বাঙ্গালার নব্য লেখকদিগের প্রতি নিবেদন প্রবন্ধে কোনটিকে প্রাচীন বিধি বলা হয়েছে?

উদ্দীপকের বিষয়- মানবকল্যাণে আত্মোৎসর্গ-এর আলোকে প্রণীত।

Table of Contents

উদ্দীপকঃ-

এসেছে নতুন শিশু, তাকে ছেড়ে দিতে হবে স্থান; জীর্ণ পৃথিবীতে ব্যর্থ, মৃত আর ধ্বংসস্তূপ-পিঠে চলে যেতে হবে আমাদের। চলে যাব- তবু আজ যতক্ষণ দেহে আছে প্রাণ প্রাণপণে পৃথিবীর সরাব জঞ্জাল এ বিশ্বকে এ শিশুর বাসযোগ্য করে যাব আমি- অঙ্গীকার। [তথ্যসূত্র: ছাড়পত্র- সুকান্ত ভট্টাচার্য]

 

ক. শ্রেষ্ঠ অলংকার কোনটি?

খ. বাঙ্গালার নব্য লেখকদিগের প্রতি নিবেদন প্রবন্ধে কোনটিকে প্রাচীন বিধি বলা হয়েছে? ব্যাখ্যা কর।

গ. উদ্দীপকের কবির মানবকল্যাণে কাজ করার দিকটি ‘বাঙ্গালার নব্য লেখকদিগের প্রতি নিবেদন’ প্রবন্ধের কোন দিকটিকে নির্দেশ করে।

ঘ. উদ্দীপকের কবিতাংশের মূলভাব আলোচ্য প্রবন্ধের প্রাবন্ধিকের আকাঙ্ক্ষা সম্পূর্ণ ধারণ করে কি? তোমার মতের সপক্ষে মতামত দাও।

 

প্রশ্নের উত্তরঃ-

 

ক) সকল অলংকারের শ্রেষ্ঠ অলংকার সরলতা।

 

খ) যে স্থানে অলংকার বা ব্যঙ্গ বড় সুন্দর বলে বোধ হবে, সেই স্থানটি কেটে দেওয়াকে প্রাচীন বিধি বলা হয়েছে।রচনার স্থানে স্থানে অলংকার বা ব্যঙ্গের প্রয়োজন হয়। প্রাচীন বিধি মতে যে স্থানে অলংকার বা ব্যঙ্গ বড় সুন্দর বলে মনে হবে, সেই স্থানটি কেটে দিতে হবে। কিন্তু প্রাবন্ধিক সেই কথা বলেন না। তাঁর মতে, একটি রচনা বন্ধুদের বারবার পড়ে শোনাতে হবে। যদি লেখা ভালো না হয়, লেখক তখন নিজেই বুঝতে পারবেন। তিনি তখন অন্যদের সামনে তা পড়তে লজ্জা পাবেন। এমন হলে তখন তা কেটে দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।সারকথাঃ- প্রাচীন বিধি মতে, লেখার অলংকার বা ব্যঙ্গ বড় সুন্দর বলে মনে হলে তা লেখককে কেটে দিতে বলা হয়েছে।

 

গ) উদ্দীপকের কবির মানবকল্যাণে কাজ করার দিকটি ‘বাঙ্গালার নব্য লেখকদিগের প্রতি নিবেদন’ প্রবন্ধের মানবকল্যাণে সাহিতা রচনার দিকটিকে নির্দেশ করে।এ পৃথিবীতে মানুষ শুধু নিজের জন্যই জন্মগ্রহণ করে না। অন্যের হিতে কাজ করার জন্য মানুষ শ্রেষ্ঠ জীব হিসেবে পরিচিত। মানবকল্যাণে কাজ করার মধ্য দিয়েই তা নিশ্চিত হয়।উদ্দীপকের কবিতাংশে কবি দৃঢ়প্রত্যয় ব্যক্ত করে বলেছেন যে, তিনি পৃথিবীকে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য বাসযোগ্য করে যাবেন। কারণ তিনি জানেন একদিন সবাইকে চলে যেতে হবে। তাই যতক্ষণ দেহে প্রাণ আছে তিনি মানবের কল্যাণে প্রাণপণ কাজ করতে চান। মানবকল্যাণের জন্য কাজ করার এ বিষয়টি আলোচ্য প্রবন্ধের মানবকল্যাণে সাহিত্য রচনা করার দিকটিকে নির্দেশ করে। আলোচ্য প্রবন্ধে প্রাবন্ধিক বলেছেন, এমন সাহিত্য রচনা করতে হবে যা দেশ বা মানুষ জাতির জন্য কল্যাণ বা মঙ্গল বয়ে আনে। অন্যথায় তা উৎকৃষ্ট সাহিতা হিসেবে গণ্য হবে না। মূলত প্রেক্ষাপট ভিন্ন হলেও উদ্দীপক ও আলোচ্য প্রবন্ধে মানবকল্যাণে কাজ করার কথাই প্রকাশ পেয়েছে।

সারকথাঃ- উদ্দীপকে নবজাতক তথা নতুন শিশুর বসবাসের জন্য পৃথিবীকে উপযোগী করার যে মনোভাব কবির চেতনায় প্রকাশ পেয়েছে তা আলোচ্য প্রবন্ধের মানবকল্যাণে সাহিত্য রচনা করার দিকটিকে নির্দেশ করে।

 

ঘ) না, উদ্দীপকের কবিতাংশের মূলভাব আলোচ্য প্রবন্ধের প্রাবন্ধিকের আকাঙ্ক্ষা সম্পূর্ণ ধারণ করে না।মানুষের মানবিক কাজগুলোর মধ্যে একটি হলো- মানবকল্যাণে আত্মনিয়োগ করা। এতে দেশ ও সমাজ সুন্দরভাবে চালিত হয় এবং মানুষের মাঝে শান্তি বিরাজ করে। আমাদের সবার উচিত নিজের অবস্থানে থেকে মানবকল্যাণে কাজ করা।উদ্দীপকের কবিতাংশে কবির যে আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ পেয়েছে তা হলো- পৃথিবীতে যে নতুন শিশু এসেছে তিনি তার জন্য এই পৃথিবীকে বাসযোগ্য করে যাবেন। কারণ পৃথিবী জীর্ণতা, ব্যর্থতায় পরিপূর্ণ। তিনি এই জঞ্জালগুলো সরাতে প্রাণপণ চেষ্টা করতে চেয়েছেন। আর এ চেতনার মধ্য দিয়ে মানবকল্যাণে আত্মোৎসর্গের দিকটি প্রকাশ পেয়েছে, যা ‘বাঙ্গালার নব্য লেখকদিগের প্রতি নিবেদন’ প্রবন্ধেও ফুটে উঠেছে। প্রাবন্ধিক সাহিত্যিকদের এমন সাহিত্য রচনার আহ্বান জানিয়েছেন যাতে মানুষের কল্যাণ হয়। কিন্তু এ বিষয়টি ছাড়াও আলোচ্য প্রবন্ধে আরও অনেক বিষয়ের প্রকাশ লক্ষ করা যায়, যেগুলো উদ্দীপকে অনুপস্থিত।বাঙ্গালার নব্য লেখকদিগের প্রতি নিবেদন প্রবন্ধে লেখক বাংলা সাহিত্যের নতুন লেখকদের বিভিন্ন দিকনির্দেশনা দিয়েছেন যা আলোচ্য প্রবন্ধের মূল বিষয়। এসব নির্দেশনা অনুসরণ করে একজন সার্থক লেখক হওয়া সম্ভব এবং ভালো সাহিত্য রচনা করা সম্ভব। অন্যদিকে উদ্দীপকের কবিতাংশে মানবকল্যাণের যে বিষয়টি প্রকাশ পেয়েছে তা আলোচ্য প্রবন্ধের আংশিক ভাব। উদ্দীপকে প্রবন্ধের অন্যান্য বিষয় প্রকাশ পায়নি। তাই বলা যায় যে, উদ্দীপকের কবিতাংশের মূলভাব আলোচ্য প্রবন্ধের প্রাবন্ধিকের আকাঙ্ক্ষার সমগ্র ভাব ধারণ করে না।

সারকথাঃ- উদ্দীপকে শুধু মানবকল্যাণে আত্মোৎসর্গের দিকটি প্রকাশ পেয়েছে। কিন্তু মানবকল্যাণে সাহিত্য রচনা ছাড়াও আলোচ্য প্রবন্ধে আরও অনেক বিষয় ফুটে উঠেছে যেগুলো উদ্দীপকে অপ্রকাশিত।

বাঙ্গালার নব্য লেখকদিগের প্রতি নিবেদন প্রবন্ধে কোনটিকে প্রাচীন বিধি বলা হয়েছে?

উদ্দীপক-

সর্বস্তরের মানুষের জন্য সাহিত্যসাধনা-এর আলোকে প্রণীত।শুধু ভঙ্গি দিয়ে যেন না ভোলায় চোখ। সত্য মূল্য না দিয়েই সাহিত্যের খ্যাতি করা চুরি ভালো নয়, ভালো নয় নকল সে শৌখিন মজদুরি। এসো কবি, অখ্যাতজনের নির্বাক মনের।সাহিত্যের ঐকতানসংগীতসভায় একতারা যাহাদের তারাও সম্মান যেন পায়- মূক যারা দুঃখে সুখে, নতশির স্তব্ধ যারা বিশ্বের সম্মুখে, ওগো গুণী, কাছে থেকে দূরে যারা তাহাদের বাণী যেন শুনি।[তথ্যসূত্র: ঐকতান- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর]

 

ক. লেখার উদ্দেশ্য কোনটি?

খ. কাহারও অনুকরণ করিও না।- উক্তিটি ব্যাখ্যা কর।

গ. উদ্দীপকের সঙ্গে ‘বাঙ্গালার নব্য লেখকদিগের প্রতি নিবেদন’ প্রবন্ধের কোন দিকটির মিল রয়েছে?

ঘ. উদ্দীপকটি আলোচ্য প্রবন্ধের সমগ্র ভাব ধারণ করে- উক্তিটির যথার্থতা নির্ণয় কর।

 

 প্রশ্নের উত্তরঃ-

 

ক) লেখার উদ্দেশ্য পাঠককে বোঝানো।

 

খ) কাউকে অনুকরণ করলে দোষগুলি অনুকৃত হয়, গুণগুলো হয় না। তাই প্রাবন্ধিক অনুকরণ করতে নিষেধ করেছেন।অনেক লেখক মনে করেন- ইংরেজি, সংস্কৃত বা বাংলা ভাষার লেখক যেভাবে লিখেছে, আমিও তেমন করে লিখব। এমন চিন্তা মনে স্থান দিতে নিষেধ করেছেন প্রাবন্ধিক। কারণ কোনো লেখককে অনুকরণ করতে গেলে তার দোষগুলো অনুকৃত হয়, গুণগুলো হয় না। তাই কাউকে অনুকরণ করে সাহিত্য রচনা করা উচিত নয়।

সারকথাঃ- কাউকে অনুকরণ করলে তার দোষগুলোও অনুকৃত হয়। তাই লেখক কাউকে অনুকরণ করতে নিষেধ করেছেন।

 

গ) উদ্দীপকের সঙ্গে ‘বাঙ্গালার নব্য লেখকদিগের প্রতি নিবেদন’ প্রবন্ধের প্রাবন্ধিকের আকাঙ্ক্ষার মিল রয়েছে।সাহিত্য একটি দেশ বা জাতির দর্পণ। সাহিত্যের মাধ্যমে দেশের অনেক বিষয় সবার সামনে স্পষ্ট হয়। তাই একজন সাহিত্যিকের উৎকৃষ্ট মানের সাহিত্য রচনার প্রতি গুরুত্ব দেওয়া উচিত।উদ্দীপকের কবিতাংশে কবি বলেছেন, শুধু ভঙ্গি দিয়ে বা সত্য মূল্য না দিয়ে সাহিত্যে খ্যাতি লাভ করার চেষ্টা ঠিক নয়। তাই কবি প্রত্যাশা করেছেন এমন একজন কবির যিনি সাধারণ মানুষের দুঃখ-বেদনার কথা সাহিত্যে প্রকাশ করবেন। কবি সেই গুণী কবির কাছে প্রত্যাশা করেন, যারা কাছে থেকে দূরে তাদের কথা তিনি শুনতে পাবেন তার সাহিত্যের মাধ্যমে। আলোচ্য প্রবন্ধেও প্রাবন্ধিক নবীন লেখকদের কাছে এমনই প্রত্যাশা করেছেন। প্রাবন্ধিক চেয়েছেন, নতুন লেখকরা কিছু নিয়ম মেনে মানবের কল্যাণ হয় এমন সাহিত্য রচনা করবেন। তারা নিয়মগুলো রক্ষা করলে বাংলা সাহিত্যের উন্নতি হবে। অর্থাৎ উভয় জায়গায় লেখকদের কাছে উৎকৃষ্ট মানের সাহিত্য প্রত্যাশা করা হয়েছে। তাই বলা যায় যে, উদ্দীপকের সঙ্গে ‘বাঙ্গালার নব্য লেখকদিগের প্রতি নিবেদন’ প্রবন্ধের প্রাবন্ধিকের আকাঙ্ক্ষার মিল রয়েছে।

সারকথাঃ- উদ্দীপকের কবি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কবির কাছে যে প্রত্যাশা করেছেন, বাঙ্গালার নব্য লেখকদিগের প্রতি নিবেদন প্রবন্ধের প্রাবন্ধিকও একই প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন।

 

ঘ) উদ্দীপকটি আলোচ্য প্রবন্ধের সমগ্র ভাব ধারণ করে- উক্তিটি যথার্থ।সাহিত্যের মাধ্যমে মানুষ তার মনের কথা অন্যের কাছে প্রকাশ করতে পারে। কিন্তু সাহিত্য যদি অন্যের বোধগম্য না হয়, তবে তা মুখ থুবড়ে পড়ে। তাই লেখকদের উচিত উৎকৃষ্ট সাহিত্য রচনায় মনোযোগী হওয়া।উদ্দীপকের কবিতাংশে কবি বলেছেন, শুধু ভঙ্গি দিয়ে যেন চোখ না ভোলানো হয়। সত্য মূল্য না দিয়ে সাহিত্যের খ্যাতি চুরি করা ভালো নয়। ভালো নয় নকল শৌখিনতা। তাই তিনি এমন কবির আগমন প্রত্যাশা করেছেন যিনি নির্বাক মনের কথা এবং সাধারণের মর্মবেদনার কথা সাহিত্যের ঐকতানসংগীতসভায় প্রকাশ করতে পারেন। কবি দূরে থেকেও যেন তাদের কথা সাহিত্যের মধ্য দিয়ে শুনতে পান। অন্যদিকে আলোচ্য প্রবন্ধেও প্রাবন্ধিক বাংলা সাহিত্যের নতুন লেখকদের বলেছেন- বাশের জন্য, অর্থের জন্য না লিখতে। মানুষের মঙ্গল সাধন হবে না এমন সাহিত্য রচনা করতেও নিষেধ করেছেন। যা অসত্য এবং যা বলার অধিকার নেই তা সাহিত্যে প্রকাশ করা থেকে বিরত থাকতে বলেছেন। তিনি প্রত্যাশা করেছেন, তাঁর বলা কথাগুলো নতুন লেখকরা মনোযোগ দিয়ে শুনবেন এবং দোষত্রুটিগুলো সংশোধন করে উৎকৃষ্ট মানের সাহিত্য রচনা করবেন।উদ্দীপকের কবি ও আলোচ্য প্রবন্ধের প্রাবন্ধিক একই চেতনার অধিকারী। তাঁরা চেয়েছেন নতুন লেখকরা যেন কোনো রকম খ্যাতি বা অর্থের উদ্দেশ্যে না লেখেন। তারা যেন সাধারণ মানুষের কথা সহজ-সরল ও সুন্দরভাবে সাহিত্যে তুলে ধরেন, যাতে করে বাংলা সাহিত্য উৎকর্ষ লাভ করে। তাই বলা যায়, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।

সারকথাঃ- উদ্দীপক ও আলোচ্য প্রবন্ধ- উভয় জায়গায় নতুন লেখকদের কাছে উৎকৃষ্ট সাহিত্য রচনার প্রত্যাশা করা হয়েছে। তাই বলা যায়, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।

বাঙ্গালার নব্য লেখকদিগের প্রতি নিবেদন সৃজনশীল প্রশ্ন