সুরা বাকারার আলোকে মুমিনের বৈশিষ্ট্য কি?

উদ্দীপকঃ-

=> সাকিব একজন মুদি দোকানদার। ব্যবসায়ের ক্ষেত্রে তার কথা ও কর্মে কোনো মিল না থাকায় অনেকেই তার দোকান থেকে কেনা-কাটা ছেড়ে দিয়েছে। এমতবস্থায় সে এলাকার মসজিদের ইমাম সাহেবের নিকট দোকানের দৈন্যদশার কথা জানাল, ইমাম সাহেব তাকে তার কথা ও কাজের বৈপরিত্য পরিহার করে মানুষের আস্থা ও বিশ্বাস অর্জনের পরামর্শ দিলেন এবং মুনাফিকের পরিণতি সম্পর্কে তাকে অবহিত করলেন।

প্রশ্ন-

ক. بكُمْ عُمْيٌ فَهُمْ لَا يَرْجِعُونَ .. ووو صم بكم عمى আয়াতের অর্থ কী?

খ. সুরা বাকারার আলোকে মুমিনের বৈশিষ্ট্য কি?

গ. মুদি দোকানদারের চরিত্র কাদের বৈশিষ্ট্য ফুটে উঠেছে? ব্যাখ্যা করো।

ঘ. ইমাম সাহেবের বক্তব্যের আলোকে মুনাফিকদের পরিণতি সুরা বাকারার আলোকে বিশ্লেষণ করো।

 

প্রশ্নের উত্তরঃ-

ক) এক আয়াতটির অর্থ হলো- তারা বধির, বোবা ও অন্ধ; কাজেই তারা ফিরে আসবে না।

 

খ) মুনাফিকদের প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো তারা দ্বিমুখীনীতি অবলম্বন করে। সূরা আল-বাকারায় মহান আল্লাহ তায়ালা মুনাফিকদের কতিপয় বৈশিষ্ট্যের কথা উল্লেখ করেছেন। যেমন- তারা ধোঁকাবাজ, ইসলাম ও ইমানদারদেরকে ধোঁকা দেওয়ার চেষ্টা করে। তারা বিশৃঙ্খলা-বিপর্যয় সৃষ্টিকারী। তারা নির্বোধ ও ঠাট্টা-বিদ্রূপকারী, ইসলাম গ্রহণের ব্যাপারে তারা বধির, বোবা ও অন্ধ।

 

গ) মুদি দোকানদার সাকিবের কথা ও কর্মে মুনাফিকদের বিশেষ বৈশিষ্ট্য ফুটে ওঠেছে।

মুনাফিকদের বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো তাদের কথা এবং কাজে সবসময় ভিন্নতা থাকে। তারা একরকম কথা দিয়ে কাজ করে অন্যরকম। এরা দ্বিমুখী নীতি অবলম্বনের মাধ্যমে নিজেদের স্বার্থ উদ্ধারে সর্বদা ব্যস্ত থাকে। তাদের কথা ও কাজে কোনো মিল থাকে না। সাকিবের মধ্যে এরকম বৈশিষ্ট্যই লক্ষণীয়।উদ্দীপকে দেখা যায়, মুদি দোকানদার সাকিব তার ব্যবসার ক্ষেত্রে একরকম কথা দিয়ে কাজ করে অন্যরকম, তার কথা ও কর্মে কোনো মিল না থাকায় অনেকেই তার দোকান ছেড়ে দিয়েছে। ফলে তার দোকানের দৈন্যদশা সৃষ্টি হয়েছে। রাসুল (স) এর সময়কালেও মুনাফিকরা মুমিনদের সাথে দেখা হলে মুসলিমসুলভ আচরণ করত এবং বলত আমরা ইমান এনেছি। এর মাধ্যমে তারা মুসলমানদের কাছে থেকে সুযোগ-সুবিধা হাতিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থা করত। আবার যখন ইহুদি দলপতিদের সাথে নিভৃতে সাক্ষাৎ করত তখন বলত আমরা তো তোমাদেরই লোক এবং তোমাদেরই সাথী। এভাবে মুনাফিকরা তাদের কথা ও কাজের ভিন্নতার মাধ্যমে দ্বিমুখিতার বহিঃপ্রকাশ ঘটায়। সুতরাং সাকিবের কথা ও কাজের এ বৈপরীত্য অর্থাৎ দ্বিমুখিতা | সুস্পষ্টভাবে মুনাফিকের বৈশিষ্ট্যকে ইঙ্গিত করে।

 

ঘ) মুনাফিকদের পরিণতি হবে অত্যন্ত ভয়াবহ।

ইসলামি শরিয়তের দৃষ্টিতে নিফাক অত্যন্ত জঘন্য পাপ। কারণ মুনাফিকদের অন্তরে অবিশ্বাস ও অবাধ্যতা লুকায়িত থাকে। এটি মানুষের চরিত্র ও নৈতিকতা ধ্বংস করে দেয়। এর ফলে মানুষ মিথ্যাচারে অভ্যস্ত হয়ে পড়ে। পবিত্র কুরআনে মহান আল্লাহ মুনাফিকদের মিথ্যাবাদী বলে আখ্যায়িত করেছেন এবং ভয়াবহ শাস্তির ঘোষণা দিয়েছেন যাতে মানুষ নিফাক থেকে দূরে থাকে। আল্লাহ তায়ালা বলেছেন, নিশ্চয়ই মুনাফিকরা জাহান্নামের সর্বনিম্নস্তরে থাকবে। (সুরা-আন-নিসা: ১৪৫)। এ আয়াতে আল্লাহ তায়ালা মুনাফিকদের জন্য ভয়াবহ শাস্তির ঘোষণার মাধ্যমে নিফাক থেকে বিরত থাকার শিক্ষা ও গুরুত্ব প্রকাশ করেছেন। কেননা মুনাফিকি অত্যন্ত মারাত্মক অপরাধ। আবার, সুরা আল বাকারায় তাদের উপমা দিয়ে আল্লাহ তায়ালা বলেন, “যেমন কোনো এক ব্যক্তি আগুন জ্বালাল। এরপর যখন তা তার চারদিক আলোকিত করে তুলল, তখন আল্লাহ তাদের জ্যোতি নিয়ে গেলেন এবং তাদের ছেড়ে দিলেন অন্ধকারে, তারা দেখতে পায় না।” (সুরা- আল বাকারা: ১৭) এখানে তাদের করুণ পরিণতির কথা বলা হয়েছে।

পরিশেষে বলা যায় যে- মুনাফিকরা ইসলাম ও মুসলমানদের সাথে থেকেও আল্লাহ তায়ালার অবাধ্য থাকে। তারা ইসলামের জন্য ক্ষতিকর।পরকালীন জীবনে মুনাফিকদের পরিণতি হবে অত্যন্ত ভয়াবহ।

 

উদ্দীপকঃ-

=> মুসল্লিদের উদ্দেশ্যে খতিব সাহেব বললেন, আজ আমি আপনাদের সামনে বনি ইসরাইল জাতি সম্পর্কে আলোচনা করব। আপনারা জানেন কি বনি ইসরাইল কারা? বনি ইসরাইলদের নিকট থেকে আল্লাহ তায়ালা বহু প্রতিশ্রুতি নিয়েছিলেন। কিন্তু তারা সে প্রতিশ্রুতিগুলোর মর্যাদা রক্ষা করতে পারেনি। তারা আল্লাহর নেয়ামতের শুকরিয়া আদায় করতে পারেনি। ফলে তারা অভিশপ্ত জাতিতে পরিণত হয়েছিল। শহীদ বীর বিক্রম রমিজ উদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজ, ঢাকা।

 

প্রশ্ন-

ক. বনি ইসরাইল কাদেরকে বলা হয়?

গ. আল্লাহ তায়ালা কর্তৃক বনি ইসরাইলদের কাছ থেকে গৃহীত প্রতিশ্রুতিসমূহ কুরআনের আলোকে বর্ণনা করো।

ঘ. অভিশপ্ত জাতি থেকে পরিত্রাণের উপায় কি বলে তুমি মনে করো? পাঠ্যবইয়ের আলোকে বিশ্লেষণ করো।

 

 প্রশ্নের উত্তরঃ-

ক) হযরত ইয়াকুব (আ)-এর বংশধরদের বনি ইসরাইল বলা হয়।

 

গ) আল্লাহ তায়ালা বনি ইসরাইলদের কাছ থেকে কতিপয় প্রতিশ্রুতি গ্রহণ করেছিলেন।

হযরত ইয়াকুব (আ)-এর বংশধররা হলেন বনি ইসরাইল বা ইসরাইল জাতি। এ জাতিকে আল্লাহ সাধারণ নিয়ামতের বাইরে আরও বিশেষ কিছু নিয়ামতে ভূষিত করেন। এই নিয়ামতের প্রেক্ষিতেই আল্লাহ তায়ালা তাদের কাছে কতিপয় প্রতিশ্রুতি গ্রহণ করেন।উদ্দীপকে উক্ত জাতি থেকে গৃহীত প্রতিশ্রুতির ব্যাপারে ইঙ্গিতপূর্ণ আলোচনা করা হয়েছে। আল কুরআনের দ্বিতীয় সুরা আল-বাকারা-এর বর্ণনা অনুযায়ী আল্লাহ তায়ালা বনি ইসরাইলদের কাছ থেকে কিছু প্রতিশ্রুতি গ্রহণ করেন। যেমন- আল্লাহ ছাড়া কারও উপাসনা না করা, পিতা-মাতা, আত্মীয়-স্বজন, এতীম ও দীন-দরিদ্রদের সাথে সদ্ব্যবহার করা, মানুষকে সৎ কথাবার্তা বলা, নামাজ প্রতিষ্ঠা করা, জাকাত দেওয়া। আল্লাহ তায়ালা বলেন, “যখন আমি বনি ইসরাইলের কাছ থেকে অঙ্গীকার নিলাম যে, তোমরা আল্লাহ ছাড়া কারও উপসানা করবে না, পিতা-মাতা, আত্মীয়-স্বজন, এতিম ও দীন-দরিদ্রদের সাথে সদ্ব্যবহার করবে, মানুষকে সৎ কথাবার্তা বলবে, নামাজ প্রতিষ্ঠা করবে এবং জাকাত দেবে, তখন সামান্য কয়েকজন ছাড়া তোমরা মুখ ফিরিয়ে নিলে, তোমরাই অগ্রাহ্যকারী। যখন আমি তোমাদের কাছ থেকে অঙ্গীকার নিলাম যে, তোমরা পরস্পর খুনাখুনি করবে না এবং নিজেদেরকে দেশ থেকে বহিস্কার করবে না, তখন তোমরা তা স্বীকার করেছিলে এবং তোমরা তা সাক্ষ্য দিচ্ছিলে।” (সুরা- আল-বাকারা : ৮৩-৮৪)।

সুরা বাকারার আলোকে মুমিনের বৈশিষ্ট্য কি?

 

হযরত উসমান (রাঃ) কে জামিউল কুরআন বলা হয় কেন?

ঘ) অভিশপ্ত জাতি থেকে পরিত্রাণের উপায় হলো তাওবা করা। তাওবাহ শব্দের অর্থ মুখ ফিরিয়ে নেওয়া। ইসলামের পরিপন্থিমূলক কোনো কাজ বা আল্লাহর কোনো আদেশ অমান্য করার পর অনুশোচনা করে উক্ত কাজ থেকে চিরতরে মুখ ফিরিয়ে নেওয়াই হলো তাওবাহ। আর তাওবাহ করার মাধ্যমেই বড় ধরনের পাপ বা অভিশপ্ত জাতি থেকে মুক্তি লাভ সম্ভব হয়।উদ্দীপকে কতিপয় অভিশপ্ত জাতিসমূহের মধ্যে অন্যতম জাতি বনি ইসরাইল সম্পর্কে আলোকপাত করা হয়েছে। এ জাতিকে আল্লাহ তায়ালা সাধারণ নিয়ামতের বাইরে আরও বিশেষ কিছু নিয়ামতে ভূষিত করেন। তারা নিয়ামতের শোকরিয়া জ্ঞাপন করে না; উপরন্তু আল্লাহ তায়ালার অবাধ্যতা পোষণ করে সীমালঙ্গন করার ফলশ্রুতিতে অভিশপ্ত জাতিতে পরিণত হয়। এমতাবস্থায় অভিশপ্ত জাতি থেকে পরিত্রাণ লাভে তাদের করণীয় হলো তাওবাহ করা। কারণ তাওবাহ হলো অপরাধ মূলক কাজ সংঘটিত হওয়ার পর অনুশোচনা ও পরিত্রাণ লাভের একমাত্র উপায়, যা আল্লাহ তায়ালা কর্তৃক শিক্ষনীয়। আল্লাহ তায়ালা বলেন, “অবশ্য যারা এই অবাঞ্চিত আচরণ হতে বিরত হবে ও নিজেদের কর্মনীতি সংশোধন করে নিবে এবং যা গোপন করছিল তা প্রকাশ করতে শুরু করবে, তাদেরকে আমি মাফ করে দেব, প্রকৃতপক্ষে আমি বড়ই ক্ষমাশীল, তাওবা গ্রহণকারী ও দয়ালু” (সুরা- আল-বাকারা : ১৬০)।

উপরিউক্ত আলোচনা থেকে বোঝা যায় যে, তাওবাহ হলো একমাত্র উপায়, যার মাধ্যমে অভিশপ্ত জাতি থেকে পরিত্রাণ লাভ করা যায়।