরা এখানে কমন বা পরিচিত কিছু কারণ তুলে ধরবো। এতে করে সহজে আপনি কোষ্ঠকাঠিন্য সম্বন্ধে সচেতন থাকতে পারবেন। এটা জানার পর আমরা কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করার উপায় সম্পর্কে জানব।

শরীরের ওজন কমানোর উপায়

কোষ্ঠকাঠিন্যের কারণ গুলো নিম্নরূপ-

  • পর্যাপ্ত পরিমাণে আঁশজাতীয় খাবার না খাওয়া।
  • পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান না করা ।
  • ব্যায়াম না করা বা শারিরীক কোন পরিশ্রম না করা।
  • হঠাৎ করে খাদ্যাভাসের পরিবর্তন করা।
  • নিয়মিত টয়লেট না করে থাকা
  • কিছু কিছু ওষুধ যেমন আয়রন বা ক্যালসিয়াম বড়ি ইত্যাদি খাওয়া বা নিয়মিত কিছু ব্যথানাশক ওষুধ খাওয়া।
  • টিউমার, আই বি ডি বা হার্নিয়া জাতীয় রোগ থাকলে।
  • ল্যাক্সাটিভ এর ব্যবহার বেশি পরিমাণে করা।

এছাড়াও কিছু শারিরীক জটিলতা যেমন- পাকস্থলীর টিউমার বা হরমোনের তারতম্য ইত্যাদি কারণে কোষ্ঠকাঠিন্য হতে পারে।

কোষ্ঠকাঠিন্যের লক্ষণগুলো কী কী?

কোষ্ঠকাঠিন্যের উপসর্গ হলো:

  • মল অনেক শক্ত, শুকনো এবং গুটি গুটি।
  • মল ত্যাগের সময় মলদ্বারে অনেক ব্যাথা পাওয়া যায় এবং মলত্যাগ করতে অসুবিধা হয়।
  • প্রতিবার মল ত্যাগ করতে স্ট্রেন করা।
  • মলত্যাগ নিয়মিত হয়না এবং স্বাভাবিকের চেয়ে কম।
  • মলত্যাগের সময় স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি সময় ও চাপ প্রয়োগ করতে হয়।
  • ক্ষুধামান্দ্য এবং বমি বমি ভাব।
  • পেট ফুলে যাওয়ার মতো বোধ।
  • পেটে ব্যথা এবং ক্র্যাম্পিং।

কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করার উপায় কি?

কিছু নিয়ম কানুন মেনে চললে কোষ্ঠকাঠিন্য থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। খাদ্যাভ্যাসের পরিবর্তন ও অস্বাস্থ্যকর জীবনযাপন কোষ্ঠকাঠিন্যের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাই কোষ্ঠকাঠিন্য প্রতিরোধের উপায় হিসেবে নিচের টিপস গুলো মেনে চলুন।

  • প্রতিদিন আঁশযুক্ত খাবার খেতে হবে এবং প্রচুর পরিমাণে পানি পান করতে হবে। আঁশযুক্ত খাবার হিসেবে শাকসবজি, বিভিন্ন প্রকার ফল যেমন পেঁপে এবং বেল, গোটা শস্য খেতে হবে।
  • দুশ্চিন্তা বা মানসিক চাপ থেকে মুক্ত থাকতে হবে।
  • সহজভাবে বসে বা সুবিধাজনক পজিশনে বসে মলত্যাগ করা।
  • নিয়মিত পায়খানা করা এবং মল চেপে রাখার অভ্যাস করা পরিত্যাগ করা।
  • শারিরীক ব্যায়াম করা এবং হাঁটাচলা করা।
  • ইসবগুলের ভুসি কোষ্ঠকাঠিন্যের সমাধানে বেশ উপকারী।
  • ভাজাপোড়া খাবার, চকলেট, চিপস, আয়রন ক্যাপসুল, কাঁচাকলা, প্রচুর চিনিযুক্ত কেক, পেস্ট্রি কেক ইত্যাদি খাবার কম খাওয়া।

ব্রেস্ট ক্যান্সার কি এবং কেন হয়

কোষ্ঠকাঠিন্য থেকে কি কি জটিলতা সৃষ্টি হয়?

কোষ্ঠকাঠিন্য যদি দীর্ঘ দিন ধেরে থাকে তবে সেখান থেকে অনেক ধরণের রোগ হতে পারে। এই রোগ গুলো আরও বেশি যন্ত্রণাদায়ক হয়। কোষ্ঠকাঠিন্য হলে কি কি জটিলতা হতে পারে বা কোষ্ঠকাঠিন্য থেকে কি রোগ হতে পারে তা নিম্নে লেখা হলোঃ

ফিসারঃ

কোষ্ঠকাঠিন্যের কারণে মলত্যাগের সময় মলদ্বারে ফেটে গিয়ে ক্ষত বা ঘাঁ এর মতো হয়। এই ক্ষত বা ঘাঁয়ের কারণে অনেক সময় মলের সাথে সামান্য রক্তও যেতে পারে। মলদ্বারে জ্বালাপোড়া হতে পারে এবং আস্তে আস্তে পায়ুপথ সরু হয়ে আসে। বেশি দিন স্থায়ী হলে অস্ত্রপাচারের দরকার হয়।

অর্শ বা পাইলসঃ

চিকিৎসকের ভাষায় পাইলসকে হেমোরয়েড এবং বাংলায় অর্শ্ব রোগ বলা হয়। পাইলস আস্তে আস্তে বড় হয়ে নিচের দিকে নেমে আসে। অনেক সময় পাইলসের কারণে ব্যাথা না পাওয়া গেলেও রক্তপাত হতে পারে।

ফিস্টুলাঃ

সজহ কথায় মলদ্বারে ফিসটুলা হলো একটি ঘা। এই ঘায়ের একটি মুখ পায়ুপথের ভেতরে থাকে এবং অন্যটি বাইরে থাকে। ফিসটুলা তৈরি হওয়ার মূল কারণ মলদ্বারের গ্রন্থিতে পূঁজ সৃষ্টি হওয়া। পায়ূ এবং মলাশয়ের মধ্যকার নালীকে মলদ্বারের নালী বলে। এখানে মলদ্বারের অনেকগুলি গ্রন্থি রয়েছে এবং এগুলোতে সংক্রমণ হলে তা পূঁজ গঠনের কারণ হয়।

এছাড়াও ইন্টেসটাইনাল অবস্ট্রাকশন, রেক্টাল প্রোলাপস, অরুচি, ক্ষুধামন্দা, পেটব্যথা বা ফাঁপার মতো জটিলতা সৃষ্টি হয়।

শেষ কথাঃ

কোন রোগকে ছোট করে দেখার অবকাশ নেই। নিয়মিত শরীরচর্চা, সঠিক খাদ্যাভ্যাস এবং পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান করলে কোষ্ঠকাঠিন্য থেকে অনেকাংশে রেহাই পাওয়া যায়। সোজাকথা এধরনের রোগ মুক্তির জন্য স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভাসের কোন বিকল্প নেই। পাশাপাশি, অনিয়মিত মলত্যাগের বদভ্যাস ত্যাগ করে নিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন করতে হবে। এই আর্টিকেল সম্পর্কে কাও কোন মতামত থাকলে অনুগ্রহ করে কমেন্ট করে জানাবেন।

আরও তথ্য জানতে গুগলের সহায়তা নিতে পারেন।

বাংলাদেশের ১০টি সেরা কলেজ-২০২২

২০২২ সালের বাংলাদেশের ১০টি সেরা কলেজ

এসএসসি বা এইচএসসি পরীক্ষার পর সব ছাত্র-ছাত্রীদেরই উচ্চ শিক্ষার জন্য কলেজে ভর্তি হওয়ার ইচ্ছা থাকে। সেই সাথে সেরা কলেজে ভর্তি হওয়ার জন্য চিন্তায় থাকে। কিন্তু সঠিক তথ্যের অভাবে অনেক সময় সুযোগ থাকা সত্ত্বেও ভালো কলেজ হাত ফসকে যায়। যা কখনো কখনো সারা জীবন আফসোসের কারণ হয়। এই সমস্যা থেকে আপনাদের একটু হলেও রেহাই দেব। কারণ আজকের আর্টিকেল বাংলাদেশের ১০টি সেরা কলেজ সম্পর্কে।  আপনি যদি সদ্য এসএসসি বা এইচএসসি পাশ করে থাকেন এবং কোন কলেজে ভর্তি হবেন তা নিয়ে চিন্তিত থাকেন তাহলে আটঘাট বেধে বসে যান আমাদের আজকের আর্টিকেলটি পড়তে।

আলোচনার শুরুতেই আমরা আজকের আলোচনার বাংলাদেশের সেরা কলেজ গুলোর নাম, অবস্থান সহ তালিকা আপনাদের সামনে উপস্থাপন করছি। এগুলো হলো:

  • ঢাকা কলেজ
  • হলিক্রস কলেজ
  • নটরডেম কলেজ
  • রাজউক উত্তরা মডেল কলেজ
  • সরকারী বিজ্ঞান কলেজ
  • আনন্দমোহন সরকারি কলেজ
  • সরকারি আজিজুল হক কলেজ
  • এডওয়ার্ড কলেজ
  • পি সি কলেজ
  • বি এম কলেজ
  • ঢাকা কলেজ

ঢাকার সেরা কলেজগুলোর নাম বলতে গেলে প্রথমেই আসে ঢাকা কলেজের নাম। বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্তর্ভুক্ত এই ঢাকা কলেজটি প্রতিষ্ঠিত হয় ১৮৪১ সালে।  রাজধানীর মিরপুর রোডে অবস্থিত এই কলেজটিতে ছাত্র সংখ্যা ২৫০০০ এর বেশি। কলেজটি নামকরা হওয়ার পেছনে একটি কারণ হলো এর অভিনব ভর্তি পদ্ধতি। কলেজটিতে ভর্তির জন্য বিজ্ঞান বিভাগে জিপিএ ৫, ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে জিপিএ ৪.৭৫ এবং মানবিক বিভাগে জিপিএ ৪.৫০ এর কমে ভর্তি হওয়া যায় না। এই কলেজটি শুধু মাত্র ছাত্রদের জন্য। কলেজটিতে উচ্চমাধ্যমিক থেকে মাস্টার্স পর্যন্ত পড়াশোনা করা যায়। এবারে চলুন এক নজরে ঢাকা কলেজ দেখে নেই:

  • নাম: ঢাকা কলেজ
  • প্রতিষ্ঠা: ১৮৪১ সাল
  • ছাত্র: ২৫০০০
  • ভর্তি: বিজ্ঞান (৫.০০), কমার্স (৪.৭৫), মানবিক (৪.৫০)।
  • কারা পড়তে পারবে: শুধু ছাত্র।
  • পড়াশোনা: উচ্চ মাধ্যমিক থেকে মাস্টার্স।

বাংলাদেশে ক্যাডেট কলেজ কয়টি? ক্যাডেট কলেজের লিস্ট-২০২২

  • হলিক্রস কলেজ

এসএসসি পাশের পর সব মেধাবী ছাত্রীদের প্রথম স্বপ্ন থাকে হলিক্রস কলেজ। পড়ালেখার  অসাধারণ মানের পাশাপাশি যেহেতু ভর্তি পরীক্ষার মাধ্যমে ভর্তি করানো হয় তাই শুধুমাত্র মেধাবীদের একটা মিলনমেলা ই বলা যায় একে। খ্রিস্টান মিশনারী কর্তৃক পরিচালিত এই কলেজটিতে শুধু মাত্র উচ্চ মাধ্যমিক পর্যন্ত পড়াশোনা করার সুযোগ আছে।  তেজগাও এ অবস্থিত এই কলেজটির ছাত্রী সংখ্য মাত্র ২৫০০।  কলেজটি প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৫০ সালে। এই কলেজটিতে বিজ্ঞান, ব্যবসায় শিক্ষা এবং মানবিক তিনটি বিভাগ চলমান আছে। একনজরে দেখে নিন হলিক্রস কলেজ:

  • নাম: হলিক্রস কলেজ।
  • প্রতিষ্ঠা: ১৯৫০।
  • ছাত্রী: ২৫০০
  • অবস্থান : তেজগাঁও।
  • ভর্তির বিভাগ: বিজ্ঞান, ব্যবসায় শিক্ষা, মানবিক।
  • কারা পড়তে পারবে: শুধু ছাত্রী।
  • পড়াশোনা : উচ্চ মাধ্যমিক।
  • নটরডেম কলেজ

হলিক্রসের মতোই এসএসসির পরেই ছেলেদের প্রথম পছন্দ থাকে নটরডেম কলেজ। আর এটি এখন বাংলাদেশের সেরা কলেজ গুলোর মধ্যে অন্যতম। ১৯৪৯ সালে প্রতিষ্ঠিত এই কলেজটিও তার ভালো ফলাফলের জন্য সব কলেজ গুলের মধ্যে জনপ্রিয়তা লাভ করেছে। কলেজটির অবস্থান ঢাকার টয়েনবি সার্কুলার এ। কলেজটিতে ছাত্র সংখ্যা ৬৪০০ এর অধিক। কলেজটিতে ভর্তির জন্য বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্রদের জিপিএ ৫, ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের ছাত্রদের জিপিএ ৪ এবং মানবিক বিভাগের ছাত্রদের জিপিএ ৩ প্রয়োজন হয়। এটি খ্রিস্টান মিশনারী পরিচালিত একটি বেসরকারি কলেজ। এক নজরে দেখে নিন নটরডেম কলেজের খুটিনাটি :

সেরা কলেজ
Photo credit: canva.com
  • নাম: নটরডেম কলেজ।
  • প্রতিষ্ঠা: ১৯৪৯ সাল।
  • অবস্থান : টয়েনবি সার্কুলার, ঢাকা।
  • কারা পড়তে পারবে: শুধু ছাত্র।
  • পড়াশোনা: উচ্চ মাধ্যমিক এবং বি.এ।
  • ভর্তির বিভাগ: বিজ্ঞান , ব্যবসায় শিক্ষা, মানবিক। তবে ব্যাচেলর অব আর্টস পড়ার সুযোগ আছে।
  • ছাত্র: ৬৪০০ এর অধিক।
  • রাজউক উত্তরা মডেল কলেজ

রাজধানীর উত্তরার সেক্টর ৬ এর ১৩ নং রোডে অবস্থিত রাজউক উত্তরা মডেল কলেজ। কলেজটি প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৯৪ সালে। কলেজটিতে ছেলে মেয়ে উভয়ে পড়তে পারবে। এই কলেজটিতে ভর্তির জন্য কোনো ভর্তি পরীক্ষা দিতে হয় না। বরং এসএসসিতে পাওয়া জিপিএ এর মাধ্যমেই  ভর্তিচ্ছু ছাত্র ছাত্রীদের কলেজ মনোনয়ন দেয়া হয়। এখানেও বিজ্ঞান বিভাগে জিপিএ ৫ পাওয়ার শর্ত জুড়ে দেয়া হয় এবং বাকি দুইটা বিভাগে জিপিএ ৫ এর কম পেলেই হয়। এই খ্যাতিমান কলেজটাতে ছাত্রছাত্রী সংখ্যা ৪৮৩২ জন। “মানুষ হওয়ার জন্য শিক্ষা ” এই মূলনীতি কে সামনে রেখে এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি তার কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। এক নজরে রাজউক উত্তরা মডেল কলেজ :

  • নাম: রাজউক উত্তরা মডেল কলেজ।
  • প্রতিষ্ঠা সাল: ১৯৯৪।
  • অবস্থান : রোড ৩, সেক্টর ৬, উত্তরা, ঢাকা।
  • ছাত্রছাত্রী: ৪৮৩২।
  • কারা পড়তে পারবে: ছেলে মেয়ে উভয়ে।
  • মূলনীতি : মানুষ হওয়ার জন্য শিক্ষা।
  • পড়াশোনা : উচ্চ মাধ্যমিক।
  • ভর্তির বিভাগ: বিজ্ঞান , ব্যবসায় শিক্ষা , মানবিক।
  • সরকারী বিজ্ঞান কলেজ

ঢাকার তেজগাঁও এ অবস্থিত সরকারী বিজ্ঞান কলেজ। কলেজটি ১৯৮৬ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রথম দিকে কলেজটি বিএসসির পাশাপাশি বিবিএ এবং বিএ পড়ার সুযোগ থাকলেও পরবর্তীতে শুধুমাত্র বিএসসি করা যেতো। তবে কলেজটিতে বর্তমানে উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালিত আছে। এই কলেজটির ছাত্র সংখ্যা প্রয় ২৫০০। কলেজটি শুধুমাত্র ছেলেদের জন্য। এক নজরে দেখে নিন সরকারি বিজ্ঞান কলেজের খুটিনাটি :

  • নাম: সরকারি বিজ্ঞান কলেজ।
  • প্রতিষ্ঠা: ১৯৮৬ সাল।
  • অবস্থান: ফার্মগেট, তেজগাঁও, ঢাকা
  • পড়াশোনা : উচ্চ মাধ্যমিক।
  • কারা পড়তে পারবে: শুধু ছেলেরা।
  • ছাত্র সংখ্যা : ২৫০০।
  • সরকারি আনন্দমোহন কলেজ, ময়মনসিংহ

দেশের সর্বশেষ বিভাগীয় শহর ময়মনসিংহের ঐতিহ্যবাহী কলেজ সরকারি আনন্দমোহন কলেজ। কলেজটি ১৯০৮ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৯৭৭ সালে এটিকে সরকারিকরণ করা হয়। কলেজের শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় ৩৮০০০। এই প্রতিষ্ঠানে উচ্চ মাধ্যমিক, বিএসসি, বিবিএ, বিএ, ডিগ্রি (পাসকোর্স) সবকিছু পড়ার সুযোগ রয়েছে। সরকারী কলেজ হিসেবে উচ্চ মাধ্যমিকে ভর্তির জন্য জিপিএ ৫ এর কড়াকড়ি না থাকলেও একদম কম জিপিএ ধারীরা ভর্তি হতে পারবে না। এখানে ভর্তির জন্য ন্যূনতম  জিপিএ ৪.৫০ থেকে ৪.০০ এর মধ্যে পেতে হবে। একনজরে আনন্দমোহন কলেজ:

  • নাম: সরকারি আনন্দমোহন কলেজ।
  • অবস্থান : কলেজ রোড, ময়মনসিংহ।
  • প্রতিষ্ঠা: ১৯০৮, সরকারীকরণ ১৯৭৭।
  • শিক্ষার্থী : প্রায় ৩৮০০০।
  • কারা পড়তে পারবে: ছেলে মেয়ে উভয়ে।
  • পড়াশোনা : উচ্চ মাধ্যমিক, বিএসসি, বিবিএ, বিএ, পাসকোর্স।
  • সরকারি আজিজুল হক কলেজ, বগুড়া

বাংলাদেশের সেরা কলেজ গুলোর একটি হচ্ছে বগুড়া শহরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত এই ঐতিহ্যবাহী কলেজটি প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৩৯ সালে। ১৯৬৮ সালে কলেজটিকে সরকারীকরণ করা হয়। সরকারী কলেজ হিসেবে জিপিএ-র ধরা বাধা নিয়ম না থাকলেও ন্যূনতম জিপিএ র শর্ত কলেজটিও দিয়ে থাকে। এখানে উচ্চ মাধ্যমিক থেকে শুরু করে মাস্টার্স পর্যন্ত পড়াশোনা করা যায় এবং ডিগ্রি নেয়া যায়। একনজরে সরকারী আজিজুল হক কলেজ :

  • নাম: সরকারী আজিজুল হক কলেজ।
  • প্রতিষ্ঠা: ১৯৩৯ সাল।
  • সরকারীকরণ: ১৯৬৯ সাল।
  • কারা পড়তে পারবে: ছেলে মেয়ে উভয়ে।
  • পড়াশোনা : উচ্চ মাধ্যমিক থেকে মাস্টার্স।
  • সরকারী এডওয়ার্ড কলেজ পাবনা

সেরা কলেজ যদি আপনি খুঁজতে যান তবে এটিকে বাদ দেয়া যাবেনা। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে তা যত প্রাচীন হয় তত ঐতিহ্যবাহী হয়। তেমনি একটা কলেজ এই সরকারি এডওয়ার্ড কলেজ। কলেজ টি পাবনার কেন্দ্রবিন্দুতে অবস্থিত। এই কলেজটি প্রতিষ্ঠিত হয় ১৮৯৮ সালে। প্রায় ২২০০০ শিক্ষার্থীর এই কলেজটিতে উচ্চমাধ্যমিক থেকে শুরু করে উচ্চতর ডিগ্রি নেয়া যায়। একনজরে দেখুন সরকারি এডওয়ার্ড কলেজ :

  • নাম: সরকারি এডওয়ার্ড কলেজ।
  • প্রতিষ্ঠা: ১৮৯৮ সাল।
  • শিক্ষার্থী: প্রায় ২২০০০।
  • কারা পড়তে পারবে: ছেলে মেয়ে উভয়ে
  • পড়াশোনা : উচ্চ মাধ্যমিক থেকে মাস্টার্স।
  • সরকারি বিএম কলেজ, বরিশাল

দক্ষিন বাংলার অক্সফোর্ড নামে খ্যাত এই ব্রজমোহন কলেজ। প্রতিষ্ঠিত হয় ১৮৮৯ সালে। প্রায় ২৭০০০ ছাত্র ছাত্রী নিয়ে কার্যক্রম পরিচালনা করছে কলেজটি। কলেজটিতে ভর্তি পরীক্ষার মাধ্যমে আগে ভর্তি করা হলেও বর্তমানে জিপিএ এর ভিত্তিতে ভর্তি করা হয়। এই কলেজটিতে উচ্চমাধ্যমিক থেকে শুরু করে মাস্টার্স পর্যন্ত পড়াশোনা করার সুযোগ আছে। এক নজরে দেখে নিন  বি এম কলেজের তথ্যদি:

  • নাম: সরকারি বি এম কলেজ।
  • প্রতিষ্ঠা: ১৮৮৯ সাল।
  • ছাত্র ছাত্রী: ২৭০০০।
  •  পড়াশোনা: উচ্চ মাধ্যমিক থেকে মাস্টার্স।
  • কারা পড়তে পারবে: ছেলে মেয়ে উভয়ে।
  • সরকারি পি সি কলেজ, বাগেরহাট

বাগেরহাটের বিখ্যাত কলেজ এই সরকারী পিসি কলেজ। কলেজটি বাগেরহাট জেলার হরিণ খানায় অবস্থিত। এটি প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯১৮ সালে। কলেজটিতে উচ্চমাধ্যমিক থেকে শুরু করে মাস্টার্স পর্যন্ত পড়াশোনার সুযোগ আছে। কলেজটির পুরো নাম প্রফুল্লচন্দ্র মহাবিদ্যালয়। দেখে নিন একনজরে কলেজটির বৃত্তান্ত :

  • নাম : সরকারি পি সি কলেজ।
  • প্রতিষ্ঠা: ১৯১৮ সাল।
  • পড়াশোনা : উচ্চমাধ্যমিক থেকে মাস্টার্স।
  • কারা পড়তে পারবে: ছেলে মেয়ে উভয়ে।

শেষকথা

আপনি যদি এতক্ষণ আমাদের পোস্টটি মন দিয়ে পড়ে থাকেন তাহলে নিশ্চয় জেনে গিয়েছেন সেরা কলেজ সম্পর্কে। একটা কথা বলে রাখা ভালো, কোন কলেজ কত ভালো, কত বিখ্যাত তার উপর কিন্তু আপনার রেজাল্ট নির্ভর করবে না। এজন্য আপনাকেই পড়াশোনা করতে হবে ভালোভাবে। আমাদের প্রবন্ধে যে যে কলেজের কথা উল্লেখ আছে সেগুলো প্রত্যেকটাই স্ব মহিমায় স্ব স্থানে ঐতিহ্যের আঁচড় কেটেছে। এখন সিধান্ত আপনার কোথায় ভর্তি হবেন আর কিভাবে নিজের ভবিষ্যত গড়ে নেবেন। তো পাঠক! কোন কলেজটায় ভর্তি হচ্ছেন?

 

বাংলাদেশে ক্যাডেট কলেজ কয়টি? ক্যাডেট কলেজের লিস্ট-২০২২

বাংলাদেশের ক্যাডেট কলেজ কয়টি? ক্যাডেট কলেজ লিস্ট দেখে নিন

আপনি কি জানেন বাংলাদেশে ক্যাডেট কলেজ কয়টি? এসএসসি পরীক্ষার্থীরা রেজাল্ট হওয়ার আগে থেকেই কোন কলেজে ভর্তি হবে এটা নিয়ে বেশ চিন্তায় পড়ে যায়। কারণ আমরা সকলেই চাই ভালো কলেজে ভর্তি হতে। সেই সাথে নেওয়া হয় কত প্রস্তুতি। আমরা যারা ক্যাডেট কলেজে ভর্তি হতে চাই তাদের অবশ্যই জানা উচিত বাংলাদেশে ক্যাডেট কলেজ কয়টি? বা ক্যাডেট কলেজ লিস্ট সম্পর্কে। বাংলাদেশ ক্যাডেট কলেজ লিস্ট সম্পর্কে জানা থাকলে আপনি অনেক উপকৃত হবেন। 

আপনি যদি জানেন বাংলাদেশের কোথায় কোথায় ক্যাডেট কলেজ রয়েছে। তাহলে আপনি আপনার অবস্থান থেকে সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন কোন ক্যাডেট কলেজটি আপনার জন্য সুবিধাজনক। কলেজের সুবিধা ও অসুবিধা সম্পর্কে সচেতন হতে পারবেন। ভর্তি পরীক্ষা দেওয়ার আগে সেই কলেজের আগের প্রশ্নপত্র সম্পর্কে ধারণা নিতে পারবেন। মোটকথা বাংলাদেশে ক্যাডেট কলেজ কয়টি? বা ক্যাডেট কলেজ লিস্ট সম্পর্কে জানা থাকলে আপনি কোন কলেজে ভর্তি হওয়া জন্য উপযুক্ত তা নির্বাচন করতে পারবেন। 

আপনাদের সুবিধার্থে, আমি আজকে আলোচনা করব বাংলাদেশে ক্যাডেট কলেজ কয়টি? এবং ক্যাডেট কলেজ লিস্ট সম্পর্কে। আরো আলোচনা করব ক্যাডেট কলেজ সম্পর্কে বেসিক বিষয় নিয়ে। ক্যাডেট কলেজ লিস্ট সম্পর্কে জানতে আমাদের আজকের পুরো পোস্টটি মনোযোগ সহকারে পড়বেন। 

  • ক্যাডেট কলেজ কি?

বাংলাদেশ সামরিক বাহিনী পরিচালিত বিশেষ ধরনের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ক্যাডেট কলেজ বলে পরিচিত। বাংলাদেশে ১৯৫৮ সাল থেকে সামরিক বাহিনী কর্তৃক ক্যাডেট কলেজ পরিচালিত হয়ে আসছে। এ ধরনের কলেজ প্রতিষ্ঠার মূল লক্ষ্য হলো বাংলাদেশ সামরিক বাহিনীতে যোগ্য কর্মকর্তা তৈরি করা। তবে সর্বপ্রথম সামরিক বাহিনী কর্তৃক ক্যাডেট কলেজ পরিচালনা করেন বিসমার্ক জার্মনিতে। অর্থাৎ সর্বপ্রথম ক্যাডেট কলেজ প্রতিষ্ঠিত হয় জার্মানিতে। পরবর্তীতে এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করেন নোপোলিয়ান ফ্রান্সে। আর সর্বশেষে এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিচালিত হয় পাকিস্তান এবং তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে। অর্থাৎ, বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার আগে থেকেই এই শিক্ষা কার্যক্রম চলে আসছে। 

ক্যাডেট কলেজের সাথে আদর্শগত কিছু সামঞ্জস্য রয়েছে ইংল্যান্ডের পাবলিক স্কুলগুলোর। তবে শুধুমাত্র বাংলাদেশ এবং পাকিস্তানে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক সমন্বিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে জনপ্রিয়তা পেয়েছে ক্যাডেট কলেজ। এই দুটি দেশই ক্যাডেট কলেজ গুলোর নামীয় শিক্ষা বজায় রাখে চলছে। বাংলাদেশ এবং পাকিস্তানে সামরিক বাহিনী কর্তৃক পরিচালিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো ক্যাডেট বলে পরিচিত। আমরা ক্যাডেট কলেজগুলোকে সাধারণ মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক স্কুল বুঝলেও সাধারণ মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক স্কুলগুলোকে ক্যাডেট কলেজ বলা যাবে না। 

ক্যাডেট কলেজে লেখাপড়া করতে পারলে আমরা উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ এর আশা করতে পারি। এই প্রতিষ্ঠানগুলোতে লেখাপড়া করলে সেনাবাহিনীতে যোগদান করা সহজ হয়। ক্যাডেট কলেজ গুলোতে লেখাপড়া করানোও হয় উন্নত মানের শিক্ষক দ্বারা।

  • বাংলাদেশের ক্যাডেট কলেজ লিস্ট

    ক্যাডেট কলেজ
    Photo credit: Canva.com

ক্যাডেট কলেজ সম্পর্কে একটি প্রশ্ন প্রায়ই আমাদের চোখের সামনে ভাসে সেটি হলো বাংলাদেশে ক্যাডেট কলেজ কয়টি? আরেকটি প্রশ্ন বাংলাদেশে মহিলা ক্যাডেট কলেজ আছে কি না? আজকে আমি আপনাদের প্রশ্নের উত্তর দিবো। বাংলাদেশে মোট ক্যাডেট কলেজ ১২ টি। আর বাংলাদেশে মহিলা ক্যাডেট কলেজ আছে ৩ টি। সেগুলো হলো: ময়মনসিংহ গার্লস ক্যাডেট কলেজ, ফেনী গার্লস ক্যাডেট কলেজ, জয়পুরহাট গার্লস ক্যাডেট কলেজ। বাংলাদেশের সর্বপ্রথম ক্যাডেট কলেজ হলো ফৌজদারহাট ক্যাডেট কলেজ। যেটি চট্টগ্রামে অবস্থিত।

  • বাংলাদেশের ক্যাডেট কলেজ গুলোর অবস্থান

ক্যাডেট কলেজ লিস্ট জানার পর বুঝতে পারবেন কোন কলেজ কোথায় অবস্থিত। কলেজগুলো আপনার অবস্থান থেকে কত দূর। কলেজগুলো কত বছর ধরে কার্যক্রম চালিয়ে আসছে এবং এর প্রাপ্তি সম্পর্কে। আপনাকে ভর্তি পরীক্ষায় সফলভাবে উত্তীর্ণ হতে কলেজগুলো সম্পর্কে ধারণা আপনাকে অনেকাংশে সহায়তা করবে।

নিচে দেওয়া হলো ক্যাডেট কলেজ লিস্ট: 

  • ফৌজদারহাট ক্যাডেট কলেজ

    • অবস্থান:ফৌজদারহাট, চট্টগ্রাম।
    • প্রতিষ্ঠিত: ১৯৫৮ সাল।
    • আয়তন: ১৮৫ একর।
  • ঝিনাইদহ ক্যাডেট কলেজ

    • অবস্থান: ঝিনাইদহ
    • প্রতিষ্ঠিত: ১৯৬৩ সাল।
    •  আয়তন: ১১০ একর।
  • মির্জাপুর ক্যাডেট কলেজ

    • অবস্থান: রাজশাহী।
    • প্রতিষ্ঠিত: ১৯৬৬ সাল।
    • আয়তন: ১১০ একর।
  • সিলেট ক্যাডেট কলেজ

    • অবস্থান: সিলেট
    • প্রতিষ্ঠিত: ১৯৭৮ সাল।
    • আয়তন: ৫২.৩৭ একর।
  • রংপুর ক্যাডেট কলেজ

    • অবস্থান: রংপুর
    • প্রতিষ্ঠিত: ১৯৭৯ সাল।
    • আয়তন: ৩৬.৭৫ একর।
  • বরিশাল ক্যাডেট কলেজ

    • অবস্থান: বরিশাল
    • প্রতিষ্ঠিত: ১৯৮১ সাল
    • আয়তন: ৫০.৩৪ একর
  • পাবনা ক্যাডেট কলেজ

    • অবস্থান: পাবনা
    • প্রতিষ্ঠিত: ১৯৮১ সাল
    • আয়তন: ৩৮.২৫৫ একর
  • ময়মনসিংহ গার্লস ক্যাডেট কলেজ

    • অবস্থান: ময়মনসিংহ
    • প্রতিষ্ঠিত: ১৯৮২ সাল
    • আয়তন: ২৭.৩৭ একর
  • কুমিল্লা ক্যাডেট কলেজ

    • অবস্থান: কুমিল্লা
    • প্রতিষ্ঠিত: ১৯৮৩ সাল
    • আয়তন: ৫২ একর
  • ফেনী গার্লস ক্যাডেট কলেজ

    • অবস্থান: ফেনী
    • প্রতিষ্ঠিত: ২০০৫ সাল
    • আয়তন: ৪৭.৫৯ একর
  • জয়পুরহাট গার্লস ক্যাডেট কলেজ

    • অবস্থান: জয়পুরহাট
    • প্রতিষ্ঠিত: ২০০৪ সাল
    • আয়তন: ৫৭ একর

পরিশেষে:

আমাদের আজকের পোস্ট ‘বাংলাদেশে ক্যাডেট কলেজ কয়টি? ক্যাডেট কলেজ লিস্ট’ পড়ার পর নিশ্চয়ই আপনি উপকৃত হয়েছেন। আজকের পোস্টটি পড়ে আপনি জানতে পেরেছেন বাংলাদেশের 12 টি ক্যাডেট কলেজের নাম, অবস্থান এবং প্রতিষ্ঠিত হওয়ার সাল। বাংলাদেশের মহিলা ক্যাডেট কলেজগুলোর নামও জানতে পেরেছেন। আরো জানতে পেরেছেন, ক্যাডেট কলেজ সম্পর্কে বেসিক কিছু ধারণা। আশাকরি আজকের পোস্টটি পড়ে আপনি সঠিক কলেজ নির্বাচন করতে পারবেন। যদি পোস্টটি পড়ার পর আপনার কোনো প্রশ্ন বা মতামত থেকে তাহলে অবশ্যই কমেন্ট বক্সে জানাবেন। এবং পোস্টটি আপনাদের সহপাঠীদের সাথে শেয়ার করে তাদেরও জানার সুযোগ করে দিবেন। 

কিভাবে ভালো ল্যাপটপ চিনব

নতুন ল্যাপটপ চেনার ১২টি উপায়

বর্তমান যুগে কম্পিউটার একটি অবিচ্ছিদ্য অঙ্গ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কম্পিউটার দিয়ে যেমন আমরা দ্রুত কাজ করতে পারি তেমনি সহজেই কাজ সমাধান করতে পারি। কম্পিউটারের বহুমূখী গুণের সাথে যোগ হয়েছে বহন সুবিধা। নিশ্চয় বুঝতে পারছেন আমি ল্যাপটপের কথা বলছি। বর্তমানে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি মানুষ ব্যাক্তিগত কাজেও ল্যাপটপ ব্যবহার শুরু করেছে। অনেকেই জানতে চায় ১৫ হাজার টাকার মধ্যে ল্যাপটপ কোনটা ভালো হবে? হয়তো আপনি একটি ল্যাপটপ কেনার কথা ভাবছেন। ভালো ল্যাপটপ চেনার উপায় নিয়ে আমাদের আজকের আর্টিকেল। অনুগ্রহ করে পুরো পোস্ট মনোযোগ সহকারে পড়ুন।

২০২২ সালে কিভাবে ভালো ল্যাপটপ চিনব

ল্যাপটপ কেনার সময় কোন বিষয়ে বিশেষ খেয়াল রাখতে হবে সেই বিষয়গুলো নিয়ে আমাদের আজকের আর্টিকেল। আমরা সাধারণত ল্যাপটপ কেনার সময় দ্বিধায় পড়ে যাই যে কোন ল্যাপটপ কিনব, বাংলাদেশের সবচেয়ে ভালো ল্যাপটপ কোনটি বা কোন ল্যাপটপ ভালো হবে। আপনার যদি ল্যাপটপ সম্পর্কে ভালো কোন জ্ঞান না থাকে তবে আপনি ল্যাপটপ কেনার সময় ঠকতে পারেন।
একটা নতুন ল্যাপটপ কেনার আগে যে বিষয় গুলি অবশ্যই খেয়াল রাখতে হবে সেগুলি নিয়ে নিম্নে আলোচনা করা হলো।
বিষয়বস্তুঃ

  • ব্র্যান্ড
  • প্রসেসর
  • র‌্যাম
  • হার্ড ডিস্ক
  • জেনারেশন
  • অপারেশন
  • ডিসপ্লে ও গ্রাফিক্স
  • সাইজ ও ওজন
  • ব্যাটারী
  • ক্যামেরা
  • কোন ব্র্যান্ডের ল্যাপটপ কিনব

যুগের সাথে তাল মিলিয়ে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান প্রতিযোগিতা করে ল্যাপটপ তৈরি করছে। তাই বর্তমান সময়ে বাজারে বিভিন্ন ব্রান্ডের ল্যাপটপ কিনতে পাওয়া যায়। জনপ্রিয় কিছু কোম্পানী Asus, Dell, HP, Acer, Lenovo, Xiaomi ইত্যাদি। আপনি যদি ভালো ব্র্যান্ডের ল্যাপটপ কিনতে চান তাহলে আপনাকে দেখতে হবে যে কোন সংস্থার ল্যাপটপ নতুন ফিচার ও দামের মধ্য়ে আসছে। সেই সাথে তাদের বিক্রয়োত্তর সেবা সম্পর্কে জানতে হবে। কারণ যেকোন ব্র্যান্ডের ল্যাপটপ কিনলে হবেনা।
মোটামোটি মানের ব্র্যান্ডের ল্যাপটপ নিতে চাইলে নিতে পারেন ডেল, এইচপি, লেনেভো কিংবা এসার। এই ব্র্যান্ডগুলোর ল্যাপটপের পারফর্মেন্স খুবই ভালো। তবে এই ল্যাপটপগুলোর প্রাইস নির্ভর করে কনফিগারেশনের উপর। কনফিগারেশন ভালো হলে দামও বেশি হবে।

স্মার্টফোন হ্যাং এবং স্লো হলে সমাধানের ১০ টি উপায়

  • কি ধরণের প্রসেসর বা সিপিইউ ভালো

একটি প্রসেসর হলো একটি কম্পিউটারের মূল অংশ। এটিকে ল্যাপটপ এর খুব গুরুত্বপূর্ণ একটি হার্ডওয়্যার হিসেবে ধরা হয়। ল্যাপটপ কেনার সময় অবশ্যই প্রসেসর নির্বাচনে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিতে হয়ে। সাধারণত কম্পিউটার প্রসেসর এর ক্ষেত্রে মার্কেটে দুই ধরনের কোম্পানি সবচাইতে জনপ্রিয়। একটি হচ্ছে AMD এবং অন্যটি হচ্ছে Intel কোম্পানি। ইনটেল প্রসেসরের তুলনায় এএমডি প্রসেসরের দাম তুলনামূলক ভাবে অনেক বেশি। তবে আপনি চেষ্টা করবেন এএমডি প্রসেসরের ল্যাপটপ কেনার জন্য। কারণ এটার পারফরম্যান্স অনেক ভালো হয়। মনে রাখতে হবে Intel এর প্রসেসর তুলনামূলক ভাবে অন্য সকল প্রসেসর এর চাইতে কম শক্তি অপচয় করে। আপনি কি ২০২২ সালে ল্যাপটপ কেনার কথা ভাবছেন? তাহলে এই প্রসেসরের বিষয়ে আপনাকে অবশ্যই আরও ভালো ভাবে জানতে হবে।

  • কেমন র‌্যাম ভালো হবে

ল্যাপটপ কেনার সময় র‌্যামকে গুরুত্ব দেয়া বুদ্ধিমানের কাজ। ল্যাপটপে স্মুথ পারফরম্যান্স পাওয়ার জন্য অবশ্যই ৪ জিবি অথবা তার থেকে বেশি র‌্যামের ল্যাপটপ কিনতে হবে। র‌্যাম যত বেশি হবে কাজ করে ততো বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করবেন। তবে ল্যাপটপে ভিডিও এডিট বা গেম খেলার মতো ভারী কাজগুলো করতে হলে ৮ জিবি বা ১৬ জিবি র‌্যাম ব্যবহার করতে হবে। ভালো মানের র‌্যাম নির্বাচনের ক্ষেত্রে র‌্যামের বাস স্পিড এবং ডিডিআর (Double Data Rate) এর বিষয়ে ভালোভাবে খেয়াল রাখতে হবে।

  • হার্ডডিস্ক কোনটা নেবো

ল্যাপটপ কেনার সময় বেশি হার্ডড্রাইভ দেখে কেনা উচিত। কারণ তথ্য প্রযুক্তির এই যুগে ছোট বা কম স্পেসের হার্ডডিস্ক সহজেই পূর্ণ হয়ে যায়। ভালো মানের কোন কোন মুভি ৩/৪ জিবি জায়গা নেয়। তাই বেশি স্পেসের একটি হার্ডডিস্ক নিয়ে নিন যাতে পরবর্তীতে প্রয়োজনীয় তথ্য সংরক্ষণের জন্য জায়গার অভাবে ভুগতে না হয়। সাধারণ হার্ডডিস্ক গুলো পুরনো হলে স্লো হয়ে যায়। ভালো পারফরম্যান্সের জন্য হার্ডডিস্ক বা হার্ডড্রাইভের বদলে এসএসডি স্টোরেজ নিতে পারেন। এসএসডি হার্ডডিস্ক গুলো ব্যবহারে মানুষ এখন বেশি ঝুঁকে পড়েছে। কারণ এতে উইন্ডোজ দিলে তুলনামূলক ভাবে ভালো পারফরম্যান্স পাওয়া যায়।

  • ভালো জেনারেশন কোনটা

ভালো ল্যাপটপ মানেই হলো আপডেট কোন জেনারেশন এর ল্যাপটপ। জেনারেশন না জেনে ল্যাপটপ কেনা ঠিক হবেনা। কারণ লেটেস্ট জেনারেশন মানেই হলো আপডেট ল্যাপটপ। ল্যাপটপ কেনার সময় এটি কোন জেনারেশনের সেদিকে অবশ্যই লক্ষ্য রাখতে হবে। কারণ জেনারেশনের উপর অনেক কিছুই নির্ভর করে। আর ল্যাপটপ কেনার সময় ৭ম জেনারেশনের নিচে কিনবেন না।

কিভাবে মোবাইলের ব্যাটারি ভালো রাখা যায়?

  • কি ধরণের অপারেটিং সিস্টেম

অপারেটিং সিস্টেম বাছাই করার সময় অবশ্যই উইন্ডোজ নিতে হবে। কারণ আমরা সব সময় উইন্ডোজ ব্যবহার করি বলে আমরা এটাতে অভ্যস্ত হয়ে পড়েছি। এটা ব্যবহার করা এবং যাবতীয় ইনস্টল সহজ। তুলনামূলকভাবে ওএস এবং অন্যান্য অপারেটিং সিস্টেমে সফটওয়্যার ইনস্টল করা অনেক কঠিন। তাই ল্যাপটপ কেনার সময় যদি আপনার কাছে উইন্ডোজ ভালো লাগে তবে সেটি নিবেন। অথবা যে অপারেটিং সিস্টেম আপনার বেশি সুবিধাজনক মনে হয় সেটি ইনস্টল করুন।

কিভাবে ভালো ল্যাপটপ চিনব
Photo credit: canva.com
  • ডিসপ্লে কোয়ালিটি কত হবে

ডিসপ্লে দেখে ল্যাপটপ কিনতে হবে অবশ্যই। কারণ পুরোটা সময় আপনি ল্যাপটপের ডিসপ্লের দিকে তাকিয়েই কাজ করতে হবে। তাই ডিসপ্লের রেজুলেশন এবং ব্রাইটনেস ঠিক আছে কিনা তা দেখে নিতে হবে। ডিসপ্লের জন্য বিশেষজ্ঞরা সাধারণত ১০৮০পি রিকমেন্ড করে। কারণ এটা ফুল এইচডি ডিসপ্লে। এই রেজুলেশনের ডিসপ্লে না নিতে পারলে সেক্ষেত্রে অব্যশই অন্তত এইচডি বা ৭২০পি রেজুলেশনের ল্যাপটপ নিবেন।

  • ল্যাপটপের আকার ও ওজন

সাইজের ব্যাপারটা সাধারণত কাজের ধরণের উপর নির্ভর করে। আপনি কি ধরণের কাজ করবেন সেই কাজের ধরণ অনুযায়ী ল্যাপটপের সাইজ ঠিক করা উচিত। যেমন আপনি যদি ভিডিও এডিটিং করতে চান তবে আপনাকে বড় ডিসপ্লে বা বড় সাইজের ল্যাপটপ নিতে হবে। ইদানীং সবচেয়ে জনপ্রিয় হচ্ছে স্লিম সাইজের ল্যাপটপগুলো। এগুলো ওজনেও বেশ পাতলা হয়। পাতলা ল্যাপটপ মানুষের প্রথম পছন্দ। স্ক্রিনের সাইজের উপর ওজন নির্ভর করে। ১৩ থেকে ১৪ ইঞ্চি ল্যাপটপ বহন এবং ব্যবহারের জন্য পারফেক্ট। এর ওজন সাধারণত ২ কেজির নিচে হয়ে থাকে। তবে কেউ কেউ ১৫ ইঞ্চি ডিসপ্লের ল্যাপটপ রিকমেন্ড করে।

  • ভালো মানের ল্যাপটপ ব্যাটারি

ল্যাপটপ কেনার মূল উদ্দেশ্যই হচ্ছে ব্যাটারি ব্যাকআপ। বিদ্যুৎ ছাড়া ল্যাপটপ চালানো যায় বিধায় এর চাহিদা এত বৃদ্ধি পাচ্ছে। ল্যাপটপ কিনে যদি চার্জ বেশি ব্যাকআপ না দেয় তবে কিনে কোন লাভ নেই। কারণ ল্যাপটপ বহনের কারণেই মূলতই কেনা হয়। ল্যাপটপ যে সব সময় বাড়িতে বা নির্দিষ্ট এক জায়গায় ব্যবহার করা হবে তা তো নয়। অনেক সময় বাহিরে গিয়ে কোন কোচিং, ক্লাস বা জার্নি করতে হয়। এই সময় যাতে ল্যাপটপের সাহায্যে গুরুত্বপূর্ণ কাজ করা যায় তাই ব্যাটারির গুরুত্ব অনেক বেশি। ভালো ব্যাটারি চেনার জন্য এটার গায়ের রেটিং দেখে ল্যাপটপের ব্যাটারি কেনা উচিত। যদি ব্যাটারীর গায়ে 44Wh বা 50Wh লেখা থাকে তবে সেগুলো বেশি সময় ধরে চার্জ় সংরক্ষণ করতে পারে। এই রকম ব্যাটারির ল্যাপটপ গুলো সাধারণত ৬/৭ ঘন্টা ব্যাকআপ দেয়।

  • ক্যামেরা

বর্তমানে ল্যাপটপ কিনতে আরও একটি ডিভাইসের প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দিতে হয়। সেটি হচ্ছে ল্যাপটপের ক্যামেরা। বর্তমানে এর গুরুত্ব বাড়ছে। কারণ করোনা মহামারীর কারণে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, অফিস আদালত বন্ধ থাকায় অনলাইনে ক্লাস বা মিটিং হয়। একারণে ক্যামেরার প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম। আগে যদিও এর চাহিদা এতো বেশি ছিলনা। কাজেই এখন ল্যাপটপ কেনার সময় এর ক্যামেরা ঠিক আছে কিনা এবং কত রেজুলেশনের তা ভালোভাবে দেখে নিন।

  • শেষ কথা

ভালো ল্যাপটপ চেনার উপায় সম্পর্কে পোস্টটি পড়ে কতটা বুঝতে পারলেন তা কমেন্ট করে জানাবেন। এই বিষয়গুলো খেয়াল রাখলেই একটি ভালো ল্যাপটপ চেনা যায়। এর বাহিরে আরও কিছু বৈশিষ্ট্য থাকলেও সেগুলো এতো বেশি গুরুত্বপূর্ণ না। আপনার কাছে কোন ব্রান্ডের ল্যাপটপ ভালো লাগে সেটি কমেন্ট করে জানান। আমরা পরবর্তীতে সেই ব্র্যান্ড নিয়ে একটা রিভিউ লেখার চেষ্টা করব।

 

 

 

মোবাইলের চার্জ ধরে রাখার উপায়

মোবাইলের চার্জ ধরে রাখার উপায়

সময়ের সাথে সাথে আপনার মোবাইল স্লো হয়ে যেতে পারে এবং ব্যাটারির আয়ুও খারাপ হতে পারে। মোবাইলের চার্জ ধরে রাখার উপায় গুলো নিয়ে এই আর্টিকেলে আলোচনা করেছি।  যে মোবাইলটি এক সময় সপ্তাহে একবার মাত্র চার্জ করতে হয়েছিল, দুর্ভাগ্যবশত এটি এখন সকাল বিকাল চার্জ দিতে হয়। আমরা ভালো ভাবে জানিনা কিভাবে মোবাইলের ব্যাটারীর চার্জ ধরে রাখা যায়? কোন প্রয়োজনে বা কাজের সময় যদি ফোনের চার্জ না থাকে তাহলে যে কতটা খারাপ লাগে তা শুধু ভুক্তভোগীরাই বোঝে। দ্রুত ইন্টারনেট, হাই রেজুলেশন স্ক্রিন এবং 4K-এ ভিডিও রেকর্ডিং বেশি ব্যাটারি ব্যবহার করে। নতুন মোবাইল ফোনে প্রায়শই এত বেশি স্টোরেজ স্পেস থাকে যে আপনাকে সেগুলি খালি করতে হয়না। তবে দিন যায় আর মোবাইল ফোনে অপ্রয়োজনীয় তথ্য বাড়তে থাকায় এটি ব্যবহার করা ধীর হয়ে যায়। তবে সমস্যা যাই হোক না কেন এর জন্য কিছু সহজ সমাধান আছে।

মোবাইলে চার্জ থাকেনা কেন?

কিভাবে মোবাইলের চার্জ আগের থেকে বেশি সময় স্থায়ী থাকবে বা মোবাইলে চার্জ থাকেনা কেন এটা অনেকেই জানেনা। অনেকে বিভিন্ন টেকনিশিয়ানের সাথে কথা বলে পরামর্শ নেয় আবার অনেকেই মোবাইলের চার্জ থাকেনা কেন এটা নিয়ে গুগলে আর্টিকেল খুঁজে। আজকের আর্টিকেলে আপনি একটি ভাল টিপস এবং কৌশল পাবেন, যেগুলো মেনে চললে মোবাইলের ব্যাটারীর ব্যাকআপ দীর্ঘস্থায়ী করা যায়। কৌশলগুলো নিয়ে নিম্নে আলোচনা করা হলোঃ

  • সমস্ত অ্যাপ ক্লিন রাখুন

ইদানিং স্মার্ট ফোনগুলোর ব্যবহার আরও বাড়ছে এবং ল্যাপটপের মতো হয়ে উঠছে। যেখান থেকে আপনি ছোট কম্পিউটারের কাজ করতে পারেন৷ মোবাইলগুলি সময়ের সাথে সাথে ধীর হয়ে যাওয়ার সবচেয়ে সাধারণ কারণগুলির মধ্যে একটি হল যে সংরক্ষিত তথ্যের পরিমাণ বৃদ্ধি পায়। ঠিক একটি নিয়মিত কম্পিউটারের মতো। আপনার মোবাইল ফোনে ইনস্টল করা অ্যাপগুলিতে যান এবং দেখুন কোন অ্যাপগুলো ব্যবহার করা লাগেনা। সেখান থেকে অব্যবহৃত অ্যাপ গুলিকে আনইনস্টল করুন। কারণ অব্যবহৃত অ্যাপগুলোর কারণেও অনেক সময় চার্জ বেশি খরচ হয়।

  • অপ্রয়োজনীয় ছবি এবং ভিডিও মুছুন

মোবাইল ফোন সব সময় আমাদের হাতে থাকায় আমরা কোন দৃশ্য ভালো লাগলে ছবি উঠাই। অথবা কোন অনুষ্ঠানে গেলে চেষ্টা করি সেই অনুষ্ঠান ভিডিও করার। এই রকম ঘটনা কিন্তু নতুন নয়। এখন আরও আমরা আগের চেয়ে বেশি ছবি তুলি এবং ভিডিও রেকর্ড করি। আমরা অনেক সময় পাঁচ বা ছয়টি ছবি তুলি কিন্তু তার মধ্যে একটি ব্যবহার করি। বাকি ছবি গুলো কিন্তু মোবাইলে থেকেই যায়। কাজেই আপনি নিয়মিত আপনার ফোনের গ্যালারী ব্রাউজ করুন এবং আপনার অপ্রয়োজনীয় ছবি ডিলিট করুন। আরেকটি ভাল পদক্ষেপ হল মোবাইলটিকে একটি কম্পিউটারের সাথে সংযুক্ত করে সম্পূর্ণ ব্যাকআপ করা এবং ব্যাকআপের পর মোবাইলের ফাইল কমিয়ে দেয়া।
স্মার্টফোন হ্যাং এবং স্লো হলে সমাধানের ১০ টি উপায়

  • ফোন আপডেট রাখুন

আপনার মোবাইল ফোন আপডেট করার বিভিন্ন কারণ রয়েছে। অনেক লোক বিভিন্ন প্রকার লেনদেনের কাজ করতে তাদের মোবাইল ফোন ব্যবহার করে তাই তাদের মোবাইল ফোনে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য থাকতে পারে। যাতে কোন তথ্য চুরি না হয় বা সমস্যা না হয় এই জন্য এগুলোর সফটওয়্যার আপডেট করা হয়। কারণ গ্রাহকের নিরাপত্তাই বিক্রেতার কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। প্রায়ই ফোন কোম্পানীগুলো তাদের সফটওয়্যার আপডেট করে থাকে যা নিরাপত্তা দুর্বলতা, সফ্টওয়্যার বাগগুলি ঠিক করে এবং কর্মক্ষমতা উন্নত করে। বেশিরভাগ মোবাইল নির্মাতা প্রতিষ্ঠান প্রতি মাসে একটি করে নতুন আপডেট তৈরি করে এবং একটি নতুন আপডেট বের হলে আপনার ফোন আপনাকে অবহিত করে।

এছাড়াও মনে রাখবেন যে আপনার ফোনে ইনস্টল করা অ্যাপগুলিরও আপডেট হয়। এই ধরনের আপডেট সাধারণত প্রতি দুই সপ্তাহে আসে। আপনার সেটিংসের উপর নির্ভর করে কিছু আপডেট স্বয়ংক্রিয়ভাবে ইনস্টল করা হয়। যদি অটোম্যাটিক আপডেট না হয় তবে ম্যানুয়ালি আপডেট করতে হবে

মোবাইলের চার্জ ধরে রাখার উপায়
Photo credit: Canva.com
  • ওয়াইফাই এবং ব্লুটুথ বন্ধ রাখা

ওয়াইফাই এবং ব্লুটুথ উভয়ের কারণেই ব্যাটারীর চার্জ কমতে পারে। যদি মোবাইল কোনো কিছুর সাথে সংযুক্ত না থাকে বা আপনার যদি প্রয়োজন না হয় তবে অবশ্যই এগুলো বন্ধ রাখবেন। কারণ এগুলো চালু থাকলে দ্রুত চার্জ শেষ হয়। তাই ব্যবহার না করলে এগুলো বন্ধ রাখুন।

ফোনের ব্রাইটনেস কম রাখা

ব্যাটারীর চার্জ সঞ্চয় করার আরেকটি উপায় হল স্ক্রিনের উজ্জ্বলতা সীমিত করা। বেশি আলো বা আপনি যখন রোদে বের হন তখন উজ্জ্বলতা সর্বোচ্চ পর্যন্ত বাড়াতে হবে। যাইহোক, আপনি যখন বাড়ির ভিতরে থাকেন বা সরাসরি সূর্যের আলোতে না থাকেন, তখন উজ্জ্বলতা কমানো ভালো। যদি বেশি ব্রাইটনেস দরকার না হয় বা কম ব্রাইটনেস কোন সমস্যা না হয় তবে কমিয়ে রাখাই ভালো। এখনকার বেশিরভাগ মোবাইলে স্ক্রিনের উপরে একটি সেন্সর থাকে যা পরিবেষ্টিত আলো সনাক্ত করে যাতে উজ্জ্বলতা স্বয়ংক্রিয়ভাবে সামঞ্জস্য করা যায়। অর্থাৎ অটোমেটিকভাবে আলো থাকলে ব্রাইটনেস বাড়বে এবং অন্ধকার থাকলে কমবে। কাজেই ফোনের ব্রাইটনেস অটো করে রাখুন।

৫টি সেরা ফটো এডিটিং অ্যাপস
  • পাওয়ার সেভ মোড চালু রাখা

আজকাল অনেক মোবাইলে বিভিন্ন ধরণের পাওয়ার সেভিং মোড রয়েছে। এটি অপ্রয়োজনীয় কাজ এবং অ্যাপগুলিকে বন্ধ করে দেয়। যেগুলি ব্যবহার করা হচ্ছে না বা যেগুলি স্ক্রীন বন্ধ থাকলে রিফ্রেশ করার চেষ্টা করছে সেগুলিকে অফ রাখে। প্রায়শই পাওয়ার সাশ্রয়ের বিভিন্ন লেভেল থাকে এবং যদি আপনার ব্যাটারি ফুরিয়ে যায় তবে সর্বোচ্চ চার্জ সঞ্চয় করার চেষ্টা করে।

  • ফোন চার্জ করার সেরা উপায়

পূর্বে পরামর্শ দেয়া হয়েছিল যে ফোনের ব্যাটারি ১২-২৪ ঘন্টা চার্জে লাগিয়ে রাখতে হবে। এখন এই নিয়ম আর চলেনা। কারণ আগের ব্যাটারী আর এখনকার ব্যাটারীর মধ্যে অনেক পার্থক্য। যখন মোবাইলে চার্জ করবেন তখন চেষ্টা করবেন ফুল চার্জ করার। চার্জ ফুল না হলে বাদ দেয়া বা আবার ২/৪ ঘন্টা পর চার্জ দেয়া এভাবে ব্যাটারী নষ্ট হয়।

শেষ কথা

আজকাল এই নিয়ম আর চলেনা। এটি সম্পূর্ণ ভিন্নভাবে কাজ করে। কারণ বর্তমানে বেশিরভাগ মোবাইলে লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারি থাকে যা পুরানো ব্যাটারির তুলনায় অনেক বেশি নমনীয়। কাজেই কোন চার্জিং রুটিন ভুল করা যাবেনা। কিন্তু ব্যাটারি দীর্ঘস্থায়ী করা সম্ভব। ব্যাটারির লাইফ চার্জের সংখ্যার উপর নির্ভর করে। আপনি যতবার ফোনটি ডিসচার্জ করতে দেবেন এবং তারপরে ব্যাটারি পুরোপুরি চার্জ করতে দেবেন, ব্যাটারির ক্ষমতা তত দ্রুত নষ্ট হবে। ব্যাটারি যতটা সম্ভব দীর্ঘস্থায়ী রাখার জন্য ব্যাটারির চার্জ ২০%-৮০% রাখা ভাল৷ এইভাবে চার্জিং চক্র হ্রাস করা হয়। যদি এই পোস্ট পড়ে কোন কিছু না বুঝে থাকেন তাহলে গুগল থেকে সার্চ করে বিস্তারিত জেনে নিন। এই আর্টিকেল সম্পর্কে আপনার কোন মতামত থাকলে কমেন্ট করে জানাতে পারেন। আর যদি ভালো লেগে থাকে তাহলে শেয়ার করতে ভুলবেন না।

তারুণ্য ধরে রাখার কৌশল

তারুণ্য ধরে রাখার কৌশল

তারুণ্য ধরে রাখার কৌশল যদি আপনি জানেন তাহলে জীবনকে অনেক সুন্দরভাবে উপভোগ করতে পারবেন। বুড়িয়ে যাওয়া বা অল্প বয়সে তারুণ্য হারানো এখন খুব পরিচিত একটা সমস্যা। প্রাকৃতিকভাবে পাওয়া ১২টি গুরুত্বপূর্ণ খাবার খেয়েই কিন্তু তারুণ্য ধরে রাখা যায় এবং বুড়িয়ে যাওয়া রোধ করা যায়। আজকের আর্টিকেলে এই বিষয়টি নিয়ে লেখা হয়েছে। অনুগ্রহ করে কিছুটা সময় নিয়ে মনোযোগ সহকারে পুরো লেখা পড়ুন।

সবাই চায় চিরকাল তারুণ্য ধরে রাখতে। এক আমেরিকান পরিসংখ্যান বলছে- আমেরিকায় বুড়িয়ে যাওয়া প্রতিরোধ সংক্রান্ত গবেষণায় বিনিয়োগের মাত্রা ছাড়িয়েছে ৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। এ থেকেই প্রমাণ হয়ে যায় যে, বুড়ো হতে চায় না এমন মানুষের সংখ্যা অনেক। কারণ এ পৃথিবীতে কোন মানুষই বুড়ো হতে চায়না।

আপনিও যদি  তাদেরই একজন হয়ে থাকেন তাহলে জেনে নিন এমন কিছু খাবার সম্পর্কে, যেগুলো খাওয়া শুরু করলে ত্বকের বয়স তো কমবেই, সেই সঙ্গে এমন কিছু পরিবর্তন হতে শুরু করবে যে তার প্রভাবে শরীরেরও বয়স কমবে চোখে পড়ার মতো।

কি ধরণের খাবার খেতে হবে

আসলে বেশ কিছু খাবারে এমন কিছু উপাদান রয়েছে, যেমন ধরুন নিউট্রিয়েন্ট এবং অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট, যা বয়স তো কমায়ই সেই সঙ্গে শরীরকেও চাঙ্গা রাখে। শুধু তাই নয়, একাধিক মারণ রোগকে ধারে কাছে ঘেঁষতে দেয় না। ফলে  আয়ু বাড়তে সময় লাগেনা। আসুন জেনে নেওয়া যাক কী কী খাবারের মধ্যে শরীরের বয়স কমানোর ক্ষমতা রয়েছে।

তারুণ্য ধরে রাখার কৌশল
Photo credit: canva.com

  • দই

বেশ কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, প্রতিদিন দই খাওয়া শুরু করলে দেহের ভেতরে প্রোটিনের ঘাটতি দূর হয়, সেই সঙ্গে উপকারী ব্যাকটেরিয়ার মাত্রা বাড়তে শুরু করে। সেই সঙ্গে বাড়তে থাকে রিবোফ্লাবিন, ফসফরাস, ক্যালসিয়াম এবং ভিটামিন বি১২ এর মাত্রা। ফলে শরীরের বয়স কমে চোখে পড়ার মতোে। এতে বেশ কিছু রোগ থেকে মুক্তি পাওয়ার সম্ভাবনাও বাড়ে।

ব্রেস্ট ক্যান্সার কি এবং কেন হয়?

  • অলিভ অয়েল

অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট এবং অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি মনোস্যাচুরেটেড ফ্যাটে ভরপুর এই তেলটি ক্যান্সার প্রতিরোধ করার পাশাপাশি বয়সজনিত নানা অসুবিধা কমাতেও দারুন কাজে আসে।

  • জাম

এই ফলটিতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট, যা বয়স বাড়ার গতিকে আটকায়। শুধু তাই নয়, ক্র্যানবেরি, স্ট্রবেরি এবং অবশ্যই ব্ল্যাকবেরি শরীরের সার্বিক গঠনের উন্নতি ঘটাতেও বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। তাই প্রতিদিন যদি এই ফলটা খাওয়া যায়, তাহলে শরীরের ভাঙন রোধ হয়। ফলে স্বাভাবিকভাবেই শরীর এবং ত্বকের সৌন্দর্য় বাড়তে শুরু করে।

  • বাদাম

শরীরকে ভালো রাখতে উপকারী ফ্যাটেরও প্রয়োজন পড়ে। তাই প্রতিদিন বাদাম খান মুঠো ভরে। এতে উপকারী ফ্যাটের পাশাপাশি রয়েছে অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি উপাদান, যা শরীরকে সুস্থ রাখতে দারুন কাজে আসে।

  • সবুজ শাকসবজি

বেশ কিছু গবেষণায় দেখা গেছে কপি পাতা এবং পালংশাকে ফাইটোনিউট্রিয়েন্ট নামে এক ধরনের অ্যান্টি-অক্মিডেন্ট রয়েছে যা সেলের ক্ষয় আটকে ত্বক এবং শরীরে বয়স ধরে রাখতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে।

  • শস্যদানা

ঝাড়াই করা শস্য দানার পরিবর্তে যদি হোল গ্রেন খাওয়া যায়, তাহলে বয়স বাড়ার হার অনেকটাই হ্রাস পায়। শুধু তাই নয়, এই ধরনের খাবার বয়সজনিত নানা রোগ হওয়ার আশঙ্কাও কমায়। বিশেষত হার্টের রোগ হওয়ার পথ আটকায়। প্রসঙ্গত, আস্ত শস্যদানায় মিনারেল, ভিটামিন, ফাইবার এবং অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট প্রচুর পরিমাণে থাকে। ফলে দেহের অন্দরে পুষ্টির ঘাটতি দূর হতেও সময় লাগেনা। তারুণ্য ধরে রাখুন প্রয়োজনীয় পুষ্টিকর খাবার গ্রহণের মাধ্যমে।

  • আঙ্গুর

রেজভারেটল নামে একটি যৌগ রয়েছে এই ফলটিতে, যা একাধারে  অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি এবং অ্যান্টি-কোয়াগুলেন্ট। এই উপাদান দুটি হার্টকে ভালো রাখে। আর যেমনটা আগেও বলা হয়েছে যে শরীর তখনই চাঙ্গা থাকে, যখন হার্ট সুস্থ থাকে। তাই সুস্থ, রোগমুক্ত শরীরের অধিকারী হয়ে উঠতে প্রতিদিন একবাটি করে আ্ঙ্গুর খাওয়া জরুরী।

  • মটরশুঁটি

হার্টকে নানা ক্ষতিকর উপাদানের হাত থেকে বাঁচানোর পাশাপাশি শরীরে প্রোটিনের চাহিদা মেটাতে মটরশুঁটির কোন বিকল্প নেই। তাই আপনি যদি দীর্ঘদিন তারুণ্য ধরে রাখতে চান, তাহলে হার্টকে সুস্থ রাথতেই হবে। এটা বয়স কমাতে বেশ উপকারী।

  • গ্রিন টি

প্রতিদিন এক কাপ করে গ্রিন টি পান করলে শরীরে প্রচুর মাত্রায় অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট  ক্যান্সার, হার্ট ডিজিজ, এমনকি অ্যালঝাইমার রোগ আটকাতে নানাভাবে সাহায্য করে থাকে।

  • টমেটো

লাইকোপেন নামের এক ধরনের অ্যান্টি-অক্মিডেন্ট রয়েছে টমেটোতে যা ত্বকের বয়স কমায়। শুধু তাই নয়, স্টমাক, লাং এবং প্রস্টেট ক্যান্সারের মতো মারন রোগকে প্রতিরোধ করতেও এই সবজিটি দারুন কাজে আসে।

  • ফাইবার সমৃদ্ধ খাবার

শরীরের বয়স কমাতে এই উপাদানটির কোন বিকল্প হয়না বললেই চলে। তাই দেহকে রোগমুক্ত রাখার পাশাপাশি শরীর এবং ত্বকের বয়স যদি ধরে রাখতে  চান তাহলে রোজের ডায়েটে মটরশুঁটি, ডাল, ব্রকলি, ছোলা, অ্যাভোকাডো এবং ওটমিলের মতো ফাইবার সমৃদ্ধ খাবার রাখতে ভুলবেন না যেন।

শরীরের ওজন কমানোর উপায়

  • মাছ

যেমনটা আমরা সকলেই জানি যে মাছে রয়েছে ওমেগা-থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিড। এই উপাদানটি শরীরের অন্দরে যে কোনও ধরনের প্রদাহ কমাতে দারুন কাজে আসে। ফলে শরীরের বয়স বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা কমে। তাই সপ্তাহে দুবার অন্তত মাছ খান। এমনটা করলে দেখবেন স্ট্রোক এবং অ্যালঝাইমারের মতো রোগ হওয়ার আশঙ্কা কমবে। ফলে বাড়বে আয়ু।

শেষ কথা

পরিশেষে বলা যায়, তারুণ্য ধরে রাখতে আরো অনেক খাবার রয়েছে। আপনার তারুণ্য ধরে রাখুন প্রয়োজনীয় পুষ্টিকর খাবার গ্রহণের মাধ্যমে। এই আর্টিকেলটি যদি আপনার ভালো লেগে থাকে তাহলে শেয়ার করতে ভুলবেন না।

উৎস: গুগল ও ইন্টারনেট খেকে সংগৃহীত ও পরিমার্জিত

কাজখুঁজি মার্কেটপ্লেস থেকে আয় করুন ঘরে বসে

 

কাজখুঁজি মার্কেটেপ্লেস থেকে কিভাবে আয় করা যায়

অনলাইনে আয় করার জন্য মানুষ এখন মরিয়া হয়ে উঠেছে। করোনার কারণে অসংখ্য মানুষ চাকুরী হারিয়ে বেকার হয়ে পড়েছে এবং অনেকের ব্যবসা বন্ধ হয়েছে। কিন্তু ফ্রিল্যান্সিং থেকে আয় থেমে নেই। বিভিন্ন রকম সুযোগ-সুবিধার কারণে মানুষ এখন ফ্রিল্যান্সিং-এ ঝুকে পড়েছে। শুধু বাংলাদেশেই নয় যেকোন দেশেই এখন ফ্রিল্যান্সার একটি জনপ্রিয় পেশা।

অনেকেই প্রশ্ন করেন কিভাবে ফ্রিল্যান্সিং করে আয় করা যায়? আবার অনেকে প্রশ্ন করে বাংলাদেশের বেস্ট ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেস কোনটি? এই সব প্রশ্নের উত্তর আজকে আমাদের “কাজখুঁজি মার্কেটেপ্লেস থেকে কিভাবে আয় করা যায়?” এই পোস্টে পাবেন। অনুগ্রহ করে সময় নিয়ে পুরো পোস্ট মনোযোগ সহকারে পড়ুন।

টপ মার্কেট প্লেসগুলোর মধ্যে ফাইভার, আপওয়ার্ক, টপটাল, গুরু, পিপলপারআওয়ার, ফ্রিল্যান্সার, বিল্যান্সার ইত্যাদি থাকলেও বাংলাদেশে বর্তমানে জায়গা করে নিয়েছে কাজখুঁজি। এই মার্কেটপ্লেসটি সম্প্রতি লঞ্চ করলেও এর জনপ্রিয়তা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। এর কারণ হচ্ছে নির্মাতার অক্লান্ত পরিশ্রম এবং এই ওয়েবসাইটের ইউজার ইন্টারফেস। তাছাড়া এখানে ফ্রিল্যান্সার এবং এমপ্লয়্যার উভয়েই কাজ করে বেশ সুবিধা পায়।

কাজখুঁজি কি?

কাজখুঁজি একটি বাংলাদেশী মার্কেটপ্লেস। বাংলাদেশের মানুষদের উদ্দেশ্য করে এই মার্কেটপ্লেসটি তৈরি করা হয়েছে। বাংলাদেশের বেকারত্ব দূর করার জন্য এবং একটি সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে প্রয়োজন একটি মার্কেটপ্লেস যেখানে লক্ষ লক্ষ তরুন তাদের স্কিল দিয়ে বৈদেশিক মূদ্রা অর্জন করবে। এমন একটি স্বপ্ন থেকেই তৈরি করা কাজখুঁজি ফ্রীল্যান্সিং মার্কেটপ্লেস। এটি সম্পূর্ণ বাংলা ভাষায় হওয়ায় দিন দিন এর ব্যবহারকারী বৃদ্ধি পাচ্ছে। কারণ অনেকেই কাজ জানলেও বা তাদের স্কিল ঠিক থাকলেও ইংরেজি না পারার কারণে কাজ পায়না। কারণ যেকোন মার্কেটপ্লেসে কাজ করতে গেলে যেটা সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ সেটা হলো কমিউনিকেশন বা যোগাযোগ। আপনি যদি বায়ারকে বোঝাতে না পারেন যে আপনি তাকে কাজটি করে দিতে পারবেন তাহলে তো আর আপনাকে কাজ দিবেনা। কাজখুঁজি প্লাটফর্মের বায়ার বাংলাদেশী বিধায় আপনাকে বোঝাতে তেমন সমস্যা হবেনা।

এখানে কাজ করে আপনি আপনার স্কিল ডেভেলপ করতে পারবেন এবং সেই সাথে আপনার ফ্রীল্যান্সিং এর জড়তা ও ভয় দুই-ই দুর হবে। এই সব সুবিধার কারণে  ইতিমধ্যে এখানে অসংখ্য প্রোফাইল তৈরি হয়েছে। অধিকাংশ প্রোফাইলই ফ্রিল্যান্সার হিসেবে তৈরি করা। যারা ফাইভার বা আপওয়ার্ক এর মতো বড় মার্কেটপ্লেস গুলোতে কাজ করতে ভয় পান বা বেগিনার হিসেবে কাজ শুরু করতে চান তাদের জন্য বেস্ট একটা মার্কেটপ্লেস। এখানে ফ্রিল্যান্সার এবং এমপ্লয়ার এই দুই মোডেই আপনি প্রোফাইল তৈরি করতে পারবেন। প্রোফাইল তৈরি করার পর আপনার স্কিল অনুসারে একটা গিগ বানিয়ে পাবলিশ করবেন। ভিজিটর বা এমপ্লয়ার যখন তাদের কাজ করানোর জন্য ফ্রীল্যান্সার খুঁজবে তখন আপনার গিগ ভিজিট করে আপনাকে কাজের অর্ডার দেবে। আপনি নির্দিষ্টি সময়ের মধ্যে তাদের কাজ সম্পন্ন করে দিতে পারলে এর বিনিময়ে আপনি আপনার পারিশ্রমিক পাবেন। এক কথায় এটা নতুনদের জন্য অনেক ধরণের সুবিধা দিচ্ছে যেটা অন্যান্য মার্কেটপ্লেসে নেই।

KajKhuji কাজখুঁজি

কি কি ক্যাটাগরি আছে

কাজখুঁজি সম্প্রতি চালু হলেও অনেকগুলো ক্যাটাগরিতে আপনি গিগ পাবলিশ করতে পারবেন। কাজখুঁজি-র বেস্ট ক্যাটাগরির মধ্যে ওয়েবসাইট ডেভেলপমেন্ট, অ্যাপ ডেভেলপমেন্ট, সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্ট, ভিডিও এডিটিং, গুগল অ্যাডসেন্স, ডিজিটাল মার্কেটিং, ওয়েব ডিজাইন, গ্রাফিক্স ডিজাইন উল্লেখযোগ্য। কাজ করার জন্য প্রথমে আপনি আপনার স্কিল ঠিক করুন কোনটি দিয়ে শুরু করবেন।

ফ্রীল্যান্সার হিসেবে কিভাবে কাজ করে

ফ্রীল্যান্সার হিসেবে কাজ করার জন্য প্রথমে আপনাকে এখানে ক্লিক করে কাজখুঁজি ওয়েবসোইটে একটি অ্যাকাউন্ট ক্রিয়েট করতে হবে। এখান থেকে ফ্রীল্যান্সার সিলেক্ট করে রেজিস্ট্রেশন করার পর আপনার প্রোফাইল সম্পূর্ণ করতে হবে। তবে আপনার নাম, ঠিকানাসহ অন্যান্য তথ্য অবশ্যই এনআইডি কার্ড অনুসারে দিবেন। কোন প্রকার ভুয়া তথ্য দেয়া যাবেনা। আপনার স্কিল, শিক্ষাগত যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা, প্রোফাইল পিকচার সহ অন্যান্য তথ্যগুলি পূরণ করুন। যাতে আপনার প্রোফাইল শতভাগ হয়। এরপর আপনি আপনার স্কিল অনুসারে এক বা একাধিক গিগ পাবলিশ করবেন।

ধরুন আপনি গুগল অ্যাডসেন্স-এ এক্সপার্ট। তাহলে গুগল অ্যাডসেন্স এর জন্য একটি গিগ তৈরি করবেন। এখানে গুগল অ্যাডসেন্স সম্পর্কিত সুন্দর একটি ছবি দিবেন (অবশ্যই কপিরাইট মুক্ত ছবি), আপনার সার্ভিসের শিরোনাম, কি কি সার্ভিস দিচ্ছেন? সার্ভিসের মূল্য, কোন রিভিশন আছে কিনা এই বিষয়গুলো সুন্দরভাবে ফুটিয়ে তুলতে হবে। যাতে বায়ার গিগ দেখে বুঝতে পারে এটা তার জন্য পারফেক্ট। তারপর বায়ারের সাথে কন্টাক্ট করে কাজ শুরু করবেন। কাজখুঁজি-র সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো আগে বায়ারের সাথে চ্যাট করে কাজ শুরু করা যায়।

আপনার ড্যাশ বোর্ডে দেখতে পাবেন টোটাল চলমান প্রোজেক্ট, টোটাল শেষকৃত প্রোজেক্ট, টোটাল শেষকৃত সার্ভিস, টোটাল চলমান সার্ভিস, টোটাল বাতিলকৃত সার্ভিস, টোটাল বিক্রয়কৃত সার্ভিস ইত্যাদি। অর্থাৎ সহজেই ড্যাশবোর্ড থেকে জানতে পারবেন কতগুলো কাজ করেছেন, কতগুলো কাজ পেন্ডিং আছে এবং আপনার উপার্জিত টাকার পরিমাণ।

এমপ্লয়ার হিসেবে কিভাবে কাজ করে

আপনি চাইলে সহজেই কাজখুঁজি-তে কাজের পোস্ট দিয়ে কাজ করিয়ে নিতে পারেন। এর জন্য আপনার প্রোফাইল ফ্রীল্যান্সার থেকে এমপ্লয়ারে সুইচ করতে হবে। এরপর বামপাশের মেনু বাটন থেকে ফ্রীল্যান্সার ক্লিক করে ফ্রীল্যান্সারদের লিস্ট দেখতে পাবেন। আপনার সুবিধা মতো ফ্রীল্যান্সার বাছাই করার জন্য অ্যাপ্লাই ফিল্টার ক্লিক করে কিওয়ার্ড, ঘন্টা রেট, স্কিল, লোকেশন ইত্যাদি দিয়ে খুঁজে নিতে পারেন। ফিল্টার করলে সেই অনুসারে আপনি ফ্রীল্যান্সারের একটি তালিকা দেখতে পারবেন। এখানে তাদের রিভিউ, রেটিং, লোকেশন, গিগ ইত্যাদি দেখতে পাবেন। বিস্তারিত দেখার জন্য তাদের প্রোফাইল ভিজিট করতে হবে। কাজখুঁজিতে সবাই বাংলাদেশী ফ্রীল্যান্সার বিধায় আপনি প্রথমে চ্যাটিং করে কাজ দিতে পারেন। আপনি এখানে আপনার পছন্দমতো টাকার পরিমাণ দিয়ে কাজ করাতে পারবেন। আপনি কত টাকার বিনিময়ে কি ধরণের কাজ করাতে চান তা সরাসরি উল্লেখ করতে পারবেন। এটা অনেক বড় একটা সুবিধা।

কাজখুঁজি অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করে ইনকাম

আপনি যদি ফ্রীল্যান্সিং না করেন তবুও আপনি অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করেও টাকা ইনকাম করতে পারবেন। কিভাবে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করে টাকা ইনকাম করা যায় তা সবাই জানে। অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করার জন্য ড্যাশবোর্ড থেকে অ্যাফিলিয়েট প্রোগ্রাম-এ ক্লিক করে মার্কেটিং থেকে অ্যাফিলিয়েট লিংক-এ ক্লিক করতে হবে। এখানে দেখতে পাবেন আপনার ট্রাকিং কোড এবং অ্যাফিলিয়েট লিংক। এই অ্যাফিলিয়েট লিংক কপি করে আপনার ওয়েবসাইট, ইউটিউব, সোশ্যাল মিডিয়া সহ অন্যান্য জায়গায় প্রোমোট করত হবে। তবে কাজখুঁজি-তে অ্যাফিলিয়েট সিস্টেম কিছুটা ভিন্ন এবং সহজ। কারণ এখানে অ্যাফিলিয়েট এর জন্য  ২ ধরণের র‌্যাংক রয়েছে। একটি হচ্ছে বেসিক লেভেল এবং অন্যটি হচ্ছে প্রো লেভেল।

 বেসিক লেভেল

আপনি যদি বেসিক লেভেলে থাকেন তবে প্রতি রেজিস্ট্রেশনের জন্য আপনি ০.২৫৳ বোনাস পাবেন। অর্থাৎ কেউ যদি আপনার রেফার লিঙ্কের মাধ্যমে কাজখুঁজি-তে শুধু রেজিস্ট্রেশন করে তাহলে আপনি সঙ্গে সঙ্গে উক্ত বোনাস পাবেন। আর যদি কোন সফল সার্ভিস ক্রয় হয় তাহলে পাবেন ২.৫৳। অর্থাৎ আপনি যাকে রেফার করবেন সে যদি রেজিস্ট্রেশন করার পর কোন সার্ভিস ক্রয় করে তাহলে আপনি এর বিনিময়ে ২.৫৳ পাবেন।

প্রো লেভেল

বেসিক লেভেল এবং প্রো লেভেলের সিস্টেম প্রায় একই। শুধু বোনাসের পরিমাণ ভিন্ন। আপনি যদি প্রো লেভেলে থাকেন তবে প্রতি রেজিস্ট্রেশনের জন্য পাবেন ০.৫০৳ বোনাস। আর যদি আপনার রেফারের মাধ্যমে কোন সফল সার্ভিস ক্রয় করে তবে আপনি পাবেন ৫৳।

প্রো লেভেল এর যোগ্যতা

প্রো লেভেল অর্জন করার জন্য আপনাকে নিয়মিত কাজ করতে হবে। অর্থাৎ ১ মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন ১০০০ টাকা উপার্জন করতে হবে। এবং সর্বনিম্ন ৫০ জনকে রেফার করে রেজিস্ট্রেশন করাতে হবে। সহজ কথায় আপনার রেফারের মাধ্যমে ৫০+ ব্যবহারকারী হতে হবে।

পেমেন্ট সিস্টেম

কাজখুঁজি যেহেতু বাংলাদেশী সাইট কাজেই পেমেন্ট নিয়ে কোন চিন্তা করার দরকার পড়েনা। পেআউট করার জন্য ড্যাশবোর্ডে ক্লিক করে পেআউট বাটনে ক্লিক করুন। এখানে ক্লিক করার পর পেমেন্ট গেটওয়ে সিলেক্ট করুন। এখানে পেমেন্ট গেটওয়ে থেকে মোবাইল ব্যাংকিং সিলেক্ট করুন। তারপর আপনার অ্যাকাউন্ট থেকে আপনি যত টাকা তুলতে চান সেই টাকার পরিমাণ লিখুন। এবার পেআউট ক্লিক করুন। কাজখুঁজি-র সর্বনিম্ন উইথড্র বা পেআউট ২৫০৳। ১০০০ টাকার নিচে বিকাশ পেআউট করলে ৫৳ এক্সট্রা চার্জ কাটা হবে।

ইতি কথা

এই ছিল কাজখুঁজি নিয়ে আমার প্রথম আর্টিকেল। আমার সাধ্যমতো বোঝানোর চেষ্টা করেছি। এগুলো ছাড়াও আরও অনেক সুবিধা রয়েছে এবং আরও নতুন নতুন সার্ভিস এবং অফার যোগ হচ্ছে। এই লেখা সম্পর্কে কোন মতামত থাকলে অবশ্যই কমেন্ট করে জানাবেন। ভালো লাগলে অবশ্যই শেয়ার করতে ভুলবেননা। এগিয়ে যাক বাংলাদেশ, এগিয়ে যাক কাজখুঁজি।

২০২২ সালের বেস্ট ১০টি অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং সাইট

অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং সাইট কি?

আমরা সবাই জানি কিভাবে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করতে হয়। আজকের পোষ্ট শুধু সেরা ১০টি অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং সাইট নিয়ে। অ্যাফিলিয়েট মার্কেটপ্লেস সাইটে জয়েন করার জন্য, ওই কোম্পানির অ্যাফিলিয়েট ওয়েবসাইটে একটি একাউন্ট সাইন আপ করতে হবে। একাউন্ট approve হওয়ার পর আপনি আপনার পছন্দ মতো ক্যাটাগরি থেকে প্রোডাক্ট সিলেক্ট করে তার জন্য একটি  ইউনিক লিঙ্ক পেয়ে যাবেন।

এই লিঙ্কটি আপনার ব্লগ, ইউটিউব চ্যানেল বা সোশ্যাল মিডিয়া তে শেয়ার করে দিতে হবে। লিঙ্কটি আপনি সরাসরি ব্যবহার করতে পারেন, অথবা অ্যাড এর ব্যানার হিসেবে ও ব্যবহার করতে পারেন। আবার ইমেইল এর নিউজলেটার বা, ইমেইল মার্কেটিং এ ও ব্যবহার করতে পারবেন। যখনই কেউ আপনার দেয়া লিঙ্কটি তে প্রবেশ করে পন্য ক্রয় করবে, আপনি কমিশন পাবেন। প্রতিটি অ্যাফিলিয়েট মার্কেটারের জন্য এই লিঙ্ক ভিন্ন ভিন্ন হয়। তাই, কোম্পানি গুলো সহজেই ট্র্যাক করতে পারে, কার মাধ্যমে কোন পণ্য বিক্রয় হয়েছে।

অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং এর একটি ইন্টারেস্টিং বিষয় হলো cookies. ব্রাউজার এ প্রবেশ করলে আমরা cookies শব্দটি দেখতে পাই ।এই কুকি আসলে কি?

যখন কেউ আপনার দেয়া লিঙ্ক এ প্রবেশ করে, তা থেকে ওই ব্যক্তির ব্রাউজারে কিছু কোড জমা হয়। এই কোড গুলোই কুকি। মজার বিষয় হলো, এই cookie একটি নির্দিষ্ট দিন পর্যন্ত জমা থাকা অবস্থায়, buyer যদি ওই ওয়েবসাইট থেকে আপনার পন্য ছাড়া অন্য কোনো পন্য ও কিনে থাকেন, তা আপনার সেল হিসেবে গন্য হবে।

আসুন, এবার আপনাকে পরিচয় করিয়ে দেবো ১০ টি লিডিং অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং সাইটের সাথে।

২০২২ সালের ১০ টি সেরা অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং সাইট

  • Amazon

Amazon এর নাম শুনেনি এমন ব্যক্তি পাওয়া যাবে না। বর্তমান বিশ্বে এত দাপটের সাথে ব্যবসা করে যাওয়া এই কোম্পানির সাফল্যের পিছনে আছে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং এর বিরাট অবদান। তাইতো Amazon affiliate marketing অত্যন্ত লাভজনক মার্কেটিং ।

Amazon affiliate marketing কে “Amazon Associates” বলা হয়। এখানে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটার হওয়ার জন্য, সকল তথ্য দিয়ে সাইন আপ করার পর সাথে সাথেই একাউন্ট approve হয়ে যায়। এরপর,প্রোডাক্ট লিঙ্ক টি ব্যবহার করতে হবে আপনার ওয়েবসাইট এর মাধ্যমে। এখানে মনে রাখতে হবে, একাউন্ট approve হওয়ার ১৮০ দিনের মধ্যে অন্তত একটি সেল করতে না পারলে, আপনার একাউন্ট বন্ধ করে দেয়া হবে। আরো একটি বিষয় হলো, Amazon প্রোডাক্ট এর ক্ষেত্রে ইমেইল মার্কেটিং করা যাবেনা।

কোন পণ্য কয়বার আপনি বিক্রয় করতে পারছেন, তার উপর ভিত্তি করে প্রতি সেল এ ১০০ ডলার এর ও বেশি আয় করা সম্ভব। অনেক অ্যাফিলিয়েট মার্কেটার Amazon থেকে ২০,০০০ ডলার পর্যন্ত আয় করে থাকেন। Amazon Associates এর কুকি ২৪ ঘন্টা পর্যন্ত জমা থাকে। এর এর পেমেন্ট মেথড হলো ডিরেক্ট ব্যাংক ডিপোজিট।

  • eBay

eBay এর অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং সাইট হলো “eBay Partner Network”. এই সাইট থেকে আপনি প্রতি সেল এ ৪% পর্যন্ত কমিশন পেতে পারেন। এখানে একাউন্ট ওপেন করার জন্য আপনাকে চলে যেতে হবে partnernetwork.ebay.com এ। approve হতে সময়ে লাগে প্রায় এক ঘণ্টা। এরপরেই আপনি নিজের জন্য লিঙ্ক জেনারেট করে, তা সোশ্যাল মিডিয়া, ওয়েবসাইট, ইমেইল, app এ মার্কেটিং করতে পারবেন।

অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং সাইট
Photo credit: canva.com & ebay.com

eBay এর কুকি জমা থাকে ২৪ ঘন্টা পর্যন্ত। আর পেমেন্ট নিতে পারবেন সরাসরি ব্যাংক এর মাধ্যমে।

  • Shopify

Entrepreneur, কন্টেন্ট ক্রিয়েটর, influencer, educator, সকলেই এই সাইটে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করে থাকেন। কারণ, এই সাইটে কোনো কমিশন রেন্জ নেই। আপনি যতো পারবেন, তত আয় করতে পারবেন। Shopify এ একাউন্ট approve হতে ১৫ দিন সময় লাগে। এরপর affiliate link সহ ইমেইল পাঠানো হয়। এই লিঙ্ক ব্যবহার করেই আপনি অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করতে পারবেন।

এই সাইটে কুকি জমা থাকে ৩০ দিন পর্যন্ত। এর পেমেন্ট নেয়ার উপায় শুধুমাত্র PayPal.

  • Flipkart

Flipkart এ একাউন্ট খোলার জন্য আপনাকে প্রথমে application পাঠাতে হবে। ৪৮ থেকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে একাউন্ট approve হয়ে যাওয়ার পর ব্যানার বা লিঙ্ক দিয়ে মার্কেটিং করতে পারবেন। এখানে কুকি জমা থাকে ৩০ মিনিট। আর প্রতি সেল এ ১২% পর্যন্ত আয় করার সুযোগ রয়েছে।

  • CJ (Commission Junction)

CJ একটি অ্যাফিলিয়েট মার্কেটপ্লেস। প্রায় ৫০০ টি কোম্পানি CJ এর সাথে কাজ করে। এই সাইটের সুবিধা হল, আপনি এখানে ভিন্ন ভিন্ন নিশ নিয়ে কাজ করতে পারবেন। তাই খুব দ্রুত অনেক বেশি কমিশন আয় করা সম্ভব।

এই সাইটে কুকি জমা থাকে ৪৫ দিন পর্যন্ত। আর, Payment method হিসেবে payoneer ব্যবহার হওয়ায় সকলের জন্যই সুবিধা জনক হয়। তবে এক্ষেত্রে টাকা পাওয়ার জন্য একাউন্ট এ কমপক্ষে ৫০ ডলার থাকা আবশ্যক।

  • Hubspot

এটি একটি সফটওয়্যার প্রোভাইডার কোম্পানি। এখানে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করার জন্য demo video, ব্যানার ইত্যাদি উদাহরন হিসেবে দেয়া থাকে। এগুলো থেকে আইডিয়া নিয়ে আপনি সহজেই ব্যানার না অ্যাড তৈরি করে নিজের ওয়েবসাইট এ শেয়ার করতে পারবেন। Hubspot এ কুকি জমা থাকে ৯০ দিন পর্যন্ত। আর প্রতি সেল থেকে ক্ষেত্রবিশেষে ১০০% পর্যন্ত কমিশন পাওয়া সম্ভব।

  • Clickbank

Clickbank একটি অ্যাফিলিয়েট মার্কেটপ্লেস। এটি ডিজিটাল এবং ফিজিক্যাল দুই ধরণের পণ্য-ই বিক্রয় করে থাকে। এই সাইটে একাউন্ট ওপেন করার পর কোনও approval প্রয়োজন হয় না। প্রতি সেল এ ১৫ থেকে ৫০ ডলার পাওয়া সম্ভব। পেমেন্ট নেয়া যায় ব্যাংক চেক বা পেপাল এর মাধ্যমে। আর কুকি জমা থাকে ৩০ দিন।

  • Thrives Theme

Thrives Theme একটি ওয়েবসাইট বিক্রয় কোম্পানি। এই সাইটে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করে প্রতি সেল এ ৩৫% কমিশন পাওয়া যায়। এছাড়া প্রতি renewal এ আরো ২৫% কমিশন তো রয়েছেই। Thrives Theme এ বেস্ট সেলার দের private slack Channel এ invite করা হয়। এ থেকে আরো বেশি টাকা আয় করা সম্ভব হয়। এর কুকি জমা থাকে ২ বছর পর্যন্ত। payment Method হল PayPal. আর একাউন্ট approve হতে সময় লাগে কয়েক ঘণ্টা থেকে ৭ দিন পর্যন্ত।

  • Hostgator

Hostgator একটি ওয়েব হোস্টিং অ্যাফিলিয়েট প্রোগ্রাম। এখানে জেনারেট হওয়া লিঙ্ক দিয়ে আপনি ওয়েবসাইট এবং সোশ্যাল মিডিয়া তে মার্কেটিং করতে পারবেন। একাউন্ট সাইন আপ করার জন্য Impact ( এখানে hostgator তাদের অ্যাফিলিয়েট প্রোগ্রাম হোস্ট করে থাকে) এ চলে যেতে হবে। প্রাপ্ত লিঙ্ক আপনি ব্যানার, বা টেক্সট অ্যাড হিসেবে শেয়ার করতে পারবেন। Hostgator এ প্রতি সেল এ ১২৫ ডলার পর্যন্ত কমিশন করা সম্ভব।

  • Godaddy

এটি একটি ওয়েবসাইট এবং ডোমেইন সেলার সাইট। এই সাইটের সবচেয়ে বড় সুবিধা হল, এদের ওয়েবসাইটে ১০০ এর ও অধিক ব্যানার এবং টেক্সট অ্যাড থাকে। আপনি শুধু ওই অ্যাড এর কোড কপি করে নিজের ওয়েবসাইট, ইমেইল এ পেস্ট করে ব্যবহার করতে পারবেন। Go daddy তে প্রতি সেল এ ১০ থেকে ১৫% কমিশন পাওয়া যায়। প্রতি নতুন কাস্টমার আনার জন্য আপনি পাবেন ১০০ ডলার বোনাস। সাথে প্রতি রিনিউয়ালে পাবেন ২৫ ডলার কমিশন।

শেষ কথা

অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করার ক্ষেত্রে কয়েকটি বিষয় খেয়াল রাখলে খুব দ্রুতই সাফল্য লাভ করা যায়। এর একটি হলো আপনার ওয়েবসাইটের ব্লগ। উন্নত মানের SEO Optimized ব্লগ বা কন্টেন্ট, সাইটের রিচ বাড়ায় দ্রুত। তাছাড়া review ব্লগ এবং দুই বা ততোধিক পন্যের মধ্যে তুলনা করে দেখানো হলে, সহজেই buyer কে পণ্য টি ক্রয় করতে উৎসাহী করা যায়।

আশা করছি এই ব্লগ টি পড়ে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং থেকে আয় করার উপায় এবং ১০টি অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং সাইট সম্পর্কে সামগ্রিক একটি ধারণা পেয়েছেন। আর অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং শুরুর পথে পা রাখতে পারবেন সহজেই।

অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং থেকে আয় করার উপায়

অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং থেকে আয় করার উপায়

অনলাইনে আয় ও মার্কেটিং, একটি যেনো অন্যটি ছাড়া চলতেই পারেনা। ২০২২ সালে এসে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করে আয় করার উপায় অনেকেই জানেনা। অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং (affiliate marketing) এর দিকে আপনার ঝুঁকে পড়াটা বাস্তবেই বুদ্ধিমানের মত কাজ হবে। তবে, তার জন্য প্রয়োজন এ সম্পর্কে যথাযথ জ্ঞান। তাই চলুন, অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং (affiliate marketing) এর অলি গলিতে ছোট্ট একটা ট্যুর দিয়ে আসি। অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং থেকে আয় করার পূর্ণাঙ্গ বিষয়ে লিখার চেষ্টা করেছি।

অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং কি? (what is affiliate marketing)

অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং হলো, কোনো প্রোডাক্ট বিক্রয় করে দেয়ার মাধ্যমে কমিশন গ্রহণ করা। অনেকটা সেলস এক্সিকিউটিভ এর মতো। বিভিন্ন কোম্পানি এখন তাদের প্রোডাক্ট বিক্রয় করার জন্য অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং সিস্টেম ব্যবহার করে থাকে। এটি একটি অনলাইন মার্কেটিং মডিউল। এই মার্কেটিং সিস্টেম এ, বিভিন্ন অ্যাফিলিয়েট মার্কেটার এর সাহায্যে প্রোডাক্ট বিক্রয় করানো হয়।

অর্থ্যাৎ, আপনি যদি কোনো কোম্পানির অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং প্রোগ্রামে জয়েন করে তাদের পণ্য বিক্রয় করে দেন, তবে ওই বিক্রয় মূল্যের একটি অংশ আপনাকে কমিশন হিসেবে দেয়া হবে।

অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং মূলত একটি passive income ব্যাবস্থা। এখানে আপনার কাছে একটি লিঙ্ক দেয়া থাকবে। যা ব্যবহার করেই আপনাকে বিক্রয় এর কাজটি করতে হবে। তার মানে হলো, আপনাকে সারাদিন এর পেছনে লেগে থাকতে হবে না। দিনে মাত্র ২ থেকে ৩ ঘন্টা কাজ করলেই যথেষ্ট।  এরপর থেকে যতোবার কেউ ওই লিঙ্ক ব্যবহার করে পণ্য ক্রয় করবে, ততবার আপনি আয় করতে পারবেন। এখন প্রশ্ন হলো অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং কাজ করে কিভাবে? অ্যামাজন অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং, এফিলিয়েট মার্কেটিং কোর্স, ফেসবুকে এফিলিয়েট মার্কেটিং বিষয়ের সব উত্তর পেয়ে যাবেন।

অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করে কিভাবে আয় করে

অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং থেকে আয় করার উপায় যখনি আপনি চিন্তা করবেন, তখনই কতগুলো বিষয় মিলিয়ে নিতে হবে। যেকোনো কাজের পূর্বেই কিছু প্রস্তুতি দরকার হয়। এই ক্ষেত্রেও তাই। আপনি তখনই একজন অ্যাফিলিয়েট মার্কেটার হিসেবে কাজ শুরু করতে পারবেন, যখন আপনার পর্যাপ্ত পরিমাণ ট্রাফিক থাকবে।

এর জন্য প্রয়োজন হবে একটি ওয়েবসাইট, যেখানে আপনি কোনো নির্দিষ্ট একটি বিষয়ের উপর ব্লগ প্রকাশ করেন। আর তা যথেষ্ট পরিমাণ SEO Optimized ও হতে হবে। অথবা একটি ইউটিউব চ্যানেল থাকা জরুরি। অবশ্যই আপনার চ্যানেল এ ভালো পরিমাণে সাব্সক্রাইবার ও ভিউ থাকতে হবে। আবার ফেসবুক বা ইন্সটাগ্রাম এ যথেষ্ট ফলোয়ার সহ পেইজ থাকলেও চলবে। এইবার আপনি অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং এর জন্য সামনে এগুতে পারেন। কারণ প্রোডাক্ট বিক্রয় এর লিঙ্ক, এই ওয়েবসাইট, ইউটিউব চ্যানেল বা পেইজ এর মাধ্যমেই মার্কেটিং করতে হবে।

এবার আসি আপনি কি বিক্রয় করবেন, সে বিষয়ে। অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং মূলত physical এবং digital উভয় ধরণের product এর উপরেই প্রযোজ্য। ফিজিক্যাল প্রোডাক্ট হলো বই, কাপড়, ফিটনেস টুল, টিভি ইত্যাদি, যেগুলো আমরা স্পর্শ করতে পারি। আর ডিজিটাল প্রোডাক্ট হলো ওয়েবসাইট, app, ebook ইত্যাদি। সাধারণত ডিজিটাল প্রোডাক্ট এর অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং এ কমিশন বেশি পাওয়া যায়।

২০২২ সালের বেস্ট ১০টি অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং সাইট

কি কি লাগবে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করতে

এবার আসা যাক কি কি প্রয়োজন হবে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং শুরু করতে। অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং থেকে আয় করার জন্য আপনার কিছু বিষয়ে স্কিল থাকা জরুরি। যেমন Basic SEO, Basic WordPress, Basic English, Email marketing, Blogging এবং ধৈর্য। কারণ মার্কেটিং এর মূল বিষয় হলো কাস্টমার রিসার্চ ও proper niche selection. কোন ধরণের প্রোডাক্ট আপনি মার্কেটিং করবেন, কাদের কাছে প্রোডাক্ট লিঙ্ক পৌঁছাতে হবে সেই বিষয়গুলো খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

https://puratondiary.com/%e0%a6%b8%e0%a6%bf%e0%a6%aa%e0%a6%bf%e0%a6%8f-%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%95%e0%a7%87%e0%a6%9f%e0%a6%bf%e0%a6%82-%e0%a6%a5%e0%a7%87%e0%a6%95%e0%a7%87-%e0%a6%87%e0%a6%a8%e0%a6%95/
Photo credit: canva.com

  • নিশ বা বিষয়

অনেকে বলে থাকেন, কোনো স্কিল ছাড়াই অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং শুরু করা সম্ভব। কিন্তু আপনি যদি খুব দ্রুত ভালো একটা ইনকাম করতে চান, তবে উপরোক্ত বিষয়ে জ্ঞান থাকা আবশ্যক। পাশাপাশি খেয়াল রাখতে হবে, আপনি যেকোনো একটি বিষয় বা niche (নিশ) নিয়েই কাজ করছেন। যেমন, স্বাস্থ্য একটি নিশ, খেলাধুলা একটি নিশ, ফিটনেস একটি নিশ।

এতক্ষন তো আলোচনা করলাম পূর্ব প্রস্তুতি নিয়ে। এবার মাঠে নামা যাক। অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং থেকে আয় করার জন্য আপনাকে কোনো অ্যাফিলিয়েট প্রোগ্রামে জয়েন করতে হবে। এর জন্য দুই ধরণের উপায় আছে।

  • অ্যাফিলিয়েট মার্কেটপ্লেস এবং
  • ইনডিভিডুয়াল কোম্পানি

সিপিএ মার্কেটিং থেকে ইনকাম করার উপায়

  • অ্যাফিলিয়েট মার্কেটপ্লেস

অ্যাফিলিয়েট মার্কেটপ্লেস গুলো হল এমন কোম্পানি যারা নিজেদের কোনো পণ্য বিক্রয় করে না। বিভিন্ন কোম্পানির পণ্য বিক্রয় এর জন্য পুরো কোম্পানিটিই অ্যাফিলিয়েট হিসেবে কাজ করে। তারাই আবার অ্যাফিলিয়েট মার্কেটার নিয়োগ দিয়ে থাকে। আপনার বা আমার মত অনেকেই এখানে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং নিয়ে কাজ করে থাকে। আপনি চাইলে এমন কোনো কোম্পানি তে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং এর কাজ করতে পারেন।

অন্য দিকে ইনডিভিডুয়াল কোম্পানি গুলো নিজেরাই অ্যাফিলিয়েট মার্কেটার নিয়োগ দিয়ে থাকে। মনে রাখতে হবে, অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং থেকে আপনি প্রতি মাসে একই পরিমাণ টাকা আয় করতে পারবেন না। তখনই টাকা পাবেন, যখন আপনার লিঙ্ক ব্যবহার করে কেউ সেই পণ্য কিনে নিবে।

অ্যাফিলিয়েট মার্কেটপ্লেস সাইটে জয়েন করার জন্য, ওই কোম্পানির অ্যাফিলিয়েট ওয়েবসাইটে একটি একাউন্ট সাইন আপ করতে হবে। একাউন্ট approve হওয়ার পর আপনি আপনার পছন্দ মতো ক্যাটাগরি থেকে প্রোডাক্ট সিলেক্ট করে তার জন্য একটি  ইউনিক লিঙ্ক পেয়ে যাবেন।

এই লিঙ্কটি আপনার ব্লগ, ইউটিউব চ্যানেল বা সোশ্যাল মিডিয়া তে শেয়ার করে দিতে হবে। লিঙ্কটি আপনি সরাসরি ব্যবহার করতে পারেন, অথবা অ্যাড এর ব্যানার হিসেবে ও ব্যবহার করতে পারেন। আবার ইমেইল এর নিউজলেটার বা, ইমেইল মার্কেটিং এ ও ব্যবহার করতে পারবেন। যখনই কেউ আপনার দেয়া লিঙ্কটি তে প্রবেশ করে পন্য ক্রয় করবে, আপনি কমিশন পাবেন। প্রতিটি অ্যাফিলিয়েট মার্কেটারের জন্য এই লিঙ্ক ভিন্ন ভিন্ন হয়। তাই, কোম্পানি গুলো সহজেই ট্র্যাক করতে পারে, কার মাধ্যমে কোন পণ্য বিক্রয় হয়েছে।

অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং এর একটি ইন্টারেস্টিং বিষয় হলো cookies. ব্রাউজার এ প্রবেশ করলে আমরা cookies শব্দটি দেখতে পাই । এই কুকি আসলে কি?

যখন কেউ আপনার দেয়া লিঙ্ক এ প্রবেশ করে, তা থেকে ওই ব্যক্তির ব্রাউজারে কিছু কোড জমা হয়। এই কোড গুলোই কুকি। মজার বিষয় হলো, এই cookie একটি নির্দিষ্ট দিন পর্যন্ত জমা থাকা অবস্থায়, buyer যদি ওই ওয়েবসাইট থেকে আপনার পন্য ছাড়া অন্য কোনো পন্য ও কিনে থাকেন, তা আপনার সেল হিসেবে গন্য হবে।

শেষ কথা

অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করার ক্ষেত্রে কয়েকটি বিষয় খেয়াল রাখলে খুব দ্রুতই সাফল্য লাভ করা যায়। এর একটি হলো আপনার ওয়েবসাইটের ব্লগ। উন্নত মানের SEO Optimized ব্লগ বা কন্টেন্ট, সাইটের রিচ বাড়ায় দ্রুত। তাছাড়া review ব্লগ এবং দুই বা ততোধিক পন্যের মধ্যে তুলনা করে দেখানো হলে, সহজেই buyer কে পণ্য টি ক্রয় করতে উৎসাহী করা যায়।

আশা করছি এই ব্লগ টি পড়ে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং থেকে আয় করার উপায় সম্পর্কে সামগ্রিক একটি ধারণা পেয়েছেন। আর অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং শুরুর পথে পা রাখতে পারবেন সহজেই। এরপরও যদি কোন কিছু জানার থাকে তাহলে কমেন্ট করে জানাবেন। ধন্যবাদ।