সুলতান মাহমুদের ভারত অভিযানের প্রকৃত কারণ কি?

উদ্দীপকঃ-

=> আনিস সাহেব একটি শিল্প প্রতিষ্ঠানের মালিক। নিজের প্রতিষ্ঠানটিকে একটি লাভজনক প্রতিষ্ঠানে পরিণত করার জন্য তিনি বড় বড় শিল্প প্রতিষ্ঠানের ব্যবসায়িক শেয়ার হস্তগত করেন এবং এটিকে একটি বৃহৎ প্রতিষ্ঠানে পরিণত করেন। প্রতিষ্ঠানটির সুনাম বৃদ্ধি পেলে বহু লোক চাকরি লাভে আগ্রহী হয়। মি. জওহরকে তিনি পদোন্নতি প্রদানের শর্তে তত্ত্বাবধায়ক নিযুক্ত করলেও তিনি তার খেলাপ করেন। এতে মি. জওহর ক্ষুব্ধ হয়ে তার প্রতিষ্ঠান ত্যাগ করেন।

প্রশ্ন-

ক. আল-বিরুনি কে ছিলেন?

খ. সুলতান মাহমুদের ভারত অভিযানের প্রকৃত কারণ ব্যাখ্যা কর?

গ. উদ্দীপকে আনিস সাহেবের কর্মকাণ্ড প্রাক-সালতানাত যুগের কোন শাসকের কর্মকাণ্ডের অনুরূপ? ব্যাখ্যা কর।

ঘ. মি. জওহরের প্রতি আনিস সাহেবের এরূপ আচরণকে তুমি কীভাবে দেখবে? ইতিহাসের আলোকে মতামত দাও।

 প্রশ্নের উত্তরঃ-

ক) আল বিরুনি ছিলেন মধ্যযুগের বিশ্বখ্যাত মুসলিম শিক্ষাবিদ ও গবেষক, যিনি ৯৭৩ সালে উজবেকিস্তানে জন্মগ্রহণ করেন।

 

খ) সুলতান মাহমুদের ভারত অভিযানের প্রকৃত কারণ ছিল অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি অর্জন করা।

সুলতান মাহমুদ গজনির শাসনব্যবস্থা সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা, সৈন্যবাহিনীর ভরণপোষণ এবং গজনিকে একটি সমৃদ্ধিশালী ও তিলোত্তমা নগরীতে পরিণত করার মানসে অর্থের প্রয়োজনে ভারতবর্ষ আক্রমণ করেন। ভারতবর্ষ সে সময় ধন-সম্পদে পরিপূর্ণ ছিল। তাই প্রয়োজনীয় অর্থের ভাণ্ডার হিসেবে সুলতান মাহমুদ ভারতকেই বেছে নিয়েছিলেন। আর এটিই মূলত সুলতান মাহমুদের ভারত অভিযানের প্রকৃত কারণ হিসেবে চিহ্নিত।

 

গ) উদ্দীপকে আনিস সাহেবের কর্মকাণ্ড প্রাক-সালতানাত যুগের শাসক সুলতান মাহমুদের কর্মকাণ্ডের অনুরূপ। যোগ্য ও গুণী লোককে তার প্রাপ্য সম্মান থেকে বঞ্চিত করা উচিত নয়।

কিন্তু উদ্দীপকের আনিস সাহেব মি. জওহরকে যথাযথ মূল্যায়ন করেননি। সুলতান মাহমুদও ইতিহাসের একজন গুণী কবির সম্মানহানি করেছিলেন বলে জানা যায়।সুলতান মাহমুদ গজনির শিল্প ও সাহিত্যের উন্নতিকল্পে শিক্ষাবিদ ও গবেষক আল বিরুনি ও মহাকবি ফেরদৌসিকে তার দরবারে চাকরি দেন। সুলতান মাহমুদ ফেরদৌসিকে তার রাজত্বকালকে স্মরণীয় রাখতে একটি গ্রন্থ রচনার জন্য অনুরোধ করেন। কথিত আছে যে, ‘শাহনামা’ গ্রন্থ রচনার জন্য সুলতান মাহমুদ তাকে ৬০,০০০ স্বর্ণমুদ্রা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি প্রদান করেন। কিন্তু এটি রচনা শেষ হলে সুলতান মাহমুদ ৬০,০০০ স্বর্ণমুদ্রার পরিবর্তে ৬০,০০০ রৌপ্যমুদ্রা প্রদান করতে চাইলে ফেরদৌসি ঘৃণাভরে তা প্রত্যাখ্যান করেন। সুতরাং দেখা যাচ্ছে, উদ্দীপকের আনিস সাহেব যেরূপ যোগ্য ব্যক্তিকে মূল্যায়ন না করে তার প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করেছেন, তেমনি সুলতান মাহমুদও তার কথার বরখেলাপ করেছেন। এদিক থেকে তাদের দুজনের মধ্যে সাদৃশ্য বিদ্যমান।

 

ঘ) উদ্দীপকে মি. জওহরের প্রতি আনিস সাহেবের এরূপ আচরণ মোটেও সমীচীন নয় বলে আমি মনে করি।

কথা দিয়ে কথা রাখা একটি মানবীয় গুণ। প্রত্যেকেরই উচিত প্রতিশ্রুতি রক্ষার জন্য সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালানো। প্রতিশ্রুতি রক্ষা না করতে পারলে তার ফলাফল কখনোই ভালো হয় না। এর ফলে অন্য কারও বঞ্চিত হবার সম্ভাবনা থাকে। যেমনটি উদ্দীপকের মি. জওহর এবং মহাকবি ফেরদৌসির ক্ষেত্রে লক্ষ করা যায়। উদ্দীপকে আনিস সাহেব তার প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করেছেন। মি. জওহরকে তিনি পদোন্নতি দেওয়ার শর্তে তার কোম্পানিতে তত্ত্বাবধায়ক হিসেবে নিয়োগ দিয়েছিলেন। কিন্তু তিনি পরবর্তীতে তাকে পদোন্নতি দেননি। আনিস সাহেবের এরূপ আচরণ কাঙ্ক্ষিত নয় এবং ইতিহাসের আলোকে এ ধরনের আচরণকে অত্যন্ত দুঃখজনক বলা যায়। ইতিহাসে সুলতান মাহমুদ মহাকবি ফেরদৌসিকে অবমূল্যায়ন করেছিলেন এবং এর ফলে | ফেরদৌসি ভীষণ মর্মাহত হয়েছিলেন। তিনি রাগে, ক্ষোভে ও অভিমানে গজনি ছেড়ে চলে গিয়েছিলেন। পরবর্তীতে অল্পকালের মধ্যেই তিনি মৃত্যুবরণ করেন এবং তার মৃত্যুতে সাহিত্যের অপূরণীয় ক্ষতি হয়। সুতরাং প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের পরিণাম যে ভালো হয় না তা ইতিহাসের শিক্ষা থেকেই জানা যায়।

পরিশেষে বলা যায়, মি. জওহরের প্রতি আনিস সাহেবের আচরণ অত্যন্ত নিন্দনীয় ও অগ্রহণযোগ্য।

 

সুলতান মাহমুদের ভারত অভিযানের প্রকৃত কারণ কি?

উদ্দীপকঃ-

=> ইসলাম খান ছিলেন আরব অঞ্চলের শাসনকর্তা।তাঁর সমসাময়িক ভারতবর্ষের শাসনকর্তা ছিলেন রাজা দশরথ। ইসলাম খানের কিছু বিদ্রোহী রাজা দশরথের রাজ্যে আশ্রয় গ্রহণ করে। বিদ্রোহীদের আশ্রয় প্রদানসহ নানা কারণে রাগান্বিত হয়ে ইসলাম খান তার জামাতাকে রাজা দশরথের সাম্রাজ্য আক্রমণের জন্য প্রেরণ করেন। জামাতা দশরথ সাম্রাজ্য দখল করলেও সেখানে তিনি স্থায়ী সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেননি।

 

প্রশ্ন-

ক. কার নাম অনুসারে ভারতবর্ষ নামকরণ করা হয়?

গ. উদ্দীপকের রাজা দশরথের সাথে তোমার পাঠ্যবইয়ের কোন শাসকের শাসন সাদৃশ্যপূর্ণ? ব্যাখ্যা কর।

ঘ. আরবদের সিন্ধু বিজয়ের ফলাফল বিশ্লেষণ কর।

 

প্রশ্নের উত্তরঃ-

 

ক) রাজা ভরতের নাম অনুসারে ‘ভারতবর্ষ’ নামকরণ করা হয়।

 

ঘ) উদ্দীপকের রাজা দশরথের সাথে আমার পাঠ্যবইয়ের সিন্ধুরাজ দাহিরের শাসন সাদৃশ্যপূর্ণ।

রাজা দাহির ছিলেন হাজ্জাজ বিন ইউসুফের সমসাময়িক সিন্ধু রাজ্যের শাসনকর্তা। তিনি ছিলেন স্বৈরাচারী ও প্রজানিপীড়ক। তার উদ্ধত আচরণে ক্ষুব্ধ হয়ে হাজ্জাজ বিন ইউসুফ জামাতা মুহাম্মদ বিন কাসিমকে সিন্ধু অভিযানে প্রেরণ করেন। মুহাম্মদ বিন কাসিমের নিকট রাজা দাহির পরাজিত এবং নিহত হন। রাজা দশরথের ক্ষেত্রেও এমন পরিস্থিতি লক্ষণীয়। উদ্দীপকে দেখা যায়, ইসলাম খান ছিলেন আরব অঞ্চলের শাসনকর্তা। তার সমসাময়িক ভারতবর্ষের শাসনকর্তা ছিলেন রাজা দশরথ। ইসলাম খানের কিছু বিদ্রোহী রাজা দশরথের রাজ্যে আশ্রয় গ্রহণ করে। বিদ্রোহীদের আশ্রয় প্রদানসহ নানা কারণে রাগান্বিত হয়ে ইসলাম খান তার জামাতাকে রাজা দশরথের সাম্রাজ্য আক্রমণের জন্য প্রেরণ করেন। ঠিক একইভাবে খলিফা আল ওয়ালিদের পূর্বাঞ্চলীয় শাসনকর্তা হাজ্জাজ বিন ইউসুফের কঠোর শাসনের প্রতিবাদে বিদ্রোহী হয়ে কতিপয় আরব বিদ্রোহী সীমান্ত অতিক্রম করে সিন্ধুরাজ দাহিরের নিকট আশ্রয় নেয়। হাজ্জাজ বিন ইউসুফ তাদের ফেরত পাঠানোর দাবি জানালে রাজা দাহির তা প্রত্যাখ্যান করেন। এতে তিনি রাজা দাহিরকে সমুচিত শাস্তি দেওয়ার লক্ষ্যে ও আরো বিভিন্ন কারণে জামাতা মুহাম্মদ বিন কাসিমকে সিন্ধু অভিযানে প্রেরণ করেন। ৭১২ খ্রিষ্টাব্দে মুহাম্মদ বিন কাসিম রাজা দাহিরকে পরাজিত করে সিন্ধু রাজ্য দখল করেন। সুতরাং বলা যায়, উদ্দীপকের রাজা দশরথের সাথে সিন্ধু রাজা দাহিরই সামঞ্জস্যপূর্ণ।

সমাজকর্ম একটি ব্যবহারিক বিজ্ঞান- ব্যাখ্যা কর