১৬০১ সালের দরিদ্র আইনকে ৪৩তম এলিজাবেথীয় দরিদ্র আইন বলা হয় কেন?

Table of Contents

উদ্দীপকঃ-

=> ক রাষ্ট্রের সরকার দেশের উদ্ভূত সমস্যা সমাধানের জন্য বিখ্যাত অর্থনীতিবিদ জনাব হ্যারীকে প্রধান করে একটি কমিটি গঠন করেন। কমিটি দীর্ঘদিন কাজ করে সমাজে সমস্যা সৃষ্টির জন্য কয়েকটি কারণ চিহ্নিত করেন। কমিটি দেশের সমস্যা সমাধানের জন্য ব্যাপকভিত্তিক সামাজিক সাহায্য ও বীমা প্রবর্তনের সুপারিশ পেশ করে। বর্তমানে দেশটি বিশ্বের অন্যতম একটি কল্যাণ রাষ্ট্র।

ক. কাকে সমাজকর্ম শিক্ষার রূপকার বলা হয়?

খ. ১৬০১ সালের দরিদ্র আইনকে ৪৩তম এলিজাবেথীয় দরিদ্র আইন বলা হয় কেন?

গ. উদ্দীপকে উল্লিখিত রিপোর্টের সাথে তোমার পঠিত কোন রিপোর্টের উদ্দেশ্যগত মিল আছে? ব্যাখ্যা করো।

ঘ. উদ্দীপকে উল্লিখিত দেশটির সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার মূল্যায়ন কর।

 

প্রশ্নের উত্তরঃ-

 

ক) ম্যারি রিচমন্ডকে সমাজকর্ম শিক্ষার রূপকার বলা হয়।

 

খ) দারিদ্র্য দূরীকরণ ও ভবঘুরে সমস্যা মোকাবিলায় ৪৩তম প্রয়াস হিসেবে ইংল্যান্ডের রানি প্রথম এলিজাবেথ-এর সময় দরিদ্র আইন- ১৬০১ প্রণীত হয় বলে এটিকে ৪৩তম এলিজাবেথীয় দরিদ্র আইন বলা হয়।১৩৪৯ থেকে ১৬০১ সালের পূর্ব পর্যন্ত মোট ৪২টি আইন ইংল্যান্ডে দারিদ্র্য সমস্যা নিয়ন্ত্রণে চেষ্টা করে। কিন্তু এ আইনগুলো বেশির ভাগই ছিল শাস্তি ও দমনমূলক। তাই পূর্বের সকল আইনের অভিজ্ঞতার আলোকে ১৬০১ সালে ৪৩তম এলিজাবেথীয় দরিদ্র আইন প্রণয়ন করা হয়। এজন্য ইতিহাসে ১৬০১ সালের আইনকে ৪৩তম এলিজাবেথীয় দরিদ্র আইন বলা হয়।

 

গ) উদ্দীপকে উল্লিখিত রিপোর্টের সাথে বিভারিজ রিপোর্টের উদ্দেশ্যগত মিল রয়েছে।আধুনিক ইংল্যান্ডের সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা প্রবর্তনে ১৯৪২ সালের সামাজিক নিরাপত্তামূলক কর্মসূচির ভূমিকা উল্লেখযোগ্য। স্যার উইলিয়াম বিভারিজের সামাজিক নিরাপত্তা রিপোর্ট অনুযায়ী এই কর্মসূচি গৃহীত হয়। উদ্দীপকটিতেও অনুরূপ একটি রিপোর্টের বর্ণনা দেওয়া হয়েছে। উদ্দীপকের জনাব হ্যারী ‘ক’ রাষ্ট্রের সমস্যা চিহ্নিত করে একটি রিপোর্ট প্রদান করেছেন। তাই এ রিপোর্টে উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে বাধা সৃষ্টিকারী পাঁচটি প্রতিবন্ধকের নাম উল্লেখ করা হয়। বিভারিজের রিপোর্ট অনুসারে তৎকালীন দারিদ্র্যপীড়িত ইংল্যান্ডের সমাজজীবনকে পঞ্চদৈত্য অক্টোপাসের ন্যায় জড়িয়ে রেখেছিল। এই পঞ্চদৈত্য হলো- অভাব, রোগ, অজ্ঞতা, মলিনতা ও অলসতা। বিভারিজের মতে, এই পঞ্চদৈত্য বা পাঁচটি সমস্যাই ছিল ইংল্যান্ডের সার্বিক অগ্রগতির প্রধান অন্তরায় বা প্রতিবন্ধক। এই সমস্যা সমাধানের উদ্দেশ্যে সামাজিক সাহায্য ও বিমা প্রবর্তনের সুপারিশ করা হয়, যা উদ্দীপকের জনাব হ্যারির সুপারিশেও লক্ষ করা যায়। উদ্দীপকে আলোচিত রিপোর্ট এবং বিভারিজ রিপোর্টের | মাঝে উদ্দেশ্যগত সাদৃশ্য বিদ্যমান।

 

ঘ) উদ্দীপকে ইঙ্গিতকৃত বিভারিজ রিপোর্ট ইংল্যান্ডের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি বাস্তবায়নে একটি উল্লেখযোগ্য মাইলফলক হয়ে আছে।বিভারিজ রিপোর্টের সুপারিশগুলো ইংল্যান্ডের সমাজসেবার ক্ষেত্রে আমূল পরিবর্তন এবং বাস্তবমুখী নতুন ধারা প্রবর্তন করে। এ সুপারিশ অনুসারেই যুক্তরাজ্যের সামগ্রিক সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি এবং এ পরিকল্পনার মেরুদণ্ড হিসেবে স্বীকৃত সামাজিক বিমা ব্যবস্থা গড়ে উঠেছে। এভাবে রিপোর্টটি ইংল্যান্ডের সামাজিক নিরাপত্তাকে সুসংহত করেছে।বিভারিজ রিপোর্টের প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো এটি সর্বপ্রথম সকল স্তরের জনগণের জন্য সমন্বিত সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি প্রবর্তনের সুপারিশ করে। এই রিপোর্টের সুপারিশ অনুযায়ী পারিবারিক ভাতা আইন ১৯৪৫, বিমা আইন-১৯৪৬, জাতীয় সাহায্য আইন-১৯৪৮, জাতীয় স্বাস্থ্য সেবা আইন-১৯৪৬ প্রভৃতি সামাজিক নিরাপত্তামূলক আইন প্রণীত হয়েছিল। এ আইনগুলো সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে বিশেষ কার্যকর ছিল। বিশেষত সামাজিক বিমা কর্মসূচির আওতায় যুক্তরাজ্যের জনগণের জন্য জাতীয় স্বাস্থ্য বিমা, বার্ধক্য ও পঙ্গু বিমা, বেকার বিমা, বিবাহ, জন্ম ও মৃত্যুর জন্য বিশেষ বিমা, শ্রমিক ক্ষতিপূরণ প্রভৃতি সুবিধা প্রদান করা হয়। এককথায় বলা যায়, বিভারিজ রিপোর্ট যুক্তরাজ্যে আধুনিক সমাজকল্যাণমূলক আইনের ভিত্তি রচনা করে।উপর্যুক্ত আলোচনা থেকে বলা যায়, বিভারিজ রিপোর্ট ইংল্যান্ডেও সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে উন্নত করেছে।

 

উদ্দীপকঃ-

=> দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের কারণে ‘ক’ দেশে নানা সমস্যা দেখা দেয়। উক্ত সমস্যা দূর করার লক্ষ্যে দেশটি প্রখ্যাত অর্থনীতিবিদ আসাদুল্লাহ কবিরের নেতৃত্বে একটি আন্তঃবিভাগীয় কমিটি গঠন করে। প্রায় দুই বছর পর কমিটি তাদের রিপোর্টে কিছু সুপারিশ উপস্থাপন করে। এ সুপারিশের আলোকে পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন আইন প্রণীত হয়। যেগুলো ‘ক’ দেশটিকে একটি কল্যাণ রাষ্ট্রের মর্যাদা এনে দেয়।

 

ক . শিল্পবিপ্লব প্রত্যয়টি নামকরণ করেন কে?

খ. সক্ষম দরিদ্র বলতে কী বুঝ?

গ. উদ্দীপকে কোন রিপোর্টের কথা বলা হয়েছে? ব্যাখ্যা কর।

ঘ. ‘ক’ দেশকে কল্যাণ রাষ্ট্রের মর্যাদা প্রতিষ্ঠায় উদ্দীপকে বর্ণিত রিপোর্টের অবদান মূল্যায়ন কর।

 

প্রশ্নের উত্তরঃ-

 

ক) শিল্প বিপ্লব প্রত্যয়টি নামকরণ করেন আরনল্ড জে টয়েনবি।

১৬০১ সালের দরিদ্র আইনকে ৪৩তম এলিজাবেথীয় দরিদ্র আইন বলা হয় কেন?

খ) সবল বা কর্মক্ষম ভিক্ষুকদের সক্ষম দরিদ্র বলা হতো।১৬০১ সালের দরিদ্র আইনে সাহায্য দানের সুবিধার্থে দরিদ্রদের তিনটি শ্রেণিতে বিভক্ত হয়। এগুলো হলো সক্ষম, অক্ষম দরিদ্র এবং নির্ভরশীল শিশু। যে সকল ভিক্ষুক কর্মক্ষম হওয়া সত্ত্বেও ভিক্ষাবৃত্তিতে নিয়োজিত থাকত তাদের সক্ষম দরিদ্র বলা হতো। এদের ভিক্ষা দেওয়া কঠোরভাবে নিষিদ্ধ ছিল। সংশোধনাগারে এ সকল ভিক্ষুকদের কাজ করতে বাধ্য করা হতো। কেউ অনিচ্ছা প্রকাশ করল তাকে কারাগারে নিক্ষেপ করার পাশাপাশি কঠোর শাস্তি প্রদান করা হতো।

 

গ) উদ্দীপকে ১৯৪২ সালের বিভারিজ রিপোর্টের কথা বলা হয়েছে।দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধজনিত কারণে সৃষ্ট সমস্যা ইংল্যান্ডের আর্থ-সামাজিক জীবনে বেশ জটিলতার সৃষ্টি করেছিল। এ সমস্যা মোকাবিলা অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়ে। তাই পুনর্গঠন মন্ত্রী আর্থার গ্রিনউড পার্লামেন্টের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রফেসর উইলিয়াম বিভারিজের নেতৃত্বে সামাজিক বিমা ও সাহায্য সম্পর্কিত বিষয়ের ওপর একটি আন্তঃবিভাগীয় কমিটি গঠন করে। প্রয়োজনীয় আলাপ-আলোচনা, পরামর্শ ও তথ্যের ভিত্তিতে ১৯৪২ সালের নভেম্বর মাসে কমিটি একটি রিপোর্ট পেশ করে। এই রিপোর্টটিই ইংল্যান্ডের সামাজিক নিরাপত্তার ইতিহাসে বিভারিজ রিপোর্ট নামে পরিচিত। প্রতিবেদনে উইলিয়াম বিভারিজ উন্নয়নের ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টিকারী প্রধান পাঁচটি নিয়ামককে পঞ্চদৈত্য হিসেবে আখ্যায়িত করেন। এগুলো হলো- অভাব, রোগ-ব্যাধি, মলিনতা, অলসতা ও অজ্ঞতা। এসব অন্তরায়সমূহ উত্তরণের জন্য বিভারিজ রিপোর্টে পাঁচটি সুপারিশ পেশ করা হয়। সুপারিশমালা বাস্তবে প্রয়োগ করার জন্য ৬টি নীতির উল্লেখ করা হয়। ১৯৪৫ সালে রাষ্ট্রীয়ভাবে আইন প্রবর্তনের মাধ্যমে বিভারিজ রিপোর্টের সুপারিশমালা ও নীতিসমূহ গৃহীত হয়। উদ্দীপকে উল্লিখিত ‘ক’ দেশে বিভারিজ রিপোর্টের অনুরূপ রিপোর্টের প্রতিফলন দেখা যায়। তাই বলা যায়, উদ্দীপকে উল্লিখিত রিপোর্টটি হচ্ছে বিভারিজ রিপোর্ট।

 

ঘ) ইংল্যান্ডকে কল্যাণ রাষ্ট্রের মর্যাদায় প্রতিষ্ঠিত করতে বিভারিজ রিপোর্টের অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।১৯৪২ সালে ইংল্যান্ডের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির কাঠামো মূলত স্যার উইলিয়াম বিভারিজের রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করে প্রণয়ন করা হয়। বিভারিজ রিপোর্ট মূলত ইংল্যান্ডে আধুনিক সমাজকল্যাণমূলক আইনের ভিত্তি রচনা করে।বিভারিজ রিপোর্টের ভিত্তিতে ১৯৪২ সালে ইংল্যান্ডের সামাজিক নিরাপত্তায় সামাজিক বিমা, পারিবারিক ভাতা, শ্রমিক ক্ষতিপূরণ বা শিল্প দুর্ঘটনা বিমা, সরকারি সাহায্য, জাতীয় স্বাস্থ্যসেবা কর্মসূচি প্রভৃতি প্রণয়ন করা হয়। এসব কর্মসূচির আওতায় স্বাস্থ্য, বার্ধক্য ও পঙ্গু বিমা; শিশু জন্ম মৃত্যুর জন্য বিশেষ ভাতা, পরিবারে দুইয়ের অধিক ১৮ বছরের কমবয়সী সন্তানের জন্য ভাতা, শিল্প দুর্ঘটনায় আক্রান্তদের ক্ষতিপূরণ, দরিদ্রদের আর্থিক সহায়তার পাশাপাশি কাজের ব্যবস্থা এবং চিকিৎসা সেবা প্রদান করা হয়। ইংল্যান্ডে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি প্রণয়নের ফলে সমাজের দুঃস্থ, অসহায় ও দরিদ্ররা সরকারিভাবে আর্থিক সাহায্য পেতে থাকে। অনেকের কাজের ব্যবস্থা হওয়ায় পরিবারে সচ্ছলতা ফিরে আসে। সরকারিভাবে চিকিৎসার ব্যবস্থা করায় জনগণের চিকিৎসার চাহিদাও পূরণ হয়। এভাবে বিভারিজ রিপোর্টের ভিত্তিতে প্রণীত কর্মসূচিগুলো জনগণের কল্যাণ সাধনে ব্যাপক ভূমিকা রাখে। এর ফলে ইংল্যান্ড কল্যাণ রাষ্ট্রের মর্যাদা লাভ করে।উদ্দীপকে ‘ক’ দেশ দ্বারা ইংল্যান্ডকে বোঝানো হয়েছে। ইংল্যান্ডে ১৯৪২ সালে বিভারিজ রিপোর্টের আলোকে বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তামূলক কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়।

আলোচনার পরিশেষে বলা যায়, ইংল্যান্ড কল্যাণ রাষ্ট্রের মর্যাদা অর্জনে বিভারিজ রিপোর্ট ভিত্তি হিসেবে কাজ করেছে। তাই এর অবদান অনস্বীকার্য।

 

উদ্দীপকঃ-

=> সময়টা ছিল শিল্প বিপ্লবের পূর্ববর্তী ষোড়শ শতাব্দীর কোন একটা সময়। উইলসনের দাদু তৎকালীন ইংল্যান্ডের একটি কোম্পানিতে চাকরি করতেন। সেখানে তার প্রতিবেশি মি. জনসন ভিক্ষাবৃত্তি করে জীবিকা নির্বাহ করতেন। তৎকালীন ইংল্যান্ডের অনেক মানুষই মি. জনসনের মতো জীবন ধারণ করতেন। দেশটির সরকার একটি বিশেষ আইন প্রণয়ন করে ভিক্ষুকদের ভরণপোষণের ব্যবস্থা করাই তারা সবাই ভিক্ষাবৃত্তি ছাড়তে বাধ্য হয়েছিলেন।

 

ক. পঞ্চদৈত্য কী?

খ. শিল্প বিপ্লবের ধারণা দাও।

গ. উদ্দীপকের প্রেক্ষাপটে তৎকালীন ইংল্যান্ডে কোন আইন প্রণয়ন করা হয়েছিল? ব্যাখ্যা কর।

ঘ. উক্ত আইনের গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলো বর্ণনা কর।

 

প্রশ্নের উত্তরঃ-

 

ক) পঞ্চদৈত্য হলো উন্নয়নের ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টিকারী প্রধান পাঁচটি নিয়ামক।

 

খ) যেসব প্রচেষ্টা ও পরিবর্তনের প্রেক্ষিতে শিল্প যুগের সূচনা হয় তাদের সমষ্টিই হলো শিল্পবিপ্লব।শিল্পবিপ্লব শব্দটি ‘শিল্প’ ও ‘বিপ্লব’ এ দুটি শব্দের সমন্বিত রূপ। যার সমন্বিত অর্থ শিল্প সংক্রান্ত বিপ্লব। এর সূচনা হয় ইংল্যান্ডে এবং পরে তা অতি দ্রুত পুরো বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে। এক কথায় বলা যায়, অষ্টাদশ শতাব্দীর মাঝামাঝি থেকে ঊনবিংশ শতাব্দীর মাঝামাঝি সময়ের মধ্যে ইংল্যান্ড ও বিশ্বের অন্যান্য দেশের উৎপাদন ব্যবস্থায় যে যুগান্তকারী পরিবর্তন আসে, তার প্রভাবে একটি নতুন যুগের সূচনা হয় ঐতিহাসিকগণ একে ‘শিল্পবিপ্লব’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।

 

গ) উদ্দীপকের প্রেক্ষাপটে তৎকালীন ইংল্যান্ডে দরিদ্র আইন ১৬০১ সালে প্রণয়ন করা হয়েছিল।প্রাক-শিল্প যুগে ইংল্যান্ডে বিভিন্ন ধরনের আর্থ-সামাজিক ও দারিদ্র্য সমস্যা ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছিল। তাই দারিদ্র্য দূরীকরণ এবং দরিদ্রদের সঠিক পুনর্বাসনের লক্ষ্যে একটি উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ হিসেবে ১৬০১ সালের দরিদ্র আইনটি প্রণয়ন করা হয়। এ আইনে সাহায্য প্রদানের সুবিধার্থে দরিদ্রদের সবল, অক্ষম ও নির্ভরশীল শিশু এ তিনটি শ্রেণিতে বিভক্ত করা হয়। সবল বা কর্মক্ষম ভিক্ষুকদের সক্ষম দরিদ্র বলা হতো এদের ভিক্ষা দেওয়া কঠোরভাবে নিষিদ্ধ ছিল। সংশোধনাগারে এদের কাজ করতে বাধ্য করা হতো। কেউ অনিচ্ছা প্রকাশ করলে তাকে কারাগারে নিক্ষেপ করার পাশাপাশি কঠোর শাস্তি প্রদান করা হতো।উদ্দীপকে শিল্প বিপ্লব পূর্ববর্তী ষোড়শ শতাব্দীর ইংল্যান্ডের ঘটনা উল্লেখ করা হয়েছে। উইলসনের দাদুর প্রতিবেশি ভিক্ষাবৃত্তি করে জীবিকা নির্বাহ করতেন। তৎকালীন ইংল্যান্ডের অনেক মানুষই ভিক্ষাবৃত্তি করে জীবিকা নির্বাহ করতো। তখন সে দেশের সরকার একটি বিশেষ আইন প্রণয়ন করে ভিক্ষুকদের ভরণপোষণের ব্যবস্থা করে। এর ফলে ভিক্ষুকরা ভিক্ষাবৃত্তি ছাড়তে বাধ্য হয়েছিল। এক্ষেত্রে সরকার যে আইনটি প্রণয়ন। করেছিল তা ১৬০১ সালের দরিদ্র আইন নামে পরিচিত।

 

ঘ) উদ্দীপকে ১৬০১ সালের দরিদ্র আইনের উল্লেখ আইনের বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিধান ছিল।এই ১৬০১ সালের দরিদ্র আইন সেবাদানের ক্ষেত্রে সরকারের পাশাপাশি দরিদ্রদের আত্মীয়স্বজন ও পরিবারের কর্তব্য নিশ্চিত করা হয়। এছাড়াও এ আইনে দরিদ্রদের শ্রেণিবিভাগ এবং আইন প্রয়োগের কঠোরতার উপর গুরুত্বারোপ করা হয়।১৬০১ সালের দরিদ্র আইন অনুযায়ী, যেসব দরিদ্র ও অসহায় ব্যক্তিদের সাহায্যদান করা হতো না যাদের পরিবার ও সম্পদশালী আত্মীয়স্বজন ছিল। প্যারিশ শুধু সেখানে জন্মগত বাসিন্দা অথবা কমপক্ষে তিন বছর ধরে বসবাসকারী এবং যাদের পরিবার ও আত্মীয়স্বজন সাহায্যদানে অক্ষম তাদেও দায়িত্ব গ্রহণ করবে। সক্ষম ভিক্ষুক ও সচ্ছল আত্মীয়স্বজনসম্পন্ন ভিক্ষুকদের সাহায্য দেওয়া ও নেওয়া নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়। অক্ষম দরিদ্রদের দরিদ্রাগারে রেখে তাদের সক্ষমতা অনুযায়ী কাজ করতে বাধ্য করা হতো। কারো যদি আশ্রয়ের ব্যবস্থা থাকতো এবং সেখানে ভরণপোষণের খরচ কম হতো তাদেরকে সেখানে রেখে ওভারসিয়ার এর মাধ্যমে সাহায্যদানের ব্যবস্থা করা হতো। এতিম, পরিত্যক্ত ও অক্ষম পিতামাতার সন্তানেরা এ পর্যায়ভুক্ত। এদেরকে কোনো নাগরিকের কাছে বিনা খরচে দত্তক অথবা কম খরচে লালন-পালনের জন্য দেওয়া হতো।

সুতরাং বলা যায়, ১৬০১ সালের দরিদ্র আইনের অধীনে দরিদ্রদের সাহায্য ও পুনর্বাসনে বিভিন্ন কর্মসূচি সরকারের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হয়, যা দরিদ্র আইনের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

বাঙ্গালার নব্য লেখকদিগের প্রতি নিবেদন সৃজনশীল প্রশ্ন