সমাজকর্মকে সাহায্যকারী পেশা বলা হয় কেন?

উদ্দীপকঃ-

=> বর্তমান সময়ের একটি আলোচিত সমস্যা অটিজম। শিশুরাই এ সমস্যায় আক্রান্ত হয় বলে সচেতন নাগরিকগণ বিষয়টির প্রতি বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন। এমনই একজন সচেতন নাগরিক শিহাব রায়হান যিনি অটিস্টিক শিশুদের সার্বিক কল্যাণে গড়ে তুলেছেন ‘অটিস্টিক কেয়ার সেন্টার। এখানে বিভিন্ন পরিবার থেকে আসা সব ধরনের শিশুর প্রতি সমান যত্ন নেওয়া হয়। প্রতিটি শিশুর আবেগ-অনুভূতি ও চাহিদার প্রেক্ষিতে তাদের সেবা প্রদান করা হয়।

প্রশ্ন-

ক. IFSW-এর পূর্ণরূপ কী?

খ. সমাজকর্মকে সাহায্যকারী পেশা বলা হয় কেন?

গ. উদ্দীপকে সংগঠনটির কাজে সমাজকর্মের কোন বৈশিষ্ট্যগুলো ফুটে উঠেছে? ব্যাখ্যা কর।

ঘ. উদ্দীপকে বর্ণিত বিষয়টি ছাড়াও সমাজকর্ম আরও অনেক ক্ষেত্রে কাজ করে-যুক্তিসহ মত দাও।

 প্রশ্নের উত্তরঃ-

ক) IFSW-এর পূর্ণরূপ- International Federation of Social Workers.

খ) ব্যক্তি, দল ও সমষ্টির সমস্যা সমাধানে সাহায্য করে বলে সমাজকর্মকে সাহায্যকারী পেশা বলা হয়।

সমাজকর্ম বর্তমান বিশ্বে একটি মানবসেবামূলক সাহায্যকারী পেশা হিসেবে সর্বজনস্বীকৃত। এটি ব্যক্তি, দল ও সমষ্টির সমস্যা সমাধানে এমনভাবে সহায়তা করে যেন তারা নিজেদের সমস্যা নিজেরাই মোকাবিলা করতে সক্ষম হয়। পেশাগত কাঠামোর মধ্যে থেকে সমাজকর্ম সমস্যা সমাধানে ধরনের সহায়তা দেয়। এজন্যই এটি সাহায্যকারী পেশা হিসেবে পরিচিত।

গ) উদ্দীপকের সংগঠনটির কাজে সমাজকর্মের গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য তথা সামগ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি পোষণ, সাহায্যার্থীর মর্যাদা ও মূল্যের স্বীকৃতি, সাহায্যার্থীর আবেগ ও চাহিদার ভিত্তিতে সেবাদান প্রভৃতি বৈশিষ্ট্য ফুটে উঠেছে। সমাজকর্ম বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিনির্ভর একটি সাহায্যকারী পেশা। এটি সমাজের সকল শ্রেণির মানুষের সমস্যা সমাধানে উদ্যোগ গ্রহণ করে। এক ক্ষেত্রটি সমাজের সার্বিক কল্যাণের জন্য প্রথমত ব্যক্তির কল্যাণকে অগ্রাধিকার দিয়ে বিভিন্ন নীতির ভিত্তিতে সেবা দেয়। উদ্দীপকের সংগঠনটিতে এসব নীতির প্রতিফলন ঘটেছে। উদ্দীপকে দেখা যায়, অটিস্টিক শিশুদের সমাজের মূল স্রোতধারায় স্থান করে দিতে কাজ করছে ‘অটিস্টিক কেয়ার সেন্টার’। এ সংগঠন সমাজের বিভিন্ন শ্রেণির পরিবার থেকে উঠে আসা সকল শিশুদের প্রতি সমান দৃষ্টিভঙ্গি পোষণ করছে, যা সমাজকর্মের সামগ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি পোষণের নামান্তর। আবার সংগঠনটি প্রতিটি শিশুর মূল্য ও মর্যাদার প্রতি খেয়াল রেখে তাদের আবেগ, অনুভূতি ও চাহিদার প্রেক্ষিতে সেবা দেয়। সমাজকর্মও সাহায্যার্থীর চাহিদা ও প্রয়োজনের বিষয়টি মাথায় রেখে সেবা প্রদান করে। তাই বলা যায়, উদ্দীপকের সংগঠনটির কাজে সামগ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি পোষণ, চাহিদা ও প্রয়োজনের প্রেক্ষিতে সেবা দান, ব্যক্তির মূল্য ও মর্যাদার স্বীকৃতি প্রভৃতি বৈশিষ্ট্যগুলো ফুটে উঠেছে।

 

ঘ) উদ্দীপকে উল্লিখিত বিষয়টি ছাড়াও সমাজকর্ম আরোও বিভিন্ন ক্ষেত্রে কাজ করে।

সমাজকর্ম একটি প্রায়োগিক সামাজিক বিজ্ঞান। এটি বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে কাজ করে। সমাজে বিদ্যমান বিভিন্ন ধরনের সমস্যা চিহ্নিতকরণ, প্রতিকার ও প্রতিরোধ করাই সমাজকর্মের মূল লক্ষ্য। এক্ষেত্রে সমাজে সচেতনতা সৃষ্টি, উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা এবং মানব সম্পদ উন্নয়নে সমাজকর্ম ভূমিকা রাখে। আর এ বিষয়গুলোই উদ্দীপকে উল্লিখিত হয়েছে।আধুনিক সমাজের বিভিন্ন জটিল আর্থ-মনো-সামাজিক সমস্যার বিজ্ঞানভিত্তিক সমাধানে সমাজকর্মের জ্ঞান প্রয়োগ করা হয়। এক্ষেত্রে প্রথমেই সমাজকর্মের কর্মপদ্ধতি প্রয়োগের মাধ্যমে সমস্যা চিহ্নিত করা হয় এবং সে অনুযায়ী পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করা হয়। সাধারণত বিভিন্ন সামাজিক সমস্যা, যেমন- দারিদ্র্য, নিরক্ষরতা, বেকারত্ব, কিশোর অপরাধ, মাদকাসক্তি প্রভৃতি মোকাবিলায় সমাজকর্ম প্রতিকার, প্রতিরোধ ও উন্নয়নমূলক কার্যক্রম গ্রহণ করে। পাশাপাশি এটি সকল স্তরের জনগোষ্ঠী বিশেষ করে পশ্চাৎপদ জনগোষ্ঠীর আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের জন্য চাহিদাভিত্তিক সেবা কার্যক্রমও পরিচালনা করে। এর একটি প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো সামাজিক উন্নয়নে ব্যাপক জনসচেতনতা সৃষ্টি। এক্ষেত্রে সমাজকর্ম সভা-সমিতি, আলোচনা সভা এবং বিভিন্ন প্রচার মাধ্যম ব্যবহার করে। উদ্দীপকের অটিস্টিক কেয়ার সেন্টারের মাধ্যমে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের জন্য কাজ করা হয়। অথচ পেশা হিসেবে সমাজকর্ম বহুমুখী সমস্যা সমাধানের বিভিন্ন কাজ করে।

পরিশেষে বলা যায়, উদ্দীপকে সমাজকর্মের যে ক্ষেত্রে উঠে এসেছে তা এর পূর্ণাঙ্গ রূপ নয়। প্রকৃতপক্ষে সমাজকর্ম এ ভূমিকা পালনে ব্যাপক কর্মক্ষেত্র নিয়ে কাজ করে।