হযরত উসমান (রাঃ) কে জামিউল কুরআন বলা হয় কেন?

উদ্দীপকঃ-

=> হাসেম মণ্ডল একজন দ্বিমুখী চরিত্রের লোক। তিনি সবসময় মুখে একরকম কথা বলেন, কিন্তু অন্তরে অন্য ধারণা পোষণ করেন। নিজের প্রয়োজনে তিনি প্রায়ই কথা বলেন। লোখ দেখানোর জন্য তিনি নামাজ আদায় করেন কিন্তু ছোটখাটো অন্যায় থেকে নিজেকে কখনো বিরত রাখার চেষ্টা করেন না। প্রায়ই তিনি অন্যদেরকে ধোঁকা দেওয়ার জন্য প্রতরণার আশ্রয় নেন।

 

ক. সম্পূর্ণ কুরআন সর্বপ্রথম সংরক্ষিত হয় কোথায়?

খ. হযরত উসমান (রাঃ) কে জামিউল কুরআন বলা হয় কেন?

গ. আল কুরআনের ভাষায় হাসেম মণ্ডলকে কী নামে অভিহিত করা যায়? সুরা আল বাকারার ২য় রুকুর আলোকে ব্যাখ্যা কর।

ঘ. হাসেম মণ্ডলের পরিণতি সুরা আল বাকারার সংশ্লিষ্ট আয়াতের আলোকে বিশ্লেষণ করো।

 

প্রশ্নের উত্তরঃ-

ক) সম্পূর্ণ কুরআন সর্বপ্রথম লাওহে মাহফুজে (সুরক্ষিত ফলকে) সংরক্ষিত হয়।

 

খ) কুরআন সংকলনে অনন্য অবদানের জন্য হযরত উসমান (রা) কে জামিউল কুরআন (কুরআন সংকলনকারী) বলা হয়।

ইসলামের তৃতীয় খলিফা হযরত উসমান (রা) এর যুগে ইরাক, ইরান, সিরিয়া, মিশর, আফ্রিকা ও ইউরোপে ইসলাম ছড়িয়ে পড়ে। তখন কুরআন পাঠের গোত্রীয় ভিন্নতা দেখা দেয় এবং এটি ব্যাপক বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে। এ সময় হযরত উসমান (রা) রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে আঞ্চলিক বিকৃতিসম্পন্ন কুরআনের মতবিরোধপূর্ণ কপিগুলো সংগ্রহ করে সাহাবাদের ঐকমত্যে পুড়িয়ে ফেলেন। তারপর তিনি মূল কুরআনের কপি থেকে সাতটি অনুলিপি তৈরি করে এগুলো প্রতিটি প্রদেশে প্রেরণ করেন। ফলে কুরআন পাঠের ক্ষেত্রে একটি রীতির প্রচলন এবং এ সংক্রান্ত সকল বিভ্রান্তির অবসান ঘটে। কুরআন সংকলনে এ যুগান্তকারী ভূমিকার জন্যই হযরত উসমান (রা) জামিউল কুরআন নামে খ্যাত।

 

গ) আল কুরআনের ভাষায় হাসেম মণ্ডলকে মুনাফিক (ভণ্ড, প্রতারক দ্বিমুখী নীতি বিশিষ্ট) নামে অভিহিত করা যায়। আল কুরআনের সুরা আল বাকারার ২য় রুকুর আয়াতসমূহ মুনাফিকদের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের স্বরূপ উন্মোচন করে। যারা মুখে ইমান আনে এবং নিজেদের মুসলিম বলে পরিচয় দেয়, কিন্তু অন্তরে আল্লাহর প্রতি অবিশ্বাস পোষণ করে, তারা-ই মুনাফিক। এরা মিথ্যা কথা বলে এবং অন্যের সাথে প্রতারণা করে। উদ্দীপকের হাসেম মণ্ডল দ্বিমুখী চরিত্রের লোক। অর্থাৎ তিনি মুখে একরকম বলেন, কিন্তু অন্তরে অন্য ধারণা পোষণ করেন। এটি মুনাফিকদের একটি বৈশিষ্ট্য। সুরা আল বাকারার ২য় রুকুর ৮ নং আয়াতে মুনাফিকদের এরূপ দ্বিমুখী আচরণের কথা বলা হয়েছে। আবার হাসেম মন্ডল মিথ্যা কথা বলেন। সুরা বাকারার ১০ নং আয়াতে মুনাফিকদের মিথ্যাবাদী বলা হয়েছে। তাছাড়া হাসেম মণ্ডল অন্যের সাথে প্রতারণা করেন এবং অন্যকে ধোঁকা দেন। তিনি লোক দেখানোর জন্য নামাজ পড়েন। এর মাধ্যমে তিনি প্রকৃতপক্ষে নিজের অজ্ঞাতসারে নিজেকেই ধোঁকা দিচ্ছেন। প্রকৃতপক্ষে তিনি মহাবিভ্রান্তির মধ্যেই জীবনযাপন করছেন। এগুলোও মুনাফিকের বৈশিষ্ট্য। সুরা বাকারার ২য় রুকুর বিভিন্ন আয়াতে এ সম্পর্কে ইঙ্গিত প্রদান করা হয়েছে।সুতরাং বলা যায়, হাসেম মণ্ডলের জীবনাচরণ একজন মুনাফিকের মতোই।

ঘ) সুরা আল বাকারার ২০ নং আয়াতে হাসেম মণ্ডলের মতো মুনাফিকদের করুণ পরিণতির ব্যাপারে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। মুনাফিকরা পথভ্রষ্ট ও শঠতাপূর্ণ জীবনযাপন করে। এর ফলে তারা আল্লাহর অনুগ্রহ ও রহমত থেকে বঞ্চিত হয় এবং চিরস্থায়ী ক্ষতিই তাদের প্রাপ্য। তারা পৃথিবীতে যেমন ক্ষতির সম্মুখীন হয়, তেমনি পরকালের জীবনেও মহাশাস্তি ভোগ করে। অর্থাৎ তারা চিরস্থায়ী ধ্বংসের মুখে পতিত হয় এবং এর থেকে তাদের কোনো মুক্তি নেই।সুরা আল বাকারার ২০ নং আয়াতে আল্লাহ তায়ালা মুনাফিকদের কর্মতৎপরতা ও দুরবস্থার বাস্তব চিত্র উপস্থাপন করেছেন। এ আয়াতের শিক্ষা এরূপ যে, মুনাফিকরা চরম হতভাগ্য। মুমিনদের সাথে থেকে তাদের মতো বাহ্যিক আচরণ করেও তারা হেদায়েতের পথে চলার সৌভাগ্য থেকে বঞ্চিত হয়। পৃথিবীতে তাদের জীবন যেমন অসম্মান ও অবিশ্বাসে ভরা থাকে, পরকালেও তা কল্পনাতীত যন্ত্রণা ও আজাবে নিমজ্জিত থাকবে। বস্তুত তারা চিরস্থায়ী ধ্বংস ও ক্ষতিতে পতিত হবে। সুতরাং দেখা যাচ্ছে, মুনাফিকের জীবন বেছে নেওয়ায় হাসেম মণ্ডলও এরূপ দুর্ভাগ্যের শিকার হবেন। মিথ্যা ও শঠতার পথ অবলম্বন করায় তিনি আল্লাহর অনুগ্রহ থেকে বঞ্চিত হবেন এবং কঠিন আজাবের সম্মুখীন হবেন।

উপরের আলোচনা থেকে বলা যায়, মুনাফিকদের শাস্তি কঠোর ও যন্ত্রণাদায়ক। তাই হাসেম মণ্ডলের উচিত পরিপূর্ণভাবে ইমান আনা এবং আল্লাহর বিধান অনুসারে জীবনযাপন করা।

আল কুরআনের পরিচয় ও কুরআন কীভাবে সর্বাধিক মর্যাদাপূর্ণ গ্রন্থ, তা জানুন।