কিতাব বলতে কী বোঝায়?

উদ্দীপকঃ-

=> আলিফ লাম মিম। ইহা সেই কিতাব যাতে কোন সন্দেহ নেই। পথ প্রদর্শনকারী পরহেযগারদের জন্য। যারা অদেখা বিষয়ের উপর বিশ্বাস স্থাপন করে এবং নামাজ প্রতিষ্ঠা করে। আর আমি তাদেরকে যে বুজি দান করেছি তা থেকে ব্যয় করে। এবং যারা বিশ্বাস স্থাপন করেছে সেসব বিষয়ের উপর যা কিছু তোমার প্রতি অবতীর্ণ হয়েছে এবং সেসব বিষয়ের উপর যা তোমার পূর্ববর্তীদের প্রতি অবতীর্ণ হয়েছে। আর আখিরাতকে যারা নিশ্চিত বলে বিশ্বাস করে। (আয়াত: ১-৪)।

ক. কুরআন শব্দের বাংলা অর্থ কি?

খ. কিতাব বলতে কী বোঝায়?

গ. উদ্দীপকে কাদের গুণাবলীর ইঙ্গিত করা হয়েছে? ব্যাখ্যা করো।

ঘ. সুরা বাকারার আলোকে উদ্দীপকে ইঙ্গিতকৃত লোকদের গুণাবলী বিশ্লেষণ করো।

প্রশ্নের উত্তরঃ-

 

ক) কুরআন অর্থ পঠিত।

ওহি বলতে কী বোঝ?

খ) আল কিতাব বলতে স্বয়ংসম্পূর্ণ গ্রন্থ আল কুরআনকে বোঝায়। আল কুরআনের মধ্যে সব প্রকার জ্ঞান-বিজ্ঞান ও ঘটনাবলি এবং সঠিক সংবাদ উত্তমরূপে একত্রিত করা হয়েছে, তাই একে আল কিতাব বলা হয়। এছাড়া আল্লাহ তায়ালা আল কুরআনে আল কুরআনকে আল- কিতাব বলে অভিহিত করেছেন। যেমন আল্লাহ বলেন- নিশ্চয়ই আপনার প্রতি আমি ‘আল কিতাব’ বা স্বয়ংসম্পূর্ণ গ্রন্থ নাজিল করেছি।

 

গ) সুরা বাকারার আলোকে উদ্দীপকে ইঙ্গিতকৃত বৈশিষ্ট্যের অধিকারী মানুষ মুত্তাকি নামে পরিচিত।

মুত্তাকি শব্দের অর্থ আল্লাহভীরু বা পরহেজগার। জন্মগত বা বংশগত কারণে কারোপক্ষে মুত্তাকি হওয়া সম্ভব নয়। মুত্তাকিরা গায়েবে বা অদৃশ্যে ইমান রাখে। পরকাল তথা মৃত্যুর পরের জবাবদিহিতা, বেহেশত, দোজখ, পুলসিরাত প্রভৃতি বিষয়ের উপর পূর্ণাঙ্গ আস্থা রাখে। যা উদ্দীপকে ইঙ্গিতকৃত লোকদের মধ্যে ফুটে ওঠেছে। উদ্দীপকের ইঙ্গিতকৃত লোকদের বৈশিষ্ট্য হলো তারা অদৃশ্যে বিশ্বাস করে, নামাজ প্রতিষ্ঠা করে, দান সদকা করে, আসমানি কিতাবে বিশ্বাস করে এবং পরকালে দৃঢ় বিশ্বাস রাখে। আর এ সমস্ত বৈশিষ্ট্য মুত্তাকিদের বৈশিষ্ট্যের সাথে পুরোপুরি সাদৃশ্যপূর্ণ। তাই বলা যায়, উদ্দীপকের বর্ণিত বৈশিষ্ট্যের অধিকারী মানুষগণ মুত্তাকি নামে পরিচিত। পবিত্র কুরআনের সুরা বাকারায় মুত্তাকিগণের ছয়টি বৈশিষ্ট্যের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। সেগুলো হলো-অদৃশ্যের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করা, সালাত প্রতিষ্ঠা করা, আল্লাহ প্রদত্ত জীবিকা হতে আল্লাহর পথে ব্যয় করা, হযরত মুহাম্মদ (স) এর প্রতি অবতীর্ণ আল কুরআনকে আল্লাহর প্রদত্ত জীবনবিধান হিসেবে বিশ্বাস করা, পূর্ববর্তী নবিগণের প্রতি যে সমস্ত কিতাব অবর্তীর্ণ হয়েছে সেগুলোকে সত্য বলে স্বীকার করা এবং আখিরাতের প্রতি দৃঢ় বিশ্বাস পোষণ করা।

সুতরাং আমাদের উচিত উপরোল্লিখিত বৈশিষ্ট্যগুলো জীবনে ধারণ করে ইহকালীন ও পরকালীণ কল্যাণ লাভ করা।

 

উদ্দীপকঃ-

=> আজমলের স্বভাব একটু ভিন্ন প্রকৃতির। সে সবসময় মুখে একরকম বলে, কিন্তু অন্তরে অন্য ধারণা পোষণ করে। নিজের প্রয়োজনে সে প্রায়ই মিথ্যা কথা বলে। লোক দেখানোর জন্য সে নামাজ আদায় করে কিন্তু ছোটখাটো অন্যায় থেকে নিজেকে কখনো বিরত রাখার চেষ্টা করে না। প্রায়ই সে অন্যদেরকে ধোঁকা দেওয়ার জন্য প্রতারণার আশ্রয় নেয়।

 

ক. সম্পূর্ণ কুরআন সর্বপ্রথম সংরক্ষিত হয় কোথায়?

খ. হযরত উসমান (রা) কে জামিউল কুরআন বলা হয় কেন?

গ. আল কুরআনের ভাষায় আজমলকে কী নামে অভিহিত করা যায়? ব্যাখ্যা করো।

ঘ. আজমলের পরিণতি সুরা বাকারার আলোকে বিশ্লেষণ করো।

 

 প্রশ্নের উত্তরঃ-

 

ক) সম্পূর্ণ কুরআন সর্বপ্রথম সংরক্ষিত হয় লাওহে মাহফুজে।

হযরত উসমান (রাঃ) কে জামিউল কুরআন বলা হয় কেন?

খ) কুরআনকে বিকৃতির হাত থেকে রক্ষা করে কুরআন পাঠের অভিন্ন রীতি চালু করায় হযরত উসমান (রা)কে জামিউল কুরআন বলা হয়।হযরত উসমান (রা) এর সময় ভিন্ন ভিন্ন রীতিতে কুরআন পাঠের ফলে বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়। এই অবস্থা থেকে পরিত্রাণের জন্য কুরআনের প্রথম পাণ্ডুলিপিটি থেকে সাতটি কপি তৈরি করা হয়।

 

গ) আল কুরআনের ভাষায় আজমলের চরিত্র বিশ্লেষণ করে তাকে মুনাফিক হিসেবে আখ্যায়িত করা যায়।

মুনাফিক (المُنَافِق) আরবি শব্দ। এর অর্থ ভণ্ড, প্রতারক, দ্বিমুখী নীতি বিশিষ্ট প্রভৃতি। অর্থাৎ যাদের অন্তরে নিফাক তথা ভণ্ডামি, প্রতারণা, ধোঁকাবাজি প্রভৃতি বৈশিষ্ট্য বিদ্যমান তারাই মুনাফিক। মুনাফিকরা লোক দেখানোর জন্য বাহ্যিকভাবে ইমানদারসুলভ আচরণ করে। প্রকৃতপক্ষে তারা অন্তরের দিক দিয়ে অবাধ্য, মিথ্যাবাদী। তারা গোপনে নানা অপরাধমূলক কাজ করে বেড়ায়। মহান আল্লাহ সুরা বাকারার ২য় রুকুর আয়াতসমূহে মুনাফিকদের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের স্বরূপ উন্মোচন করেছেন, যা আজমলের চরিত্রেও লক্ষণীয়।উদ্দীপকের আজমল সাহেব মুখে একরকম বলে, কিন্তু অন্তরে অন্য ধারণা পোষণ করে। লোক দেখানোর জন্য সে নামাজ আদায় করে। অর্থাৎ তিনি দ্বিমুখী চরিত্রের লোক এবং তার ইবাদত লোক দেখানোর জন্য। এটি মুনাফিকের বৈশিষ্ট্য। সূরা আল বাকারার ২য় রুকুতে মুনাফিকদের এরূপ দ্বিমুখী আচরণের কথা বলা হয়েছে। তারা আল্লাহ ও ইমানদারদের ধোঁকা দেওয়ার জন্য মুখে ইমানের কথা বলে, প্রকৃতপক্ষে তারা ইমানদার নয়। আবার সুরা মাউনে মুনাফিকের বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে বলা হয়েছে-তারা লোক দেখানোর জন্য সালাত আদায় করে। জনাব আজমলের এরূপ নামাজ আদায় লোক দেখানোর শামিল। সুতরাং কুরআনের ভাষায় আজমল একজন মুনাফিক।

 

ঘ) সুরা আল বাকারার ২০ নং আয়াতে জনাব আজমলের মতো মুনাফিকদের করুণ পরিণতির ব্যাপারে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।

মুনাফিকরা পথভ্রষ্ট ও শঠতাপূর্ণ জীবনযাপন করে। এর ফলে তারা আল্লাহর অনুগ্রহ ও রহমত থেকে বঞ্চিত হয় এবং চিরস্থায়ী ক্ষতিই তাদের প্রাপ্য। তারা পৃথিবীতে যেমন ক্ষতির সম্মুখীন হয়, তেমনি পরকালের জীবনেও মহাশাস্তি ভোগ করে। অর্থাৎ তারা চিরস্থায়ী ধ্বংসের মুখে পতিত হয় এবং এর থেকে তাদের কোনো মুক্তি নেই। সুরা আল বাকারার ২০ নং আয়াতে আল্লাহ তায়ালা মুনাফিকদের কর্মতৎপরতা ও দূরবস্থার বাস্তাব চিত্র উপস্থাপন করেছেন। এ আয়াতের শিক্ষা এরূপ যে, মুনাফিকরা চরম হতভাগ্য। মুমিনদের সাথে থেকে তাদের মতো বাহ্যিক আচরণ করেও তারা হেদায়াতের পথে চলার সৌভাগ্য থেকে বঞ্চিত হয়। পৃথিবীতে তাদের জীবন যেমন অসম্মান ও অবিশ্বাসে ভরা থাকে, পরকালেও তারা কল্পনাতীত যন্ত্রণা ও আজাবে নিমজ্জিত থাকবে। বস্তুত তারা চিরস্থায়ী ধ্বংস ও ক্ষতিতে পতিত হবে। সুতরাং দেখা যাচ্ছে, মুনাফিকের জীবন বেছে নেওয়ায় জনাব আজমল এরূপ দুর্ভাগ্যের শিকার হবেন। মিথ্যা ও শঠতার পথ অবলম্বন করায় তিনি আল্লাহর অনুগ্রহ থেকে বঞ্চিত হবেন এবং কঠিন আজাবের সম্মুখীন হবেন।

উপরের আলোচনা থেকে বলা যায়, মুনাফিকদের শাস্তি কঠোর ও যন্ত্রণাদায়ক। তাই জনাব আজমলের এর উচিত পরিপূর্ণভাবে ইমান আনা এবং আল্লাহর বিধান অনুসারে জীবনযাপন করা।