দান সংগঠন সমিতি কেন গঠিত হয়?

Table of Contents

উদ্দীপকঃ-

১৭৮০ সাল থেকে ১৮৫০ সাল পর্যন্ত ইংল্যান্ডে একটি বৈপ্লবিক ঘটনা ঘটে। এ সময়ে পুরো ইউরোপব্যাপী বিশেষ করে ইংল্যান্ডে রেনেসাঁ বা নবজাগরণের সূত্রপাত ঘটে। এর ফলে মানুষের আর্থ-সামাজিক, মানবিক ও রাজনৈতিক চিন্তাধারায় ব্যাপক পরিবর্তন সাধিত হয়।

ক. NASW এর পূর্ণরূপ কী?

খ. দান সংগঠন সমিতি কেন গঠিত হয়?

গ. উদ্দীপকে বর্ণিত ১৭৮০ সালের বৈপ্লবিক ঘটনাটি কী? উত্ত ঘটনার বৈশিষ্ট্য পাঠ্যপুস্তকের আলোকে বর্ণনা কর।

ঘ. উদ্দীপকের ঘটনাটি শুধু আশীর্বাদ নয়-বিশ্লেষণ কর।

প্রশ্নের উত্তরঃ-

ক) NASW এর পূর্ণরূপ- National Association of Social Workers.

খ) শিল্পবিপ্লব পরবর্তী সময়ে সমাজের অসহায়, দুঃস্থদের সহায়তা দান এবং বিভিন্ন সমাজসেবামূলক কার্যক্রম পরিচালনার লক্ষ্যে ইংল্যান্ড ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে যেসব অলাভজনক সংগঠন গড়ে উঠেছিল সেগুলোকে দান সংগঠন সমিতি বলা হয়।শিল্প বিপ্লবের ফলে পরিবর্তিত আর্থ-সামাজিক অবস্থার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে অসংগঠিত ও বিচ্ছিন্ন সমাজসেবা কার্যক্রমকে সংগঠিতভাবে পরিচালনার লক্ষ্যে সর্বপ্রথম ১৮৬৯ খ্রিস্টাব্দে দান সংগঠন সমিতি প্রতিষ্ঠিত হয়। পরবর্তীতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রেও দান সংগঠন সমিতি প্রতিষ্ঠিত হয়। পেশাদার সমাজকর্মের বিকাশে এ সমিতি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

 

গ) উদ্দীপকে উল্লিখিত আমূল পরিবর্তনকে শিল্পবিপ্লব নামে আখ্যায়িত করা হয়।শিল্পবিপ্লব হচ্ছে কৃষিভিত্তিক, হস্তশিল্পনির্ভর ক্ষুদ্রায়তন উৎপাদন ও অর্থনীতি থেকে শিল্প ও যন্ত্রচালিত বৃহদায়তন উৎপাদন ব্যবস্থায় পরিবর্তনের একটি প্রক্রিয়া; যা অষ্টাদশ শতাব্দীতে ইংল্যান্ডে শুরু হয়। এর প্রভাবে সমাজের সকল স্তরে উন্নয়নের ক্ষেত্রে উৎকর্ষ ঘটে এবং এর প্রভাব মানবসভ্যতার ইতিহাসে সর্বাধিক গুরুত্ববহ।উদ্দীপকে ১৭৮০ থেকে ১৮৫০ সাল পর্যন্ত সমগ্র ইউরোপ ও তার সূত্র ধরে পৃথিবীর অন্যান্য দেশে উৎপাদন, প্রযুক্তি, যাতায়াত ও যোগাযোগ ক্ষেত্রে আমূল পরিবর্তন সূচিত হওয়ার কথা বলা হয়েছে। এই পরিবর্তনের সূত্রপাত হয়েছিল ইংল্যান্ড থেকে। এ থেকে বোঝা যায়, উদ্দীপকে শিল্পবিপ্লবের প্রতি ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। উদ্দীপকে এর ফলাফলও তুলে ধরা হয়েছে। প্রকৃতপক্ষে, শিল্পবিপ্লব আর্থ-সামাজিক জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন নিয়ে এসেছে। এর ফলে অর্থব্যবস্থা দ্রুত সমৃদ্ধ হওয়ার পাশাপাশি নাগরিক সুযোগ-সুবিধা বহুগুণে বৃদ্ধি পেয়েছে। শিল্পায়ন শিল্পবিপ্লবের প্রধান বৈশিষ্ট্য। আর শিল্পায়নের ফলে শহরায়ণ প্রক্রিয়া গড়ে ওঠে, যার ফসল আজকের শহরকেন্দ্রিক সভ্যতা। তবে এর ফলে মানবজীবনে কিছু নতুন সমস্যারও উদ্ভব ঘটে, যা উদ্দীপকে উল্লিখিত হয়েছে। তাই বলা যায়, উদ্দীপকে শিল্পবিপ্লবের ফলেসৃষ্ট আমূল পরিবর্তনের কথাই বলা হয়েছে।

 

ঘ) উদ্দীপকে নির্দেশিত শিল্পবিপ্লব শুধুই আশীর্বাদ নয় বরং সামাজিক ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে নেতিবাচক প্রভাব বিস্তারের মাধ্যমে অনেকক্ষেত্রে অভিশাপরূপে প্রতীয়মান হয়েছে। শিল্পবিপ্লব হলো অর্থনৈতিক, সামাজিক ও রাজনৈতিক ক্ষেত্রের পরিবর্তন সাধন যা অষ্টাদশ শতাব্দীর মধ্যভাগে কারখানা ব্যবস্থা দ্বারা শুরু হয়েছে। এ পরিবর্তন একদিকে যেমন আধুনিক সভ্যতার দ্বার উন্মোচন করে, অন্যদিকে উৎপাদন ব্যবস্থা যন্ত্রনির্ভর ও কারিগরি দক্ষতাভিত্তিক হওয়ায় বহু শ্রমিক কর্মহীন হয়ে পড়ে। এ বিপ্লবের ফলে সামাজিক ও পারিবারিক বন্ধনের ভাঙনে যান্ত্রিক ও একক পরিবার সৃষ্টি হচ্ছে।উদ্দীপকে নির্দেশিত ১৭৮০ সাল থেকে ১৮৫০ সাল পর্যন্ত ইংল্যান্ডে যে শিল্পবিপ্লব ঘটে, তা নবজাগরণের সূত্রপাত ঘটালেও কৃতিপয় নেতিবাচক। প্রভাবও ফেলে। শিল্পবিপ্লব রাজনৈতিক ক্ষেত্রে পুঁজিবাদের জন্ম দিয়েছে। ফলে মালিপক্ষ শ্রমিকদের শোষণ করে সকল সম্পত্তি কুক্ষিগত করছে। ব্যাপক সামাজিক পরিবর্তন সমাজের সংস্কৃতি, মূল্যবোধ, নৈতিকতা শৃঙ্খলা, বন্ধন ও সুসম্পর্কের অবনতির পাশাপাশি নানা সামাজিক সমস্যা সৃষ্টি করছে। যৌথ পরিবার ভেঙে একক পরিবার হওয়ায় অক্ষম, পঙ্গু, বৃদ্ধ-বৃদ্ধা ও অন্যান্য নির্ভরশীল গৃহকেন্দ্রিক সদস্যরা নিরাপত্তাহনি হয়ে পড়ছে। ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পের উৎপাদন ব্যবস্থার চাহিদা হ্রাসের কারণে বহু মানুষ বেকার হয়ে পড়ছে।সুতরাং, উপরের আলোচনা থেকে বলা যায়, শিল্পবিপ্লব যেমন আশীর্বাদ আবার অভিশাপম্বরূপ।

 

উদ্দীপকঃ-

ববির দাদু তৎকালীন ইংল্যান্ডের একটি কোম্পানিতে চাকরি করতেন। সেখানে তার প্রতিবেশী মি. মিল্টন ভিক্ষাবৃত্তি করে জীবিকা নির্বাহ করতেন। তৎকালীন ইংল্যান্ডেও অনেক মানুষই মি. মিল্টনের মতো জীবনধারণ করতেন। তবে শেষ পর্যন্ত তারা ভিক্ষাবৃত্তি ছাড়তে বাধ্য হয়েছিল। দেশের সরকার একটি বিশেষ আইন প্রণয়ন করে এ আইনের অধীনে দরিদ্র ভিক্ষুকদের ভরণপোষণের ব্যবস্থা করেছিলেন।

ক. উদ্দীপকে কোন আইনের কথা বলা হয়েছে?

খ. উক্ত আইনের দু’টি বৈশিষ্ট্য ব্যাখ্যা কর।

গ. মি. মিল্টনের মত ছদ্মবেশী ভিক্ষুকদের জন্য উক্ত আইনের ব্যবস্থাগুলো কী কী?

ঘ. বাংলাদেশে ভিক্ষাবৃত্তি রোধে উক্ত আইনের প্রয়োগের সম্ভাব্যতা যাচাই কর।

 

প্রশ্নের উত্তরঃ-

ক) সে উদ্দীপকে ১৬০১ সালের দরিদ্র আইনের কথা বলা হয়েছে।

খ) উদ্দীপকে নির্দেশিত ১৬০১ সালের দরিদ্র আইন দরিদ্রদের দায়িত্ব গ্রহণে সরকারি দায়িত্বশীলতার প্রবর্তক।ইংল্যান্ডের দরিদ্র ও ভবঘুরে সমস্যা নিরসনে দরিদ্র আইন ১৬০১ প্রণীত হয়। এর বিভিন্ন বৈশিষ্ট্য বিদ্যমান। প্রথমত, সচ্ছল আত্মীয়-স্বজনসম্পন্ন দরিদ্রদের ভিক্ষা প্রাপ্তির অযোগ্য ঘোষণা করা হয় এবং তাদের দায়িত্ব গ্রহণে আত্মীয়-স্বজনদের বাধ্য করা হয়। দ্বিতীয়ত, সক্ষম ভিক্ষুকদের সংশোধনের জন্য সংশোধনাগার এবং কাজ করানোর জন্য শ্রমাগার এর ব্যবস্থা করা হয়।

 

গ) ববির দাদুর দেখা ভিক্ষুকদের জন্য ইংল্যান্ডের ১৬০১ সালের দরিদ্র আইনটি প্রযোজ্য।প্রাক-শিল্প যুগে ইংল্যান্ড বিভিন্ন ধরনের আর্থ-সামাজিক সমস্যা ও দারিদ্র্যের কষাঘাতে জর্জরিত ছিল। ষোড়শ শতাব্দী পর্যন্ত এসব সমস্যা মোকাবিলায় গৃহীত সরকারি কার্যক্রমের বেশির ভাগ ছিল শাস্তি ও দমনমূলক। তাই দারিদ্র্য দূরীকরণ এবং দরিদ্রদের সঠিক পুনর্বাসনের লক্ষ্যে ১৬০১ সালের দরিদ্র আইনটি প্রণয়ন করা হয়।উদ্দীপকে দেখা যায় ইংল্যান্ডের বাসিন্দা মি. মিল্টন এবং তার মতো অনেক মানুষই ভিক্ষাবৃত্তির মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করত। এ অবস্থা মোকাবিলায় ১৬০১ সালের দরিদ্র আইনটি কার্যকরী করা হয়। কারণ উক্ত আইনে প্রকৃত ভিক্ষুকদের চিহ্নিত করে তাদের সাহায্যদানের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হতো। পাশাপাশি কর্মক্ষম ভিক্ষুকদের সংশোধনাগারে কাজ করতে বাধ্য করা হতো। এ আইনের মাধ্যমে সর্বপ্রথম ইংল্যান্ডের ইতিহাসে দরিদ্র ও ভবঘুরেদের দায়িত্ব সরকারিভাবে গ্রহণ করা হয়। ১৬০১ সালের দরিদ্র আইনে দরিদ্রদের তিনভাগে বিভক্ত করা হয়। যথা- সক্ষম দরিদ্র, অক্ষম দরিদ্র ও নির্ভরশীল শিশু। শ্রেণিবিভাগ অনুযায়ী তাদের কাজ ও সাহায্য দেওয়া হয়। পারিবারিক দায়িত্ব পালনে সক্ষম ব্যক্তিদের দায়িত্ব ও কর্তব্য পালনের বিধান এ আইনে রাখা হয়।যা বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে দারিদ্র্য মোকাবিলায় এ ধরনের আইন অর্থাৎ ১৬০১ সালের দরিদ্র আইনটি অত্যন্ত কার্যকরী হবে।প্রাক-শিল্প যুগে ইংল্যান্ডে দারিদ্র্যের কষাঘাতে জর্জরিত ছিল। এ সময় সরকার বিভিন্ন আইন প্রণয়নের মাধ্যমে দারিদ্র্য নিরসনের চেষ্টা করেও আশানুরূপ সাফল্য পায়নি। অবশেষে পূর্বের বিভিন্ন আইনের অভিজ্ঞতার আলোকে ১৬০১ সালের দারিদ্র্য আইনটি প্রণীত হয় যা দারিদ্র্য নিরসনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল।

 

ঘ) উদ্দীপকে ইংল্যান্ডে মি. মিল্টন এবং তার মতো অনেক মানুষ ভিক্ষাবৃত্তি করে জীবনযাপন করত। কিন্তু ইংল্যান্ডের সরকার একটি আইন করে ভিক্ষাবৃত্তি বন্ধ করে এবং ভিক্ষুকদের জন্য বিভিন্ন ব্যবস্থা গ্রহণ করে। এ আইনটি হলো ১৬০১ সালের দরিদ্র্য আইন। আমাদের দেশেও দারিদ্র্য দিনে দিনে চরম আকার ধারণ করছে। এ সমস্যা সমাধানে ১৬০১ সালের দরিদ্র আইন প্রয়োগ করা যায়। এ আইন অনুযায়ী দরিদ্রদের চিহ্নিত করা হতো। প্রকৃত দরিদ্রদের যথাযথভাবে সাহায্য করার জন্য এটি অত্যন্ত কার্যকরী একটি পদক্ষেপ। আমাদের দেশের দরিদ্রদের সাহায্য করার জন্য এ বিধান প্রয়োগ করা যায়। দরিদ্র আইনে দারিদ্র্যাবস্থা ও ভিক্ষাবৃত্তি দূর করতে সরকারের দায়িত্ব নিশ্চিত করা হয়। আমাদের দেশের সরকারও দারিদ্র্য বিমোচনে এ ধরনের কর্মসূচি গ্রহণ করতে পারে। ১৬০১ সালের দরিদ্র আইন অনুযায়ী আমাদের দেশেও দরিদ্রদের শ্রেণিবিভাগ করে সাহায্যদানের ব্যবস্থা গ্রহণ করা যায়। এক্ষেত্রে অক্ষম দরিদ্ররা সাহায্য পাবে। আর ছদ্মবেশী সক্ষম দরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা যাবে। আমাদের দেশের সরকার দরিদ্রদের সাহায্য করার জন্য তাদের সচ্ছল আত্মীয়-স্বজনদের বাধ্য করতে পারে। যেসব দরিদ্রদের সচ্চল আত্মীয়-স্বজন থাকবে না তাদের দায়িত্ব সরকার গ্রহণ করতে পারে। এছাড়া আমাদের দেশের সরকারকে আইনের মাধ্যমে ভিক্ষাবৃত্তি কঠোরভাবে নিষিদ্ধ ঘোষণা এবং ভিক্ষুকদের কর্মসংস্থানের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। এ কর্মসূচি আমাদের দেশের ভিক্ষাবৃত্তি দূর করতে সহায়ক হবে।সার্বিক আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায়, আমাদের দেশের দারিদ্র্যাবস্থা ও ভিক্ষাবৃত্তি দূর করার জন্য ১৬০১ সালের দরিদ্র আইনটি কার্যকর ভূমিকা রাখতে সক্ষম।

 

উদ্দীপকঃ-

অষ্টাদশ শতাব্দীর মাঝামাঝি থেকে উনবিংশ শতাব্দীর মাঝামাঝি পর্যন্ত ইউরোপে বিশেষত ইংল্যান্ডে কলকারখানা ও উৎপাদন ক্ষেত্রে আমূল পরিবর্তন সাধিত হয়। এই পরিবর্তন সৃজনশীল প্রতিভা বিকাশে অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি করে। শিল্পায়ন, শহরায়ন, গড় আয়ু বৃদ্ধি, দক্ষতা বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান, মাথাপিছু আয় বৃদ্ধি, প্রযুক্তি, চিকিৎসা, উদ্ভাবন প্রভৃতি হচ্ছে এই পরিবর্তনের প্রত্যক্ষ ফল। বৈশ্বিক প্রয়োজন, যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন, প্রযুক্তির ব্যাপক বিস্তার এর ব্যাপ্তি বিশ্বের সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ে। অন্যদিকে অদক্ষ শ্রমিক বেকার, রোগ জীবাণু পরিবেশ দূষণ, পারিবারিক দূরত্ব তৈরিসহ নানা সমস্যাও সৃষ্টি করে।

ক. বিপ্লব শব্দের অর্থ কী?

খ. উদ্দীপকে উল্লিখিত আমূল পরিবর্তন মানব জীবনে কী কী সুফল বয়ে আনে?

গ. উদ্দীপকে যে বিপ্লবের কথা বলা হয়েছে উহার নেতিবাচক দিকগুলো ব্যাখ্যা কর।

ঘ. ইংল্যান্ডের আমূল পরিবর্তন কীভাবে সমগ্র বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে? উদ্দীপকের আলোকে আলোচনা কর।

 

প্রশ্নের উত্তরঃ-

ক) বিপ্লব শব্দের অর্থ মৌল বা সুদূরপ্রসারী পরিবর্তন।

খ) উদ্দীপকে উল্লিখিত আমূল পরিবর্তনটি হলো শিল্প বিপ্লব। শিল্প বিপ্লব মানব জীবনে নানা ধরনের সুফল বয়ে আনে।শিল্পবিপ্লবের ফলে বৈজ্ঞানিক আবিষ্কার, উৎপাদনের নিত্যনতুন কৌশল এবং যন্ত্রের উদ্ভাবন ঘটে। এর ফলে শিল্পায়ন প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত হয়। আর শিল্পায়নকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠে শহরায়ণ প্রক্রিয়া। বৃহৎ আকৃতির কল- কারখানা স্থাপিত হওয়ার কারণে কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধি পায়। উৎপাদিত পণ্য বাজারজাতকরণ ও প্রক্রিয়াকরণের জন্য যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন ঘটে যা মানবজীবনের জন্য আশীর্বাদ।

গ) উদ্দীপকে শিল্প বিপ্লবের কথা বলা হয়েছে। যার নেতিবাচক প্রভাবও লক্ষণীয়।যেসব প্রচেষ্টা ও পরিবর্তনের প্রেক্ষিতে শিল্প যুগের সূচনা হয় তাদের সমষ্টিকেই শিল্প বিপ্লব বলে। এ বিপ্লবের ফলে সামাজিক, রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও মনস্তাত্ত্বিক ক্ষেত্রেও এ পরিবর্তন ও প্রভাব লক্ষ করা যায়।শিল্প বিপ্লবের প্রভাবে ক্ষুদ্র শিল্পের পরিবর্তে যান্ত্রিক শিল্পের উদ্ভাবনের কারণে সমাজে বেকারত্বের সৃষ্টি হয়। শিল্প কারখানাগুলোতে ব্যাপক পেশাগত দুর্ঘটনা ও সংক্রামক ব্যাধির প্রাদুর্ভাবের মাত্রা বৃদ্ধি পায়। শিল্প বিপ্লব পুঁজিবাদের জন্ম দিয়েছে। ফলে শ্রমিক শোষণের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। শিল্প বিপ্লবের ফলে যৌথ পরিবার ভেঙে একক পরিবার গড়ে উঠছে। যার কারণে পরিবারের নির্ভরশীল সদস্যরা সামাজিক নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। এছাড়া পরিবারের স্বামী-স্ত্রী উভয়ে চাকরি করায় সন্তানদের সুষ্ঠু সামাজিকীকরণ ব্যাহত হচ্ছে। স্বামী-স্ত্রী উভয়েই উপার্জন করায় অধিকার ও মর্যাদার দ্বন্দ্ব দেখা দিচ্ছে। যার কারণে তালাক, পৃথক বসবাস এমনকি আত্মহত্যার মতো ঘটনা ঘটছে। শিল্প কারখানার বর্জ্য পদার্থ, ধোঁয়া মারাত্মক পরিবেশ দূষণের সৃষ্টি করছে।উদ্দীপকে অষ্টাদশ শতাব্দীর ইউরোপের কলকারখানা ও উৎপাদন। ক্ষেত্রের আমূল পরিবর্তনের কথা বলা হয়েছে। এই পরিবর্তন সমাজ জীবনের নানা ক্ষেত্রে প্রভাব বিস্তার করে। উদ্দীপকের বিষয়টি শিল্প বিপ্লবকেই নির্দেশ করে। কারণ শিল্প বিপ্লবই অষ্টাদশ শতকে ইউরোপে উৎপাদনসহ সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে ব্যাপক পরিবর্তন এনেছিল। এ বিপ্লবের নেতিবাচক প্রভাব বিশ্বে নানা সমস্যার জন্ম দিয়েছে।

 

ঘ) শিল্প বিপ্লবের প্রভাবে ইংল্যান্ডের আমূল পরিবর্তন ইতিবাচকভাবে সমগ্র বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে।১৭৮০ থেকে ১৮৫০ সালের মধ্যবর্তী সময়ে একটি সুদূরপ্রসারী ও দীর্ঘসময়ব্যাপী সামাজিক বিপ্লব বিশ্বের অর্থনীতি, রাজনীতি এবং চিন্তাধারায় আমূল পরিবর্তন আনে। এর ফলে বদলে গেছে পৃথিবীর বাহ্যিক চেহারা, মৌল কাঠামোতে এসেছে পরিবর্তন, মানুষের জীবনাচরণ ও জীবনযাপন রীতিতে এসেছে বিরাট এক ভিন্নতা। একমাত্র নবপ্রস্তরযুগীয় সামাজিক পরিবর্তন ছাড়া ইতিহাসে বিবৃত এই সময়ের পরিবর্তনই সবচেয়ে গুরুত্ববহ। ইতিহাস ও অর্থনীতির ভাষায় এই বিপ্লবকেই বলা হয় শিল্প বিপ্লব। এই বিপ্লবের শুরু হয়েছিল ইল্যান্ডে, যা এ দেশের সামগ্রিক পরিবর্তন সাধন করেছিল। আর ইংল্যান্ডের এই আমূল পরিবর্তন বিশ্বের বিভিন্ন দেশকে প্রভাবিত করে। উদ্দীপকে বর্ণিত ইউরোপ বিশেষত ইংল্যান্ডে কলকারখানা ও উৎপাদন ক্ষেত্রে শিল্প বিপ্লবের প্রভাবে আমূল পরিবর্তন সাধিত হয়। এই পরিবর্তনই সৃজনশীল প্রতিভা বিকাশের অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি করে। ইংল্যান্ডে শিল্পবিপ্লব, শহরায়ন, গড় আয়ু বৃদ্ধি, দক্ষতা বৃদ্ধি, প্রযুক্তি, চিকিৎসা প্রভৃতি ক্ষেত্রের ব্যাপক উন্নয়ন বিশ্বের বিভিন্ন দেশকে আকর্ষণ করে। এ বিপ্লবের ফলে ইংল্যান্ড অতি অল্প সময়ে বিশ্বে অপ্রতিদ্বন্দ্বী অর্থনৈতিক শক্তিতে পরিণত হয়। ফলে অন্যান্য রাষ্ট্রগুলোও ইংল্যান্ডকে অনুসরণ করে শিল্পায়নের দিকে এগিয়ে যায়। এভাবে বেলজিয়াম, সুইডেন, ফ্রান্স, জার্মানি ও রাশিয়ায় শিল্প ক্ষেত্রে বিপ্লব ঘটে। এছাড়া শিল্পক্ষেত্রে উন্নত দেশগুলো প্রভাবশালী হওয়ায় বিশ্বের অপেক্ষাকৃত দুর্বল রাষ্ট্রগুলোতে উপনিবেশ বিস্তার করে। এ দেশগুলোতেও ধীরে ধীরে শিল্প বিপ্লবের ধারণা ছড়িয়ে পড়ে। ইংল্যান্ডের আমূল পরিবর্তন বিশ্বে একটি মডেল হিসেবে প্রতিষ্ঠা পায়। এতে শিল্পোন্নয়নের পাশাপাশি জ্ঞান-বিজ্ঞান বিকাশ লাভ করে।উপরের আলোচনা থেকে বলা যায়, ইংল্যান্ডের আমূল পরিবর্তন সৃজনশীল প্রতিভার বিকাশ, যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন, অর্থনৈতিক ব্যবস্থার উন্নয়নের প্রভাবে সারাবিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে।

দান সংগঠন সমিতি কেন গঠিত হয়?

উদ্দীপকঃ-

দরিদ্রদের আর্থ-সামাজিক অবস্থার উত্তোরণে বৃটেনের ১৬০১ সালের দরিদ্র আইন একটি মাইলফলক। দরিদ্রদের শ্রেণীকরণ, পুনর্বাসন, সাহায্য, অসহায়দের দায়িত্ব গ্রহণসহ দারিদ্র্য নিরসনে এটি ছিল যুগান্তকারী পদক্ষেপ।

ক. পঞ্চদৈত্যসমূহ কী কী?

খ. উল্লিখিত আইনে দরিদ্রদের শ্রেণিবিভাগ ব্যাখ্যা কর।

গ. উদ্দীপকে উল্লিখিত আইনের বিশেষ বিশেষ দিকগুলো আলোচনা কর।

ঘ. উদ্দীপকে উল্লিখিত আইন বাংলাদেশে একজন সমাজকর্মী কিভাবে প্রয়োগ করতে পারে? আলোচনা কর

 

প্রশ্নের উত্তরঃ-

ক) পঞ্চদৈত্যসমূহ হলো-অভাব, রোগ-ব্যাধি, মলিনতা, অলসতা ও অজ্ঞতা।

 

খ) উদ্দীপকে উল্লিখিত আইনটি হচ্ছে ১৬০১ সালের দরিদ্র আইন, যাতে দরিদ্রদের তিনটি শ্রেণিতে বিভক্ত করা হয়।১৬০১ সালের দরিদ্র আইনে দরিদ্রদের সক্ষম, অক্ষম দরিদ্র এবং নির্ভরশীল শিশু এ তিনটি শ্রেণিতে বিভক্ত করা হয়। সবল বা কর্মক্ষম ভিক্ষুকদের সক্ষম দরিদ্র বলা হতো। রুগ্ন, বৃদ্ধ, পঙ্গু, বধির, অন্ধ এবং সন্তানাদিসহ বিধবা যার কাজ করতে সক্ষম নয় তারাই অক্ষম দরিদ্রের পর্যায়ভুক্ত ছিল। আর নির্ভরশীল শিশুর অন্তর্ভুক্ত ছিল এতিম, পরিত্যক্ত ও অক্ষম পিতা-মাতার সন্তানরা।

 

গ) উদ্দীপকে উল্লিখিত আইনটি ১৬০১ সালের দরিদ্র আইনের বিশেষ কিছু দিক বা ধাপ বিদ্যমান।প্রাকশিল্প যুগে ইংল্যন্ডে দারিদ্রতা ও বিভিন্ন সামাজিক সমস্যা চরম আকার ধারণ করেছিল। তাই দারিদ্র্য দূরীকরণ এবং দরিদ্রদের সঠিক পুনর্বাসনের লক্ষ্যে একটি উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ হিসেবে ১৬০১ সালে দরিদ্র আইনটি প্রণয়ন করা হয়। আইন অনুযায়ী দরিদ্র ব্যক্তির ভরণপোষণের দায়িত্ব গ্রহণে সক্ষম আত্মীয়-স্বজন থাকলে তাকে সাহায্যদানের তালিকাভুক্ত করা হতো না। প্যারিসের জন্মগত বাসিন্দা। অথবা কমপক্ষে তিন বছর ধরে বসবাসরত দরিদ্রদেরই শুধুমাত্র সাহায্য করা হতো। সাহায্যদানের সুবিধার্থে দরিদ্রদের সক্ষম, অক্ষম এবং নির্ভরশীল শিশু এ তিনটি শ্রেণিতে বিভক্ত করা হয়। সক্ষম ভিক্ষুকদের ভিক্ষা দেয়া সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ছিল। তাদের সংশোধনাগারে কাজ করতে বাধ্য করা হতো। অক্ষম দরিদ্রদের দরিদ্রাগারে রেখে তাদের সক্ষমতা অনুযায়ী কাজ করানো হতো। নির্ভরশীল শিশুদের বিনা খরচে দত্তক অথবা কম খরচে লালন-পালনের জন্য দেওয়া হতো।উদ্দীপকে দরিদ্রদের আর্থ-সামাজিক অবস্থার উত্তরণে ব্রিটেনের ১৬০১ সালের দরিদ্র আইনের উল্লেখ করা হয়েছে। দরিদ্রদের সঠিকভাবে চিহ্নিত করে তাদের যথাযথ পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করার ক্ষেত্রে আইনটি অত্যন্ত কার্যকরী ছিল।

 

ঘ) বাংলাদেশের দরিদ্রদের চিহ্নিতকরণ ও শ্রেণিকরণের মাধ্যমে সমাজকর্মী ১৬০১ সালের দরিদ্র আইনটি প্রয়োগ করতে পারেন।

শিল্প যুগের পূর্বে ইংল্যান্ডের দারিদ্র্য নিরসনে সরকার বিভিন্ন আইন প্রণয়ন করে। কিন্তু এ সকল আইন দারিদ্র্য নিরসনে আশানুরূপ সাফল্য পায়নি। অবশেষে পূর্বের বিভিন্ন আইনের অভিজ্ঞতার আলোকে ১৬০১ সালের দরিদ্র আইনটি প্রণীত হয় যা দারিদ্র্য নিরসনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল।উদ্দীপকে ইংল্যান্ডের দারিদ্র্য নিরসনে ১৬০১ সালের দরিদ্র আইনের ভূমিকা উল্লেখ করা হয়েছে। আমাদের দেশে দারিদ্র্য দিন দিন চরম আকার ধারণ করছে। এ সমস্যা সমাধানে একজন সমাজকর্মী ১৬০১ সালের দরিদ্র আইন প্রয়োগ করতে পারেন। এ আইন অনুযায়ী দরিদ্রদের চিহ্নিত করা হতো। প্রকৃত দরিদ্রদের সাহায্য করার জন্য এটি অত্যন্ত কার্যকরী একটি পদক্ষেপ। আমাদের দেশের দরিদ্রদের সাহায্য করার ক্ষেত্রে সমাজকর্মী প্রকৃত দরিদ্রদের চিহ্নিত করতে পারেন। এ আইনে দরিদ্রদের শ্রেণিবিভাগ করে সাহায্যদান করা হয়। আমাদের দেশের দরিদ্রদের সাহায্য করার ক্ষেত্রেও একজন সমাজকর্মী এ পদ্ধতিটির আশ্রয় নিতে পারেন। এর ফলে অক্ষম দরিদ্ররা সাহায্য পাবে। আর যারা সক্ষম দরিদ্র সমাজকর্মী তাদের জন্য কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে পারবেন। আইনের মাধ্যমে ভিক্ষাবৃত্তি কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করার জন্যও তিনি প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণে ভূমিকা রাখতে পারেন।পরিশেষে বলা যায়, আমাদের দেশের দরিদ্রাবস্থা ও ভিক্ষাবৃত্তি দূর করার জন্য একজন সমাজকর্মী তার জ্ঞান ও কৌশল অবলম্বনে ১৬০১ সালের দরিদ্র আইনটি প্রয়োগ করতে পারেন।

 

উদ্দীপকঃ-

জনাব রাকিব উচ্চশিক্ষা গ্রহণে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেছেন। তিনি লক্ষ করেন, এ দেশটিতে স্থায়ী নাগরিকের ক্ষেত্রে একটি শিশু জন্মদানের পর থেকে নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত বিশেষ ভাতা প্রদান করা হয়। আবার বার্ধক্যে কিংবা মৃত্যুতেও সামাজিক বীমার আওতায় বিভিন্ন ধরনের রাষ্ট্রীয় সুবিধা দেওয়া হয়।

ক. প্যারিশ কী?

খ. কোন আইনে সক্ষম দরিদ্রদের চিহ্নিত করা হয়েছে? ব্যাখ্যা করো।

গ. জনাব রাকিবের উল্লেখিত রাষ্ট্রে গৃহীত নিরাপত্তা কর্মসূচীর সুপারিশগুলো বর্ণনা কর।

ঘ. উদ্দীপকের আলোকে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আইনগত ব্যবস্থা বিশ্লেষণ করো।

 

প্রশ্নের উত্তরঃ-

ক) প্যারিশ হচ্ছে যুক্তরাজ্যের প্রশাসনিক বিভাগের অন্তর্গত স্থানীয় প্রশাসনভিত্তিক কাউন্টি অঞ্চল।

 

খ) ১৬০১ সালের দরিদ্র আইনে সক্ষম দরিদ্রদের চিহ্নিত করা হয়েছে। ১৬০১ সালের দরিদ্র আইনটি যথাযথভাবে বাস্তবায়নের জন্য দরিদ্র ও ভবঘুরেদের ৩ শ্রেণিতে বিভক্ত করা হয়। যথা: সক্ষম, অক্ষম ও নির্ভরশীল বালক-বালিকা। সবল ও কর্মক্ষম ভিক্ষুকদের সক্ষম দরিদ্র বা Sturdy beggers বলা হতো। এদের ভিক্ষাদান কঠোরভাবে নিষিদ্ধ ছিল। সক্ষম দরিদ্রদের শ্রমাগারে অথবা সংশোধনাগারে কাজ করতে বাধ্য করা হতো। যেসব সক্ষম দরিদ্র শ্রমাগারে বা সংশোধনাগারে কাজ করতে অনিচ্ছা প্রকাশ করত, তাদের কারাগারে পাঠিয়ে শাস্তিদানের ব্যবস্থা করা হতো।জনাব রাকিবের উল্লেখিত রাষ্ট্র অর্থাৎ ইংল্যান্ডে গৃহীত নিরাপত্তা কর্মসূচির সুপারিশ হলো বিভারিজ রিপোর্ট।সমাজে যে সকল প্রতিবন্ধকতা সামাজিক নিরাপত্তার জন্য হুমকিস্বরূপ সেগুলো, দূরীভূত করে সুস্থ সমাজব্যবস্থা বাস্তবায়নের জন্য বিভারিজ রিপোর্টে ৫টি সুপারিশ পেশ করা হয়। প্রথমত, একটি একীভূত, ব্যাপক এবং পর্যাপ্ত সামাজিক বিমা কর্মসূচি প্রবর্তন করা। দ্বিতীয়ত, সামাজিক বিমা সুবিধা বহির্ভূত জনগণের জন্য জাতীয় কর্মসূচি গ্রহণ করা। তৃতীয়ত; প্রথম শিশুর পরবর্তী প্রতিটি শিশুর জন্য সাপ্তাহিক শিশু ভাতার ব্যবস্থা করা। চতুর্থত, সমগ্র জনগোষ্ঠীর জন্য বিনামূল্যে ব্যাপক স্বাস্থ্য ও পুনবার্সন কর্মসূচি গ্রহণ করা। পঞ্চমত, অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের সময় ব্যাপক বেকারত্ব রোধকল্পে সরকারি কর্মসূচি গ্রহণের মাধ্যমে পূর্ণ কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা।উদ্দীপকে ইংল্যান্ডে প্রতিটি শিশু জন্মদানের পর প্রতিটি স্থায়ী জনগণের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত বিশেষ ভাতা প্রদান করা হয়। আবার বার্ধক্য বা মৃত্যুতেও সামাজিক বিমার আওতায় বিভিন্ন ধরনের রাষ্ট্রীয় সুবিধা দেওয়া হয়।

 

ঘ) উদ্দীপকের আলোকে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আইনগত ৫টি মৌলিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।বিভারিজ রিপোর্টের সুপারিশের ভিত্তিতে যে সব সামাজিক আইন প্রণীত হয় সেগুলো হলো ৫টি। এ পাঁচটি আইন বাস্তবায়নে ৫টি মৌলিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল। ১৯৪৫ সালের পারিবারিক ভাতা চালু হয়। প্রতিটি ব্যক্তির যাদের ২টি সন্তান আছে তাদেরকে ১৬ বছর পর্যন্ত নির্দিষ্ট হারে ভাতা প্রদানের ব্যবস্থা করা হয়। ১৯৪৮ সালের জাতীয় সাহায্য অনুযায়ী সরকারি সাহায্য ব্যবস্থা চালু হয় যাতে ২ ধরনের সেবা প্রদানের ব্যবস্থা করা হয়েছিল। ১৯৪৬ সালের জাতীয় স্বাস্থ্যসেবা আইন অনুযায়ী তিনটি শাখার মাধ্যমে ১৯৪৮ সালে স্বাস্থ্য সেবা কর্মসূচি পরিচালনা করা শুরু হয়। ১৯৪৬ সালের দুর্ঘটনা আইন অনুযায়ী শিল্প দুর্ঘটনা বীমা কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়। এ বিমার আওতায় কর্মরত অবস্থায় কোনো শ্রমিক আহত হলে রা পেশাগত রোগে আক্রান্ত হলে দুর্ঘটনা ও রোগের প্রকৃতি অনুযায়ী অর্থনৈতিক সাহায্য প্রদান করা হতো।উদ্দীপকে ইংল্যান্ডে স্থায়ীভাবে বসবাসকারী প্রতিটি নাগরিকের ক্ষেত্রে উপরে উল্লিখিত সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আইনগত ব্যবস্থাসমূহ চালু আছে।পরিশেষে বলা যায় যে, বিভারিজ রিপোর্ট সামাজিক নিরাপত্তার ক্ষেত্রে যে পথ প্রদর্শন করে, সেই পথ ধরেই পরবর্তী কালে সমাজকল্যাণ কার্যক্রম বৃদ্ধির মাধ্যমে ইংল্যান্ড পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ কল্যাণরাষ্ট্রে পরিণত হয়।

দরিদ্র আইন বলতে কি বোঝ?