মানুষ মুহাম্মদ (সাঃ) প্রবন্ধের সৃজনশীল প্রশ্নোত্তর

Table of Contents

মানুষ মুহাম্মদ (সাঃ) প্রবন্ধের সৃজনশীল প্রশ্নোত্তর

 

উদ্দীপকঃ-

মানুষে মানুষে, জাতিতে জাতিতে ভেদের প্রাচীর সহস্রাধিক বছর ধরে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে মানুষের জ্ঞান, পৌরুষ ও আত্মসম্মানকে নীরবে ধিক্কার দিচ্ছিল, ইসলামের পয়গম্বর হযরত মুহম্মদ (স.) এসে তাকে নিদারুণভাবে ধূলিসাৎ করে দিলেন। তিনি উদার কণ্ঠে ঘোষণা করলেন, ‘ভেদ নাই, ভেদ নাই; মানুষে মানুষে ভেদ নাই। আরবের ওপর অনারবের কোনো শ্রেষ্ঠত্ব নাই, অনারবের ওপরও আরবের কোনো শ্রেষ্ঠত্ব নাই। সব মানুষ আদি পিতা আদমের সন্তান আর আদম মাটির তৈরি। অতএব কারো গর্বিত হওয়ার কিছু নাই।

ক) মহানবি (স.) কীসের দ্বারা মানুষের মন আকর্ষণ করেছিলেন?

খ) হযরত ওমর (রা.) এর শিথিল অঙ্গ মাটিতে লুটিয়ে পড়ল কেন?

গ) উদ্দীপকে মুহম্মদ (স.)-এর ঘোষণাটি ‘মানুষ মুহম্মদ (স.)’ প্রবন্ধের কোন দিকটি নির্দেশ করে? ব্যাখ্যা কর।

ঘ) উদ্দীপকে মুহম্মদ (স.)-এর নিরহংকারের যে পরিচয় পাওয়া যায় তা ‘মানুষ মুহম্মদ (স.)’ প্রবন্ধ অনুসরণে মূল্যায়ন কর।

 

প্রশ্নের উত্তরঃ-

ক) মহানবি (স.) মানুষের মন আকর্ষণ করেছিলেন মুখ্যত তাঁর মানবীয় গুণাবলি দ্বারা।

খ) হযরত মুহম্মদ (স.)-এর মৃত্যুর খবর নিশ্চিত জেনে হযরত ওমরের শিথিল অঙ্গ মাটিতে লুটিয়ে পড়ল।নবিপ্রেমিক, শোকাকুল হযরত ওমর (রা.) প্রিয় রাসুল (স.)-এর মৃত্যুর সংবাদে অসংলগ্ন আচরণ শুরু করেন। খোলা তরবারি হাতে • নিয়ে তিনি বলতে থাকেন, “যে বলিবে হযরত (স.) মরিয়াছেন, তাহার মাথা যাইবে।” আবুবকর (রা.) এ অবস্থায় আল্লাহর ও রাসুল (স.)-এর বাণী উচ্চারণের মাধ্যমে হযরতের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেন। আবুবকর (রা.) কুরআনের আয়াত এবং রাসুল (স.)-এর বাণী উদ্ধৃত করার পর ওমর (রা.)-এর মধ্যে চৈতন্য ফিরে আসে। এ জন্যই তিনি শোকে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।মূলকথাঃ- হযরত আবুবকর (রা.)-এর কথায় চৈতন্য ফিরে পাওয়ায় হযরত ওমর (রা.)-এর শিথিল অঙ্গ মাটিতে লুটিয়ে পড়ে।

 

গ) উদ্দীপকের ঘোষণাটি ‘মানুষ মুহম্মদ (স.)’ প্রবন্ধে হযরত মুহম্মদ (স.)-এর নিজেকে একজন সাধারণ মানুষ হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার দিকটি নির্দেশ করে।মক্কা বিজয়ের পর মহানবি (স.) মক্কার একচ্ছত্র অধিপতি হয়েও নিজেকে অতিসাধারণ মানুষ ভাবতেন। শতসহস্র মুসলিম তাঁর ব্যক্তিগত ও পারিবারিক সুখ-স্বাচ্ছন্দ্যের উপকরণ সংগ্রহ করে দিতে সবসময় শুধু অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করত। কিন্তু হযরত মুহম্মদ (স.) নিজেকে দশজনের মতো একজন মনে করতেন। সবার সঙ্গী-সহচররূপে নেতার কর্তব্য পালন করতেন। এভাবে মহানবি (স.) নিজেকে একজন অতিসাধারণ মানুষ হিসেবে উপস্থাপন করেন, মানুষে মানুষে যে ভেদ নেই; সেই দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।উদ্দীপকের ঘোষণাটিও মহানবি (স.)-এর। হযরত মুহম্মদ (স.) এমনই একজন মহামানব, যিনি শুধু ঘোষণা দিয়েই ক্ষান্ত হননি, ঘোষণার বাস্তব প্রমাণও দেখিয়ে গেছেন নিজের জীবনাচরণে, যা আমরা উদ্দীপকের আলোচনায় দেখতে পাই। বাস্তবিকই মহানবি (স.)-এর মুখেই এ ঘোষণা শোভা পায়- মানুষে মানুষে ভেদ নেই, আরবের ওপর অনারবের কিংবা অনারবের ওপর আরবের কোনো শ্রেষ্ঠত্ব নেই। সবাই মাটির তৈরি আদমসন্তান হিসেবে সমমর্যাদার অধিকারী। তাই বলা যায়, উদ্দীপকের মুহম্মদ (স.)-এর মানবীয় গুণটি সকল মানুষের সমান অধিকারের দিকটিকে নির্দেশ করে।মূলকথাঃ- ভেদাভেদ ভুলে মানুষকে সমমর্যাদায় আসীন করার দিকটি নির্দেশ করে।

 

ঘ) সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ মহামানব হযরত মুহম্মদ (স.) ছিলেন নিরহংকার চরিত্রের অধিকারী, যা উদ্দীপকের বর্ণনায় স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।মোহাম্মদ ওয়াজেদ আলী তাঁর ‘মানুষ মুহম্মদ (স.)’ প্রবন্ধে হযরত মুহম্মদ (স.)-এর চরিত্রের অনেকগুলো গুণের মধ্যে নিরহংকার গুণের চিত্রও তুলে ধরেছেন। হযরত মুহম্মদ (স.) মক্কার শ্রেষ্ঠ বংশে জন্মেছিলেন, কিন্তু বংশগৌরব মহানবি (স.)- এর সচেতন চিত্তে মুহূর্তের জন্যও স্থান লাভ করেনি। মক্কা বিজয়ের পর মক্কার একচ্ছত্র অধিপতি হয়েও তিনি সাদামাটা জীবনযাপন করতেন। তিনি সাফা পর্বতের পাশে বসে সত্যান্বেষী মানুষকে দীক্ষা দান করতেন। সেখানে একজন অন্ধ বা সাধারণ মানুষকেও তিনি সমান মর্যাদায় দেখেছেন।উদ্দীপকের বক্তব্যেও আমরা মহানবি (স.)-এর মানসিকতা দেখতে পাই। যুগ যুগ ধরে চলা জাতিভেদ প্রথার মূলে তিনিই প্রথম কুঠারাঘাত করেন। একজন মানুষ অন্য মানুষের চেয়ে শ্রেষ্ঠত্বের দাবিদার হতে পারে না। আর মানুষের অহংকার করারও কিছুই নেই, কারণ সবাই আদমের সন্তান আর সবাই সমান মর্যাদার অধিকারী। মহানবি (স.) শুধু ঘোষণা দিয়েই ক্ষান্ত হননি, তিনি তাঁর জীবনাচরণে দেখিয়ে দিয়েছেন মানুষে মানুষে ভেদ নেই।হযরত মুহম্মদ (স.)-এর জীবন আমাদের জন্য অনুকরণীয় আদর্শ। তাঁর আদর্শ অনুসরণের মাধ্যমে আমরা আমাদের জীবনকে সুন্দর ও সাবলীল করে গড়ে তুলতে পারি। জগতের প্রতিটি মানুষকে সমান মর্যাদায় দেখার প্রেরণা আমরা পাই মুহম্মদ (স.)-এর জীবন থেকে। এ কারণেই তাঁকে বলা হয় সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ মহামানব।

মূলকথাঃ- মক্কার শ্রেষ্ঠ বংশে জন্মানো সত্ত্বেও তিনি মানুষে মানুষে ভেদাভেদ ভুলে, জাতিভেদ ভুলে মানুষকে ভালোবেসেছেন।

মানুষ মুহাম্মদ (সাঃ) প্রবন্ধের সৃজনশীল প্রশ্নোত্তর

উদ্দীপকঃ-

অনেকেই কোনো ব্যক্তি বা ব্যক্তিবর্গ দ্বারা যদি নির্যাতিত হন বা উপহাসিত হন তাহলে তিনি তাদের ওপর প্রতিশোধ গ্রহণ করেন। আর যদি প্রতিশোধ নেওয়ার শক্তি বা সামর্থ্য না থাকে তাহলে অভিশাপ দিয়ে থাকেন। অনেক সময় নির্যাতন ভোগকারী দলবল নিয়ে প্রতিশোধ গ্রহণ করতে গিয়ে মাত্রাতিরিক্ত অন্যায় করে ফেলে। এভাবে সমাজে ইত্যা, যুদ্ধ, মারামারির সূচনা হয়।

ক) ‘মানুষ মুহম্মদ (স.)’ রচনাটি কোন গ্রন্থের অন্তর্গত?

খ) “আমি রাজা নই, সম্রাট নই, মানুষের প্রভু নই”- কথাটি ব্যাখ্যা কর।

গ) উদ্দীপকে বর্ণিত সাধারণ মানুষের বৈশিষ্ট্যের সঙ্গে তায়েফবাসীদের প্রতি হযরত মুহম্মদ (স.)-এর আচরণের পার্থক্য ব্যাখ্যা কর।

ঘ) তায়েফবাসীর প্রতি মহানবি (স.)-এর আচরণের শিক্ষা একজন সাধারণ মানুষের মহত্ত্ব অর্জনে কী ভূমিকা রাখতে পারে? তোমার উত্তরের পক্ষে যৌক্তিক মতামত দাও।

 

প্রশ্নের উত্তরঃ-

ক) ‘মানুষ মুহম্মদ (স.)’ প্রবন্ধটি মোহাম্মদ ওয়াজেদ আলী রচিত ‘মরুভাস্কর’ গ্রন্থ থেকে নেওয়া হয়েছে।

 

খ) “আমি রাজা নই, সম্রাট নই, মানুষের প্রভু নই”- উক্তির মধ্য দিয়ে মহানবি (স.)-এর নিরহংকার মনের পরিচয় ফুটে উঠেছে।মোহাম্মদ ওয়াজেদ আলীর ‘মানুষ মুহম্মদ (স.)’ প্রবন্ধে মহানবি (স.)-এর জীবনের নানা মানবীয় গুণ আলোচিত হয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে তিনি ছিলেন নিরহংকার। হযরত মুহম্মদ (স.) বিপুল ঐশ্বর্য, ক্ষমতা ও মানুষের অগাধ ভালোবাসা ও শ্রদ্ধার মধ্যে থেকেই একজন সাধারণ মানুষের মতো জীবনযাপন করে গেছেন। তিনি নিজেকে সাধারণ মানুষের মতোই মনে করতেন।মূলকথাঃ- মহানবি (স.) নিজেকে সাধারণ মানুষের মতোই মনে করতেন।

 

গ) উদ্দীপকে বর্ণিত সাধারণ মানুষের বৈশিষ্ট্যের সঙ্গে তায়েফবাসীর প্রতি মুহম্মদ (স.)-এর আচরণের অনেক পার্থক্য লক্ষ করা যায়।মহানবি (স.)-এর আদর্শ ও মহানুভবতায় বিমুগ্ধ প্রাবন্ধিক মোহাম্মদ ওয়াজেদ আলী তাঁর ‘মানুষ মুহম্মদ (স.)’ নামক প্রবন্ধে তায়েফবাসীর কৃতকর্ম এবং তাদের প্রতি মহানবি (স.)- এর আচরণ অত্যন্ত সাবলীলভাবে তুলে ধরেছেন। মহানবি (স.) ইসলাম প্রচার করতে তায়েফে যান। তখন তায়েফের অধিবাসীরা মহানবি (স.)-এর. ওপর অমানুষিক নির্যাতন করে। নির্যাতনকারীদের প্রতি তিনি বিন্দুমাত্র প্রতিশোধপরায়ণ হননি। বরং তিনি তাঁদেরকে অন্তর থেকে ক্ষমা করে দেন।উদ্দীপকে আমরা কিছু কিছু মানুষের বৈশিষ্ট্য দেখতে পাই, যা মহানবি (স.)-এর আচরণের সম্পূর্ণ বিপরীত। অনেকেই কারো দ্বারা অত্যাচারিত বা উপহাসিত হলে প্রতিশোধপরায়ণ হয়ে ওঠেন। আর যদি তা সম্ভব না হয় তাহলে পরবর্তী সময়ে সুযোগ এলে প্রতিশোধ গ্রহণ করে। আর নিরীহ সাধারণ মানুষ হলে স্রষ্টার কাছে ফরিয়াদ জানায় এবং অভিশাপ দেয়। একজন সাধারণ মানুষের এ আচরণই স্বাভাবিক। এখানেই মহানবি (স.)- এর সঙ্গে সাধারণ মানুষের আচরণগত পার্থক্য।মূলকথাঃ- সাধারণ মানুষ অন্যায়-অত্যাচারের প্রতিশোধ গ্রহণ করে থাকে কিন্তু মহানবি (স.)-এর সুযোগ থাকা সত্ত্বেও প্রতিশোধপরায়ণ হননি।

 

ঘ) মহানবি (স.) সর্বশ্রেষ্ঠ মানুষ, মানবজাতির আদর্শ। তাই তাঁর ক্ষমার মহত্ত্ব অনুসরণ করে একজন সাধারণ মানুষও মহৎ মানুষে পরিণত হতে পারে।মোহাম্মদ ওয়াজেদ আলী ‘মানুষ মুহম্মদ (স.)’ প্রবন্ধে মহানবি (স.)-এর জীবনের নানা চিত্র তুলে ধরেছেন। তিনি ছিলেন মানবতার প্রতীক। তিনি মানবকল্যাণের চিন্তায় তাঁর সমগ্র জীবন অতিবাহিত করেছেন। তিনি সত্য প্রচার করতে গিয়ে অত্যাচারিত, নির্যাতিত হয়েও অত্যাচারীকে অভিসম্পাত করেননি; বরং অত্যাচারীর কল্যাণ কামনা করে দোয়া করেছেন। চরিত্রের এমন মাহাত্ম্যই তাঁকে করে তুলেছে অতুলনীয় গুণের অধিকারী।মহানবীর এই আদর্শের অনুসরণ একজন সাধারণ মানুষকে মহৎ গুণের অধিকারী করে তুলতে পারে। একজন সাধারণ মানুষ মহানবীর এই ক্ষমাশীলতা, লক্ষ্য অর্জনে অবিচলতা, ধৈর্য ও সহানুভূতির দ্বারা মানবসমাজে দৃষ্টান্ত হয়ে উঠতে পারে। নিজের ভেতরে যে ক্রোধ ও প্রতিশোধপরায়ণতা তা দমন করতে পারে। এমনকি সে মানুষ নিজেও হতে পারে মানবতার এক মহৎ দৃষ্টান্ত।হযরত মুহম্মদ (স.)-এর মতো ক্ষমা প্রদর্শনের দৃষ্টান্ত পৃথিবীতে আজ বিরল। তাঁর আদর্শ অনুসরণ করে আমরা আমাদের জীবনকে সুন্দর ও সাবলীল করে গড়ে তুলতে পারি। সাধারণ মানুষ যদি মহানবি (স.)-এর আদর্শের অনুসরণে মানুষের কল্যাণের জন্য কাজ করে তাহলে সমাজের অশান্তি দূর হবে। ঈর্ষা, বিভেদ, নীতিহীনতা, স্বার্থপরতা চিরতরে দূরে সরে যাবে। শত্রুকে বন্ধুতে পরিণত করার মাধ্যমে সমাজে চিরশান্তি প্রতিষ্ঠিত হবে।মূলকথাঃ- মহানবি (স.)-এর ক্ষমাশীলতা, মহানুভবতা, ধৈর্য প্রভৃতি গুণ মানুষকে মহৎ হতে অগ্রণী ভূমিকা রাখে।

 

 উদ্দীপকঃ-

মাজহার সাহেবকে সবাই অত্যন্ত সৎ ও ভালো মানুষ হিসেবে জানেন। অফিসে তিনি সততা ও নিষ্ঠার সাথে কাজ করেন। এ কারণে মাজহার সাহেব কিছু সহকর্মীর বিরাগভাজন হন। সুযোগ পেলেই তারা তাকে নানাভাবে ব্যঙ্গবিদ্রুপ ও নাজেহাল করার চেষ্টা করে। মাজহার সাহেব বুঝতে পারলেও তার অবস্থান থেকে এতটুকু সরে আসেননি।

ক. লোষ্ট্রাঘাত শব্দের অর্থ কী?

খ. ‘এদের জ্ঞান দাও প্রভু এদের ক্ষমা কর।’ মহানবি (স.) কেন এ কথা বলেছেন?

গ. সহকর্মীদের ব্যঙ্গবিদ্রুপ উপেক্ষা করায় মাজহার সাহেবের চরিত্রে মহানবির কোন গুণটি ফুটে উঠেছে। ‘মানুষ মুহম্মদ (স.)’ প্রবন্ধের আলোকে বিশ্লেষণ কর।

ঘ. আদর্শ মানুষ হতে হলে মাজহার সাহেবকে মহানবির আর কোন গুণগুলো অর্জন করতে হবে? ‘মানুষ মুহম্মদ (স.)’ প্রবন্ধের আলোকে বিশ্লেষন কর।

প্রশ্নের উত্তরঃ-

ক) লোষ্ট্রাঘাত শব্দের অর্থ ঢিলের আঘাত।

খ) যারা সত্য ও ন্যায়ের পথে না গিয়ে মহানবি (স.)-এর প্রতি অত্যাচার করেছে, তাদের উদ্দেশ্যে মহানবি (স.) এ কথা বলেছেন।পৌত্তলিকতায় বিশ্বাসী মক্কাবাসী পাপ ও অজ্ঞানতার অন্ধকারে নিজেদের মনুষ্যত্ববোধ বিসর্জন দিয়েছিল। তাই মহানবি তাদের সত্যের বাণী প্রচার করতে গিয়ে আঘাতে জর্জরিত হন। মহানবি (স.) মনেপ্রাণে উপলব্ধি করতে পেরেছিলেন যে এরা বিবেকবোধ বর্জিত, তাদের চিন্তাচেতনা অজ্ঞানতার অন্ধকারে ঢাকা। সে কারণে তিনি আলোচ্য উক্তির মাধ্যমে তাদের জন্য আল্লাহর কাছে কায়মনোবাক্যে জ্ঞান ও ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন।

গ) সহকর্মীদের ব্যঙ্গবিদ্রূপ উপেক্ষা করায় মাজহার সাহেবের চরিত্রে মহানবি (স.)-এর সৎপথ ও সততার প্রতি অটল থাকার গুণটি ফুটে উঠেছে।মাজহার সাহেব একজন অত্যন্ত সৎ ও নিষ্ঠাবান কর্মকর্তা হিসেবে সুপরিচিত। সততা ও ভালো মানুষ হওয়ায় তাকে সবাই ভালো জানেন। অফিসে তিনি সততা ও ন্যায়পরায়ণতার সাথে কাজ করলে তার কিছু সহকর্মী তার প্রতি অসন্তুষ্ট হন। তারা সুযোগ পেলেই তাকে নানাভাবে ব্যঙ্গবিদ্রূপ ও কটুকথা শোনায়। কিন্তু মাজহার সাহেব সৎপথে অটল থেকে তাদের ভর্ৎসনাকে উপেক্ষা করে তার অবস্থানে বহাল থাকেন।মানুষ মুহম্মদ (স.) প্রবন্ধে হযরত মুহম্মদ (স.) এর অসাধারণ মানবিক গুণাবলি এবং অনুপম চরিত্র ফুটে উঠেছে। নবিজি ছোটবেলা থেকেই সত্যবাদী ও বিশ্বস্ত হিসেবে সুপরিচিত ছিলেন। সৎপথে থাকতে, মানুষকে সত্যের পথে আহ্বান করতে তাঁকে কঠিন বিপদের সম্মুখীন হতে হয়। পৌত্তলিকদের তাওহিদের সত্য বাণী শোনালে তারা নবিজিকে নানা অপবাদ, ব্যঙ্গবিদ্রূপ এবং প্রাণনাশের হুমকি দেয় এবং হত্যা করার ষড়যন্ত্র করে। কিন্তু নবিজি সততা এবং সৎপথে অটল থাকার বিষয়ে পাহাড়ের মতো অটল ছিলেন। উদ্দীপকের মাজহার সাহেবও সৎপথে, সৎকর্মে অটল ছিলেন। তাই বলা যায়, নবিজির সততার প্রতি অটল থাকার গুণটি মাজহারের মধ্যে ফুটে উঠেছে।

ঘ) আদর্শ মানুষ হতে হলে মাজহার সাহেবকে মহনবি (স.)-এর মানবিকতা, সহানুভূতি, ত্যাগ, ধৈর্য ও পরদুঃখকাতরতা অর্জন করতে হবে।’মানুষ মুহম্মদ (স.)’ প্রবন্ধে মহানবির অনুপম জীবনাদর্শ সুন্দরভাবে তুলে ধরা হয়েছে। তিনি ছিলেন সর্বশ্রেষ্ঠ নবি, কিন্তু মানবিক দিক দিয়ে তিনি বিশ্বের সকল মানুষের জন্য আদর্শ ছিলেন। গরিব-দুখীর ব্যথায় ব্যথিত হয়ে, শত্রুকে ক্ষমা করে, নিজের অর্থকে বুভুক্ষু মানুষের মাঝে বিলিয়ে দিয়ে তিনি অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন। তিনি ছিলেন সকল মানুষের দরদি নবি, তাই যারা তাঁকে পাথরাঘাতে দেহকে ক্ষত-বিক্ষত করেছিল, তিনি তাদের ক্ষমা করে সুন্দর জীবন কামনা করেন। মক্কার কুরাইশ এবং তায়েফের কাফেরদের অত্যাচার, নির্যাতন সহ্য করে তিনি সৎপথে অবিচল থেকে মানুষকে সৎপথে আহ্বান করেন।উদ্দীপকে মাজহার সাহেবের সততার প্রতি অটল বিশ্বাস চিত্রিত হয়েছে। তিনি ব্যক্তি হিসেবে অত্যন্ত সৎ ও ভালো মানুষ ছিলেন। অফিসের সকল কর্ম তিনি সততার সাথে করেন বলে অফিসের অনেকেই তার প্রতি রুষ্ট হন। তিনি তাদের ব্যঙ্গ বিদ্রূপ ও ভ্রুকুটি উপেক্ষা তার সততার নীতিতে অটল থাকেন।উদ্দীপকের মাজহার সাহেব শুধু সততার পথে অটল আছেন, কিন্তু আদর্শ মানুষ হতে হলে তাকে আরও গুণ অর্জন করতে হবে। মহানবি (স.) ছিলেন একজন পূর্ণ-আদর্শ মহামানব। নবিজির মানবিকতা, সহানুভূতি, পরদুঃখকাতরতা, অসীম ধৈর্য, দানশীলতা এবং ক্ষমা করার গুণ তিনি যদি অর্জন করেন, তাহলেই একজন আদর্শ মানুষ হতে পারবেন।

আল কুরআনকে পূর্ণাঙ্গ জীবনবিধান বলা হয় কেন?