বিভারিজ রিপোর্টের সুপারিশ লিখ

Table of Contents

উদ্দীপকঃ-

জনাব মনসুর আলম তার এলাকায় জনগণের ভোটে সাংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে এলাকার সমস্যা সমাধানের জন্য ৮ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করে। পরবর্তীতে কমিটির সুপারিশ ও সমস্যায় সমাধানের জন্য তিনি দরিদ্রদের জন্য বিনামূল্যে চিকিৎসা, বেকার ও অক্ষমদের জন্য মাসিক ভাতা, শিক্ষা ভাতাসহ বেশ কিছু সুবিধা দেওয়ার জন্য আরো কিছু সংসদ সদস্যকে সাথে নিয়ে সরকারের কাছে আবেদন করে। এর ফলে পরবর্তীতে জাতীয় বীমা আইন, খাদ্য আইনসহ কয়েকটি সামাজিক নিরাপত্তামূলক আইন প্রণীত হয়।

ক. প্যারিশ কি?

খ. বিভারিজ রিপোর্টের সুপারিশ লিখ।

গ. উদ্দীপকের ঘটনার সাথে ইংল্যান্ডের কোন আইনের মিল রয়েছে? এর সুপারিশ লিখ।

ঘ. উক্ত আইনকে কিভাবে মনসুর আলম বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছেন- ব্যাখ্যা কর।

 

প্রশ্নের উত্তরঃ-

ক) প্যারিশ হলো ইংল্যান্ডের স্থানীয় প্রশাসনভিত্তিক কাউন্টি অঞ্চল।

 

খ) বিভারিজ রিপোর্ট হলো ১৯৪২ সালে স্যার উইলিয়াম বিভারিজ প্রণীত ইংল্যান্ডের সামাজিক নিরাপত্তা বিষয়ক একটি রিপোর্ট। ১৯৪২ সালে প্রণীত, বিভারিজ রিপোর্টে মানব সমাজের অগ্রগতিতে বাধাদানকারী অন্তরায় গুলো দেখানো হয়েছে। অভাব, রোগ, অজ্ঞতা, মলিনতা ও অলসতাকে প্রধান অন্তরায় হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এ অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য পাঁচটি সুপারিশ পেশ করা হয়েছিল।

 

গ) উদ্দীপকের ঘটনার সাথে ১৯০৫ সালের দরিদ্র আইন কমিশনের মিল রয়েছে।বিংশ শতাব্দীর শুরুতে ইংল্যান্ডে ভয়াবহ বেকারত্ব দেখা দিলে তা থেকে উত্তরণের জন্য জরুরি তহবিল গঠন অপরিহার্য হয়ে পড়ে। এরকম পরিস্থিতিতে ক্ষমতাসীন লিবারেল পার্টি আইনগুলোর সংস্কার এবং বেকার সমস্যা সমাধানে সচেষ্ট হন। ফলে ১৯০৫ সালে লর্ড জর্জ হ্যামিল্টনকে সভাপতি করে ১৮ সদস্য বিশিষ্ট কমিশন গঠিত হয়। এ দরিদ্র আইন কমিশন সুপারিশমালা পেশ করে।উদ্দীপকে উল্লেখিত জনাব মনসুর নির্বাচিত সাংসদ, যিনি এলাকার সমস্যা সমাধানে ৮ সদস্যের কমিটি গঠন করেন। এ কমিটি কয়েকটি সুপারিশ করে। অনুরূপভাবে, ১৯০৫ সালের দরিদ্র আইন কমিশন কয়েকটি সুপারিশ করে। ১৮৩৪ সালের দরিদ্র আইন ইউনিয়ন এবং অভিভাবক বোর্ডের পরিবর্তে কাউন্টি কাউন্সিল গঠনের সুপারিশ করা হয়। শাস্তিমূলক সাহায্য কর্মসূচির পরিবর্তে মানবিক ও কল্যাণমূলক সাহায্য কর্মসূচি প্রবর্তন করার সুপারিশ করা হয়। মিশ্র দরিদ্রাগার বিলোপ এবং পেনশন, দরিদ্রদের জন্য বিনামূল্যে চিকিৎসা সুবিধা, বেকার ভাতা ও কর্মসংস্থান কার্যক্রম, সরকারী বীমা কর্মসূচি প্রভৃতি সুবিধা প্রবর্তন করার জন্য সুপারিশ করা হয়। উদ্দীপকেও বিনামূল্যে চিকিৎসা, বেকার ও অক্ষমদের মাসিক ভাতা দেওয়ার সুপারিশ করা হয়। এ কারণে উদ্দীপকের ঘটনার সাথে ইংল্যান্ডের ১৯০৫ সালের দরিদ্র আইন কমিশন সাদৃশ্যপূর্ণ।

 

ঘ) উদ্দীপকে নির্দেশিত ১৯০৫ সালের দরিদ্র আইন কমিশনের সাদৃশ্যরূপ প্রয়োগের মাধ্যমে মনসুর আলম উক্ত আইনকে বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছেন।বিংশ শতাব্দীর শুরুতে ইংল্যান্ডে ভয়াবহ বেকার সমস্যা শুরু হয়েছিল, তা সমাধানের জন্য লিবারেল পার্টি দরিদ্র আইন কমিশন ১৯০৫ গঠন করেন। উক্ত কিমশন কিছু সুপারিশমালা পেশ করে। শাস্তিমূলক দরিদ্র আইনের পরিবর্তে কাউন্টি কাউন্সিল গঠন, কল্যাণমুখী সাহায্য কর্মসূচি গ্রহণ, মিশ্র। দরিদ্রাগার বিলোপ, বীমা কর্মসূচির প্রবর্তন প্রভৃতি সুপারিশ গৃহিত হলে ইংল্যান্ডে সমাজ কল্যাণ ক্ষেত্রে ইতিবাচক পরিবর্তন আসে। ফলস্বরূপ ১৯০৬ সালের খাদ্য আইন, ১৯০৭ সালের শিক্ষা আইন, ১৯০৯ সালের শিক্ষা বিনিয়োগ প্রভৃতি ব্যাপক সামাজিক পরিবর্তনে ভূমিকা রাখে।উদ্দীপকে দেখা যায়, জনাব মনসুর আলম সাংসদ নির্বাচিত হয়ে কমিশন গঠন করে দরিদ্রদের জন্য কল্যাণমূলক সুবিধা দেওয়ার জন্য সরকারের কাছে আবেদন জানায়। ফলে সরকার কর্তৃক জাতীয় বীমা আইন, খাদ্য আইনসহ কয়েকটি আইন প্রণীত হয়। ১৯০৫ সালের দরিদ্র আইন কমিশন যেমন দরিদ্রদের জন্য বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা দেওয়ার সুপারিশ করো তেমনি জনাব মনসুর আলম এরকম বিভিন্ন সুপারিশ সরকারের কাছে তুলে ধরেন। যা বাংলাদেশের মত উন্নয়শীল দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থা, কর্মসংস্থানের সুযোগ, শিক্ষা প্রভৃতি ক্ষেত্রে উন্নয়ন সাধনে ব্যাপক ভূমিকা পালন করতে পারে।উপরের আলোচনায় বলা যায়, ১৯০৫ সালের দরিদ্র আইনের সাদৃশ্যরূপ আইন বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

 

উদ্দীপকঃ-

গোলাপশাহ মাজারের পাশে ভিক্ষা করে জীবিকা নির্বাহ করে মকবুল মিয়া। সে সুস্থ-সবল হলেও ছেঁড়া ও নোংরা পোশাক পরে এবং গায়ে কালো রং মেখে এবং রুগ্ন চেহারা বানিয়ে মানুষের সাহায্য কামনা করে। সাধারণ মানুষও সরল বিশ্বাসে তাকে টাকা দান করে। এভাবে লোক ঠকিয়ে মকবুল মিয়া প্রতিদিন প্রায় ৫০০ টাকার মতো আয় করতে পারে।

ক. প্রথম দরিদ্র আইন প্রণয়ন করা হয় কত সালে?

খ. দারিদ্র্য বলতে কী বোঝায়?

গ. উদ্দীপকের মকবুল মিয়া ১৬০১ খ্রিষ্টাব্দের দরিদ্র আইন অনুযায়ী কোন শ্রেণির দরিদ্র? ব্যাখ্যা করো।

ঘ. মকবুল মিয়ার মতো দরিদ্রদের অবস্থার উন্নয়নে ১৬০১ খ্রিষ্টাব্দের দরিদ্র আইন কতটা কার্যকর ভূমিকা রেখেছে? বিশ্লেষণ করো।

 

প্রশ্নের উত্তরঃ-

 

ক) প্রথম দরিদ্র আইন প্রণয়ন করা হয় ১৩৪৯ খ্রিষ্টাব্দে।

 

খ) সাধারণত দারিদ্র্য বলতে এমন একটি অবস্থাকে বোঝায় যখন মানুষ প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র অর্থের বিনিময়ে ক্রয় করতে সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে ব্যর্থ হয়।দারিদ্র্য শব্দটির ইংরেজি প্রতিশব্দ হলো Poverty। এছাড়া দারিদ্র্য বলতে এমন এক সামাজিক বঞ্চনাকে বোঝায়, যার কারণে মানুষ মৌল মানবিক চাহিদা থেকে শুরু করে অন্যান্য প্রয়োজনীয় চাহিদা যথাযথভাবে পূরণ করতে অসমর্থ হয়।

 

গ) উদ্দীপকের মকবুল মিয়া ১৬০১ খ্রিস্টাব্দের দরিদ্র আইন অনুযায়ী সক্ষম দরিদ্র শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত।১৬০১ খ্রিষ্টাব্দের দরিদ্র আইন অনুযায়ী সবল বা কর্মক্ষম ভিক্ষুকদের সক্ষম দরিদ্র বলা হতো। সক্ষম দরিদ্র শ্রেণিভুক্ত ভিক্ষুকদেরকে সংশোধনাগারে বা কর্মশালায় কাজ করতে বাধ্য করা হতো। জনসাধারণকে নিষেধ করা হতো এদেরকে ভিক্ষা দিতে। উদ্দীপকের মকবুল মিয়া সুস্থ-সবল হওয়া সত্ত্বেও অপরিচ্ছন্ন পোশাক পরিধান করে এবং কালো রং মেখে রুগ্ন চেহারা বানিয়ে মানুষের সাহায্য কামনা করে। মানুষও সরল বিশ্বাসে তাকে টাকা দান করে। এভাবে মকবুল মিয়া লোক ঠকিয়ে প্রতিদিন প্রায় ৫০০ টাকার মতো আয় করে।১৬০১ খ্রিষ্টাব্দের দরিদ্র আইনানুযায়ী সাহেদের মতো কর্মক্ষম দরিদ্রদের ভিক্ষাদানে সাধারণ মানুষকে নিষেধ করা হলেও বাংলাদেশে এমন কোনো বিধান না থাকায় মকবুল মিয়া সুবিধা ভোগ করে। তাই বৈশিষ্ট্যের বিচারে বলা যায়, ১৬০১ খ্রিষ্টাব্দের দরিদ্র আইনানুযায়ী সাহেদ সক্ষম দরিদ্র শ্রেণিরই অন্তর্ভুক্ত।

 

ঘ) উদ্দীপকের মকবুল মিয়ার মতো দরিদ্রদের অবস্থার উন্নয়নে ১৬০১ খ্রিষ্টাব্দের দরিদ্র আইন অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা রেখেছে।১৬০১ খ্রিষ্টাব্দের দরিদ্র আইন মকবুল মিয়ার মতো দরিদ্রদের সাহায্যের উদ্দেশ্যেই প্রণীত হয়েছিল, যা তাদের অবস্থার উন্নয়ন সাধনে নানা ধরনের কার্যকর কর্মসূচি গ্রহণ করে। ফলে এ আইনের সহায়তায় দরিদ্র ব্যক্তিরা অনেক সুবিধা ভোগ করে। এ আইনে দরিদ্রদেরকে তিনটি শ্রেণিতে ভাগ করা হয় এবং তিনটি ভিন্ন শ্রেণির প্রয়োজনানুযায়ীই তাদের সাহায্যার্থে পদক্ষেপ নেওয়া হয়। এ আইনের আওতায় বিভিন্ন এলাকায় দরিদ্রদের জন্য পরিদর্শক নিযুক্ত করা হয়। তারা সরেজমিনে গিয়ে প্রত্যক্ষভাবে দরিদ্র ব্যক্তিদের সমস্যা সম্পর্কে অনুসন্ধান চালাতেন এবং প্রয়োজন অনুযায়ী তাদেরকে সাহায্য করতেন।১৬০১ খ্রিষ্টাব্দের আইনটি ছিল মূলত উদ্দীপকের মকবুর মিয়ার মতো দরিদ্র নাগরিকদের প্রতি সরকারের দায়িত্বের প্রতিফলন। উক্ত আইনের আওতায় উদ্দীপকের সাহেদের মতো সক্ষম দরিদ্রদের কাজে বাধ্য করা হয় এবং তাদেরকে ভিক্ষাদান কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করা হয়। আবার যারা মকবুল মিয়ার মতো দরিদ্র তবে অক্ষম, তাদের দায়িত্ব অর্পণ করা হয়েছিল সেই অক্ষম দরিদ্রদের সচ্ছল আত্মীয়স্বজনের ওপর। এ আইনের আওতায় সাহায্যার্থী ব্যক্তিকে সাহায্য পেতে আবেদনপত্র জমা দিতে হতো। এভাবে উত্ত আইন উদ্দীপকের মকবুল মিয়ার মতো দুস্থ ও অসহায় দরিদ্র মানুষদের উন্নত ও মর্যাদাপূর্ণ জীবনমান বিধানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।উপর্যুক্ত আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায়, ১৬০১ খ্রিষ্টাব্দের দরিদ্র আইন বাস্তবিকভাবেই মকবুল মিয়ার মতো দরিদ্রদের অবস্থার উন্নয়নে কার্যকর ভূমিকা রেখেছে।

 

উদ্দীপকঃ-

বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ মি. মাইকেলকে সরকার দেশের বিভিন্ন সামাজিক সমস্যা নিরসন ও সমাজের পুনর্গঠনে মতামত প্রদানের জন্য একটি কমিটির প্রধান নিযুক্ত করেন। তিনি ও তার কমিটি দীর্ঘ ১৪ মাস জরিপ শেষে সমাজে বিরাজমান দৈত্যকার ৫টি সমস্যা চিহ্নিত করে তা নিরসনে কিছু সুপারিশ দেন। সরকার তার সুপারিশের আলোকে বেশ কিছু আইন প্রণয়ন ও কর্মসূচি গ্রহণ করেন যা ইংল্যান্ডে সামাজিক নিরাপত্তার একটি ভিত্তি রচনা করে।

ক. দরিদ্র আইনের সংস্কার কত সালে সাধিত হয়?

খ. ১৬০১ সালের দরিদ্র আইন বলতে কী বোঝ?

গ. উদ্দীপকে মি. মাইকেল প্রদত্ত রিপোর্টটির নাম কী? ব্যাখ্যা কর। এর সুপারিশমালা লেখ।

ঘ. “উদ্দীপকে মি. মাইকেল প্রদত্ত রিপোর্টটি ইংল্যান্ডে সামাজিক নিরাপত্তার ভিত্তি রচনা করে” বক্তব্যটি মূল্যায়ন কর।

 

প্রশ্নের উত্তরঃ-

ক) দরিদ্র আইনের সংস্কার ১৮৩৪ সালে সাধিত হয়।

 

খ) ১৬০১ সালের দরিদ্র আইনটি হলো দারিদ্র্য দূরীকরণ এবং দরিদ্রদের সঠিক পুনর্বাসনের লক্ষ্যে একটি উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ। ইংল্যান্ডের দারিদ্র্য দূরীকরণ ও ভবঘুরে সমস্যা মোকাবিলায় এটি ছিল ৪৩ তম প্রয়াস। ১৬০১ সালের দরিদ্র আইন সেবাদানের ক্ষেত্রে সরকারের পাশাপাশি দরিদ্রদের আত্মীয়-স্বজন ও পরিবারের কর্তব্য চিহ্নিত করা ছাড়া ও দরিদ্রদের শ্রেণিবিভাগ এবং আইন প্রয়োগের কঠোরতার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

 

ঘ) উদ্দীপকে মি. মাইকেল প্রদত্ত রিপোর্টটি ইংল্যান্ডে সামাজিক নিরাপত্তার ভিত্তি রচনা করে, উক্তিটি সঠিক ও যথার্থ।আধুনিক ইংল্যান্ডের সামাজিক নিরাপত্তা কাঠামো মূলত ১৯৪২ সালে প্রণীত বিভারিজ রিপের্টের ওপর ভিত্তি করে গড়ে তোলা হয়। এক্ষেত্রে জাতীয় বিমা মন্ত্রণালয় সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির সমন্বয় সাধন করে। ইংল্যান্ডের সামগ্রিক সামাজিক নিরাপত্তা পরিকল্পনার মেরুদন্ড হচ্ছে সামাজিক বিমা কর্মসূচি। এর আওতায় ইংল্যান্ডের জনগণের জন্য জাতীয় স্বাস্থ্য বিমা, বার্ধক্য ও পঙ্গু বিমা, বেকার বিমা, বিবাহ, জন্ম ও মৃত্যুর জন্য বিশেষ বিমা, শ্রমিক ক্ষতিপূরণ প্রভৃতি সুবিধা প্রদান করা হয়। এছাড়া ১৯৪৬ সালের শিল্প দুর্ঘটনা আইনে শিল্প দুর্ঘটনা বিমা কর্মসূচি গ্রহণ করার কথা বলা হয়। এছাড়া আরো ভাতা কর্মসূচি হিসেবে যুদ্ধ পেনশন, প্রবীণদের ভাতা প্রভৃতি প্রদানের ব্যবস্থাও করা হয়। উদ্দীপকে মি. মাইকেলের সুপারিশের আলোকে সমাজে বিরাজমান দৈত্যকার ৫টি সমস্যা চিহ্নিত করে বেশ কিছু আইন প্রণয়ন ও কর্মসূচি গ্রহণ করেন।পরিশেষে বলা যায় যে, ১৯৪২ সালের বিভারিজ রিপোর্ট এবং এর মাধ্যমে গৃহীত সামাজিক নিরাপত্তামূলক কর্মসূচি এবং পরবর্তীতে প্রণীত বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তামূলক আইন ইংল্যান্ড তথা বিশ্বব্যাপী সমাজকর্ম পেশার ভিত্তি গড়ে তোলে।

 

উদ্দীপকঃ-

রহিম গ্রামের কলেজ থেকে ভাল রেজাল্ট করে উচ্চশিক্ষার জন্য রাজধানীতে আসে। এখানে সে চাচার বাড়িতে বাস করতে থাকে। কিন্তু পাশের কারখানার শব্দে তার পড়ায় মন বসে না ও রাতে ঘুম হয় না। প্রতিদিন কলেজে যাবার জন্য বাসে প্রচন্ড ভীড় সহ্য করতে হয়। কোন কোন দিন সে সময়মতো কলেজে উপস্থিত হতে না পেলে অনিয়মিত পয়ে পড়ে।

ক. কে, কোন গ্রন্থে শিল্প বিপ্লবের নামকরণ করেন?

খ. সমস্যা সমাধানে বহুমুখী দৃষ্টিভঙ্গি কীভাবে গড়ে ওঠে?

গ. রহিমের রাজধানীতে আসার জন্য কোন শর্ত কাজ করেছে? ব্যাখ্যা কর।

ঘ. উদ্দীপকে কোন সমস্যা রহিমের কাছে প্রতিফলিত হয়েছে বলে তুমি মনে কর? উত্তরের সপক্ষে যুক্তি দাও।

বিভারিজ রিপোর্টের সুপারিশ লিখ

প্রশ্নের উত্তরঃ-

ক) ব্রিটিশ ঐতিহাসিক আরনল্ড জে টয়েনবি Lectures on The Industrial Revolution of the 18th century in England-এ শিল্পবিপ্লবের নামকরণ করেন। আধুনিক সমাজে যে বহুমুখী জটিলতা ও সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে তা সমাধানের জন্য বহুমুখী জ্ঞান ও দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে ওঠে।

 

খ) সমাজকর্মের লক্ষ্য মানব জ্ঞানের বিভিন্ন শাখা থেকে অর্জিত জ্ঞান নির্দিষ্ট পদ্ধতির মাধ্যমে প্রয়োগ করে পৃথিবীতে সৃষ্ট বিভিন্ন জটিল সমস্যার সমাধানে প্রচেষ্টা চালানো। বর্তমানে বহুমুখী আর্থ-সামাজিক সমস্য; যেমন- নিরক্ষরতা, অজ্ঞতা, জনসংখ্যা বৃদ্ধি, বেকারত্ব, অপরাধ, উন্নতি ও কল্যাণের প্রতিবন্ধক হিসেবে সমাজে কাজ করে। আর, এ সকল বহুমুখী সমস্যা শুধু একক জ্ঞানের মাধ্যমে নয় বরং বহুমুখী জ্ঞান ও দৃষ্টি ভঙ্গির মাধ্যমে সমাধান করতে হয়। তাই এসব সমস্যা সমাধানের জন্য বহুমুখী দৃষ্টিভঙ্গি প্রতিষ্ঠা পায়।

 

গ) উদ্দীপকের রহিমের রাজধানীতে আসার ক্ষেত্রে শিল্প বিপ্লবের ফলে সৃষ্ট শহরায়নের প্রভাব কাজ করেছে।যেসব প্রচেষ্টা ও পরিবর্তনের প্রেক্ষিতে শিল্প যুগের সূচনা হয় তাদের সমষ্টিকেই শিল্প বিপ্লব বলা হয়। এর ফলে কৃষি নির্ভর সামন্ততান্ত্রিক উৎপাদন ব্যবস্থা শিল্পনির্ভর অর্থনীতিতে রুপান্তরিত হয়েছে। ফলে গড়ে উঠেছে শিল্পাঞ্চল ও শহরায়নের প্রভাবে নগরাঞ্চল। নগরে বিভিন্ন ধরনের সুযোগ-সুবিধা সৃষ্টি হয়েছে। কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা, উন্নত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, উন্নত চিকিৎসা ব্যবস্থা প্রভৃতি সুবিধা মানুষকে প্রতিনিয়ত গ্রাম থেকে শহরমুখী করছে।উদ্দীপকের রহিম গ্রাম থেকে উচ্চশিক্ষার্থে রাজধানীতে চলে এসেছে। নগরমুখী জনস্রোতের নানা কারণ বিদ্যমান। মূলত শিল্পবিপ্লবের প্রভাবে বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে বড় বড় নগর গড়ে উঠেছে। নগর জীবনে একদিকে যেমন অসুবিধা রয়েছে, তেমনি নানা সুবিধাও বিদ্যমান। নগরকেন্দ্রিক শিল্পকারখানা, উন্নত যাতায়াত ব্যবস্থা, প্রযুক্তিগত সুযোগ- সুবিধা, স্বাস্থ্য ও শিক্ষার উন্নত ব্যবস্থা মানুষকে ব্যাপকভাবে নগরমুখী করছে। শিল্পবিপ্লবের ফলে শিল্পায়ন ও নগরায়ণ নাগরিক সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি করেছে এবং সামাজিক সম্পর্ক ও শ্রেণির নতুন বিন্যাস করেছে। এসব সার্বিক কারণে উদ্দীপকের রহিম উচ্চ শিক্ষার খাতিরে এবং উন্নত জীবনের প্রত্যাশায় রাজধানীতে এসেছে।

 

ঘ) উদ্দীপকে রহিমের কাছে শিল্পবিপ্লবের নেতিবাচক প্রভাব প্রতিফলিত হয়েছে বলে মনে করি।শিল্পবিপ্লবের ফলে যে শিল্পায়ন হয়েছে, সমাজে তার প্রভাব অবিমিশ্র আশীর্বাদ নয়। তা মানুষের সাথে মানুষের, মানুষের সাথে পরিবারের, পরিবারের সাথে সমাজের, শহরের সাথে গ্রামের নানা রকম মানবীয় পরিবর্তন সূচনা করেছে। কুটির শিল্প ও কৃষিভিত্তিক সমাজব্যবস্থা ভেঙে নগরায়নের উদ্ভব হয়েছে। গ্রামীণ মানুষ নাগরিক সুযোগ-সুবিধা ও শিল্পাঞ্চলে কর্মসংস্থানের জন্য ছুটে আসে, যা শহরে অধিক জনসংখ্যা বৃদ্ধির কারণ।উদ্দীপকে দেখা যায়, উচ্চ শিক্ষার জন্য শহরে আসা রহিম কারখানার যান্ত্রিক শব্দে ঘুমাতে ও পড়তে পারছে না। যাতায়াতের ক্ষেত্রে প্রচণ্ড ভীড় সহ্য করতে হয়। এখানে নগরমুখী অত্যধিক জনস্রোতের কারণে নগরে জনসংখ্যার আধিক্য এবং শিল্পাঞ্চলের প্রভাবে যান্ত্রিক উৎপাদন পদ্ধতির সূচনা হয়। এসব যন্ত্র চালাতে গিয়ে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের প্রভাবে শ্রমিক শ্রেণি বিভিন্ন পেশাগত সংক্রামক ব্যাধিতে আক্রান্ত হয় এবং ঝুকিপূর্ণ কাজ করতে গিয়ে দুর্ঘটনার শিকার হয়ে থাকে। শিল্পের যান্ত্রিকতা, কালো ধোঁয়া, শব্দ দূষণ প্রভৃতি জনস্বাস্থ্যে ব্যাপক নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। অন্যদিকে, শহরের উন্নত জীবনযাপন প্রণালিই মানুষকে গ্রাম থেকে শহরমুখী করে। ফলে শহরে গড়ে ওঠে বস্তি এলাকা, অস্বাস্থ্যকর ও ঝুকিপূর্ণ পরিবেশ, তীব্র যানজট প্রভৃতি। এছাড়া, শিল্প বিপ্লবের প্রভাবে প্রকৃতপক্ষে বেকারত্ব সৃষ্টি, পরিবার ব্যবস্থায় ভাঙন ও নৈতিক অবক্ষয়, শিশু শ্রম বৃদ্ধি, সামাজিক সম্পর্কের অবনতিসহ বিভিন্ন সমস্যার সৃষ্টি হয়। উদ্দীপকে এরই একটি খণ্ডচিত্র ফুটে উঠেছে।উপরের আলোচনা বিশ্লেষণপূর্বক বলা যায়, উদ্দীপকে শিল্প বিপ্লবের নেতিবাচক প্রতিফলনই স্পষ্টভাবে দেখা যায়।

 

উদ্দীপকঃ-

মুক্তিযোদ্ধা শামসুল আলম গ্রামে একটি আশ্রয়কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করেন। খোলাহাটী গ্রামের নিজ বাড়িতে তার প্রতিষ্ঠিত কেন্দ্র বৃদ্ধ, অন্ধ ও বিকলাঙ্গ ভিক্ষুকদের ভর্তি করে তাদের ভরণ-পোষণের ব্যবস্থা করেন। তাদের দিয়ে সাধ্যমতো কাজ করানোর উদ্যোগ নেন। সুস্থ, সবল ভিক্ষুকদের তিনি তার কেন্দ্রে ভর্তি করেন না এবং সবাইকে এ ধরনের ভিক্ষুকদের ভিক্ষা দিতে নিষেধ করেন।

ক. পেশাদার সমজাকর্মের ভিত্তিভূমি বলা হয় কোন দেশটিকে?

খ. ‘দরিদ্র সংস্কার আইন-১৮৩৪’ প্রণয়ন করা হয় কেন?

গ. উদ্দীপকে শামসুল আলমের কাজে কীসের প্রতিফলন দেখা যায়? ব্যাখ্যা করো।

ঘ. দারিদ্র্য মোকাবিলায় শামসুল আলমের কার্যক্রম ইতিবাচক ছিল- পাঠ্যবইয়ের আলোকে উক্তিটি বিশ্লেষণ করো।

 

প্রশ্নের উত্তরঃ-

ক) ইংল্যান্ডকে পেশাদার সমাজকর্মের ভিত্তিভূমি বলা হয়।

 

খ) ইংল্যান্ডের অসহায় দরিদ্রদের সত্যিকার কল্যাণ প্রদানের উদ্দেশ্যে ১৮৩৪ সালে দরিদ্র সংস্কার আইন প্রণয়ন করা হয়।১৬০১ সালে প্রণীত এলিজাবেথীয় দরিদ্র আইন ইংল্যান্ডের সমাজজীবনে নানা বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করে। যেমন- দরিদ্রদের সরকারি সাহায্যের ওপর নির্ভরশীলতা বৃদ্ধি, ত্রাণ কার্যক্রমে বিশৃঙ্খলা, শ্রমাগারে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ প্রভৃতি। এসব সমস্যা কার্যকরভাবে মোকাবিলার লক্ষ্যে ১৮৩৪ সালে দরিদ্র সংস্কার আইন প্রণয়ন করা হয়।

 

গ) উদ্দীপকে শামসুল আলমের কাজে ১৬০১ সালের দরিদ্র আইনের প্রতিফলন দেখা যায়।প্রাকশিল্প যুগে ইংল্যান্ড বিভিন্ন ধরনের আর্থ-সামাজিক সমস্যা ও দারিদ্র্যের কষাঘাতে জর্জরিত ছিল। সরকার বিভিন্ন আইন প্রণয়নের মাধ্যমে এ ক্রমবর্ধমান দারিদ্র্য সমস্যা নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে। কিন্তু ষোড়শ শতাব্দী পর্যন্ত সমস্যা মোকাবিলায় গৃহীত সরকারি কার্যক্রমের বেশির ভাগই ছিল শাস্তি ও দমনমূলক। এ প্রেক্ষিতে ১৩৪৯ থেকে ১৬০১ সালের পূর্ব পর্যন্ত বিভিন্ন আইনের অভিজ্ঞতার আলোকে ইংল্যান্ডের শাসকশ্রেণি দরিদ্রদের কার্যকর সাহায্য প্রদানের চিন্তভাবনা শুরু করে। তাই দারিদ্র্য দূরীকরণ এবং দরিদ্রদের সঠিক পুনর্বাসনের লক্ষ্যে একটি উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ হিসেবে ১৬০১ সালের দরিদ্র আইনটি প্রণয়ন করা হয়। ইংল্যান্ডের দারিদ্র্য দূরীকরণ ও ভবঘুরে সমস্যা মোকাবিলায় এটি ছিল ৪৩তম প্রয়াস।উদ্দীপকে দেখা যায়, মুক্তিযোদ্ধা শামসুল আলম একটি আশ্রয়কেন্দ্র প্রতিষ্ঠিত করেন, যাতে বৃদ্ধ, অন্ধ ও বিকলাঙ্গ ভিক্ষুকদের ভরণ পোষণের উদ্যোগ নেন। সুস্থ, সবল ভিক্ষুকদের তার কেন্দ্রে ভর্তি করান না এবং ভিক্ষাবৃত্তিতে নিরুৎসাহিত করেন। ১৬০১ সালের দরিদ্র আইনে রুগ্ন, বৃদ্ধ, পঙ্গু, অন্ধ এবং সন্তানাদিসহ কাজ করতে অক্ষম তাদেরকে দারিদ্র্যাগারে রেখে তাদের সক্ষমতা অনুযায়ী কাজ করতে বাধ্য করা হতো। আর, সবল বা কর্মক্ষম ভিক্ষুকদের ভিক্ষা দেওয়া কঠোরভাবে নিষিদ্ধ ছিল এবং সংশোধনাগারে কাজ করতে বাধ্য করা হতো। এভাবে ১৬০১ সালের দরিদ্র আইনের মাধ্যমে ক্রমবর্ধমান দারিদ্র্য সমস্যা নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করা হয়। এজন্য উদ্দীপকের শামসুল আলমের উদ্যোগ ও ১৬০১ সালের দরিদ্র আইন সাদৃশ্যপূর্ণ।

 

ঘ) উদ্দীপকের শামসুল আলমের ভিক্ষুকদের জন্য আশ্রয়কেন্দ্রের উদ্যোগ ও পরিচালিত কার্যক্রম দারিদ্র্য মোকাবিলায় ইতিবাচক ভূমিকা পালন করে।ইংল্যান্ডের আর্থ-সামাজিক সমস্যা ও দারিদ্র্য মোকাবিলার জন্য ১৬০১ সালে দারিদ্র্য আইন। প্রণয়ন করা হয়। এ আইনে সরকারের পাশাপাশি দরিদ্রদের আত্মীয় স্বজন ও পরিবারের কর্তব্য চিহ্নিত করা ছাড়াও দরিদ্রদের শ্রেণিবিভাগ এবং আইন প্রয়োগের কঠোরতার উপর গুরুত্বারোপ করা হয়। এ আইনে দরিদ্রদের সাহায্য ও পুনর্বাসন করা হয়। অক্ষম দরিদ্রদের দারিদ্রাগারে রেখে তাদের সাধ্যনুযায়ী কাজের ব্যবস্থা এবং সক্ষম দরিদ্রদের সংশোধনাগারে কাজ করতে বাধ্য করা হতো। এভাবে তৎকালীন ইংল্যান্ড দারিদ্রদ্র্য মোকাবিলার চেষ্টা করেছিল। উদ্দীপকের শামসুল আলমের কর্মকাণ্ডের মধ্যেও এ ধরনের নীতি বা ব্যবস্থা লক্ষ্যনীয়।উদ্দীপকের শামসুল আলম অক্ষম ভিক্ষুকদের ভরণপোষণের ব্যবস্থা ও সবল ভিক্ষুকদেরকে ভিক্ষা প্রদানে নিরুৎসাহিত করেন। তার পরিচালিত কার্যক্রমটি সমাধানে বিশেষ ভূমিকার দাবিদার। তার কেন্দ্রে বৃদ্ধ, অন্ধ দলগতভাবে ভরণ-পোষণের ব্যবস্থাকরণ দরিদ্র্যতা নিয়ন্ত্রণে কাজ করে। অতি দরিদ্র জনগোষ্ঠী কাজের সুযোগ পাওয়ায় অন্যদের উপর নির্ভরশীলতা হ্রাস পায়। সক্ষম ভিক্ষুকদের জন্য ভিক্ষা প্রদানে নিষেধ করায়, মানুষ ভিক্ষা প্রদানে নিরুৎসাহিত হয়। এতে সক্ষম ভিক্ষুকরা ভিক্ষা না পেয়ে কাজ করতে বাধ্য হয়। ফলে সাহায্য নির্ভরতা হ্রাস পায় এবং অক্ষম ও সক্ষম উভয় শ্রেণির মানুষ সক্ষম হয়ে ওঠে।সুতরাং, উপরের আলোচনা থেকে বলা যায়, শামসুল আলমের কার্যক্রম দারিদ্র্য মোকাবিলায় কার্যকরী ভূমিকা রাখে।

 

উদ্দীপকঃ-

মানব সভ্যতার ইতিহাসে ১৭৬০ সাল থেকে ১৮৫০ সাল পর্যন্ত সময় একটি বিশেষ ঘটনার কারণে গুরুত্বপূর্ণ। এ সময় সমগ্র ইউরোপে বিশেষ করে ইংল্যান্ডে নতুন যুগের সূচনা হয়। যার প্রেক্ষাপটে মানুষের আর্থ-সামাজিক, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে ব্যাপক পরিবর্তন সূচিত হয়। এ পরিবর্তনের ফলে নাগরিক সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি পেলেও মানব জীবনে নতুন নতুন জটিল সমস্যার সৃষ্টি হয়।

ক. COS-এর পূর্ণরূপ কী।

খ. সামাজিক পরিবর্তন বলতে কী বোঝ?

গ. উদ্দীপকে উল্লিখিত পরিবর্তনকে কী নামে আখ্যায়িত করা হয়? এর ইতিবাচক দিকগুলো বর্ণনা করো।

ঘ. “উদ্দীপকে উল্লিখিত পরিবর্তন মানবজীবনে অবিমিশ্র আশির্বাদ নয়”- বক্তব্যটি বিশ্লেষণ করো।

 

প্রশ্নের উত্তরঃ-

ক) COS-এর পূর্ণরূপ হলো Charity Organization Society.

 

খ) সামাজিক পরিবর্তন হলো সমাজবদ্ধ মানুষের জীবনধারার প্রচলিত বিভিন্ন বিষয়, ব্যবস্থা ও ক্রিয়ার পরিবর্তন।পরিবর্তন হলো এক ধরনের রূপান্তর। সংকীর্ণ অর্থে প্রযুক্তির উদ্ভাবন, সরকার ব্যবস্থার পরিবর্তন, বিবাহ-বিচ্ছেদ হারের হ্রাসবৃদ্ধি, জনসংখ্যার হ্রাসবৃদ্ধি, সামাজিক মর্যাদা বা পেশাগত পরিবর্তনকে সামাজিক পরিবর্তন বলা হয়। বৃহত্তর পরিসরে শিল্পায়ন, নগরায়ণ রাজনৈতিক স্বাধীনতা, সামাজিক বিন্যাসগত পরিবর্তনকে সামাজিক পরিবর্তন হিসেবে গণ্য করা যায়।

 

গ) উদ্দীপকে উল্লিখিত পরিবর্তনকে শিল্পবিপ্লব নামে আখ্যায়িত করা যায়।শিল্পবিপ্লব হচ্ছে কৃষিভিত্তিক, হস্তশিল্পনির্ভর ক্ষুদ্রায়তন উৎপাদন ও অর্থনীতি থেকে শিল্প ও যন্ত্রচালিত বৃহদায়তন উৎপাদন ব্যবস্থায় পরিবর্তনের একটি প্রক্রিয়া; যা অষ্টাদশ শতাব্দীতে ইংল্যান্ডে শুরু হয়। এর প্রভাবে সমাজের সকল স্তরে উন্নয়নের ক্ষেত্রে উৎকর্ষ ঘটে এবং এর প্রভাব মানবসভ্যতার ইতিহাসে সর্বাধিক গুরুত্ববহ।উদ্দীপকে ১৭৬০ থেকে ১৮৫০ সাল পর্যন্ত সমগ্র ইউরোপ ও তার সূত্র ধরে পৃথিবীর অন্যান্য দেশে আর্থ-সামাজিক ও রাজনৈতিক সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে আমূল পরিবর্তন সূচিত হওয়ার কথা বলা হয়েছে। এই পরিবর্তনের সূত্রপাত হয়েছিল ইংল্যান্ডে। এতে বোঝা যায়, উদ্দীপকের ঘটনাটি শিল্পবিপ্লবকে নির্দেশ করছে। শিল্পবিপ্লব মানব সভ্যতার ওপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।শিল্পবিপ্লবের ফলে উৎপাদন প্রক্রিয়ায় ব্যাপক হারে যন্ত্রপাতি ও প্রযুক্তির ব্যবহার শুরু হওয়ায় উৎপাদন বহুগুণে বেড়ে যায়। শিল্পবিপ্লবের ফলে বিশ্বে অসংখ্য শিল্পকারখানা গড়ে ওঠে। এতে কর্মসংস্থানের বহু সুযোগ সৃষ্টি হয়। এর প্রভাবে সনাতন যোগাযোগ ব্যবস্থার পরিবর্তে যান্ত্রিক যোগাযোগ পদ্ধতি প্রবর্তিত হয়। ফলে ভৌগোলিক দূরত্ব হ্রাস পায়, জনজীবন সহজ, গতিশীল ও আরামপ্রদ হয়। শিল্পবিপ্লবের প্রত্যক্ষ ফল হলো শিল্পায়ন ও শহরায়ন, যা সমাজজীবনকে পর্যায়ক্রমে উন্নতি ও প্রগতির দিকে এগিয়ে নিয়ে যায়। শিল্পবিপ্লব শিক্ষাক্ষেত্রে ব্যাপক পরিবর্তন এনেছে। এর ফলে মানুষ বিভিন্ন উৎস থেকে জ্ঞানার্জনের সুযোগ পাচ্ছে। এতে মানুষের মেধা ও সৃজনশীলতা বিকশিত হচ্ছে, পাশাপাশি মানুষের দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন ঘটেছে। শিল্পবিপ্লবের প্রভাবে নারীরা পুরুষের পাশাপাশি কর্মক্ষেত্রে নিযুক্ত হচ্ছে। এ কারণে সমাজের উন্নয়নে নারীদের অংশগ্রহণের হার বাড়ছে। মানুষ বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গি, বিশ্বাস ও মূল্যবোধের ভিত্তিতে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে সক্ষম হয়েছে। শিল্পবিপ্লবের প্রভাবে চিকিৎসা বিজ্ঞানে অকল্পনীয় সাফল্য এসেছে।

দরিদ্র আইন কমিশন কি?