১৬০১ সালে দরিদ্র আইনের দুইটি বৈশিষ্ট্য লিখ?

উদ্দীপকঃ-

=> কুটির শিল্পের উপর নির্ভরশীল হাতে বুনন করা টাঙ্গাইলের তাঁতের শাড়ি ছিল বাংলাদেশের পোশাক শিল্পের অন্যতম যোগানদাতা। কিন্তু বর্তমানে ইংল্যান্ডেও একটি বিপ্লবের ফলে গার্মেন্টস শিল্পের ব্যাপক বিস্তার বাংলাদেশে। এসব গার্মেন্টসে কর্মরত শ্রমিকরা ব্যস্ততা ও কাজের চাপে হারিয়ে বসেছে পারিবারিক বন্ধন, বৃদ্ধি পাচ্ছে পারিবারিক কলহ ও অস্থিরতা।

 

ক. শিল্প বিপ্লবের শুরু হয় কোন দশকে?

খ. ১৬০১ সালে দরিদ্র আইনের দুইটি বৈশিষ্ট্য লিখ?

গ. উদ্দীপকে উল্লিখিত বিপ্লবের ফলে সমাজকর্ম পেশার পরিবর্তন কেমন হয়েছে? উত্তরের পক্ষে যুক্তি দাও।

ঘ. উদ্দীপকে উল্লিখিত বিপ্লবের ফলে পারিবারিক পরিবর্তন কেমন হয়েছে? তোমার মতামত প্রকাশ কর।

 

প্রশ্নের উত্তরঃ-

 

ক) শিল্প বিপ্লবের শুরু অষ্টাদশ শতকে।

 

খ) দারিদ্র্য দূরীকরণ ও দরিদ্রদের সঠিক ১৬০১ পুনর্বাসনের লক্ষ্যে সালের দরিদ্র আইনটি প্রণীত হয়।

১৬০১ সালের দরিদ্র আইনের বিভিন্ন বৈশিষ্ট্য বিদ্যমান। এর একটি বৈশিষ্ট্য হলো সেই সব দরিদ্র ও অসহায় ব্যক্তি তালিকাভুক্ত হতে পারবে না, তাদের পরিবার ও আত্মীয়স্বজন তাদেও দায়িত্ব নিতে বাধ্য। এ আইনে দরিদ্রদের সক্ষম দরিদ্র, অক্ষম দরিদ্র ও নির্ভরশীল শিশু এ তিনটি শ্রেণিতে বিভক্ত করা হয়।

 

গ) উদ্দীপকে ইংল্যান্ডের শিল্পবিপ্লবকে নির্দেশ করা হয়েছে। যার ফলে সমাজকর্ম পেশার আবির্ভাব ও বিকাশ লাভ করে।

শিল্প বিপ্লব মানবসভ্যতায় এক আকস্মিক ও ব্যাপক পরিবর্তন এনেছে। এ পরিবর্তন মানুষকে বস্তুগত ও অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি দিলেও সমাজজীবনে বহুমুখী জটিল সমস্যার সৃষ্টি করেছে। এ সকল সমস্যার সমাধানে বাস্তবসম্মত ও বিজ্ঞান ভিত্তিক পদক্ষেপ গ্রহণের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করা হয়। বিজ্ঞান ভিত্তিক ও বাস্তবসম্মত এ সেবা কার্যক্রম থেকেই জন্ম হয় আধুনিক পেশাদার সমাজকর্মের।উদ্দীপকে দেখা যায়, একসময় কুটির শিল্পে উৎপাদিত পোশাক বাংলাদেশে পোশাকের চাহিদা পূরণ করত। কিন্তু একটি বিপ্লবের ফলে বৃহৎ কলকারখানা স্থাপিত হয়। নগরমুখী মানুষের ঢল পারিবারিক কলহ ও অস্থিরতা বৃদ্ধি করে এবং পারিবারিক বন্ধন ছিন্ন করছে। এটি শিল্পবিপ্লব এবং এর ফলে সৃষ্ট বিভিন্ন সমস্যা মোকাবিলায় সমাজকর্ম পেশার উদ্ভব ও বিকাশ ঘটে। শিল্প বিপ্লবের ফলে উদ্ভুত বহুমুখী ও জটিল সমস্যা সমাধান করতে গিয়ে সমাজকর্মীরা উপলব্ধি করেন যে সমস্যা তিন পর্যায়ে প্রভাব বিস্তার করে। যথা ব্যক্তিগত পর্যায়ে, দলীয় পর্যায়ে এবং সমষ্টি পর্যায়ে। বাস্তবমুখী ও স্থায়ী সমাধানের জন্য এ তিনটি পর্যায়েই সমস্যা মোকাবিলা করার প্রয়োজনীয়তা স্বীকৃত হয়। এর প্রেক্ষিতে সমাজকর্মের তিনটি মৌলিক পদ্ধতি ব্যক্তি, দল ও সমষ্টি সমাজকর্ম উদ্ভাবিত হয়। আবার এ সকল মৌলিক পদ্ধতিসমূহকে সুষ্ঠুভাবে প্রয়োগ করার জন্য আরো তিনটি সহায়ক পদ্ধতি উদ্ভাবন করা হয়। এগুলো হলো- সামাজিক প্রশাসন, সামাজিক গবেষণা এবং সামাজিক কার্যক্রম। শিল্প বিপ্লবের ফলে পেশাদার সমাজকর্মের আর্বিভাব ঘটে। এর জন্য প্রয়োজন হয় আধুনিক সমাজকর্ম শিক্ষার। সমাজকর্ম পেশার জন্য এই শিক্ষা ঊনবিংশ শতাব্দীর শেষভাগ থেকে শুরু হয়। তাই বলা যায়, সমাজকর্ম পেশার ইতিহাসে শিল্প বিপ্লব একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।

 

ঘ) উদ্দীপকে উল্লেখিত শিল্পবিপ্লব পারিবারিক ক্ষেত্রে গঠন ও কার্যাবলিতে ব্যাপক পরিবর্তন এনেছে।

শিল্পবিপ্লবের সুদূরপ্রসারী ও দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব মানুষের অর্থনৈতিক, সামাজিক এবং চিন্তাধারার জগতে আমূল পরিবর্তন এনেছে। পারিবারিক জীবন ও শিল্প বিপ্লবের প্রভাব থেকে মুক্ত নয়।উদ্দীপকে দেখা যায়, এ বিপ্লবের প্রভাবে শিল্পায়ন দ্রুত হয়। এতে শ্রমের গতিশীলতা বৃদ্ধি পায়। কর্মসংস্থানের আশায় শ্রমজীবী মানুষ গ্রাম ছেড়ে শহরে বা শিল্পাঞ্চলে গমন করে। উদ্দীপকে বাংলাদেশের গার্মেন্টস শিল্পের ব্যাপক বিস্তারের ফলে এখানে কর্মরত শ্রমিকদের ব্যস্ততা ও কাজের চাপ পারিবারিক কলহ ও অস্থিরতা এবং বন্ধন ভাঙতে শুরু করেছে। পারিবারিক ক্ষেত্রে এ পরিবর্তন শিল্প বিপ্লবেরই নেতিবাচক প্রভাব। বাসস্থানের স্বল্পতা, স্বল্প মজুরি এবং নির্দিষ্ট আয় ইত্যাদি কারণে পরিবারের সব সদস্যদের নিয়ে শহরে বসবাস করা সম্ভব হয় না। ফলে যৌথ পরিবার ভেঙ্গে একক পরিবার সৃষ্টি হয়। একক পরিবারে বৃদ্ধ, অক্ষম, শিশুদের নিরাপত্তাহীনতা দেখা দেয়। পরিবারের সদস্যদের মধ্যে স্বাভাবিক সম্পর্কের অবনতি ঘটছে। শিল্প বিপ্লবের প্রভাবে পরিবারের ভূমিকা ও কার্যাবলির পরিবর্তন হয়। অধিকাংশ ক্ষেত্রে একক পরিবারে স্বামী-স্ত্রী, উভয়েই উপার্জনশীল সদস্য হওয়ায় তাদের মধ্যে ক্ষমতা, ভূমিকা ও মর্যাদার দ্বন্দ্ব দেখা দেয়। এর ফলে দাম্পত্য কলহ ও বিবাহ বিচ্ছেদ দেখা দেয়। এসকল কারণে পরিবারের শান্তি-শৃঙ্খলা নষ্ট হয়। পারিবারিক বিশৃঙ্খলার কারণে সন্তানরা নিরাপত্তাহীনতায় ভোগে। তাদের সুষ্ঠু সামাজিকীকরণ ব্যাহত হয়। এছাড়াও পরিবারের নির্ভরশীল সদস্য বিশেষ করে প্রবীণ, এতিম, বিধবা, বেকার, প্রতিবন্ধী ও অক্ষম ব্যক্তিদের জীবনধারণ চরম হুমকির সম্মুখীন হয়।সার্বিক আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায়, শিল্প বিপ্লব পরিবারের গঠন কাঠামোতে পরিবতন এনেছে। পারিবারিক ভূমিকা ও কার্যাবলিতে এর নেতিবাচক প্রভাব স্বাভাবিক জীবন প্রণালিকে বাধাগ্রস্ত করছে।

সমাজকর্ম শিক্ষার প্রয়োজনীয়তা কী?