দরিদ্র আইন বলতে কি বোঝ?

Table of Contents

উদ্দীপকঃ-

=> রহিম শেখ একজন পেশাদার ভিক্ষুক। বয়স তার ৫৫। সে ঢাকা শহরের রাস্তায় রাস্তায় ভিক্ষা করে বেড়ায়। সে নিজেই শুধু ভিক্ষা করে না পাশাপাশি সে ভিক্ষুকদের একটি দলও চালায়। তার এ দলে অন্ধ, পঙ্গুর মত অক্ষম ভিক্ষুক যেমন আছে, তেমন আছে সুস্থ সবল ভিক্ষুকও। এছাড়াও পিতৃমাতৃহীন অসহায় ছেলে মেয়েরাও তার দলে ভিক্ষা করে।

 

ক. কত সলে ইংল্যান্ডে দান সংগঠন সমিতি (COS) গড়ে উঠেছিল?

খ. দরিদ্র আইন বলতে কি বোঝ?

গ. উদ্দীপকের রহিম শেখের ভিক্ষুক দলটি ইংল্যান্ডের দারিদ্র্য দূরীকরণের কোন আইনের প্রতি ইঙ্গিত করে? উক্ত আইনের বৈশিষ্ট্যসহ আইনের স্বরূপ ব্যাখ্যা কর।

ঘ. সমাজকর্ম পেশার ক্ষেত্রে উত্ত আইনের গুরুত্ব বিশ্লেষণ কর।

 

প্রশ্নের উত্তরঃ-

ক) ১৮৬৯ সালে ইংল্যান্ডে দান সংগঠন সমিতি (COS) গড়ে উঠেছিল।

 

খ) মূলত দারিদ্র্য দূরীকরণ ও ভিক্ষাবৃত্তি মোকাবিলায় চর্তুদশ শতাব্দী থেকে বিংশ শতাব্দী পর্যন্ত ইংল্যান্ড ও আমেরিকাতে সরকার কর্তৃক যে সব আইন প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করা হয় সেগুলোকেই দরিদ্র আইন বলা হয়।দরিদ্র আইন একটি সামগ্রিক ও সাধারণ পরিভাষা। দরিদ্র আইনের ভিত্তিভূমি হিসেবে ইংল্যান্ডকে বিবেচনা করা হয়ে থাকে। দরিদ্র আইনগুলোর মধ্যে রাজা অষ্টম হেনরি প্রণীত দরিদ্র আইন-১৩৪৯, এলিজাবেথীয় দরিদ্র আইন-১৬০১, শ্রমিক আইন, দরিদ্র আইন সংস্কার ১৮৩৪ বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।

 

গ) উদ্দীকের রহিম শেখের ভিক্ষুক দলটি ইংল্যান্ডের ১৬০১ সালের দরিদ্র আইনকে ইঙ্গিত করে, যা স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত।

প্রাক-শিল্প যুগে ইংল্যান্ড বিভিন্ন ধরনের আর্থ-সামাজিক সমস্যা ও দারিদ্র্যের কষাঘাতে জর্জরিত ছিল। ষোড়শ শতাব্দী পর্যন্ত এসব সমস্যা মোকাবিলায় গৃহীত সরকারি কার্যক্রমের বেশির ভাগ ছিল শাস্তি ও দমনমূলক। তাই দারিদ্র্য দূরীকরণ এবং দরিদ্রদের সঠিক পুনর্বাসনের লক্ষ্যে ১৬০১ সালের দরিদ্র আইনটি প্রণয়ন করা হয়। উদ্দীপকে দেখা যায়, রহিম শেখ একজন পেশাদার ভিক্ষুক, যিনি নিজে ভিক্ষা করেন এবং অক্ষম ও সক্ষম ভিক্ষুকদের দল পরিচালনা করে। এছাড়া তার দলে পরিত্যক্ত শিশুরাও রয়েছে। এ অবস্থা মোকাবিলায় ১৬০১ সালের দরিদ্র আইনটি কার্যকরী হবে। কারণ উক্ত আইনে প্রকৃত ভিক্ষুকদের চিহ্নিত করে তাদের সাহায্যদানের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হতো। পাশাপাশি কর্মক্ষম ভিক্ষুকদের সংশোধনাগারে কাজ করতে বাধ্য করা হতো। এ আইনের মাধ্যমে সর্বপ্রথম ইংল্যান্ডের ইতিহাসে দরিদ্র ও ভবঘুরেদের দায়িত্ব সরকারিভাবে গ্রহণ করা হয়। ১৬০১ সালের দরিদ্র আইনে দরিদ্রদের তিনভাগে বিভক্ত করা হয়। যথা- সক্ষম দরিদ্র, অক্ষম দরিদ্র ও নির্ভরশীল শিশু। শ্রেণিবিভাগ অনুযায়ী তাদের কাজ ও সাহায্য দেওয়া হয়। পারিবারিক দায়িত্ব পালনে সক্ষম ব্যক্তিদের দায়িত্ব ও কর্তব্য পালনের বিধান, এ আইনে রাখা হয়। এ আইন অনুযায়ী দরিদ্রদের আত্মীয়-স্বজনরা তাদের সাহায্য করবে। দরিদ্রদের সচ্ছল কোনো আত্মীয়-স্বজন না থাকলে তাদের দায়িত্ব সরকার গ্রহণ করতো। সক্ষম দরিদ্রদের সামর্থ্য অনুযায়ী কাজ করতে বাধ্য করা হতো। এ আইনে ভিক্ষাবৃত্তি মনোভাব কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করা হয়। এ আইনের অধীনে দরিদ্রদের সাহায্যের জন্য বিভিন্ন করারোপের ব্যবস্থা করা হয়।

 

ঘ) সমাজকর্ম পেশায় উদ্দীপকের ঘটনায় নির্দেশিত আইন বা ১৬০১ সালের দরিদ্র আইনের গুরুত্ব অপরিসীম। ১৬০১ সালের দরিদ্র আইন দরিদ্র জনগণের তাৎক্ষণিক অর্থনৈতিক ও বাসস্থানজনিত সমস্যা সমাধানে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছিল। এ আইনের অধীনে সরকারের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে দরিদ্রদের সাহায্য ও পুনর্বাসনে বিভিন্ন কর্মসূচি পরিচালিত হয়। স্থানীয় পর্যায়ে অসহায় ও ভবঘুরে ব্যক্তিদের সাহায্যদানে সরকারিভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করা হয়, যাতে স্থানীয় লোকেরাও দরিদ্রদের সেবায় এগিয়ে আসতে পারে। ত্রাণ সহায়তা, পুনর্বাসনমূলক ব্যবস্থা এবং দরিদ্র কর আরোপের মাধ্যমে এ আইনে দরিদ্রদের উন্নত জীবনযাপন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। বিশেষ করে বেকার, শিশু ও অক্ষম দরিদ্রদের জীবিকা অর্জনের ব্যবস্থা করা হয়। অন্যদিকে এ আইনে দরিদ্রদের সাহায্য ও পুনর্বাসন প্রক্রিয়া একটি সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার ফসল হিসেবে বিবেচিত হয়।১৬০১ সালের দরিদ্র আইনকে বর্তমান বিশ্বের আধুনিক ও পেশাদার সমাজকর্মের ভিত্তি হিসেবে বিবেচনা করা হয়। পাশাপাশি আধুনিক সমাজকর্মের পেশাগত মান অর্জনে এ দরিদ্র আইনের জ্ঞান বিশেষভাবে সহায়তা করে। দরিদ্রদের জন্য গৃহীত কর্মসূচিগুলো পরবর্তীতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ব্যাপকভাবে অনুশীলন করা হয় এবং এই সেবা পেশাগত আন্দোলনের মাধ্যমে সরকারি স্বীকৃতি লাভ করে, যা বিশ্বজুড়ে বঞ্চিত ও দরিদ্র শ্রেণির কল্যাণে ব্যাপকভাবে প্রয়োগ করা হয়।পরিশেষে বলা যায়, আধুনিক সমাজকর্ম পেশার উৎপত্তি, বিকাশ ও জনপ্রিয়তা লাভে ১৬০১ সালের দরিদ্র আইনের ধারাগুলো বিশেষভাবে সহায়তা করেছে।

 

উদ্দীপকঃ-

=> ২য় বিশ্বযুদ্ধে ‘ক’ নামক রাষ্ট্রে বিভিন্ন রকম সমস্যা দেখা দেয়। সে সমস্যাগুলো দূর করার জন্য রাষ্ট্রটি প্রফেসর আনু মোহাম্মদ নামে একজন অর্থনীতিবিদের নেতৃত্বে সামাজিক বীমা ও সংশ্লিষ্ট বিষয়াদির একটি আন্তঃ বিভাগীয় কমিটি গঠন করে। কমিটি প্রায় ২ বছর পর যে রিপোর্ট দেয় সেখানে বিছু সুপারিশ উল্লেখ করা হয়। পরবর্তীতে কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে রাষ্ট্রটি বেশ কিছু সামাজিক নিরাপত্তামূলক আইন প্রণয়ন করে এবং অন্যান্য রাষ্ট্র তাদের দেশে এরূপ আইন প্রণয়নের ক্ষেত্রে উক্ত রিপোর্টকে আদর্শ বা মডেল হিসেবে মনে করে।

 

ক. CSWE কত সালে প্রতিষ্ঠিত হয়?

খ. শিল্প বিপ্লব বলতে কী বোঝায়?

গ. উদ্দীপকে ‘ক’ রাষ্ট্রে যে রিপোর্টের কথা বলা হয়েছে তার সাথে তোমার পাঠ্য পুস্তকের যে বিষয়টির মিল রয়েছে তা সুপারিশসহ ব্যাখ্যা কর।

ঘ. উক্ত রিপোর্ট অন্যান্য দেশের জন্য আদর্শ বা মডেল-কথাটি ব্যাখ্যা কর।

 

প্রশ্নের উত্তরঃ-

 

ক) CSWE ১৯৫২ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়।

 

খ) যেসব প্রচেষ্টা ও পরিবর্তনের প্রেক্ষিতে শিল্প যুগের সূচনা হয় তাদের সমষ্টিই হলো শিল্পবিপ্লব।শিল্পবিপ্লব শব্দটি ‘শিল্প’ ও ‘বিপ্লব’ এ দুটি শব্দের সমন্বিত রূপ। যার সমন্বিত অর্থ শিল্প সংক্রান্ত বিপ্লব। এর সূচনা হয় ইংল্যান্ডে এবং পরে তা অতি দ্রুত পুরো বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে। এক কথায় বলা যায়, অষ্টাদশ শতাব্দীর মাঝামাঝি থেকে উনবিংশ শতাব্দীর মাঝামাঝি সময়ের মধ্যে ইংল্যান্ড ও বিশ্বের অন্যান্য দেশের উৎপাদন ব্যবস্থায় যে যুগান্তকারী পরিবর্তন আসে, তার প্রভাবে একটি নতুন যুগের সূচনা হয় ঐতিহাসিকগণ একে ‘শিল্পবিপ্লব’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।

 

গ) উদ্দীপকে ‘ক’ রাষ্ট্রে বিভারিজ রিপোর্ট এর কথা বলা হয়েছে।বিভারিজ রিপোর্ট সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি প্রণয়ন সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন। যা শুধু ইংল্যান্ডের জন্য নয়, বরং সমগ্র বিশ্বের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি প্রণয়নে এক গুরুত্বপূর্ণ মডেল হিসেবে বিবেচিত। একের পর এক দরিদ্র আইনগুলো ব্যর্থতায় পর্যবসিত হওয়ায় এবং দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের তাণ্ডবলীলায় ইংল্যান্ডের জনজীবন যখন সম্পূর্ণ বিপর্যস্ত ঠিক সে সময়ে সময় উপযোগী এ রিপোর্ট পেশ করেন স্যার উইলিয়াম বিভারিজ। বিভারিজ রিপোর্ট এর সুপারিশগুলো পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, অভিন্ন সামগ্রিক ও পর্যাপ্ত সামাজিক বীমা কর্মসূচি প্রবর্তন; সামাজিক বীমার আওতাবহির্ভূত জনগণের জন্য জাতীয় কর্মসূচি হিসেবে সরকারি সাহায্যের ব্যবস্থা করা ছিল অন্যতম, সেই সাথে প্রথম শিশুর পর অন্য শিশুদের জন্য সাপ্তাহিক শিশু ভাতার ব্যবস্থা করা; সর্বস্তরের জনগণের স্বাস্থ্য ও পুনর্বাসনের জন্য ব্যাপক কর্মসূচির মাধ্যমে পূর্ণতম কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির ব্যবস্থা করার পাশাপাশি অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের সময় ব্যাপক বেকারত্ব রোধকল্পে সরকারি কর্মসূচি গ্রহণ করার সুপারিশ করা হয়।মূলত ১৯৪৫ সালে হতে বিভারিজ রিপোর্টের সুপারিশমালাগুলো গৃহীত হয়।

 

ঘ উদ্দীপকের ‘ক’ দেশকে কল্যাণ রাষ্ট্রের মর্যাদা প্রদানে যে রিপোর্ট অবদান রাখে তা হলো বিভারিজ রিপোর্ট।বিভারিজ রিপোর্ট সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন। একের পর এক দরিদ্র আইনগুলো ব্যর্থতায় পর্যবসিত হওয়ায় এবং পরবর্তীতে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের তাণ্ডবলীলায় ইংল্যান্ডের জনজীবন যখন সম্পূর্ণ বিপর্যস্ত তখন সময় উপযোগী এ রিপোর্ট পেশ করেন স্যার উইলিয়াম বিভারিজ।বিভারিজ রিপোর্টের সুপারিশমালার মধ্যে অন্যতম ছিল সামাজিক বিমা প্রবর্তন করে এর বহির্ভূত জনগণের জন্য জাতীয় কর্মসূচি হিসেবে সরকারি কর্মসূচি গ্রহণ করা। সাপ্তাহিক শিশুভাতাসহ বেকারত্ব রোধকল্পে সরকারি কর্মসূচি গ্রহণের মাধ্যমে পূর্ণ কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা। এ সুপারিশগুলোর আলোকে গড়ে ওঠে বিভিন্ন আইন তথা নিরাপত্তামূলক কর্মসূচি।যেমনঃ-

ক. পারিবারিক ভাতা চালু হয় ১৯৪৫ সালে। প্রতিটি শিশুকে সম্পদ হিসেবে বিবেচনা করে প্রত্যেক পরিবারের দুই বা ততোধিক সন্তান যাদের বয়স ১৬-এর কম তাদের জন্য নির্দিষ্ট হারে ভাতার ব্যবস্থা করা হয়।

খ. সামাজিক বিমা ১৯৪৬ সালে প্রণীত হয়। স্বাস্থ্য বিমা, বেকারত্ব বিমা প্রভৃতির ব্যবস্থা করা হয় এর মাধ্যমে।

গ. সরকারি স্মহায্য ১৯৪৮ সালে প্রণীত হয়। অর্থনৈতিকভাবে যারা দুর্বল তাদের সাহায্য প্রদানসহ সরকারি সাহায্যব্যবস্থা সমাজকর্ম পেশার বিকাশকে উৎসাহিত করে।

ঘ. ১৯৪৬ সালে শিল্প দুর্ঘটনা বিমা গ্রহণ করা হয়। এ বিমার আওতায় কোনো শ্রমিক আহত হলে অর্থনৈতিক সাহায্য প্রদান করা হতো। মূলত বিভারিজ রিপোর্টেই সর্বপ্রথম সর্বশ্রেণির জনগণের জন্য সমন্বিত সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির মূল কাঠামো গঠন করা হয়।ফলে ইংল্যান্ড কল্যাণমুখী রাষ্ট্রের মর্যাদা অর্জন করে।

দরিদ্র আইন বলতে কি বোঝ?

উদ্দীপকঃ-

=> জনাব জব্বার বাংলাদেশ সমাজকর্ম সমিতির সভাপতি। তিনি NASW নামের একটি আন্তর্জাতিক সমিতির সদস্য। তিনি একটি প্রতিনিধি দল নিয়ে আন্তর্জাতিক সমিতির সমাবেশে যোগদানের জন্য নিউইয়র্ক যান।

 

ক. COS কী?

খ. COS-এর ২টি নীতিমালা লেখ।

গ. উদ্দীপকে জনাব জব্বার যে আন্তর্জাতিক সমিতির সদস্য এর পরিচিত ব্যাখ্যা কর।

ঘ. তুমি কি মনে কর, সমাজকর্ম পেশার বিকাশে উক্ত আন্তর্জাতিক সমিতির ভূমিকা অপরিসীম? মতামত দাও।

 

প্রশ্নের উত্তরঃ-

ক) COS হচ্ছে Charity Organization society বা দান সংগঠন সমিতি।বিচ্ছিন্ন ও অসংগঠিত সমাজকল্যান বা সেবামূলক কার্যক্রমকে সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার লক্ষ্যে COS গঠিত হয়।

 

খ) COS এর দুইটি নীতিমালা হলো-

১. স্থানীয় দান সংগঠনগুলোর প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে একটি বোর্ড গঠন করে এগুলোর মধ্যে সহযোগিতা স্থাপন করা।

২. কেন্দ্রীয়ভাবে দরিদ্রদের গোপন তালিকা প্রস্তুত করা।

 

গ) উদ্দীপকে জনাব জব্বার NASW নামক আন্তর্জাতিক সমিতির সদস্য।মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও পৃথিবীর অন্যান্য দেশের সমাজকর্ম পেশার মানোন্নয়নে NASW গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সমাজকর্ম পেশার পেশাগত | সংগঠন হিসেবে ১৯৫৫ সালের ১ অক্টোবর “National Association of Social Workers”- NASW গঠিত হয়। মূলত আমেরিকার ৭টি পেশাগত সংগঠনের সমন্বয়ে এই সমিতি প্রতিষ্ঠিত হয়।সমাজকর্মীদের পেশাগত মানোন্নয়ন, সমাজকর্ম অনুশীলনের আদর্শিক মান বজায় রাখা, বাস্তব উপযোগী নীতি প্রণয়ন ও বিভিন্ন সেবার মাধ্যমে পেশাদারিত্ব অর্জনে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে NASW। এছাড়া সমাজকর্ম অনুশীলনে সাধারণ ও বিশেষায়িত নৈতক মানদন্ড নির্ধারণেও NASW এর অবদান উল্লেখযোগ্য। তাছাড়া এই সমিতি পেশাগত সম্মেলন এবং বিভিন্ন শিক্ষামূলক কর্মসূচি গ্রহণ ও বাস্তবায়নের মাধ্যমে সমাজকর্ম পেশার মানোন্নয়নে তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে। প্রতি তিন বছর পর পর NASW এর প্রতিনিধি সম্মেলনের অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়। অধিবেশনে সমিতির নীতিমালা ও বিভিন্ন কার্যক্রম গৃহীত হয়। উদ্দীপকের জনাব জব্বার বাংলাদেশ সমাজকর্ম সমিতির সভাপতি। তিনি সমাজকর্মের আন্তর্জাতিক সংস্থা NASW-এর সদস্য। তিনি এ সমিতির সমাবেশে যাওয়ার জন্য নিউইয়র্ক যান। তাই বলা যায়, জনাব জব্বার NASW-এর সদস্য।

 

ঘ) হ্যাঁ আমি মনে করি সমাজকর্ম পেশার বিকাশে NASW-এর ভূমিকা অপরিসীম।

যেকোনো পেশায় পেশাগত সংগঠনের প্রয়োজনীয়তা আবশ্যক। একারণে সমাজকর্ম পেশার পেশাগত সংগঠন হিসেবে NASW প্রতিষ্ঠিত হয়। মূলত সমাজকর্মকে পেশা হিসেবে গড়ে তোলাই এ প্রতিষ্ঠানটির মূল উদ্দেশ্য। উদ্দীপকে বর্ণিত জনাব জব্বার সাহেব আন্তর্জাতিক NASW সংগঠনের সদস্য। সংগঠনটি সমাজকর্মকে পেশার মর্যাদায় প্রতিষ্ঠিত করার জন্যেই গঠিত হয়েছে।সমাজকর্মীদের যোগ্যতা নির্ধারণ করে এ সংগঠনটি সমাজকর্মীদের পেশাগত দিক বিবেচনায় সমাজকর্ম পেশার নৈতিক মানদণ্ড ও ব্যবহারিক নীতিমালা প্রণয়ন করেছে। যার ওপর ভিত্তি করে সমাজকর্ম বর্তমানে উন্নত বিশ্বের দেশগুলোতে একটি স্বতন্ত্র ও পূর্ণাঙ্গ পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তাছাড়া সমাজকর্ম গবেষণার মাধ্যমে এ পেশাকে একটি সুদৃঢ় বৈজ্ঞানিক ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত করতে সংগঠনটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। এ সংগঠনের মাধ্যমে পেশাদার সমাজকর্মীদের রেজিস্ট্রেশন ও লাইসেন্স প্রদান করা হয়। সেই সাথে সমাজকর্ম সেবা সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ব্যবস্থার উন্নতি বিশেষত কর্মীদের বেতন-ভাতা ও কর্ম পরিবেশ উন্নতকরণেও এ সংগঠন অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে। পাশাপাশি সমাজকর্ম শিক্ষা ও পেশাকে গ্রহণযোগ্য ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত করতে এ সংগঠন নিয়মিতভাবে বিভিন্ন গ্রন্থ ও পত্র-পত্রিকা প্রকাশ করছে। এ সকল গ্রন্থ সমাজকর্ম শিক্ষাকে একটি শক্ত ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত করেছে।সার্বিক দৃষ্টিকোণ থেকে বলা যায় যে, NASW প্রতিষ্ঠিত না হলে হয়তো উন্নত বিশ্বের দেশগুলোতে পেশা হিসেবে সমাজকর্ম এত দ্রুত আত্মপ্রকাশ করতে পারতো না। তাই NASW-কে আধুনিক পেশাদার সমাজকর্মের Platform হিসেবে বিবেচনা করা যায়।

 

উদ্দীপকঃ-

=> আমজাদ আলী একজন অবস্থাপন্ন কৃষক। তার ছেলে উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত এবং শহরে একজন নামকরা শিল্পপতি। তিনি ব্যবসা- বাণিজ্য নিয়ে সারাক্ষণ ব্যস্ত। আমজাদ আলীর পুত্রবধূ ও নাতি-নাতনিরা দেশের বাইরে অবস্থান করেন। শিল্পপতি সন্তানের সাথে আমজাদ আলীর কালে ভদ্রে সাক্ষাৎ ঘটে।

 

ক. NASW গঠিত হয় কত সালে?

খ. COS-এর উদ্দেশ্যসমূহ ব্যাখ্যা করো।

গ. আমজাদ আলীর সন্তানের উন্নতিতে শিল্প বিপ্লব কীভাবে সাহায্য করেছে? ব্যাখ্যা করো।

ঘ. শিল্প বিপ্লব অবিমিশ্র আশীর্বাদ নয়- উদ্দীপকের প্রেক্ষাপটে মন্তব্যটির যথার্থতা মূল্যায়ন কর।

 

প্রশ্নের উত্তরঃ-

ক) NASW গঠিত হয় ১৯৫৫ সালের ১ অক্টোবর।

খ) বিচ্ছিন্ন ও অসংগঠিত সমাজসেবা কার্যক্রমকে সংগঠিত করার উদ্দেশ্যে COS গঠিত হয়।COS গঠনের কতিপয় উদ্দেশ্য বিদ্যমান। এগুলো হলো- দরিদ্রদের কার্যকর সহায়তা দেওয়া সমাজকল্যাণমূলক সংগঠনগুলোর কাজে দ্বৈততা পরিহার করা, বিভিন্ন ত্রাণ সংগঠনের মধ্যে অর্থহীন প্রতিযোগিতা বন্ধ করা, সম্পদের অপচয় রোধ করা, বিভিন্ন রকম ত্রাণ কার্যক্রমের পুনরাবৃত্তি রোধ করা প্রভৃতি।

 

গ) আমজাদ আলীর সন্তানের উন্নতিতে অর্থাৎ শিল্পপতি হওয়ার পেছনে শিল্পবিপ্লবের আমূল পরিবর্তনের প্রভাব সাহায্য করেছে।

যেসব প্রচেষ্টা ও পরিবর্তনের প্রেক্ষিতে শিল্প যুগের সূচনা হয় তাদের সমষ্টিকেই শিল্পবিপ্লব বলা হয়। এ বিপ্লবের ফলে কায়িক শ্রমনির্ভর উৎপাদন ব্যবস্থার পরিবর্তে যন্ত্রনির্ভর উৎপাদন পদ্ধতির প্রচলন ঘটে। ফলে বিশ্বব্যাপী গড়ে ওঠে শিল্প কারখানা, শিক্ষা ক্ষেত্রেও পরিবর্তন সাধিত হয়। যোগাযোগ বিজ্ঞান প্রযুক্তিসহ সমাজের সকল ক্ষেত্রে উৎকর্ষতা বৃদ্ধির ফলে মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নত হয়।উদ্দীপকে দেখা যায়, কৃষক আমজাদ আলীর ছেলে উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত হন এবং একজন শিল্পপতি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হন। ব্যবসা-বাণিজ্য নিয়ে তার সারাক্ষণ ব্যস্ততা। ১৭৮০ সালের পূর্বে অর্থাৎ শিল্পবিপ্লবের পূর্বে হস্ত ও কায়িক নির্ভর উৎপাদন ও অর্থনীতি ব্যবস্থা প্রচলিত থাকায়, এমন কৃষি নির্ভরতা অধিক ছিল। মানুষ সহজে পেশা পরিবর্তন করতে পারত না। কিন্তু শিল্পবিপ্লবের প্রভাবে উৎপাদন ব্যবস্থায় যান্ত্রিকতার ব্যাপক ব্যবহার অর্থনৈতিক ব্যবস্থার ব্যাপক পরিবর্তন সাধন করেছে। জন্ম হয়েছে পুঁজিবাদের। আবার, সৃজনশীল প্রতিভার বিকাশ ও জ্ঞান-বিজ্ঞানে ব্যাপক উৎকর্ষতা বৃদ্ধি পেয়েছে। উদ্দীপকের আমজাদ আলীর ছেলের শিল্পপতি হওয়ার পেছনে মূলত শিল্পবিপ্লবের ফলে যন্ত্রের ব্যবহার বৃদ্ধি ও জ্ঞান-বিজ্ঞানের যে বিকাশ সেটিই প্রধান ভূমিকা পালন করেছে।

 

ঘ) উদ্দীপকে শিল্পবিপ্লবের সামাজিক ক্ষেত্রে নেতিবাচক প্রভাবকে নির্দেশ করা হয়েছে, যা অবিমিশ্র আশীর্বাদ নয়।শিল্পবিপ্লবের ফলে শিল্পযুগের সূচনা হয়। এ বিপ্লব সামাজিক, রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও মনস্তাত্ত্বিক প্রতিটি ক্ষেত্রে ইতিবাচক ও নেতিবাচক প্রভাব বিস্তার করে। শিল্প বিপ্লব ভৌগোলিক দূরত্বকে হ্রাস করলেও সামাজিক দূরত্বকে বৃদ্ধি করেছে। সৃষ্টি হয়েছে সামাজিক বিচ্ছিন্নতা, যা শিল্পাঞ্চলের লোকদের অর্থহীন জীবনযাপনে বাধ্য করেছে। যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজ ও সাবলীল হওয়ায় মানুষ উন্নত জীবনের প্রত্যাশায় উন্নত দেশগুলোর দিকে ঝুঁকেছে।উদ্দীপকে আমজাদ আলীর ছেলে উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে শিল্পপতি হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছে। আমজাদ আলী গ্রামে বসবাস করেন। ছেলে শহরে এবং পুত্রবধূ ও নাতি-নাতনিরা বিদেশে অবস্থান করে। এ ধরনের পারিবারিক বিচ্ছিন্নতা শিল্পবিপ্লবেরই কুফল। শিল্পাঞ্চল ও নগরায়ণের প্রভাবে মানুষ নগরে ছুটে আসে কর্মসংস্থান ও উন্নত জীবনের আশায়। ফলে গ্রামে যে যৌথ পরিবার ছিল, এ বিচ্ছিন্নতা তা একক পরিবারে পরিণত করে। একক পরিবার ব্যবস্থার কারণে যৌথ পরিবারের বৃদ্ধ, রুগ্ন ও নির্ভরশীল সদস্যরা নিরাপত্তাহীনতায় ভোগে। সন্তানের সঠিক সামাজিকীকরণ সম্ভব হয় না। এভাবে সামাজিক বিভিন্ন সমস্যা অপরাধ, কিশোর অপরাধ, মাদকাসক্তি, ইভ টিজিং, জঙ্গিবাদ প্রভৃতি বিকশিত হয়। উদ্দীপকের আমজাদ আলীর সাথে ছেলের কালে-ভাদ্রে, সাক্ষাৎ হওয়া পারিবারিক বন্ধনের বিচ্যুতিকে নির্দেশ করে।

সুতরাং উপরের আলোচনা থেকে বলা যায়, সামাজিক ও পারিবারিক ক্ষেত্রে শিল্পবিপ্লব যেসব সামাজিক সমস্যা, পারিবারিক বিচ্ছিন্নতা, কলহ ও দূরত্ব তৈরি করেছে তা সমাজজীবনের জন্য অভিশাপ।

 

উদ্দীপকঃ-

=> টুমচর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান তার এলাকায় ভিক্ষাবৃত্তি নিষিদ্ধ করেছেন। এজন্য তিনি অক্ষম ব্যক্তিদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করেন। আর অসহায় এতিম শিশুদের জন্য এতিমখানা ও বিভিন্ন স্বচ্ছল পরিবারে প্রেরণ করেন। এভাবে তিনি ইউনিয়নকে দারিদ্র্যমুক্ত করার প্রয়াস চালান।

 

ক. দারিদ্র্য শব্দটির ইংরেজি প্রতিশব্দ কী?

গ. উদ্দীপকে চেয়ারম্যানের কার্যক্রম তোমার পঠিত কোন বিষয়ের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ? বিষয়টি উপস্থাপন কর।

ঘ. উদ্দীপকের চেয়ারম্যানের কার্যক্রমের সাথে তোমার পাঠ্য বইয়ের সাদৃশ্যপূর্ণ বিষয়টি ত্রুটিমুক্ত নয়-বিশ্লেষণ কর।

 

প্রশ্নের উত্তরঃ-

 

ক) দারিদ্র্য শব্দটির ইংরেজি প্রতিশব্দ- Poverty.

 

গ) উদ্দীপকের চেয়ারম্যান সাহেবের পদক্ষেপটি ১৬০১ সালের দরিদ্র আইনের প্রতি ইঙ্গিত বহন করে।১৬০১ সালের দরিদ্র আইন দরিদ্র জনগণের তাৎক্ষণিক অর্থনৈতিক ও আবাসন বাসস্থানজনিত সমস্যা সমাধানে কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছিল। এই আইনে দরিদ্র ব্যক্তিদের সক্ষম দরিদ্র, অক্ষম দরিদ্র ও নির্ভরশীল বালক-বালিকা এ তিনটি শ্রেণিতে ভাগ করে সাহায্যদানের চেষ্টা করা হয়। সবল ও কর্মক্ষম ভিক্ষুকদের শ্রমাগারে অথবা সংশোধনাগারে কাজ করতে বাধ্য করা হতো। এই আইনানুসারে কাজ করতে অনিচ্ছুকদের কারাগারে পাঠিয়ে শাস্তির ব্যবস্থা করা হতো। তাছাড়া যারা অক্ষম দরিদ্র অর্থাৎ বৃদ্ধ, শিশু ও অসুস্থ, তাদের কোনো গৃহে রেখে কম খরচে ভরণপোষণের ব্যবস্থা করা হতো। তাদের চাহিদানুযায়ী খাদ্য, বস্ত্র প্রভৃতি বাহ্যিক সাহায্যের মাধ্যমে দেয়া হতো। এছাড়া প্যারিশে শুধু সেসব দরিদ্রের সাহায্য দেয়া হতো, যারা প্যারিশের বাসিন্দা অথবা কমপক্ষে তিন বছর ধরে সংশ্লিষ্ট প্যারিশে বসবাস করছে। আবার নির্ভরশীল বালক-বালিকাদের ভরণপোষণের জন্যও উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।উদ্দীপকে দেখা যাচ্ছে চেয়ারম্যান সাহেব দরিদ্র জনগোষ্ঠীর কল্যাণে ভিক্ষাবৃত্তি নিষিদ্ধ করেন এবং ভিক্ষুকদের পুনর্বাসন করেন। শিশুদের এতিমখানা ও সচ্ছল পরিবারে প্রেরণ করেন। এই কাজগুলো ১৬০১ সালের দরিদ্র আইনেও দৃশ্যমান। সুতরাং তার এই পদক্ষেপ ১৬০১ সালের দরিদ্র আইনের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।

দরিদ্র আইন কমিশন কি?

ঘ) উদ্দীপকের চেয়ারম্যানের কার্যক্রম ১৬০১ সালের দরিদ্র আইনের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ, যা ত্রুটিমুক্ত ছিল না।

১৩৪৯ সালে রাজা তৃতীয় এডওয়ার্ড প্রণীত ইংল্যান্ডের প্রথম দরিদ্র আইন থেকে ১৫৯৭ সাল পর্যন্ত প্রণীত আইনগুলো বিশ্লেষণ ও পর্যালোচনা করে ১৬০১ সালে ইংল্যান্ডের পার্লামেন্টে একটি নতুন আইন পাস হয়। এটি ‘এলিজাবেথীয় দরিদ্র আইন ১৬০১ নামে পরিচিত। এই আইনে দরিদ্রদের শ্রেণিবিভাগের মাধ্যমে সাহায্যদানের ব্যবস্থা প্রবর্তন করা হয়। সরকার যেমন অক্ষম ও অসহায়দের দায়িত্ব গ্রহণ করে তেমনি বেকার, শিশু ও সক্ষমদের জীবিকা লাভের ব্যবস্থা করে।ভিক্ষুকের হাতকে কর্মীর হাতে পরিণত করে।উদ্দীপকের টুমচর ইউনিয়নের চেয়ারম্যানও ১৬০১ সালের দরিদ্র আইনের মতোই এলাকায় ভিক্ষাবৃত্তি নিষিদ্ধ করেছেন এবং অক্ষম ব্যক্তিদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করেছেন। আর অসহায় এতিম শিশুদের জন্য এতিমখানা ও বিভিন্ন স্বচ্ছল পরিবারে প্রেরণ করেন। তবে ১৬০১ সালের দরিদ্র আইন উপরোল্লিখিত কল্যাণের পাশাপাশি বিভিন্ন অকল্যাণও বয়ে আনে। এ আইনের প্রয়োগে দরিদ্র আরও দরিদ্র হয়। ফলে অতিরিক্ত দরিদ্র জনগণের মধ্যে অসন্তুষ্টি, আংশিক ও বাহ্যিক সাহায্যদানের বিরূপ প্রতিক্রিয়া ইত্যাদি সমস্যা প্রবল হয়। এ আইন ইংল্যান্ডের সমাজজীবনে নানা বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করে। পরবর্তীতে এ সকল সমস্যা সমাধানের উদ্দেশ্যেই এ আইনকে সংস্কার করে তৈরি করা হয় ১৮৩৪ সালের দরিদ্র আইন।উপরের আলোচনা থেকে বলা যায়, ১৬০১ সালের দরিদ্র আইনটি দরিদ্রদের কাছে অসহনীয় হয়ে উঠেছিল, যা এ আইনের ত্রুটির ফল।