মমতাদি গদ্যের সৃজনশীল প্রশ্ন

Table of Contents

মমতাদি গদ্যের সৃজনশীল প্রশ্ন

১। রহিমা দারিদ্র্যের কারণে অন্যের বাড়িতে কাজ করে। এখানে সে যা পায় তা দিয়ে কোনো রকমে সংসার চালায়। সে যে বাড়িতে কাজ করে সে বাড়ির লোক তেমন সুবিধার নয়। সবাই তাকে কাজের মেয়ে বলে ভর্ৎসনা করে। এতে রহিমার মনে অনেক ব্যথা লাগে। কিন্তু তার আর কোনো উপায় নেই।অক্ষম স্বামী আর সন্তানদের জন্য তাকে সকল অত্যাচার সহ্য করতে হয়।

 

ক) মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় কত সালে জন্মগ্রহণ করেন?

খ) মমতাদি অন্যের বাড়িতে কাজ নেন কেন?

গ) উদ্দীপকের রহিমার সঙ্গে ‘মমতাদি’ গল্পের মমতাদির সাদৃশ্য নির্ণয় কর।

ঘ) উদ্দীপকের রহিমা মমতাদি চরিত্রের সমগ্র ভাব ধারণ করে কি? বিশ্লেষণ কর।

 

২। তাহেরা একটি বাড়িতে কাজ করে। এককথায় সে বাড়িটিকে আগলে রেখেছে। ঐ বাড়ির সব কাজ করে সে আবার নিজ বাড়িতে রান্না-বান্না করে। তার মালিকের বাড়ির সবাই তাকে খুব ভালোবাসে। তার স্বামী, সন্তানের খোঁজখবর নেয় ও সকল প্রকার সাহায্য-সহযোগিতা করে। তার সঙ্গে মালিকের ছেলে-মেয়ের সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে।

 

ক) ‘মমতাদি’ গল্পে ছেলেটির মা কী কুটছিলেন?

খ) চড় খাওয়ার বিষয়টি মমতাদি কেন গোপন রেখেছিলেন?

গ) উদ্দীপকের তাহেরার সঙ্গে ‘মমতাদি’ গল্পের যে চরিত্রের সাদৃশ্য রয়েছে তা ব্যাখ্যা কর।

ঘ ) উক্ত চরিত্রকে ফুটিয়ে তুলতে তাহেরা কতটুকু সফল? যৌক্তিক বিশ্লেষণ কর।

 

৩। সুহাসিনী বাল্যবিবাহের শিকার। আরও দুর্ভাগ্য যে সে অল্প বয়সেই বিধবা হয়। স্বামী মারা যাওয়ার পর সে শ্বশুরবাড়িতে বোঝা হিসেবে গণ্য হতে থাকে। নিজেকে দায়মুক্ত করতে সুহাসিনী সেলিনাদের বাড়িতে কাজ নেয়। মাইনে ঠিক না করেই সে কাজে যোগ দেয়। মাস শেষে সেলিনার বাবা তাকে ৭০০ টাকা দেয়। খুশিতে সুহাসিনীর চোখে জল এসে যায়।

 

ক) মমতাদির ছেলের বয়স কত?

খ) মমতাদির রাঁধুনীর কাজ নেওয়ার কারণ ব্যাখ্যা কর।

গ) উদ্দীপকের সুহাসিনী এবং ‘মমতাদি’ গল্পের মমতাদির চরিত্রের সাদৃশ্য নির্ণয় কর।

ঘ) মমতাদির জীবনযাপনের সঙ্গে উদ্দীপকের সুহাসিনীর জীবননির্বাহের সংশিষ্টতা সম্পর্কে তোমার যৌক্তিক মতামত দাও।

 

৪। যে স্থলে দরিদ্র স্ত্রী লোকেরা সূচীকর্ম বা দাসীবৃত্তি দ্বারা অর্থ উপার্জন করিয়া পতিপুত্র প্রতিপালন করে, সেখানেও ঐ অকর্মণ্য পুরুষেরাই স্বামী থাকে। আবার যিনি স্বয়ং উপার্জন না করিয়া প্রভূত সম্পত্তির উত্তরাধিকারিণীকে বিবাহ করেন, তিনিও তো স্ত্রীর উপর প্রভুত্ব করেন এবং স্ত্রী তাহার প্রভুত্বে আপত্তি করে না।

 

ক) মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কোন বিষয়ে অনার্স করেন?

খ) একটা অন্ধকার রহস্যের আড়ালে সে নিজেকে লুকিয়ে ফেলল- কেন?

গ) উদ্দীপকে ‘মমতাদি’ গল্পের কোন দিকটিকে প্রতিফলিত করে? ব্যাখ্যা কর।

ঘ) ‘উদ্দীপকটি আবহমান বাংলার নিখুঁত সমাজচিত্র’- ‘মমতাদি’ গল্পের আলোকে উক্তিটির সত্যতা যাচাই কর।

 

৫। মিস্টার আসিফ সাহেব একজন বড় ব্যবসায়ী। দীর্ঘদিন ধরে তিনি ব্যবসা করে আসছেন। ফলে তিনি পরিবার-পরিজন নিয়ে খুব সুখেই আছেন। এক বছর হঠাৎ তার ব্যবসায় মন্দাভাব নেমে আসে। যাদের কাছে তিনি টাকা পান, তারা ঠিকমতো টাকা পরিশোধ করে না। আবার তার পাওনাদাররা তাকে চাপ দিতে থাকে। পাওনাদার ও ব্যাংকঋণ পরিশোধ করতে তিনি সর্বস্বান্ত হয়ে যান। এখন সে কারও কাছে হাত পাততেও পারে না। কিন্তু আসিফ সাহেবের কোনোক্রমেই এ অবস্থা থেকে পরিত্রাণ পাওয়া সম্ভব হয় না।

 

ক) লেখক কোথায় মমতাদিকে পাকড়াও করেছিল?

খ) ‘বেশি আস্কারা দিও না, জ্বালিয়ে মারবে।’ কে, কাকে এবং কেন বলেছিল ব্যাখ্যা কর।

গ) উদ্দীপকের আসিফ সাহেবের সঙ্গে ‘মমতাদি’ গল্পের মমতার মিল খুঁজে পাও কী? যদি না পাও তাহলে অমিল কেন ব্যাখ্যা কর।

ঘ) “উদ্দীপকটি ‘মমতাদি’ গল্পের মূল সুরের সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়”- উদ্দীপকের আসিফ সাহেব ও মমতাদি চরিত্র চিত্রণের মাধ্যমে উক্তিটি বিশ্লেষণ কর।

 

৬। রহিমা বেগম তার সংসারের অভাবের জন্য কাজ নেয় পাশের বাড়িতে।তারা তাকে যথেষ্ট সম্মান করে এবং বাড়ির ছোটরা তাকে বড় বোনের মর্যাদা দেয়। বাড়ির গৃহিণী তাঁকে সম্মানের চোখে দেখে। রহিমা অভাবের কারণে কাজ করলেও আত্মমর্যাদা নিয়ে বেঁচে আছেন।

 

ক) বাড়িতে কুটুমরা কী নিয়ে এসেছিল?

খ ) তোকে খুব ভালোবাসবে মার মন্তব্যের কারণ কী?

গ) উদ্দীপকের সাথে ‘মমতাদি’ গল্পের সাদৃশ্য কোথায় ব্যাখ্যা কর।

 ঘ) রহিমার সাথে মমতাদির মিল থাকলেও রহিমা পুরোপুরি মমতাদি নয় কথাটি বিচার কর।

 

৭। যে স্থলে দরিদ্র স্ত্রীলোকেরা সূচিকর্ম বা দাসীবৃত্তি দ্বারা অর্থ উপার্জন করিয়া পতিপুত্র প্রতিপালন করে, সেখানেও ঐ অকর্মণ্য পুরুষেরাই স্বামী’ থাকে। আবার যিনি স্বয়ং উপার্জন না করিয়া প্রভৃত সম্পত্তির উত্তরাধিকারিণীকে বিবাহ করেন, তিনিও তো স্ত্রীর উপর প্রভুত্ব করেন এবং স্ত্রী তাঁহার প্রভুত্বে আপত্তি করে না।

 

ক) মমতাদির বয়স কত বছর?

খ) ‘গুরুনিন্দা বাঁচাতে মিথ্যা বললে?’ -এ প্রশ্ন মমতাদি কেন করেছিল?

গ) উদ্দীপকে ‘মমতাদি’ গল্পের কোন বিশেষ দিকের প্রতিফলন দেখা যায়- ব্যাখ্যা কর।

ঘ) “উদ্দীপকটি আবহমান বাংলার নিখুঁত সমাজচিত্র” মমতাদি গল্পের আলোকে উক্তিটির সত্যতা যাচাই কর।

 

৮। রাশেদ অত্যন্ত দরিদ্র পরিবারের ছেলে। সে মেধাবী ছাত্র, কিন্তু পরিবারের অসচ্ছলতায় তার লেখাপড়া বন্ধ হয়ে যায়। পারিবারিক প্রয়োজনে বাধ্য হয়ে সে একটি ঘড়ির দোকানে কাজ নেয়। রাশেদ দোকানে যাওয়ার পরে ওই দোকানের বেচাকেনা দ্বিগুণ বেড়ে যায়। দোকানের প্রতিটি কাজ রাশেদ খুব সাবধানতার সঙ্গেই করে। ধীরে ধীরে দোকান মালিক জহিরের বিশ্বস্ত লোক হিসেবে জায়গা করে নেয় রাশেদ।

 

ক) মমতাদির মাইনে কত ঠিক হয়েছিল?

খ) ‘তোমার খিদে পেয়েছে, তুমি এবার বাড়ি যাও ভাই’-মমতাদির এই কথাটি বলার কারণ কী?

গ) উদ্দীপকে রাশেদের দায়িত্ববোধ ‘মমতাদি’ গল্পের মমতাদির কোন গুণটিকে প্রতীকায়িত করে ব্যাখ্যা কর।

ঘ) ‘মমতাদি’ গল্পে মমতাদির আত্মসম্মানবোধ উদ্দীপকে রাশেদের মধ্যে প্রকাশ পেয়েছে- মন্তব্যটি বিশেষণ কর।

 

৯। হাসেন মিয়া বান্দিকাটী স্কুলে কেরানির চাকরি করে। সে প্রতিদিন সবার আগেই স্কুলে উপস্থিত হয়। সে খুবই স্বল্পভাষী মানুষ। আপন মনে সে কাজ করে যায়। দীর্ঘ পঁচিশ বছরের কর্মজীবনে সে কোনো দিন দায়িত্বে অবহেলা করেনি। দিনের কাজ সে দিনেই শেষ করে। কাজ ছাড়া সে কিছুই বোঝে না।

 

ক) রোদে বসে মা কী কুটছিলেন?

খ) ‘দুবেলা রেঁধে দিয়ে যাবে, কিন্তু খাবে না’- এ কথা বলার কারণ ব্যাখ্যা কর।

গ) উদ্দীপকে হোসেন মিয়ার মানসিকতার সঙ্গে ‘মমতাদি’ গল্পে মমতাদির মানসিকতার সাদৃশ্য নির্ণয় কর।

ঘ) ‘কাজ ছাড়া সে কিছুই বোঝে না’- উদ্দীপকের এই উক্তিটিতে মমতাদির কর্তব্যবোধ প্রকাশ পেয়েছে কি? তোমার মতামত দাও।

 

১০।  করিম মানুষ হিসাবে যেমন সৎ, কাজেও তেমন দক্ষ। সে যে বাড়িতে কাজ করে সেখানে সবাই তাকে অনেক স্নেহ করে। করিমও সকলের সঙ্গে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখে। বাড়ির কাজের ছেলেকে মাথায় তোলার বিষয়টি মেনে নিতে চায় না ঐ বাড়ির নববধূ। সে করিমকে দিয়ে ইচ্ছামতো কাজ করিয়ে নেয়। আবার নানা কটুকথা শোনায়। এতে করিম মনে মনে অনেক দুঃখ পায়।

 

ক) মমতাদি ছেলেটিকে কী খেতে দিয়েছিল?

খ) মমতাদির চোখ সজল হয়ে উঠেছিল কেন?

গ) উদ্দীপকের নববধূর মধ্যে ‘মমতাদি’ গল্পের অনুপস্থিত দিকটি ব্যাখ্যা কর।

ঘ) উক্ত বিষয়টিই পারে ধনী-গরিবের মধ্যে সেতুবন্ধ রচনা করতে- মমতাদি গল্পের আলোকে মন্তব্যটি বিশ্লেষণ কর।

 

১১। মেঘলা ও সাদিয়া দুজনই নবম শ্রেণির ছাত্রী। দুজনের মধ্যে সম্পর্কটাও অমায়িক সুন্দর। যদিও তাদের পারিবারিক অবস্থা অনেকটাই ভিন্ন। মেঘলা সচ্ছল পরিবারের একমাত্র মেয়ে। আর সাদিয়ার পারিবারিক অবস্থা অত্যন্ত নাজুক। সাদিয়া মাঝেমাঝেই মেঘলাদের বাড়িতে যায়। কিন্তু মেঘলাকে কোনো দিন তাদের বাড়িতে নিয়ে আসে না।

 

ক) মমতাদির কয়টি সন্তান?

খ) খোকা রাগ করে স্কুলে চলে গিয়েছিল কেন?

গ) উদ্দীপকে সাদিয়ার পারিবারিক অবস্থা ‘মমতাদি’ গল্পে মমতাদির যে অবস্থাকে প্রতীকায়িত করে তা ব্যাখ্যা কর।

ঘ) ‘উদ্দীপকটি ‘মমতাদি’ গল্পের সামগ্রিক বিষয়টিকে ধারণ করতে পারেনি- মন্তব্যটির যথার্থতা বিচার কর।

মমতাদি গদ্যের সৃজনশীল প্রশ্ন

মমতাদি গদ্যের সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর-

উদ্দীপকঃ-

=> তুলি তৃতীয় শ্রেণিতে পড়ে। তাদের বাড়িতে তার। সমবয়সী এক কাজের মেয়ে থাকে। তুলি তার সাথে খেলতে, গল্প – করতে চায়। কিন্তু তুলির মা ওদের এক সাথে দেখলেই বকা দেয়। তুলি ওর মায়ের অনুপস্থিতিতে কাজের মেয়েটির সাথে পুতুল খেলে, টিভি দেখে। মেয়েটি তুলির সাথে মিশতে ভয় পায়, পাছে তুলির মা দেখে ফেলে।

 

ক. মমতাদির মাইনে কত টাকা ঠিক হলো?

খ. কারো কাছে যা পাই না, তুমি তা দেবে কেন।এই কথাটি বলার কারণ কী?

গ. তুলির সাথে মমতাদি গল্পের কিশোরের তুলনা কর।

ঘ. তুলির মায়ের মানসিকতা কখনোই কাম্য নয়।- উক্তিটি মমতাদি গল্প ও উদ্দীপকের আলোকে যাচাই কর।

 

প্রশ্নের উত্তরঃ-

ক) মমতাদির মাইনে পনেরো টাকা ঠিক হলো।

খ) ছোট ছেলেটি সহানুভূতি দেখাতে গেলে মমতাদি প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি করেন।মমতাদি পেশায় রাঁধুনি কিন্তু আচার-ব্যবহারে সে রুচিশীল মনের অধিকারী। স্বামীর চাকরি চলে যাওয়ার সে পর্দা উপেক্ষা করে রাঁধুনীর কাজ নেয় কিন্তু স্বামীর কাছ থেকে সে তেমন আদর- ভালোবাসা পায় না। তার মুখের রক্তবর্ণ দাগ দেখে এবং মনঃকষ্ট লক্ষ করে বাড়ির ছোট কর্তা তার মুখে পরশ বুলাতে চায়। মমতাদি তখন অভিমানের সুরে প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি করে।

 

গ) গৃহকর্মীকে ভালোবাসা এবং সঙ্গ দেওয়ার ক্ষেত্রে উদ্দীপকের তুলি ‘মমতাদি’ গল্পের কিশোরের সঙ্গে তুলনীয়।মমতাদি ভদ্র ঘরের মেয়ে হয়েও বেকার স্বামীর অভাব মেটাতে রাঁধুনি বা গৃহকর্মীর কাজ নেয়। মমতাদির কাজ-কর্ম, আদব- কায়দা এবং পরিশীলিত ব্যবহারের কারণে ছোট কর্তার পরিবারের সবাই তাকে ভালোবাসে। বিশেষ করে বাড়ির স্কুলপড়ুয়া কিশোর ছেলে মমতাদিকে খুবই ভালোবাসে, তার’ সঙ্গে গল্প করে এবং পরিবারের খোঁজও নেয়। মমতাদিও তাকে ছোট ভাইয়ের মতো স্নেহ করে ও ভালোবাসে। মমতাদির আদর-স্নেহে খুশি হয়ে সে তার বাড়িতে যায়, তাকে কাজের মেয়ে মনে না করে পরিবারের অন্য দিদির মতো তাকে সম্মান ও ভালোবাসে।উদ্দীপকে দেখা যায়, তুলি তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী এবং তার বাসায় তার সমবয়সী এক কাজের মেয়ে থাকে। তুলি তার সাথে খেলা করতে চায়। তার মা যখন বাসায় না থাকে, সে তখন কাজের মেয়ের সাথে পুতুল খেলে ও টিভি দেখে আনন্দ উপভোগ করে। অর্থাৎ তুলি কাজের মেয়েকে নিজের সখী মনে করেই তার সাথে খেলাধুলা, টিভি দেখে বা গল্প করে সময় কাটায়। উদ্দীপকের তুলির মতো গল্পের কিশোরও গৃহকর্মী মমতাদির সাথে গল্প করে, গল্প শোনে, কাজের মেয়েকে ভালোবাসে, তাকে উপেক্ষা না করে সঙ্গী মনে করার বিষয়ে তুলি গল্পের কিশোর চরিত্রের সাথে তুলনীয়।

 

ঘ) মমতাদি গল্পের গৃহকর্মী যেখানে মমতাদিকে নিজের ঘরের লোক মনে করেছে, সেখানে তুলির মা কাজের মেয়েকে গালি দিয়েছে, তাই মানবিকতার ক্ষেত্রে তুলির মায়ের মানসিকতা কখনই কাম্য হতে পারে না।’মমতাদি’ গল্পে গৃহকর্ত্রীর কাজের মেয়ে মমতার প্রতি গভীর মমত্ববোধ ফুটে উঠেছে। ‘মমতাদি’ পরিবারের অভাব ঘুচাতে ভদ্র ঘরের মেয়ে হয়েও রাঁধুনির কাজ নেয়। বাড়িওয়ালি মমতার প্রত্যাশার চেয়ে বেশি মাইনা দিয়ে তার প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করেছে। মততার নিপুণ কাজ, ভদ্র আচরণ এবং তার অভাবের সংসার দেখে গৃহকত্রী তাকে নিজের পরিবারের সদস্য মনে করে। মমতাদির স্বামীর চাকরির জন্য আফসোস করে, তার পরিবারের খোঁজ নেয় এবং তার দুঃখে সান্ত্বনা দিতে চেষ্টা করে।উদ্দীপকে তুলির মা বাড়ির কাজের জন্য তুলির বয়সী এক মেয়েকে রাখে। তুলির সমবয়সী হওয়ার কারণে সে তার সাথে খেলতে চায় কিন্তু তুলির মা তা পছন্দ করে না। বরং একসঙ্গে খেলতে দেখলে কাজের মেয়েকে বকা দেয় এবং গাল-মন্দ করে। এ কারণে মেয়েটি সর্বদা ভয় করে চলে, তাই সে তুলির সাথে মিশতে চায় না।তুলির মা কাজের মেয়ের সাথে যে অমানবিক ব্যবহার করে, তা কখনোই ঠিক নয়। তুলির মা তাকে মানবিক দৃষ্টিতে দেখেছে, অপরদিকে গল্পের গৃহকর্ত্রী কাজের মেয়ে মমতাদির প্রতি প্রচণ্ড সহানুভূতিশীল মনোভাব প্রকাশ করেছেন। মমতাদিকে কাজের মেয়ে মনে না করে তাকে নিজের ঘরের লোক মনে করে ছেলেকে তার সাথে মিশতে দিয়েছেন, তার পরিবারের আর্থিক কষ্টে সমবেদনা প্রকাশ করেছেন। তাই মানবিক দৃষ্টিতে ‘মমতাদি’ গল্পের আলোকে কাজের মেয়ের সাথে দুর্ব্যবহারে তুলির মায়ের মানসিকতা কখনই কাম্য নয়।

 

উদ্দীপকঃ-

=> হোসেন মিয়া বান্দিকাটি স্কুলে কেরানির চাকরি করে। সে প্রতিদিন সবার আগেই স্কুলে উপস্থিত হয়। সে খুবই স্বল্পভাষী। আপনমনে সে কাজ করে যায়। দীর্ঘ পঁচিশ বছরের কর্মজীবনে সে কোনো দিন দায়িত্বে অবহেলা করেনি। দিনের কাজ সে দিনেই শেষ করে। কাজ ছাড়া সে কিছুই বোঝে না।

ক. রোদে বসে মা কী কুটছিলেন?

খ. দুবেলা রেঁধে দিয়ে যাবে কিন্তু খাবে না- এ কথা বলার কারণ কী?

গ. উদ্দীপকে হোসেন মিয়ার মানসিকতার সাদৃশ্য নির্ণয় কর।

ঘ. কাজ ছাড়া সে কিছুই বোঝে না- উদ্দীপকের এই উক্তিটিতে মমতাদির কর্তব্যবোধ প্রকাশ পেয়েছে কি? তোমার মতামত দাও।

 

উত্তরঃ-

ক) রোদে বসে মা ফুলকপি কুটছিলেন।

 

খ) মমতাদির স্বামীর চাকরি চলে যাওয়ার কারণেই সে রাঁধুনির কাজ নেয়।জীবনময়ের গলিতে সাতাশ নম্বর বাড়িতে মমতাদি থাকে। চার মাস হলো তার স্বামীর চাকরি চলে গেছে। কোনোভাবেই আর তার সংসার চলে না। জীবন বাঁচানোর অন্য কোনো উপায় না পেয়ে সে রাঁধুনির চাকরি নেয়।

 

গ) একনিষ্ঠভাবে অর্পিত দায়িত্ব পালন করার দিক দিয়ে ‘মমতাদি’ গল্পে মততাদির সাথে উদ্দীপকের হোসেন মিয়ার মানসিকতার সাদৃশ্য বিদ্যমান।মমতাদি গল্পের মততাদি একজন গৃহকর্মী। গৃহকর্মী হিসেবে তার উপর অর্পিত সব দায়িত্ব ঠিকভাবে পালন করে যায়, বাড়ির কাজগুলোকে সে আপন করে নিয়ে নীরবে নতমুখে অত্যন্ত শৃঙ্খলা ও ক্ষিপ্রতার সাথে সব কাজ সম্পন্ন করে। সে অনর্থকভাবে লেখককে কোনো প্রশ্ন করে না কিংবা নির্দেশের অভাবে কোনো কাজ ফেলে রাখে না।উদ্দীপকের হোসেন মিয়া একটি স্কুলে কেরানির চাকরি করে। অর্পিত দায়িত্ব ঠিকভাবে পালন করতে প্রতিদিন সবার আগে স্কুলে উপস্থিত হয়। স্বল্পভাষী হোসেন মিয়া কাজ ছাড়া কিছুই বোঝে না। সে সময়ের কাজ সময়ে শেষ করে। কাজের প্রতি তার কোনো অবহেলা নেই। ‘মমতাদি’ গল্পের মমতাদি আপনমনে কাজ করে যায়। তাই উপযুক্ত আলোচনা শেষে আমরা বলতে পারি, অর্পিত দায়িত্ব ঠিকভাবে পালন করার দিক দিয়ে ‘মমতাদি’ গল্পের মমতাদির সাথে উদ্দীপকের হোসেন মিয়ার মানসিকতার সাদৃশ্য রয়েছে।

 

ঘ) মমতাদি গল্পে মমতাদি অন্যের বাড়িতে কাজ করতে গিয়ে যে কর্তব্যবোধের প্রকাশ ঘটিয়েছে, তাতে আমরা, এ কথা বলতেই পারি যে কাজ ছাড়া সে কিছুই বোঝে না।’মমতাদি’ গল্পের মমতাদি নিজ সংসার চালাতে অন্যের বাড়িতে গৃহকর্মী হিসেবে চাকরি নেয়। সে কোনো বাক্য ব্যয় না করে নীরবে নতমুখে কাজ করে যায়। যে বিষয়ে উপদেশ পায় ঠিকভাবে পালন করে, আর যে বিষয়ে উপদেশ পায় না, তা নিজের বুদ্ধি খাটিয়ে ঠিকভাবে সম্পন্ন করে। কাজ করতে গিয়ে সে নির্দেশের অভাবে কোনো কাজ ফেলে রাখে না এবং কাউকে অনর্থক প্রশ্নও করে না। বাড়ির মানুষগুলোর চেয়ে মমতাদি কাজকেই বেশি আপন করে নেয়।উদ্দীপকের স্কুলের কেরানি হোসেন মিয়া কাজ ছাড়া যেন কিছুই বোঝে না। সে ঠিক সময়ে কর্মক্ষেত্রে উপস্থিত হয় এবং অযথা কথা বলে সময় নষ্ট করে না। দীর্ঘ পঁচিশ বছরের কর্মজীবনে যেকোনো দিন দায়িত্ব পালনে অবহেলা করেনি। স্বল্পভাষী হোসেন মিয়া সময়ের কাজ সময়ে শেষ করে।উদ্দীপকে হোসেন মিয়ার কর্মতৎপরতা বা কর্মনিষ্ঠা দেখে তার সম্পর্কে মন্তব্য করা হয়েছে, কাজ ছাড়া সে কিছুই বোঝে না। কিন্তু কর্মনিষ্ঠার দিক দিয়ে যদি আমরা ‘মমতাদি’ গল্পের মমতাদির দিকে নজর দিই, তাহলে তার ক্ষেত্রেও এটা প্রমাণিত হয় যে কাজ ছাড়া সে-ও কিছুই বোঝে না। উদ্দীপকের এ মন্তব্যের মাধ্যমে মমতাদির কর্তব্যবোধের পূর্ণপ্রকাশ ঘটেছে।

 

উদ্দীপকঃ-

=> রাহেলা অত্যন্ত দরিদ্র ঘরের মেয়ে। যে অন্যের বাড়িতে কাজ করে। রান্না, কাপড় ধোয়া, ঘর মোছা সব কাজ সে নিপুণ হাতে করে। এ ছাড়া গৃহকর্তার ছেলেমেয়েকেও রাহেলা দেখাশোনা করে। একদিন হঠাৎ করে রাহেলার হাত থেকে একটি কাচের গ্লাস পড়ে গিয়ে ভেঙে গেলে গৃহকর্ত্রী তাকে বকাঝকা করে। একপর্যায়ে তাকে কাজ ছেড়ে চলে যেতে বলে।

 

ক. মমতাদির কপালের ক্ষত চিহ্নটি কেমন?

খ. মমতাদি অন্যের বাড়িতে কাজ করে কেন?

গ. উদ্দীপকের রাহেলা ও ‘মমতাদি’ গল্পের মমতাদির মধ্যে সাদৃশ্য ও বৈসাদৃশ্য বর্ণনা কর।

ঘ. উদ্দীপকের গৃহকর্তার মনোভাব সামাজিক সংহতি সৃষ্টিতে বাধা সৃষ্ট করে কি? ‘মমতাদি’ গল্পের আলোকে বিশ্লেষণ কর।

 

উত্তরঃ-

ক) মমতাদির কপালের ক্ষত চিহ্নটি দেখতে অনেকটা আন্দাজে টিপ দেওয়ার মতো।

খ) স্বামীর চাকরি চলে যাওয়ায় পরিবারের সদস্যদের মুখে দুবেলা দুমুঠো অনু তুলে দেওয়ার প্রয়োজনেই মমতাদি লেখকের বাড়িতে কাজ নিয়েছিল।দারিদ্র্যের কশাঘাতে জর্জরিত ছিল মমতাদির জীবন। স্বামীর সামান্য উপার্জনে কোনো রকমে ‘নুন আনতে পান্তা ফুরায় সামান্নায় উপছিল তার পরিবার। কিন্তু স্বামীর চজেরি উপার্জনের পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় মমতাদি নিজেই জীবনযুদ্ধে নেমে পড়ে। স্বামী-সন্তানকে নিয়ে বেঁচে থাকার তাদিগেই মমতাদি লেখকের বাড়িতে কাজ নিয়েছিল।

 

গ) নিপুর্ণ গৃহকর্মী হিসেবে উদ্দীপকের সাথে মমতাদি’ গল্পের মমতাদির মধ্যে সাদৃশ্য থাকলেও গৃহকর্ত্রীর ভালোবাসা পাওয়ার ক্ষেত্রে তাদের মধ্যে বৈসাদৃশ্য লক্ষণীয়।মমতাদি ভদ্রঘরের মেয়ে কিন্তু আর্থিক সংকটের কারণে সে এক বাসায় পনেরো টাকা মাইনায় রাঁধুনীর কাজ নেয়। সে কাজ-কর্মে রান্না-বান্নায় খুবই নিপুণ এবং গোছালো কর্মের জন্য গৃহকর্ত্রী তাকে ভালোবাসে। যথা সময়ে এসে সে নিজের মতো করে ঘরকন্নার কাজ। করে, ঘর পরিষ্কার, ধোয়া-মোছা সবই করে। গৃহকর্ত্রী তাকে কাজের মেয়ে না ভেবে নিজের পরিবারের সদস্য মনে করে আপন করে নেয়।তার ছোট কর্তাও মমতাদিকে দিদির মতো ভালোবাসে, শ্রদ্ধা করে এবং তার সাথে গল্প করে মানবিক অনুভূতি প্রকাশ করে। ⇒ উদ্দীপকে দেখা যায়, রাহেলা দারিদ্র্যের কারণে অন্যের বাড়িতে গৃহকর্মীর কাজ করে। সে গৃহকর্মীল ছেলে-মেয়েকে দেখাশোনা করে এবং নিপুণ হাতে ঘরের সব কাজই মনোযোগ দিয়ে করে। রান্না-বান্না, ঘর মোছা, কাপড় ধোয়াসহ সব কাজ সে করলেও সামান্য একটা কাচের গ্লাস ভেঙে যাওয়ার কারণে গৃহকত্রী তাকে বকাঝকা করে। রাহেলার সুন্দর কাজের সাথে মমতাদির কর্মের অনেক সাদৃশ্য রয়েছে, কারণ তারা দুজনই ঘরকন্নার সকল কাজে সমান পারদর্শী। কিন্তু সামান্য গ্লাস ভাঙার কারণে রাহেলার সঙ্গে তার গৃহকর্ত্রী যে দুর্ব্যবহার করে, তা আমরা মমতাদির গৃহকর্ত্রীর ক্ষেত্রে দেখা যায় না। তাই বলা যায়, কাজকর্মের দক্ষতায় তাদের মধ্যে সাদৃশ্য থাকলেও গৃহকর্ত্রীর মানবিক ব্যবহার ও সমাদর পাওয়ার ক্ষেত্রে রাহেলা ও মমতাদির মধ্যে বৈসাদৃশ্য রয়েছে।

 

ঘ) হ্যাঁ, মমতাদি গল্পের আলোকে বলা যায়, উদ্দীপকের গৃহকত্রীর মনোভাব সামাজিক সংহতি সৃষ্টিতে বাধা সৃষ্টি করে। ‘মমতাদি’ গল্পের গৃহকর্ত্রী তার বাড়ির কাজের মেয়ে মমতাদির প্রতি প্রচণ্ড সহানুভূতির পরিচয় দিয়েছেন। মমতাদির স্বামীর চাকরি চলে গেলে সে দারিদ্র্যের কারণে রাঁধুনী কাজ করে। কাজ-কর্মে, আচার- ব্যবহারে সে যে ভদ্রঘরের মেয়ে, তা গৃহকত্রী বুঝতে পারে; এ জন্য তিনি মমতাদির দুঃখে সমবেদনা প্রকাশ করেছেন। প্রত্যাশার চেয়ে বেশি মাইনা দিয়ে তার সাথে ভালো ব্যবহার করে তাকে নিজের পরিবারের লোক মনে করেছেন। মমতাদি যেমন গৃহকত্রীর পরিবারের সব কর্ম ও ব্যক্তিকে আপন করে নিয়েছে, তেমনি গৃহকর্ত্রীও তাকে কাজের মেয়ে মনে না করে একজন মানুষ হিসেবে মূল্যায়ন করেছেন। উদ্দীপকের গৃহকর্ত্রী তার কাজের মেয়ের প্রতি অমানবিক ব্যবহার করেছে। রাহেলা গৃহকত্রীর সব কাজই করে; রান্না, কাপড় ধোয়া, ঘর মোছা কোনো কিছুতেই তার ত্রুটি নেই। কিন্তু একদিন তার হাত থেকে কাচের গ্লাস ভেঙে গেলে তার ওপর চলে মানসিক নির্যাতন। তাকে বকাঝকা ও গালমন্দ করে একপর্যায়ে গৃহকর্ত্রী তাকে কাজ থেকে বহিষ্কার করে। উদ্দীপকের রাহেলার গৃহকর্ত্রী তার প্রতি যে অমানবিক অবিচার করেছে, তাতে সামাজিক ঐক্য নষ্ট হয়। কারণ, সামাজিক ঐক্য বা সংহতি সহানুভূতি ও সমবেদনার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত হয়। যেমন ‘মমতাদি’ গল্পে আমরা মমতাদির গৃহকত্রীর ক্ষেত্রে দেখি, তিনি মমতাদিকে কাজের মেয়ে মনে না করে বা তার কোনো ভুল না ধরে তাকে মানুষ হিসেবে মূল্যায়ন করেছেন। মমতাদি কাজের মেয়ে হলেও ভদ্র ঘরের মেয়ে, তাই তার মনের ঐক্য নষ্ট করেননি বরং তাকে মেয়ের মতো আপন ভেবেছেন। কিন্তু রাহেলাকে তার গৃহকর্ত্রী তার কাজের মূল্যায়ন না করে সামান্য একটা গ্লাসের কারণে যে নিচু মানসিকতা পরিচয় দিয়েছে, তাতে সামাজিক ঐক্য-সংহতি কখনই সৃষ্টি হয় না। তাই প্রসঙ্গত বলা যায়, মমতাদির গৃহকর্ত্রীর মতো সহানুভূতিশীল না হলে উদ্দীপকের গৃহকত্রীর মনোভাব সামাজিক সংহতি সৃষ্টিতে বাধা সৃষ্টি করে।

সংখ্যা পদ্ধতি ও ডিজিটাল ডিভাইস অধ্যায়ের অনুধাবন প্রশ্নোত্তর