সমাজকর্ম একটি ব্যবহারিক বিজ্ঞান- ব্যাখ্যা কর

উদ্দীপকঃ-

=> সুমন সাহেব এমন একটি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন, যে প্রতিষ্ঠানটি সমাজের সুবিধাবঞ্চিত লোকদের নিয়ে কাজ করেন। যারা এর সুবিধাভোগী তাদের মধ্যে কেউ কেউ হতদরিদ্র জনগোষ্ঠীর। কেউ আবার তাদের ন্যূনতম চাহিদাগুলো পূরণ করতে পারছে না তাদের রয়েছে নানা সামাজিক সমস্যা। প্রতিষ্ঠানটি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ প্রদানের কাজও করে থাকে।

 প্রশ্ন-

ক. Introduction to Social Welfare গ্রন্থটি কার লেখা?

খ. সমাজকর্ম একটি ব্যবহারিক বিজ্ঞান- ব্যাখ্যা করো।

গ. সুমন সাহেবের প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমের মধ্যে সমাজকর্মের যে উদ্দেশ্য প্রতিফলিত হয় তা ব্যাখ্যা করো।

ঘ. উদ্দীপকে উল্লিখিত সুমন সাহেবের প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমের মধ্যে সমাজকর্মের সকল লক্ষ্য অর্জন হয়েছে কি? তোমার মতামত দাও।

প্রশ্নের উত্তরঃ-

ক) Introduction to Social Welfare গ্রন্থটির লেখক ওয়াল্টার এ ফ্রিডল্যান্ডার।

খ) সমাজকর্ম হচ্ছে সমস্যা সমাধানের আধুনিক, বিজ্ঞানভিত্তিক ও সেবামূলক ব্যবহারিক বিজ্ঞান। সমাজকর্ম মানুষকে মনো-সামাজিক ভূমিকা পালনে একটি কার্যকর পর্যায়ে উপনীত করে সেইসাথে এটি মানুষের কল্যাণ বৃদ্ধির লক্ষ্যে অর্থবহ সামাজিক পরিবর্তন আনয়নে সহায়তা করে। সমাজকর্ম মানুষের সমস্যা সমাধানের জন্য বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রয়োগিক জ্ঞান, কৌশল ও পদ্ধতি প্রয়োগ করে। ফলে সমাজকর্মকে ব্যবহারিক বিজ্ঞান হিসেবে অভিহিত করা হয়।

 

গ) সুমন সাহেবের প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমের মধ্যে সমাজকর্মের অন্যতম উদ্দেশ্য দুস্থ ও হতদরিদ্র জনগোষ্ঠীর ক্ষমতায়ন বৃদ্ধিতে সাহায্য করার প্রতিফলন দেখা যায়।

সমাজকর্ম দারিদ্র্য বিমোচন করে সামাজিক ভূমিকা পালন ক্ষমতার উন্নয়ন ঘটাতে সাহায্য করে। সমাজের মানুষকে শারীরিক ও মানবীয় দক্ষতা বৃদ্ধি করে সীমিত সম্পদের দ্বারা অসীম অভাব পূরণে সক্ষম করে তোলে সমাজকর্ম। এটি সামাজিক ভূমিকার বিশেষ ক্ষেত্রে পরিবর্তন আনয়নে পেশাগত সাহায্য প্রদান করে। অর্থাৎ সমাজকর্মের অন্যতম উদ্দেশ্য মানুষের পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধি ও মানবীয় সম্পদের উন্নয়ন।উদ্দীপকে সুমন সাহেবের প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমের মধ্যে দেখা যায় যে, প্রতিষ্ঠানটি সমাজের সুবিধাবঞ্চিত লোকদের নিয়ে কাজ করে। এদের মধ্যে এমন অনেকে রয়েছে যারা হতদরিদ্র জনগোষ্ঠীর। এদের অনেকে নিজেদের নূন্যতম চাহিদা পূরণে অক্ষম। এধরনের জনগণকে সাহায্য করতে প্রতিষ্ঠানটি কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও প্রশিক্ষণ প্রদানের মাধ্যমে মানবীয় দক্ষতা বৃদ্ধিতেও কাজ করে থাকে। আমরা জানি, সমাজকর্মেরও অন্যতম উদ্দেশ্য হলো সকল স্তরের জনগণের ক্ষমতায়ন বৃদ্ধি। উদ্দীপকে সমাজকর্মের এই অন্যতম উদ্দেশ্যটি প্রতিফলিত হয়েছে।

 

ঘ) হ্যাঁ, উদ্দীপকে উল্লিখিত সুমন সাহেবের প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমের মধ্যে সমাজকর্মের সব লক্ষ্য অর্জিত হয়নি। বরং কয়েকটি লক্ষ্যের প্রতিফলন ঘটেছে মাত্র।

সমাজে পরিকল্পিত ও গঠনমূলক পরিবর্তন আনয়নের লক্ষ্যে সমাজকর্ম কাজ করে। সেই সাথে সামাজিক বিভিন্ন অবাঞ্ছিত সমস্যা দূর করে কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তনের ক্ষেত্র প্রস্তুত করতে সমাজকর্ম কাজ করে। এছাড়াও সমাজের দুস্থ, অসহায় মানবগোষ্ঠী এবং আর্থ-সামাজিক জীবনে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় জীবনযাপনকৃত জনগণের কল্যাণ সমাজকর্মের অন্যতম লক্ষ্য। যার প্রতিফলন উদ্দীপকের সুমন সাহেবের প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমে রয়েছে।জনগণের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন, উন্নয়ন কমকাণ্ডে জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ, গ্রাম ও শহর পুনর্বাসনমূলক প্রভৃতি কর্মকাণ্ডে নেতৃত্ব সৃষ্টি ও মানবসম্পদ উন্নয়নের মাধ্যমে সমাজকর্ম ব্যক্তির সুপ্ত ক্ষমতা ও প্রতিভার বিকাশ সাধনের উদ্দেশ্যে কাজ করে। উদ্দীপকেও দেখা যায়, সুমন সাহেবের চাকরিরত প্রতিষ্ঠানটি সমাজের সুবিধাবঞ্চিত লোকদের নিয়ে কাজ করে। এদের মাঝে হতদরিদ্র জনগণ যেমন আছেন, তেমনি বিভিন্ন সামাজিক সমস্যায় আক্রান্ত ব্যক্তিও আছেন। প্রতিষ্ঠানটি তাদের কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করে, যা সমাজকর্মের অন্যতম লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য।

সার্বিক আলোচনা থেকে বলা যায়, সমাজকর্মের বিস্তৃত লক্ষ্যের একাংশ অর্থাৎ সুবিধাবঞ্চিত ও অসহায় জনগোষ্ঠীর ভাগ্যোন্নয়ন ও কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির লক্ষ্যে কাজ করার চিত্র উদ্দীপকে উঠে এসেছে, যা সমাজকর্মের সকল লক্ষ্য অর্জনের ইঙ্গিত দেয় না।