তরাইনের দ্বিতীয় যুদ্ধের গুরুত্ব লেখ?

উদ্দীপকঃ-

অবসরপ্রাপ্ত অভিজ্ঞ কর্মকর্তা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়ে দেখলেন, সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য যে আমলা শ্রেণি তৈরি করা হয়েছিল তারাই এখন প্রশাসন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছে। তারা উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সাথে অশোভন আচরণ ও বিশৃঙ্খলা তৈরি সিন্ডিকেটভিত্তিক অফিসিয়াল কার্যাদি পরিচালনা করত। এমতাবস্থায় চেয়ারম্যান প্রশাসনে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার জন্য সিন্ডিকেটদের কঠোরভাবে দমন-বদলি, দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা, সিসি ক্যামেরা স্থাপনসহ কিছু অত্যাবশ্যকীয় বিধি-নিষেধ আরোপ করেন। ফলে ইউনিয়ন পরিষদে সুশাসন ও সুনাম পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়।

ক. সুলতান মাহমুদ কোন রাজ্যের শাসনকর্তা ছিলেন?

খ. তরাইনের দ্বিতীয় যুদ্ধের গুরুত্ব লেখ।

গ. উদ্দীপকে উল্লিখিত আমলা সিন্ডিকেটদের সাথে বন্দেগান-ই- চেহেলগানের সাদৃশ্য ব্যাখ্যা কর।

ঘ. উদ্দীপকে বর্ণিত সুশাসন প্রতিষ্ঠায় চেয়ারম্যান কর্তৃক গৃহীত পদক্ষেপের সাথে সুলতান গিয়াসউদ্দিন বলবনের গৃহীত পদক্ষেপের তুলনামূলক বিশ্লেষণ কর।

প্রশ্নের উত্তরঃ-

ক) সুলতান মাহমুদ গজনির শাসনকর্তা ছিলেন।

 

খ) তরাইনের দ্বিতীয় যুদ্ধ ভারতে মুসলিম সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।১১৯২ খ্রিষ্টাব্দে সংঘটিত তরাইনের দ্বিতীয় যুদ্ধ ছিল একটি চূড়ান্ত মীমাংসাত্মক যুদ্ধ। এ যুদ্ধের ফলে স্থায়ীভাবে ভারতবর্ষে মুসলিম আধিপত্য প্রতিষ্ঠিত হয়। এ যুদ্ধে মুইজউদ্দিন মুহাম্মদ ঘুরী (ভারতে স্থায়ী মুসলিম শাসন প্রতিষ্ঠাকারী) ও তার বাহিনী দীপ্ত শপথে যুদ্ধ করে। পৃথ্বিরাজ (দিল্লি ও আজমিরের রাজপুত এবং চৌহান বংশের রাজা) ও সম্মিলিত রাজপুত বাহিনীকে পর্যুদস্ত করে। ফলে ভারতীয় রাজ্যগুলোর ওপর মুহাম্মদ ঘুরীর চূড়ান্ত সফলতা সুনিশ্চিত হয় এবং ভারতে মুসলিম সাম্রাজ্যের স্থায়ী ভিত প্রতিষ্ঠিত হয়।

 

উদ্দীপকঃ-

জাহীন সাহেব বিপুল ভোটের ব্যবধানে জয়লাভ করে রাষ্ট্রপ্রধান হন। দায়িত্ব নেওয়ার পর তিনি দেশের বিধবা, এতিম, বয়স্কদের মাসিক ভাতা চালু, কৃষিঋণ মওকুফ, ব্যবসার উন্নতি করেন। পানি শোধনাগার নির্মাণ করে পানীয় জলের ব্যবস্থা করেন। প্রতিটি ওয়ার্ডে কমিউনিটি হাসপাতাল নির্মাণ করেন। জনগণের চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন।

ক. কত খ্রিষ্টাব্দে সালতানাত যুগের সূচনা হয়?

খ. ইব্রাহিম লোদির কঠিন শাসনের ব্যাখ্যা দাও।

গ. জাহীন সাহেব দিল্লি সালতানাতের কোন শাসকের জ্ঞান কাজে লাগিয়ে জনহিতকর কাজে আত্মনিয়োগ করেছেন? ব্যাখ্যা কর।

ঘ. উত্ত শাসকের প্রজাহিতৈষী কর্মকাণ্ড তোমার রাষ্ট্রে কতটুকু গ্রহণযোগ্য বলে তুমি মনে কর? যুক্তি দাও।

 

উত্তরঃ-

ক) ১২০৬ খ্রিস্টাব্দে সালতানাত যুগের সূচনা হয়।

খ) ইব্রাহিম লোদি খুব কঠোর ও রূঢ় স্বভাবের শাসক ছিলেন। ইব্রাহিম লোদি ১৫১৭ সালে সিকান্দার শাহ লোদির মৃত্যু হলে দিল্লির সিংহাসনে আরোহণ করেন। ক্ষমতায় আরোহণ করেই তিনি আফগান ও অন্যান্য অভিজাতবর্গকে সম্পূর্ণরূপে প্রভাবহীন ও ক্ষমতাহীন করার নীতি অনুসরণ করেন। তার রূঢ় শাসননীতির জন্য তিনি ক্রমেই আফগান অভিজাতবর্গের সহায়তা হারান এবং তারা বিদ্রোহী হয়ে তার আনুগত্য অস্বীকার করে। পাঞ্জাবের শাসনকর্তা দৌলত খানের পুত্র দিলওয়ার খানের প্রতি সুলতান ইব্রাহিম লোদির দুর্ব্যবহার সকলের অসন্তুষ্টির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল।

গ) উদ্দীপকে বর্ণিত জাহীন সাহেব দিল্লি সালতানাতের সুলতান ফিরোজ শাহ তুঘলকের জ্ঞান কাজে লাগিয়ে জনহিতকর কাজে আত্মনিয়োগ করেছেন।সুলতান ফিরোজ শাহ তুঘলক ছিলেন প্রজারঞ্জক ও জনহিতৈষী শাসকদের মধ্যে অন্যতম। প্রজাপীড়ন নয় বরং তাদের সুখ-শান্তি নিশ্চিত করাই তার শাসনব্যবস্থার উদ্দেশ্য ছিল। তার এ শাসনব্যবস্থা প্রতিটি প্রজাহিতৈষী শাসকের নিকট অনুকরণীয়। উদ্দীপকের শাসকও ফিরোজ শাহ তুঘলকের পদাঙ্ক অনুসরণ করে নিজেকে জনকল্যাণে নিয়োজিত করেছেন।উদ্দীপকে দেখা যায়, জাহীন সাহেব দায়িত্ব নেওয়ার পর দেশের বিধবা, এতিম, বয়স্কদের মাসিক ভাতা চালু, কৃষিঋণ মওকুফ, ব্যবসায় উন্নতি করেন। পানি শোধনাগার নির্মাণ করে পানীয় জলের ব্যবস্থা করেন। এছাড়া তিনি প্রতিটি ওয়ার্ডে কমিউনিটি হাসপাতাল নির্মাণ করে জনগণের চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন। ফিরোজ শাহ তুঘলকও অনুরূপ ব্যবস্থা গ্রহণ করেছেন। জনগণের কল্যাণার্থে তিনি নতুন কয়েকটি ব্যবস্থা প্রবর্তন করেন। দরিদ্র মুসলমান কন্যাদের বিবাহের জন্য এবং অনাথ ও বিধবাদের ভরণ-পোষণের জন্য তিনি ‘দেওয়ান-ই-খয়রাত’ নামে একটি বিভাগ প্রতিষ্ঠা করেন। ক্ষতিগ্রস্ত জনগণের সাহায্যার্থে ‘দিওয়ান-ই- ইস্তহক’ প্রতিষ্ঠা করেন। কৃষিব্যবস্থায় ও বাণিজ্যে উন্নতি সাধনের জন্য তিনি আন্তঃপ্রাদেশিক শুল্ক উঠিয়ে দেন। তিনি সিংহাসনে আরোহণ করার পর পূর্ববর্তী সুলতানদের দেওয়া ঋণ মওকুফ করেন। বেকার সমস্যার সমাধানের জন্য চাকরি দফতর স্থাপন করেন। দিল্লিতে ‘বিমারিস্তান’ নামে একটি বিরাট হাসপাতাল নির্মাণ করেন, যেখানে গরিবদের বিনা খরচে চিকিৎসা ও ওষুধপত্র প্রদান করা হতো। তাই নিঃসন্দেহে বলা যায় যে, উদ্দীপকের জাহীন সাহেব তার শাসনকার্য পরিচালনায় সুলতান ফিরোজ শাহ তুঘলকের নীতি-আদর্শই অনুসরণ করেছেন।

ঘ) উক্ত শাসকের অর্থাৎ ফিরোজ শাহ তুঘলকের প্রজাহিতৈষী কর্মকাণ্ড আমার রাষ্ট্রে সম্পূর্ণ গ্রহণযোগ্য বলে আমি মনে করি।আধুনিক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের শাসনব্যবস্থার অন্যতম বৈশিষ্ট্য হচ্ছে এর জনকল্যাণমুখিতা। যে রাষ্ট্রের শাসনব্যবস্থায় জনকল্যাণের প্রতি যত বেশি গুরুত্ব দেয়া হয়, সে রাষ্ট্র তত উন্নত। কেননা একটি রাষ্ট্রের শাসনব্যবস্থার মূল কেন্দ্রবিন্দু জনগণ। তাই জনগণের সুখ-শান্তি ও সমৃদ্ধির প্রতি দৃষ্টি রাখা একটি রাষ্ট্রের অপরিহার্য কর্তব্য। একটি রাষ্ট্র গঠনের অন্যতম উপাদান জনসংখ্যা। নির্দিষ্ট সংখ্যক জনগণ নিয়ে একটি রাষ্ট্র গঠিত হয়। এই রাষ্ট্র গঠনের উদ্দেশ্য হচ্ছে রাষ্ট্রের নাগরিকদের সর্বাধিক কল্যাণ নিশ্চিত করা। এটি রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব ও কর্তব্য। অনুরূপ দায়িত্ব সুলতান ফিরোজ শাহ তুঘলক পালন করেছেন। তিনি দরিদ্র, অনাথ, বিধবাদের উন্নতিকল্পে বিভিন্ন ব্যবস্থা গ্রহণ করেছেন। বেকার সমস্যা সমাধান, কৃষি ব্যবসা- বাণিজ্যের প্রসার এবং স্বাস্থ্য সেবায় উন্নতি বিধানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। তার এ সকল প্রজাহিতৈষী কর্মকাণ্ড প্রতিটি রাষ্ট্রের অপরিহার্য কর্তব্য। বেকার সমস্যা দূরীকরণ ও জনগণের স্বাস্থ্য সেবার উন্নতিকল্পে প্রতিটি রাষ্ট্রেরই পদক্ষেপ নেয়া প্রয়োজন। এছাড়া রাষ্ট্রের ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার করাও গুরুত্বপূর্ণ। কেননা, ব্যবসা-বাণিজ্যের উন্নতি ও বেকার সমস্যার সমাধান হলে রাষ্ট্রের অর্থনৈতিক উন্নতি এবং জনগণের জীবনমান উন্নত হয়।উপর্যুক্ত আলোচনায় সুস্পষ্ট যে, ফিরোজশাহ তুঘলকের জনহিতৈষী কর্মকাণ্ড আমার রাষ্ট্রে পুরোপুরি গ্রহণযোগ্য।

উদ্দীপকঃ-

তরাইনের দ্বিতীয় যুদ্ধের গুরুত্ব লেখ।

ক. মালিক কাফুর কে ছিলেন?

খ . মুহাম্মদ বিন তুঘলকের রাজধানী স্থানান্তর বিষয়টি ব্যাখ্যা কর।

গ. উপরিউক্ত ছকের বিষয়ে কোন সুলতানের মূল্যতালিকার চিত্র ফুটে উঠেছে? তিনি কেন এ পদক্ষেপ নিয়েছেন ব্যাখ্যা কর।

ঘ. মূল্য তালিকা বাস্তবায়নে উক্ত সুলতান কী কী পদক্ষেপ নিয়েছিলেন?

প্রশ্নের উত্তরঃ-

ক) মালিক কাফুর ছিলেন সুলতান আলাউদ্দিন খলজির দাক্ষিণাত্য অভিযানের সেনাপতি।

খ) মুহম্মদ বিন তুঘলকের সর্বাধিক উল্লেখযোগ্য রাজনৈতিক পরিকল্পনা হলো দিল্লি থেকে রাজধানী দেবগিরিতে স্থানান্তরিত করা। দেবগিরি থেকে দিল্লি, গুজরাট, লক্ষ্মণাবতী, সাওগাঁও, সোনারগাঁ, তেলেঙ্গানা, মালাবার প্রায় সমদূরত্বে অবস্থিত ছিল। দেবগিরিকে মোঙ্গল উপদ্রব এবং আক্রমণ থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত ও নিরাপদ মনে করা হয়েছিল। কিন্তু ১০ বছর অবস্থানের পর সুলতান সকলকে দিল্লিতে পুনঃপ্রত্যাবর্তনের নির্দেশ দেন। কারণ দেবগিরি ছিল হিন্দু অধ্যুষিত এবং ঐ অঞ্চলের আবহাওয়ার সাথে আমির-ওমরাহগণ খাপ খাওয়াতে পারছিলেন না। তাই তার রাজধানী স্থানান্তরের পরিকল্পনাটি ব্যর্থ হয়।

গ) উপরিউক্ত ছকের বিষয়ে সুলতান আলাউদ্দিন খলজির মূল্য তালিকার চিত্র ফুটে উঠেছে। তিনি অর্থনৈতিক সংকট মোচন এবং স্বল্প বেতনে সৈন্য পোষণের জন্য এ পদক্ষেপ গ্রহণ করেন।মূল্য নিয়ন্ত্রণ নীতি ও পদ্ধতি আলাউদ্দিন খলজির প্রবর্তিত ও সংস্কার সমূহের মধ্যে ছিল সর্বাপেক্ষা উল্লেখযোগ্য। সমগ্র ভারতীয় উপমহাদেশের ইতিহাসে সম্ভবত তিনিই একমাত্র শাসক যিনি বৈপ্লবিক অর্থনৈতিক সংস্কার করে ইতিহাসে অমর ও অক্ষয় হয়ে আছেন। মূলত তিনি তার বিশাল সেনাবাহিনী স্বল্প বেতনে পোষণ এবং মুদ্রাস্ফীতির ফলে সৃষ্ট অর্থনৈতিক সংকট মোচনের জন্য মূল্য নিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি গ্রহণ করেন। উপরিউক্ত ছকে এ ব্যবস্থারই প্রতিফলন লক্ষণীয়।ছকে বাজার পরিদর্শন, চড়া দাম এবং তা সমাধানে মূল্য তালিকা তৈরির বিষয়গুলোর উল্লেখ রয়েছে। এছাড়া ছকে পদক্ষেপ গ্রহণের কারণগুলো অর্থাৎ অর্থনৈতিক সংস্কার ও কম ব্যয়ে সৈন্য পালনের কথা বলা হয়েছে। এ বিষয়গুলির সাথে সুলতান আলাউদ্দিন খলজির মূল্য নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাই সাদৃশ্যপূর্ণ। সাম্রাজ্যের স্থায়িত্ব ও সংহতির জন্য গঠিত বিশাল সেনাবাহিনীকে স্বল্প বেতনে পোষণের জন্য সুলতান মূল্য নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থায় প্রবর্তন করেন। দাক্ষিণাত্য হতে প্রচুর অর্থসম্পদ লাভের ফলে উত্তর ভারতে মুদ্রাস্ফীতি দেখা দেয় এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যাদির মূল্য অত্যধিক বৃদ্ধি পায়। এ অর্থনৈতিক সংকট মোচনের জন্য তার মূল্য নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা প্রবর্তন জরুরি ছিল। এছাড়া খাদ্যদ্রব্য, বস্ত্র, পশু এবং অন্যান্য দ্রব্যাদির মূল্য নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে মূল্য নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রয়োজনীয়তা ছিল অত্যধিক। এসকল দিক বিবেচনা করে সুলতান আলাউদ্দিন খলজি মূল্য নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা গ্রহণ করেছিলেন।

 

ঘ) মূল্য তালিকা বাস্তবায়নে উক্ত সুলতান অর্থাৎ সুলতান আলাউদ্দিন খলজি অনেকগুলো কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছিলেন।একজন দূরদৃষ্টি সম্পন্ন শাসক হিসেবে সুলতান আলাউদ্দিন খলজি সাম্রাজ্যের সম্প্রসারণ, নিরাপত্তা ও সংহতি বিধান এবং অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি নিশ্চিত করার জন্য বিভিন্ন ব্যবস্থা গ্রহণ করেছিলেন। তার প্রবর্তিত অর্থনৈতিক সংস্কারের মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ছিল মূল্য নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা। দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে এ ব্যবস্থা কার্যকর করার জন্য তিনি যুগোপযোগী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছিলেন।আলাউদ্দিন খলজির মূল্য নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা কার্যকর করার জন্য “পণ্য বাজার স্থাপন করা হয়। ‘মান্ডি’ নামে দিল্লিতে প্রধান ও কেন্দ্রীয় শস্য বাজার বসানো হয়। ঔষধপত্র, কাপড়, শুকনোফল, জ্বালানি তেল প্রভৃতির বাজার বসানো হয় দিল্লির বাদাউন তোরণে। এছাড়া অন্যান্য পণ্যের জন্য আলাদা বাজার স্থাপন করা হয়। পণ্যবাজার পরিচালনা ও তত্ত্বাবধানের জন্য দুইজন কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়। তাছাড়া পণ্যের মূল্য, ওজন, পরিমাপ ও ব্যবসায়ীদের কর্মতৎপরতা তদারকির জন্য সুলতান গুপ্তচর নিয়োগ করেন। তিনি নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যও যেমন: গম, বার্লি, মাখন, চিনি, আটা, ডাল, তেল প্রভৃতির মূল্য নির্ধারণ করে দেন। তিনি দ্রব্যাদির চাহিদা অনুসারে সরবরাহের ব্যবস্থাও গ্রহণ করেন। খাদ্য ঘাটতি পূরণে তিনি শস্যভাণ্ডার গড়ে তোলেন এবং মজুতদারির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। সুলতান দ্রব্যাদির সরবরাহ সুনিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে সুষ্ঠু পরিবহন ব্যবস্থাও নিশ্চিত করেন।সর্বোপরি বলা যায় যে, সুলতান আলাউদ্দিন খলজির দৃঢ় সংকল্প ও কঠোর নজরদারি, কর্মচারীদের কর্তব্যপরায়ণতা এবং জনগণের সহযোগিতায় মূল্য নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা সফল হয়েছিল।

উদ্দীপকঃ-

তরাইনের দ্বিতীয় যুদ্ধের গুরুত্ব লেখ

ক. মুহাম্মদ ঘুরী কে ছিলেন?

খ. নারী হওয়াই ছিল তার সাফল্যের একমাত্র অন্তরায়- উক্তিটি দিয়ে কী বুঝানো হয়েছে?

গ. উপর্যুক্ত ছকে পাঠ্যবইয়ের যে শাসকের প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে তার প্রাথমিক জীবন সম্পর্কে লেখ।

ঘ. ছকের বিজয় স্তম্ভের সাথে উক্ত শাসকের সাদৃশ্যপূর্ণ বিজয় স্তম্ভের সম্পর্কে তোমার মন্তব্য লিখ।

 প্রশ্নের উত্তরঃ-

ক) মুইজউদ্দিন মুহাম্মদ ঘুরী ছিলেন ভারতে স্থায়ী মুসলিম শাসনের প্রকৃত প্রতিষ্ঠাতা।

খ) নারী হওয়াই ছিল তার সাফল্যের একমাত্র অন্তরায়-এ উক্তিটি দ্বারা সুলতান রাজিয়ার পতনের অন্যতম কারণ তার নারীত্বকে বোঝানো হয়েছে।নানারকম যোগ্যতা ও গুণাবলি থাকা সত্ত্বেও সুলতান রাজিয়া তার শাসনকালকে দীর্ঘস্থায়ী করতে পারেননি। ভারতীয় ঐতিহাসিক ঈশ্বরী প্রসাদ মন্তব্য করেন, ‘নারীত্বই (Womenhood) ছিল তার প্রধান অযোগ্যতা।’ শক্তিশালী আমির-উমরাহগণ একজন নারী কর্তৃক শাসিত হতে অপমানবোধ করায় তারা তার উৎখাতের ষড়যন্ত্রে মেতে ওঠেন। তাদের ষড়যন্ত্রমূলক কার্যকলাপে সুলতান রাজিয়ার অনিবার্য পতন ঘটে।

গ) উপরোক্ত ছকে ইঙ্গিতকৃত পাঠ্যবইয়ের শাসক কুতুবউদ্দিন আইবেক প্রাথমিক জীবনে দাস ছিলেন।ভারতে দাসবংশ ও দিল্লি সুলতানি শাসনের প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন কুতুবউদ্দিন আইবেক। প্রাথমিক জীবনে একজন দাস হয়েও তিনি তার যোগ্যতা বলে দিল্লি সালতানাতের প্রতিষ্ঠাতার মর্যাদা অর্জন করতে সক্ষম হন। উপর্যুক্ত ছকে অনুরূপ শাসকেরই প্রতিফলন লক্ষণীয়। ছকে উল্লিখিত ‘Y’ বংশ প্রতিষ্ঠাতা শাসক দাস হিসেবে জীবন শুরু করেন। তিনি দাসত্ব হতে মুক্তিলাভ এবং অনেক বাধাবিপত্তি দমন করেন। বিজয় অভিযানে সফলতা অর্জন করে তিনি একটি বিজয়স্তম্ভ স্থাপন করেন। একইভাবে কুতুবউদ্দিন আইবেক একজন ক্রীতদাস হিসেবে মুইজউদ্দিন মুহাম্মদ ঘুরীর অধীনে জীবন শুরু করেন। স্বীয় মেধা এবং অধ্যবসায়ের অতি অল্প সময়ে মুহাম্মদ ঘুরীর অধীনে দায়িত্বপূর্ণ পদে অধিষ্ঠিত হন। ক্রমে তিনি আমিন-ই-আখুর বা অশ্বশালার প্রধান পদে উন্নীত হন। মুহাম্মদ ঘুরীর ভারত অভিযানে তিনি সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন এবং তরাইনের দ্বিতীয় যুদ্ধে জয়লাভের পর ঘুরী তাকে বিজিত অঞ্চলের শাসনভার দান করেন। মুহাম্মদ ঘুরীর মৃত্যুর পর সুলতান গিয়াসউদ্দিন মুহাম্মদ ১২০৬ খ্রিষ্টাব্দে ফরমান দ্বারা তাকে দাসত্বমুক্ত করেন এবং সুলতান উপাধিতে ভূষিত হন। তিনি প্রথম জীবনে ক্রীতদাস থাকার কারণে তার প্রতিষ্ঠিত মুসলিম ভারতের প্রথম রাজবংশ তথাকথিত দাসবংশ নামে পরিচিত। তাই বলা যায়, ছকে উল্লিখিত শাসক এবং কুতুবউদ্দিন আইবেক এক ও অভিন্ন।

ঘ) ছকের বিজয়স্তম্ভের সাথে উক্ত শাসকের তথা কুতুবউদ্দিন আইবেকের সাদৃশ্যপূর্ণ বিজয়স্তম্ভ হল কুতুবমিনার।কুতুবউদ্দিন আইবেকের নির্মিত সর্বশ্রেষ্ঠ স্থাপত্যকীর্তি হলো কুতুবমিনার। ১১৯৯ সালে রাজ্য বিজয়ের স্মারক এবং ইসলামের বিজয়গাঁথা বিশ্ব দরবারে উপস্থাপনের উদ্দেশ্যে তিনি দিল্লিতে এই মিনারটির নির্মাণ কাজ শুরু করেন। পরবর্তীতে সুলতান ইলতুৎমিশ এটির নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করেন। প্রখ্যাত সুফি সাধক কুতুবউদ্দিন বখতিয়ার কাকীর নামানুসারে এ মিনারটি ‘কুতুব মিনার’ নামে নামকরণ করা হয়। | কুতুবমিনার ছিল তৎকালীন বিশ্বের সর্বোচ্চ মিনার। দূর থেকে মিনারটি দেখলে একে বৃহদাকার কারখানার চিমনি অথবা বাতিঘরের মতো মনে হয় এবং কাছ থেকে একে লোহিত শিলা ও মর্মর পাথরে তৈরি ঊর্ধ্বাকাশে উঠে যাওয়া বাঁশির আকৃতির ন্যায় প্রতীয়মান হয়। মিনারটি ৪ তলাবিশিষ্ট এবং ৪৭ ফুট বাসের বুনিয়াদের ওপর নির্মিত। এর বারান্দা সমকোণবিশিষ্ট পাথরের দ্বারা নির্মিত। মিনারটি আজানের জন্য ব্যবহৃত হতো। সাতটি স্তরে বিভক্ত মিনারটির উপরের দুটি স্তর ভেঙে গিয়েছে। তবে অক্ষত অবস্থায় এর উচ্চতা ছিল ৩০০ ফুট, বর্তমানে ২২০ ফুট। সর্বোচ্চ স্তরে গমনের জন্য ইমারতের ভেতরে ৩৭৯টি ধাপবিশিষ্ট একটি ঘোরানো সিঁড়ি রয়েছে এবং সিঁড়ির গায়ে কুরআনের আয়াত খোদাই করা আছে। মুসলিম ও হিন্দু স্থাপত্যরীতির সংমিশ্রণে তৈরি মিনারটি মুসলিম স্থাপত্যের অপূর্ব নিদর্শন হিসেবে আজও সবার কাছে সমাদৃত।

 

উদ্দীপকঃ-

দ্বিজ বংশীয় রাজা মুকুল বসু সাম্রাজ্যের নিরাপত্তার জন্য উত্তর পশ্চিম সীমান্ত অঞ্চলের দুর্ধর্ষ উপজাতিগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর নীতি অবলম্বন করেন। এ উপজাতিগুলো রাজা মুকুল বসুর সীমান্তে ঢুকে লুটতরাজ করত। সাম্রাজ্যবিরোধী ব্যক্তিদের কার্যকলাপ ও ষড়যন্ত্রও রাজাকে বেকায়দায় ফেলে দেয় এবং সাম্রাজ্যের ভিত্তিকে প্রকম্পিত করে।

ক. দাস বংশের প্রকৃত প্রতিষ্ঠাতা কে?

খ. বন্দেগান-ই-চেহেলগান বলতে কী বোঝ?

গ. উদ্দীপকের রাজা মুকুল বসু যে শাসকের চরিত্র বহন করেন তার মোঙ্গল নীতির বর্ণনা দাও।

ঘ. তুমি কি মনে কর সাম্রাজ্য বিরোধী ব্যক্তিদের কার্যকলাপ উত্ত শাসকের শাসনে বাধা সৃষ্টি করেছিল? তোমার মতের সপক্ষে যুক্তি দাও।

উত্তরঃ-

ক) সুলতান ইলতুৎমিশ দাস বংশের প্রকৃত প্রতিষ্ঠাতা।

গ) উদ্দীপকের রাজা মুকুল বসু সুলতান গিয়াসউদ্দিন বলবনের চরিত্র বহন করে। তিনি মোঙ্গলদের প্রতিহত করার জন্য কঠোর মোঙ্গল নীতি গ্রহণ করে।দুর্ধষ মোঙ্গলরা ছিল দিল্লি সালতানাতের জন্য সবচেয়ে বড় হুমকি। তারা উত্তর-পশ্চিম সীমান্ত পথে বার বার আক্রমণ করত। সিন্ধু ও মুলতান তাদের উপর্যুপরি আক্রমণের ক্ষেত্রে পরিণত হয়েছিল। এ অবস্থায় সাম্রাজ্যের উত্তর-পশ্চিম সীমান্ত সুরক্ষা এবং মোজাল আক্রমণ হতে দিল্লি সালতানাতকে নিরাপদ রাখার লক্ষে গিয়াসউদ্দিন বলবন কঠোর নীতি গ্রহণ করেন। যেটি উদ্দীপকের শাসকের ক্ষেত্রেও লক্ষণীয়। উদ্দীপকে বর্ণিত দ্বিজ বংশীয় রাজা মুকুল বসু সাম্রাজ্যের নিরাপত্তার জন্য উত্তর পশ্চিম সীমান্ত অঞ্চলের দুর্ধর্ষ উপজাতিগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর নীতি অবলম্বন করেন। গিয়াসউদ্দিন বলবনও অনুরূপ ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। তিনি মোঙ্গলদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ হিসেবে সেনাবাহিনীর পুনর্গঠন ও শক্তিশালী করেন। গুরুত্বপূর্ণ সামরিক কেন্দ্রসমূহে নতুন দূর্গ নির্মাণ এবং পুরোনো দুর্গ সংস্কার করে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা জোরদার করেন। মোঙ্গল আক্রমণকারীদের গতিবিধি লক্ষ রাখার জন্য তিনি সীমান্ত অঞ্চলে গোয়েন্দা তৎপরতা বৃদ্ধি করেন। সুলতান সামানা, মুলতান ও দিপালপুরকে নিয়ে সীমান্তবর্তী প্রদেশ গঠন করেন এবং সুদক্ষ শাসনকর্তা নিয়োগ দেন। নতুন রাজ্য বিস্তারনীতি পরিহার করে দূরবর্তী প্রদেশে যুদ্ধাভিযান বন্ধ করেন। এছাড়া সর্বদা রাজধানীতে অবস্থানের নীতি গ্রহণ করেন। মোঙ্গলরা পাঞ্জাব আক্রমণ করলে সুলতান সসৈন্যে অগ্রসর হয়ে মোঙ্গলদের বিতাড়িত করে লাহোর উদ্ধার করেন। পরিশেষে বলা যায়, সুলতান গিয়াসউদ্দিন বলবন মোঙ্গল নীতি গ্রহণের মাধ্যমে সাম্রাজ্যকে শত্রুমুক্ত রাখার ক্ষেত্রে সফলতা লাভ করেছিলেন।

 

ঘ) হ্যাঁ, সাম্রাজ্য বিরোধী ব্যক্তিদের কার্যকলাপ উক্ত শাসক তথা সুলতান গিয়াসউদ্দিন বলবনের শাসনে বাঁধা সৃষ্টি করেছিল বলে, আমি মনে করি। মধ্যযুগের ভারতের ইতিহাসে গিয়াসউদ্দিন বলবন ছিলেন একজন ক্ষমতাধর শাসক। দিল্লি সালতানাতের এক চরম সংকটকালীন পরিস্থিতিতে তিনি সিংহাসনে আরোহণ করেন। এ সময় পূর্ববর্তী সুলতানের অযোগ্যতার কারণে রাজ্যের সর্বত্র বিদ্রোহ বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়। রাজকোষ অর্থশূন্য হয়ে পড়ে। তদুপরি আমির-ওমরাহ ও অভিজাত সম্প্রদায়ের দ্বন্দ্ব-কলহ ও ষড়যন্ত্রমূলক কার্যকলাপে তার শাসনামল সংকটাপন্ন অবস্থার সম্মুখীন হন।সুলতান গিয়াসউদ্দিন বলবন সিংহাসনে আরোহণ করে বিভিন্ন সমস্যার মুখোমুখি হন। এ সময় সুলতান ইলতুৎমিশের উত্তরাধিকারী সুলতানদের দুর্বলতার কারণে তুর্কি আমির-উমরাহ ও তুর্কি অভিজাতদের মধ্যে ক্ষমতা, দ্বন্দ্ব-কলহ ও ষড়যন্ত্রের ফলে দেশে এক নৈরাজ্যকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। শুধু তাই নয় পূর্ববর্তী সুলতানদের অযোগ্যতার কারণে সুলতানের মর্যাদারও অবনতি ঘটে। কেন্দ্রীয় রাজশক্তির প্রতি অশ্রদ্ধার ফলে সর্বত্র বিদ্রোহ ও বিশৃঙ্খলার দেখা দেয়। তুর্কি অভিজাতগণও এ সকল বিদ্রোহে ইন্ধন জোগায়। তারা সুলতান ইলতুৎমিশের রাজত্বকালেই প্রভৃত ক্ষমতার অধিকারী হয়েছিলেন। এ অভিজাতদের একটি চক্র ‘বন্দেগান-ই-চেহেলগান’ নামে পরিচিত। ইলতুৎমিশের দুর্বল উত্তরাধিকারীদের যুগে রাজ্যপ্রশাসন, রাজনীতি ও অর্থনীতিতে এরা সর্বেসর্বা হয়ে ওঠে। বলবন নিজেও এ চক্রের সদস্য ছিল। এদের ষড়যন্ত্রের পাশাপাশি মোঙ্গলদের বিদ্রোহ, মেওয়াটি দস্যুদের চরম উৎপাত, জাঠ-পার্বত্য উপজাতিদের বিদ্রোহ সাম্রাজ্যকে দুর্বিষহ করে তোলে। এরকম পরিস্থিতিতে গিয়াসউদ্দিন বলবন কঠোর নীতি গ্রহণ করে দিল্লি সালতানাতের সংহতি আনয়ন ও নিরাপত্তা বিধান করেন।উপর্যুক্ত আলোচনায় সুস্পষ্ট যে, সুলতান গিয়াসউদ্দিন বলবনের শাসন ব্যবস্থায় সাম্রাজ্যবিরোধী ব্যক্তিদের কার্যকলাপ বিঘ্ন ঘটিয়েছিল।

উদ্দীপকঃ-

আজ বাজারে গিয়ে তাহের সাহেব অত্যন্ত বিরক্ত। প্রতিটিমজিনিসের দাম বেড়ে গেছে। স্ত্রীর হাতে বাজারের ব্যাগ দিতে গিয়ে বললেন বাজারের জিনিসপত্রের দামের ওপর কারো নিয়ন্ত্রণ নেই। অথচ মধ্যযুগে আলাউদ্দিন খলজি নামে একজন শাসক মূল্য নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা প্রবর্তন করে সফলতার সাথে বাজার দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে পেরেছিলেন।

ক. মূল্য নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা কী?

খ. আলাউদ্দীন খলজির আমলে বাজার তদারককারী কর্মকর্তা কে ছিলেন?

গ. আলাউদ্দীন খলজির আমলে বাজার দাম নির্ধারণের প্রয়োজনীয়তা কী ছিল?

ঘ. আলাউদ্দীন খলজির আমলে মূল্য নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার কার্যকারিতা বিশ্লেষণ কর।

 

উত্তরঃ-

ক) আলাউদ্দিন খলজি বাজার মূল্য স্থিতিশীল রাখার জন্য যে অর্থনৈতিক সংস্কারমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেন, তাই মূল্য নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা হিসেবে পরিচিত।

খ) আলাউদ্দিন খলজির আমলে বাজারে ক্রয় ও বিক্রয় ব্যবস্থা তত্ত্বাবধানের জন্য যে কর্মকর্তা নিয়োগ করা হতো তার পদবি ছিল ‘শাহানা-ই-মান্ডি’ ও দিওয়ান-ই-রিয়াসত। শাহানা-ই-রিয়াসত ছিলেন বস্ত্র ও সাধারণ বাজারের তত্ত্বাবধায়ক।

গ) আলাউদ্দিন খলজির আমলে বাজার দাম নির্ধারণের প্রয়োজনীয়তা ছিল অপরিসীম।অর্থনৈতিক সংস্কার ও মূল্য নিয়ন্ত্রণ নীতি ও পদ্ধতি আলাউদ্দিন খলজির প্রবর্তিত সংস্কারসমূহের মধ্যে ছিল সর্বাপেক্ষা উল্লেখযোগ্য। আর্থিক স্থিতিশীলতা, জনসাধারণের সুবিধা এবং সাম্রাজ্যের সর্বাধিক উন্নতির জন্য নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যাদির বাজার দর নির্দিষ্ট হারে বেঁধে দেওয়ার প্রয়োজন দেখা দেয়। সাম্রাজ্যের স্থায়িত্ব ও সংহতির জন্য সুলতান যে বিশাল সেনাবাহিনী সংগঠন করেন তাদের স্বল্প বেতনে পোষণের জন্যও মূল্য নিয়ন্ত্রণ পদ্ধতির প্রবর্তনের প্রয়োজনীয়তা ছিল। দাক্ষিণাত্য হতে প্রচুর অর্থসম্পদ লাভের ফলে উত্তর ভারতে মুদ্রাস্ফীতি দেখা দেয় এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যাদির মূল্য অত্যধিক বৃদ্ধিপ্রাপ্ত হয়। এ অর্থনৈতিক সংকট মোচনের ক্ষেত্রে সুলতানের গৃহীত মূল্য নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে। এছাড়া খাদ্যদ্রব্য, বস্ত্র, পশু এবং অন্যান্য দ্রব্যাদির মূল্য নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে আলাউদ্দিন খলজির প্রবর্তিত মূল্যনিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তা ছিল অত্যধিক। এ সকল দিক বিবেচনা করে বলা যায়, সুলতান আলাউদ্দিন খলজি কর্তৃক প্রবর্তিত মূল্য নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তা ছিল।

কম্পিউটারের কয়েকটি ব্যবহার লিখ?