জেনে নিন খুব সহজে শরীরের ওজন কমানোর উপায়

শরীরের ওজন কমানোর উপায়
Photo credit: canva.com

প্রাকৃতিক উপায়ে ওজন কামানোর উপায় কী? ওজন কেন বাড়ে, কোন কোন খাবার খেলে ওজন বৃদ্ধি পায়, ওজন কমানোর টিপস, ওজন কমানোর ঘরোয়া উপায় কী? শরীরের ওজন কমানোর উপায়, কতটুকু ওজন একজন মানুষের জন্য যথেষ্ট? কি পরিমাণে ওজন বৃদ্ধি পেলে ডাক্তার দেখাতে হবে ইত্যাদি বিষয়গুলো নিয়ে আজকের আর্টিকেল। অনুগ্রহ করে পুরো লেখা পড়বেন। জেনে নিন খুব সহজে শরীরের ওজন কমানোর উপায়ঃ

ওজন কমানোর প্রাকৃতিক উপায়

কথায় আছে সুস্থতাই সব। সুস্থ দেহ সুন্দর মন এর নামই সুস্থ্য জীবন। মানুষের সুস্থতা ও সৌন্দর্যের ৮০% হচ্ছে তার স্বাস্থ্য। তাই সুস্বাস্থ্যের জন্য সুস্থ স্বাস্থ্যের বিকল্প নেই। আর সুস্বাস্থ্য তখনই নিশ্চিত করা যায় যখন আপনি শারীরিক ও মানসিকভাবে সুস্থতা অনুভব করবেন। প্রাকৃতিক উপায়ে ওজন কমানোর উপায় অনেকগুলো থাকলেও যেগুলোতে বিশেষজ্ঞগণ বেশি গুরুত্ব দিয়ে থাকেন সেই বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করা হলোঃ

লিকুইড খাবার খাওয়া কমিয়ে দেওয়া

লিকুইড ক্যালোরি হচ্ছে তরল পানিওর সাথে আমরা যে খাবার গুলো খাই যেমন : চা, কফি, পেপসি, কোক, কোল্ডড্রিংকস, বিভিন্ন জুস ইত্যাদি খাওয়া কমিয়ে দিতে হবে।

ধরুণ আপনি বাসা থেকে বের হলেন পথিমধ্যে একটা চকলেট স্টোর দেখলেন সেখান থেকে আপনি ১ কাপ হট চকলেট নিলেন। কিন্তু বাসায় এসে  বুঝলেন আপনার পেট ভরেনি। তাই আবার খেতে হচ্ছে অথচ আপনি কি জানেন? ১ কাপ হট চকলেটে প্রায় ২০০ ক্যালোরির মত ভিটামিন ছিল। যেটার শক্তিগুলো কমাতে আপনাকে কম করে হলেও ২ কিলোমিটার হাঁটতে বা দৌঁড়াতে হবে। কিন্তু আপনি যত সহজে ১ কাপ হট চকলেট খেলেন তত সহজে কিন্তু ২কি:মি: নাও দৌঁড়াতে পারেন। তাই এসব তরল পানীয় পান করা থেকে বিরত থাকুন।

পানি খাওয়া

আমাদের ওজন কমানোর আরেকটা অন্যতম উপায় হল পানি পান করা। প্রতিবার খাবার খাওয়ার আগে  আধা লিটার পানি পান করুন। এতে করে অল্প খাবারে পেট ভরে যাবে। এবং এটি ওজন কমাতে অনেক ভুমিকা রাখবে। তবে দিনের অন্যান্য সময় পানি খাওয়া কমিয়ে দিতে হবে। পরিমিত পানি পান করতে হবে।

ফাইবার যুক্ত খাবার খাওয়া

ফাইবার যুক্ত খাবারও আপনার ওজন কমাতে অনেক বেশি ভূমিকা রাখে৷ তাই চেষ্টা করুন ফাইবার যুক্ত খাবার খাওয়ার৷ আর এটি আপনি পেতে পারেন লাল চাল থেকে।

লাল চালে  বি১, বি৩, বি৬ ও ফসফরাস, ম্যাঙ্গানিজ প্রভৃতি খনিজ পদার্থ বেশি মাত্রায় থাকে। এছাড়াও লাল চালে প্রচুর পরিমানে ফাইবার রয়েছে। আর তাই এটি আপনার পেটকে দীর্ঘক্ষণ ভরা রাখবে এতে করে আপনাকে কম খেতে হবে যা ওজন কমাতে সাহায্য করবে।

প্রক্রিয়াজাত খাবার পরিহার করা

বাজার কিংবা বাহিরে থেকে খাবার কিনে খাওয়া পরিহার করুন। কেননা এটিও আপনার ওজন বৃদ্ধির অন্যতম কারণ। বাসায় তৈরি খাবার যেমন আপনার স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী ঠিক একইভাবে ওজন কমাতেও সাহায্য করবে। কেননা বাহিরে বা রেস্টুরেন্টে তৈরি খাবারে প্রচুর পরিমাণে বিভিন্ন উপাদান ব্যবহার করা হয় যাতে খাবারের মান ভালো হয়৷ যেমন : প্রচুর পরিমানে মিষ্টান্ন জাতীয় দ্রব্য ব্যবহার, তেল বা চর্বি জাতীয় দ্রব্যের ব্যবহার ইত্যাদি। তাই এসব খাবার খেলে আপনার ওজন বেড়ে যাওয়াটাই স্বাভাবিক।

ফলমূল ও শাক-সবজি খাওয়া

অনেকে বলতে পারেন বর্তমান বাজারে ফলমূলের প্রচুর চাহিদা যার কারণে মার্কেটে দামও চড়া। কিন্তু আপনি চাইলে ফলমূলের পরিবর্তে প্রচুর পরিমানে সতেজ শাক-সবজি খেতে পারেন৷ যেটা আপনার স্বাস্থ্যের জন্য অনেক বেশি উপকারী এবং দামেও সস্তা। অন্যদিকে এটি আপনার ওজন কমাতেও সাহায্য করবে। শাক-সবজিতে খুব কম ক্যালোরি থাকে এবং প্রচুর পরিমানে ফাইবার ও বিভিন্ন ভিটামিন থাকে তাই এটি স্বাস্থের জন্য খুব উপকারী।

পরিমিত পরিমাণে স্বাস্থ্যকর তেলের ব্যবহার

খাবার রান্নার সময় তেল ব্যবহারে সচেতনতা অবলম্বন করুন। কেননা ১ টেবিল চামচ তেলে ১২০ ক্যালোরি থাকে যেটা আপনার ওজন বৃদ্ধিতে অনেক ভূমিকা রাখবে। তাই অব্যশই ওজন কমাতে চাইলে পরিমিত তেল ব্যবহার করুন। যে সকল শাক-সবজি তেল ছাড়াও সিদ্ধ করে খাওয়া যায়, সে সকল শাক-সবজি তেল ছাড়াই সিদ্ধ করে খাওয়ার চেষ্টা করুন। তবে একেবারে তেল খাওয়া বন্ধ না করে পরিমিত ও সতেজ তেল ব্যবহারের চেষ্টা করুন।

সঠিক নাস্তা বা টিফিন খাওয়া

বিকালের সময় অথবা সন্ধ্যায় কিংবা হতে পারে সকালে আপনার নাস্তা বা টিফিন খাওয়ার অভ্যাস আছে এক্ষেত্রে তেলে ভাজাপোড়া কোন টিফিন না খেয়ে আপনি দুই একটা ফল খেতে পারেন। যাদের ফল কিনার সামর্থ্য নেই তারা চাইলে টিফিন টাইমটা একটা টমেটো, একটা গাজর বা একটা শসা ইত্যাদি সবজি খাওয়ার মাধ্যমে উপভোগ করতে পারেন। কেননা শুরুতেই বলা হয়েছে শাক-সবজিতে ক্যালোরির পরিমান কম। তাই এটি ওজন কমাতে ও আপনার টিফিন টাইমকে উপভোগ করতে অনেক উপকার করবে।

আরও পড়ুনঃ স্তন ক্যান্সার কি এবং কেন হয়?

নিয়মিত শরীরচর্চা করা

ওজন কমাতে শরীর চর্চার বিকল্প কিছুই নেই। কেননা আমাদের শরীরের মধ্যে জমে যাওয়া ফ্যাট গুলোকে দূর করতে অব্যশই ব্যায়াম করতে হবে। এতে করে আপনার শরীর ঘামবে এবং শরীরের মধ্যে থাকা রোগ-জীবাণু ও অতিরিক্ত বর্জ্র পদার্থ বের হয়ে যাবে। এতে ওজন কমবে ও স্বাস্থ্য সুস্থ রাখতে ভূমিকা রাখবে। তাই প্রতিদিন অন্তত কম করে হলেও সকালে কিংবা বিকালে ৩০-৪৫ মিনিট হাঁটা, দৌড়াদৌড়ি করা কিংবা যেকোনো শারীরিক ব্যায়াম করা যেতে পারে।

উপসংহার

স্বাস্থ্য সুরক্ষায় সঠিক সময়ে সঠিক খাবার ও সঠিক জীবন যাপনের বিকল্প কিছু হতে পারে না। তাই সুস্থ থাকতে নিজের ও পরিবারের মানুষদের প্রতি যত্নশীল হোন। বিশেষ করে পরিবারে শিশুদের প্রতি গুরুত্ব দিন। কেননা আপনি এই পোস্টটি পড়ে নিজে ওজন কমানোর প্রাকৃতিক উপায় জানলেন বা স্বাস্থ্য সুরক্ষার বিভিন্ন টিপস বা পদ্ধতি খুব সহজে মেনে চলতে পারবেন। কিন্তু পরিবারে শিশুরা এখনও এগুলো বোঝার ঊর্ধ্বে। তাই তাদের প্রতি সুনজর দেওয়া আমাদের সবার নৈতিক দায়িত্ব। আমাদের লেখা যদি ভালো লাগে তাহলে শেয়ার করতে ভুলবেন না। কোন মতামত থাকলে কমেন্ট করে জানাবেন।

1 COMMENT

  1. অসংখ্য ধন্যবাদ। আশা করি সব সময় পাশে থাকবেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here