সাহিত্যের রূপ ও রীতি প্রবন্ধের সৃজনশীল প্রশ্ন

Table of Contents

সাহিত্যের রূপ ও রীতি প্রবন্ধের সৃজনশীল প্রশ্নঃ-

১। বেলাল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র। সে লাইব্রেরিতে এমন একটি প্রবন্ধ খুঁজছিল, যেখানে লেখকের মেধা অপেক্ষা ব্যক্তিহৃদয়ই প্রধান হয়ে উঠেছে। সে গ্যালারি থেকে বই নিয়ে পড়তে শুরু করল। সে লক্ষ করল প্রবন্ধটিতে ব্যক্তিই মুখ্য হয়ে উঠেছে। এ প্রবন্ধে লেখক তার সমস্ত মেধাশক্তি দিয়ে ব্যক্তিকে মুখ্য করে তুলেছেন। কিন্তু লেখকের কোনো গুণই পাঠক-দৃষ্টিতে মুখ্য হয়ে উঠেনি।

ক) কায়েদে আজম কলেজের বর্তমান নাম কী?

খ) উপন্যাসে বিস্তারিতভাবে কাহিনি বর্ণিত থাকে কেন?

গ) উদ্দীপকের বেলালের পঠিত প্রবন্ধটি ‘সাহিত্যের রূপ ও রীতি’ প্রবন্ধের যে শাখাভুক্ত তা ব্যাখ্যা কর।

ঘ) উদ্দীপকের বেলালের পঠিত বিষয়টি ‘সাহিত্যের রূপ ও রীতি’ প্রবন্ধের সমগ্র ভাবকে ধারণ করতে পেরেছে কি? যুক্তিসহ তা বিশ্লেষণ কর।

 

২। নবম শ্রেণি ছাত্র সোহাগ। সে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির সদস্য। মাঝে মাঝে সে লাইব্রেরি থেকে তার পছন্দের বই নিয়ে পড়ে।সে গল্পের বই পড়তে খুব ভালোবাসে। সময় পেলেই সে গল্পের বই পড়ে। সোহাগের মা, মাঝে মাঝে রেগে যায়, বলে ক্লাসের পড়া নষ্ট হচ্ছে। সোহাগ তখন মাকে বুঝিয়ে বলে, গল্পগুলো পড়তে সময় কম লাগে, কাহিনি ছোট, অল্প চরিত্রে অথচ পড়ার পর মনে হাজারও প্রশ্ন জাগে। খুব মজা পায় নষ্ট হয় না আবার বই পড়ার অভ্যাসও তৈরি হয়।

ক) উপন্যাসের প্রধান উপজীব্য কী?

খ) শেষ হয়ে হইল না শেষ- উক্তিটি বুঝিয়ে লেখ।

গ) উদ্দীপকের সাথে ‘সাহিত্যের রূপ ও রীতি’ প্রবন্ধের বৈসাদৃশ্য আলোচনা কর।

ঘ) “উদ্দীপকে বর্ণিত বিষয়টিই ‘সাহিত্যের রূপ ও রীতি’ প্রবন্ধের একমাত্র আলোচ্য বিষয় নয়” মন্তব্যটির যথার্থতা যাচাই কর।

 

৩। মানুষের জীবনটা বিপুল একটা বনস্পতির মতো। তার আয়তন, তার আকৃতি সুঠাম নয়; দিনে দিনে চলছে তার মধ্যে এলোমেলো ডালপালার পুনারাবৃত্তি। এই স্তূপাকার একঘেয়েমির মধ্যে হঠাৎ একটা ফল ফলে ওঠে, সে নিটোল, সে সুডৌল, বাইরে তার রং রাঙা কিংবা কালো, ভিতরে তার রস তীব্র কিংবা কটু। সে সংক্ষিপ্ত, সে অনিবার্য, সে দৈবলব্ধ।

ক) বিষয়বস্তুর প্রাধান্য থাকে কোন ধরনের প্রবন্ধে?

খ) “যা নেই ভারতে তা নেই ভারতে” কথাটি ব্যাখ্যা কর।

গ) উদ্দীপকটিতে সাহিত্যের কোন শাখার বৈশিষ্ট্য ফুটে উঠেছে? “সাহিত্যের রূপ ও রীতি” প্রবন্ধ অনুসারে ব্যাখ্যা কর।

ঘ) উদ্দীপকের মূলভাব প্রবন্ধের পুরোপুরি ভাব প্রকাশ করে কি? তোমার উত্তরের সপক্ষে যুক্তি দাও।

 

৪। বাংলা ভাষার প্রথম মৌলিক নাটকটির নাম ‘ভদ্রার্জুন’ (১৮৫২), লিখেছিলেন তারাচরণ শিকদার। এটি একটি কমেডি। এ-নাটক প্রকাশের কিছুদিন পরে, এ-বছরই প্রকাশিত হয় প্রথম ট্রাজেডি ‘কীর্তিবিলাস’ (১৮৫২) লিখেছিলেন যোগেন্দ্রচন্দ্র গুপ্ত। ভদ্রার্জুন নাটকের কাহিনি নেয়া হয়েছিল মহাভারত থেকে। ‘কীর্তিবিলাস’- এর কাহিনি বেশ জটিল।পাঁচটি অঙ্কে নাট্যকার এক বেদনাঘন কাহিনি পরিবেশন করেছেন।

ক) নাটক সচরাচর কয় অঙ্কের বিভক্ত থাকে?

খ) সাহিত্যের প্রধান লক্ষণ সৃজনশীলতা কেন? বুঝিয়ে দাও।

গ) উদ্দীপকে ‘সাহিত্যের রূপ ও রীতি’ প্রবন্ধের প্রতিফলিত দিকটি ব্যাখ্যা কর।

ঘ) ‘উদ্দীপকে বর্ণিত দিকটিই সাহিত্যের একমাত্র দিক নয় বরং এর শাখা-প্রশাখা বিস্তৃত’ মন্তব্যটির যথার্থতা বিচার কর।

 

৫। সাহিত্যের একটি শাখায় লেখকের জীবনদর্শন ও জীবনানুভূতি কোনো কাল্পনিক বস্তুর কাহিনি অবলম্বনে বর্ণনাত্মক শিল্পকর্মে রূপায়িত হয়। সমগ্র জীবনের প্রতিচ্ছবি এতে প্রতিফলিত হয় বলে এর পটভূমি হয় বিস্তৃত।

ক) “শাজাহান” কার লেখা?

খ ) মধ্যযুগে রচিত মঙ্গলকাব্য- এর প্রধান উপজীব্য গল্পে বা কাহিনি হলেও এদের উপন্যাস না বলে কাব্য বলা হয় কেন? ব্যাখ্যা কর।

গ) উদ্দীপকের বক্তব্যের সাথে ‘সাহিত্যের রূপ ও রীতি’ প্রবন্ধের সাদৃশ্যপূর্ণ দিকটি তুলে ধর।

ঘ) উদ্দীপকটি ‘সাহিত্যের রূপ ও রীতি’ প্রবন্ধের সমগ্র বিষয়কে ধারণ করে না তোমার উত্তরের সপক্ষ্যে এর যৌক্তিক মতামত দাও।

 

৬। ছোট প্রাণ, ছোট ব্যথা ছোট ছোট দুঃখ কথা/নিতান্তই সহজ সরল/সহস্র বিস্মৃত রাশি প্রত্যহ যেতেছে ভাসি/তারি দু’চারিটি অশ্রু জল।/নাহি বর্ণনার ছটা ঘটনার ঘনঘটা/নাহি তত্ত্ব নাহি উপদেশ/অন্তরে অতৃপ্ত রবে সাঙ্গ করি মনে হবে/শেষ হয়ে হইল না শেষ।

ক) চন্দ্রগুপ্ত কত সালে প্রকাশিত হয়?

খ) বৈষ্ণব পদাবলিকে বাংলা সাহিত্যে গীতিকবিতার আদি নিদর্শন বলা হয় কেন? ব্যাখ্যা কর।

গ) উদ্দীপকটি ‘সাহিত্যের রূপ ও রীতি’ প্রবন্ধে সাহিত্যের কোন শাখার সাথে সাযুজ্যপূর্ণ ব্যাখ্যা কর।

ঘ) শেষ হয়ে হইল না শেষ- উদ্দীপক ও ‘সাহিত্যের রূপ ও রীতি’ প্রবন্ধের আলোকে পঙক্তিটির তাৎপর্য নিরূপণ কর

 

৭। বাংলাদেশের মুনি-ঋষি আর অলি-গাজির পীঠস্থান, হেথায় মন্দিরে বাজে শঙ্খ-ঘণ্টা মসজিদে আজান। আমাদের ধন, করেছে লুণ্ঠন, বেনিয়ারা হায়, প্রতিবাদ তবু না করে কেউ কেউ দাসত্ব করেছি পায়। দেড়শ বছর করেছেন সংগ্রাম হাজারো বাঙালি বীর, সূর্যসেন, ক্ষুদিরাম, বাঁশের কেল্লার তিতুমীর। বাংলা আমার ভাষা, বাংলাদেশ আমার মাতা দিয়েছে ধন-ঐশ্বর্য, গাছপালা রোদে দিয়েছে ছাতা।

ক) হাসান আজিজুল হকের জন্ম কত সালে?

খ) কমেডি বিষয়ে এরিস্টোটলের বক্তব্য ব্যাখ্যা কর।

গ) উদ্দীপকটি সাহিত্যের যে রীতির সাথে মেলবন্ধন সৃষ্টি করে তার সাথে উপন্যাসের পার্থক্য কোথায় আলোচনা কর।

ঘ) “উদ্দীপকটি” “সাহিত্যের রূপ ও রীতি’ প্রবন্ধের একটি খণ্ডিত অংশ”- কথাটির সত্যতা নিরূপণ কর।

৮। ইহার পরে হৈমর মুখে তাহার চিরদিনের সেই স্নিগ্ধ হাসিটুকু আর এক দিনের জন্যও দেখি নাই। তাহারও পরে কী হইল সে কথা আর বলিতে পারিব না। শুনিতেছি মা পাত্রী সন্ধান করিতেছেন। হয়তো একদিন মার অনুরোধ অগ্রাহ্য করিতে পারিব না, ইহাও সম্ভব হইতে পারে। কারণ থাক আর কাজ কী?

ক) বিশ্বসাহিত্যে সর্বাপেক্ষা প্রাচীন সাহিত্যকর্ম কী?

খ) ছোটগল্পের প্রামাণ্য সংজ্ঞা হিসেবে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কবিতার চরণগুলো লেখ।

গ) উদ্দীপকটি ‘সাহিত্যের রূপ ও রীতি’ প্রবন্ধ সাহিত্যের কোন রীতিটি নির্দেশ করছে? নির্ণয় কর।

ঘ) উদ্দীপকটি ‘সাহিত্যের রূপ ও রীতি’ প্রবন্ধের সাহিত্যের সকল শাখার প্রতিনিধিত্ব করে না। মন্তব্যটির যথার্থতা বিশ্লেষণ কর।

 

৯। কাহিনির উৎস পৌরাণিক বা ঐতিহাসিক কোনো ঘটনা, আয়তনে বিশাল।কাহিনি বিভিন্ন সর্গে বা পর্বে বিভক্ত থাকে, সাধারণত পদ্যে রচিত হয়, তবে গদ্যেও হতে পারে। এর নায়ক হবে বীর প্রভাবশালী, আপোসহীন দৃঢ়চেতা।কাহিনির উত্থান-পতন থাকবে।

ক) সাহিত্যের প্রধান লক্ষণ কোনটি?

খ) নাটককে দৃশ্যকাব্য ও শ্রব্যকাব্য বলা হয় কেন?

গ) উদ্দীপকের বক্তব্যে ‘সাহিত্যের রূপ ও রীতি’ প্রবন্ধের কোন শাখার বৈশিষ্ট্য বিদ্যমান আছে, তার ব্যাখ্যা দাও?

ঘ ) “উদ্দীপকে বর্ণিত দিকটিই সাহিত্যের একমাত্র দিক নয় এর শাখা-প্রশাখা বিস্তৃত।”- মন্তব্যটি বিশ্লেষণ কর।

সাহিত্যের রূপ ও রীতি প্রবন্ধের সৃজনশীল প্রশ্ন

১০। ‘ইউরোপের জ্ঞানগুরু প্লেটো মিসর ভ্রমণকালে মাথায় করে তেল বেচে রাস্তা-খরচ যোগাড় করতেন। যে কুড়ে আলসে, ঘুষখোর ও চোর, সেই হীন। ব্যবসা বা স্বাধীন কোনো কাজে মানুষ হীন হয় না-হীন হয় মিথ্যা, চতুরতা ও প্রবঞ্চনায়। পাছে জাত যায়, সম্মান নষ্ট হয়- এই ভয়ে পরের গলগ্রহ হয়ে মাসের পর মাস কাটিয়ে দিচ্ছে? সম্মান কোথায়, তা তুমি টের পাওনি?

ক) “কালাপাহাড়” কে?

খ) সাহিত্যের চিরন্তন উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা কর।

গ) উদ্দীপকের বর্ণনা সাহিত্যের কোন শাখাকে নির্দেশ করে এবং তার বৈশিষ্ট্য কী? ‘সাহিত্যের রূপ ও রীতি’ প্রবন্ধ অবলম্বনে তুলে ধর।

ঘ) “লেখকের মেধাশক্তি অপেক্ষা ব্যক্তি হৃদয়ই প্রধান হয়ে ওঠে”- মন্তব্যটি সাহিত্যের রূপ ও রীতি প্রবন্ধের আলোকে মূল্যায়ন কর।

 

১১। বাঙালি যেদিন ঐক্যবদ্ধ হয়ে বলতে পারবে- ‘বাঙালির বাংলা’ সেদিন তারা অসাধ্য সাধন করবে। বাঙালির মতো জ্ঞান-শক্তি ও প্রেম-শক্তি (ব্রেন সেন্টার ও হার্ট সেন্টার) এশিয়ার কেন, বুঝি পৃথিবীতে কোনো জাতির নেই। কিন্তু কর্ম-শক্তি একেবারে নেই বলেই তাদের এই দিব্যশক্তি তমসাচ্ছন্ন হয়ে আছে। তাদের কর্ম-বিমুখতা, জড়ত্ব, মৃত্যুভয়, আলস্য, তন্দ্রা, নিদ্রা, ব্যবসা- বাণিজ্যে অনিচ্ছার কারণ। তারা তামসিকতায় আচ্ছন্ন হয়ে চেতনা-শক্তিকে হারিয়ে ফেলেছে।

ক) প্রফুল্ল-কোন শ্রেণির নাটক?

খ) সাহিত্যের শাখা-প্রশাখার মধ্যে উপন্যাস অন্যতম- কেন?

গ) উদ্দীপক সাহিত্যের রূপ ও রীতির কোন শাখার বৈশিষ্ট্য বহন করছে? তা ব্যাখ্যা কর।

ঘ) উদ্দীপক সাহিত্যের রূপ ও নীতি প্রবন্ধের পূর্ণাঙ্গ অবয়ব নয়। মনে কর কি? তোমার মতের পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন কর।

সাহিত্যের রূপ ও রীতি প্রবন্ধের সৃজনশীল প্রশ্ন

উদ্দীপকঃ-

=> বনফুলের একটি বিখ্যাত রচনা ‘নিমগাছ’। অত্যন্ত স্বল্প পরিসরে অল্প কথায় তিনি এক গৃহবধূর অন্তরবেদনার প্রকাশ ঘটিয়েছেন গল্পে বর্ণিত একটি নিমগাছের রূপকে। গল্পের শুরুতেই তিনি একটি নিমগাছের নানা উপকারী দিকের বর্ণনা দিয়েছেন আকর্ষণীয় শৈল্পিক ভঙ্গিমায়। কিন্তু নিমগাছটি বেড়ে ওঠে অযত্ন-অবহেলায়। এই নিমগাছটির সঙ্গেই তিনি তুলনা করেছেন আমাদের গ্রামবাংলার এক গৃহবধূকে। ‘ওদের বাড়ির গৃহকর্মনিপুণা লক্ষ্মী বউটার ঠিক এই দশা’। শেষ লাইনের এ কথাটির মধ্য দিয়েই বনফুল বলে দিলেন গ্রামবাংলার লক্ষ্মী বউদের না-বলা সব কথা।

ক. বনফুল কার ছদ্মনাম?

খ. নাটক কী? ব্যাখ্যা দাও?

গ. উদ্দীপকের বক্তব্যটি ‘সাহিত্যের রূপ ও রীতি’ রচনায় বর্ণিত সাহিত্যের কোন শাখাকে নির্দেশ করে? আলোচনা কর।

ঘ. উদ্দীপকে বর্ণিত দিকটিই সাহিত্যের একমাত্র দিক নয় বরং এর রয়েছে বহুমাত্রিক শাখা প্রশাখা।- মন্তব্যটি বিশ্লেষণ কর।

 

উত্তরঃ-

ক. বনফুল হচ্ছে লেখক বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায়ের ছদ্মনাম।

খ. সুখ-দুঃখযুক্ত মানুষের যে স্বভাব আঙ্গিকাদি অভিনয়ের সাহায্যে প্রকাশ করা হয়, তা-ই নাটক।বিশ্বসাহিত্যে নাটক সর্বাপেক্ষা প্রাচীন। নাটককে সমাজজীবনের দর্পণ বলা হয়, কেননা, নাট্যকার মানবজীবনকে চিত্রণের জন্য সমাজজীবন থেকে নাটকের নানা উপকরণ সংগ্রহ করেন। কাহিনি, চরিত্র, ঘটনা-সমাবেশ, সংলাপ নাটকের প্রাণ। আর নাট্যকারকে স্থান, কাল ও ঘটনা বিষয়ে ত্রয়ী ঐক্য রক্ষা করতে হয়। আর এসবের সমন্বয়ে গড়ে ওঠে নাটক।

 

গ) উদ্দীপকের বক্তব্যটি ‘সাহিত্যের রূপ ও রীতি’ প্রবন্ধে বর্ণিত সাহিত্যের অন্যতম শাখা ছোটগল্পকে নির্দেশ করে।’সাহিত্যের রূপ ও রীতি’ প্রবন্ধের একটি অংশে ছোটগল্পের বিষয় ও বৈশিষ্ট্য তুলে ধরা হয়েছে। ছোটগল্পে জীবনের পূর্ণাবয়ব আলোচনা থাকবে না, সেখানে কেবল জীবনের খণ্ডাংশের উপস্থাপনা থাকবে। আমাদের প্রাত্যহিক জীবনে যে ঘটনাগুলো প্রতিনিয়ত ঘটছে, তারই একটি খণ্ড বিষয় নিয়ে ছোটগল্প রচিত হবে। ছোটগল্প ছোট বলে এখানে বহু ঘটনা বা পাত্রপাত্রীর সমাবেশ থাকে না। ছোটগল্পের শুরু ও শেষ হবে নাটকীয়। ছোটগল্পের কাহিনি শেষ হওয়ার পরও মনে হবে এতে অপূর্ণতা রয়ে গেছে।উদ্দীপকে বনফুলের বিখ্যাত ‘নিমগাছ’ রচনার কথা তুলে ধরা হয়েছে। এখানে বনফুল অত্যন্ত স্বল্প পরিসরে অল্প কথায় এক গৃহবধূর অন্তর্বেদনার প্রকাশ ঘটিয়েছেন। পরিসর স্বল্প বলে এখানে ঘটনার ঘনঘটা বা বিস্তার নেই। আবার অধিক পাত্রপাত্রীর অনুপস্থিতিও লক্ষণীয়। তিনি সেখানে শৈল্পিক ভঙ্গিমায় নিমগাছের উপকারী দিক বর্ণনা করেছেন এবং নিমগাছের প্রতি অযত্ন-অবহেলার দিক উল্লেখ করেছেন। শেষে প্রতীকী অর্থে অবতরণা করা উক্তিটির মধ্যে ফুটে ওঠে যেন গ্রামবাংলার লক্ষ্মী বউদের না-বলা হাজারো কথা। উদ্দীপকে বর্ণিত ‘নিমগাছ’ রচনার বৈশিষ্ট্যগুলোকে ধারণ করে। তাই বলা যায়, উদ্দীপকটি ‘সাহিত্যের রূপ ও রীতি’ প্রবন্ধে বর্ণিত ছোটগল্পের শাখাটি নির্দেশ করে।

 

ঘ) সাহিত্যের রূপ ও রীতি প্রবন্ধে সাহিত্যের বিচিত্র সব শাখা- প্রশাখা নিয়ে আলোচনা করা হলেও উদ্দীপকে কেবল সাহিত্যের একটি শাখা ছোটগল্পের বিষয়ে বলা হয়েছে।’সাহিত্যের রূপ ও রীতি’ প্রবন্ধে সাহিত্যের বিশাল পরিধির একটি সংক্ষিপ্ত চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। আমরা সামগ্রিক অর্থে যাকে সাহিত্য বলি, তা আসলে আলাদা আলাদা রীতির বিচিত্র সব শাখা-প্রশাখায় বিভক্ত। অর্থাৎ কবিতা, নাটক, গল্প, উপন্যাস, প্রবন্ধ ইত্যাদি হলো সাহিত্যের প্রধান শাখা। এসব শাখার আবার রয়েছে নানা উপশাখা। যেমন কবিতার প্রধান উপশাখা মহাকাব্য ও গীতিকবিতা।”সাহিত্যের রূপ ও রীতি” প্রবন্ধে সাহিত্যের শাখা-প্রশাখার পরিচয় তুলে ধরা হয়েছে।উদ্দীপকে দেখানো “নিমগাছ” রচনাটি স্বল্প পরিসরে রচিত। নিমগাছ রচনার কাহিনিতে কোনো উপকাহিনি নেই। অল্প কথায় গ্রামের একটি গৃহবধূর অন্তরর্বেদনা তুলে ধরা হয়েছে, যা আবহমান গৃহবধূর অন্তরের না-বলা কথা ব্যক্তের ইঙ্গিত দেয়। নিমগাছ রচনায় অধিক চরিত্র নেই এবং রচনার পরিসমাপ্তি ব্যঞ্জনাময়। এসবের বিচারে বনফুলের “নিমগাছ” বাংলা সাহিত্যের একটি সার্থক ছোটগল্প।সাহিত্যের রূপ ও রীতি প্রবন্ধের আলোকে ছন্দোবদ্ধ ভাষায় রচিত কবিতা; দৃশ্যকাব্য ও শ্রব্যকাব্যের সমন্বয়ে গঠিত হয় নাটক, সংক্ষিপ্ত পরিসরে জীবনের খণ্ডাংশের উপস্থাপনা ছোটগল্প জীবনের পূর্ণাবয়বের উপস্থাপনা উপন্যাস। এভাবে প্রবন্ধে সাহিত্যের বিচিত্র সব শাখা-প্রশাখার চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। কিন্তু উদ্দীপকের অংশটি কেবল সাহিত্যের একটি শাখা ছোটগল্পকেই নির্দেশ করে, যা সাহিত্যের একমাত্র দিক নয়। তাই বলা যায়, উদ্দীপকে বর্ণিত দিকটিই সাহিত্যের একমাত্র দিক নয়, বরং এর রয়েছে বহুমাত্রিক শাখা-প্রশাখা।

বাঙ্গালার নব্য লেখকদিগের প্রতি নিবেদন প্রবন্ধের পাঠ বিশ্লেষণ