ওহি বলতে কী বোঝ?

উদ্দীপকঃ-

=> আরাফাত আলী পরহেজগার মানুষ। ফরজ ইবাদাতের পাশাপাশি তিনি সর্বোত্তম নফল ইবাদতটি আবৃত্তির মাধ্যমে পালন করেন। ইসলামি চিন্তাবিদ প্রফেসর আতিয়ার রহমান বলেন, সর্বশেষ ঐশী বাণীসমূহ রাসুলের (সা.) যুগে বিভিন্নভাবে সংরক্ষণ করা হয়।

 

ক. পবিত্র কুরআনের সর্ববৃহৎ সুরা কোনটি?

খ. ওহি বলতে কী বোঝ?

গ. উদ্দীপকে বর্ণিত “সর্বোত্তম নফল ইবাদত” দ্বারা কী বোঝানো হয়েছে? ব্যাখ্যা করো।

ঘ. প্রফেসর আতিয়ার রহমানের উক্তিটি বিশ্লেষণ করো।

 

প্রশ্নের উত্তরঃ-

 

ক) পবিত্র কুরআনের সর্ববৃহৎ সুরা ‘সুরা আল বাকারা’।

 ওহি বলতে কী বোঝ?

খ) আসমানি কিতাবসমূহ অবতরণের মাধ্যমকে ওহি বলে। ওহি অর্থ ইঙ্গিত করা, ইশারা করা। শরিয়তের পরিভাষায় আল্লাহ তায়ালা কর্তৃক তাঁর নবি রাসুলদেরকে ফেরেশতার মাধ্যমে, স্বপ্নযোগে কিংবা ইলহামের মাধ্যমে কোনো বিষয় জানিয়ে দেওয়াকে ওহি বলা হয়। আসমানি কিতাব অবতরণের ধারা শুরু হয় হযরত আদম (আ.) এর মাধ্যমে এবং শেষ হয় হযরত মুহাম্মদ (স) এর মাধ্যমে। ওহির মাধ্যমেই রাসুল (স) এর ওপর কুরআন এবং হাদিস অবতীর্ণ হয়।

 

গ) সর্বোত্তম নফল ইবাদত দ্বারা কুরআন তিলাওয়াত বোঝানো হয়েছে। আল্লাহ মানুষকে সৃষ্টি করেছেন তাঁর ইবাদতের জন্য। আল্লাহর নির্দেশনা মেনে বিভিন্ন উপায়ে তাঁর ইবাদত করা যায়। ইসলামে ইবাদতসমূহের মধ্যে কুরআন পাঠ অন্যতম। রাসুল (স) কুরআন পাঠকে সর্বাধিক ফজিলতপূর্ণ ইবাদত হিসেবে উল্লেখ করেছেন। আরাফাত আলীও এ ইবাদত পালন করেন।উদ্দীপকের আরাফাত আলী ফরজ ইবাদতের পাশাপাশি সর্বোত্তম নফল ইবাদত তথা কুরআন তিলাওয়াত করেন। কেননা নবিজি (স) ইরশাদ করেছেন, ‘কুরআন তিলাওয়াতই সর্বোত্তম ইবাদত (বায়হাকি)।’ ইমাম আযম আবু হানিফা (র) বলেন, আমি সত্তরবার স্বপ্নযোগে নবিজি (স) কে জিজ্ঞাসা করেছি সর্বোত্তম নফল ইবাদত কোনটি; রাসুল (স) প্রতিবারই বলেছেন, ‘কুরআন তিলাওয়াত’। কুরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে আল্লাহর আনুগত্য প্রকাশ পায়। এর মাধ্যমে হালালকে হালাল এবং হারামকে হারামরূপে চিহ্নিত করে ব্যক্তিজীবন পরিচালনা করা যায়। আর কুরআন তিলাওয়াত করার পুরস্কার হিসেবে তিলাওয়াতকারী জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবেন এবং তার আত্মীয়-স্বজনের মধ্যে থেকে দশ জনের জন্য সুপারিশ করতে পারবেন। অর্থাৎ আরাফাত আলী যেভাবে কুরআন তিলাওয়াত করেন তা দ্বারা তিনি সর্বাধিক সওয়াব হাসিল করবেন। তিনি আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের মাধ্যমে ইহকাল ও পরকালে সম্মানিত হবেন।

 

ঘ) প্রফেসর আতিয়ার রহমান কুরআন সংরক্ষণের পদ্ধতি সম্পর্কে বক্তব্য প্রদান করেছেন।

কুরআন মজিদ সর্বশ্রেষ্ঠ আসমানি কিতাব। আল্লাহ তায়ালা মানুষের উপযোগী করে মহানবি (স) এর ওপর এটা অবতীর্ণ করেন। তাঁর পবিত্রতম সত্তা থেকে নাজিল হওয়ার পর কুরআন মজিদ সংরক্ষণের বিভিন্ন পদ্ধতি অবলম্বন করা হয়। আতিয়ার রহমানের বক্তব্যে এ বিষয়টির ইঙ্গিত আছে।উদ্দীপকের প্রফেসর আতিয়ার রহমান বলেন, রাসুল (স) এর যুগে কুরআনকে বিভিন্ন পদ্ধতিতে সংরক্ষণ করা হয়। বস্তুত কুরআন নাজিল হওয়া শুরু হলে যখন যেটুকু নাজিল হত নবিজি (স) সাথে সাথে তা কন্ঠস্থ করে নিতেন। তাছাড়া মহানবি (স) এর সাহাবিরা কুরআন হিফজ বা মুখস্থ করে সংরক্ষণের ক্ষেত্রে অবিস্মরণীয় ভূমিকা পালন করেন। কোনো আয়াত নাজিল হলে নবিজি সাহাবিদেরকে তা তিলাওয়াত করে শুনাতেন, এভাবে তাঁদের কুরআন মুখস্থ হয়ে যেত। অপরদিকে সাহাবিদের মধ্যে যারা লেখতে জানতেন তাঁরা মুখস্থ করার পাশাপাশি লিখে কুরআন সংরক্ষণ অব্যাহত রাখেন। তাঁরা চামড়া, পাথর পাতা, হাড় প্রভৃতিতে কুরআন লিখে রাখতেন। রাসুলুল্লাহ (স)-এর ইন্তেকালের পর সর্বপ্রথম হযরত আবু বকর (রা) এর খিলাফতকালে কুরআন সংরক্ষণ প্রক্রিয়া নতুন যুগে প্রবেশ করে। তাঁর শাসনামলে হযরত উমর (রা)-এর পরামর্শে ও যায়েদ বিন সাবিত (রা)-এর তত্ত্বাবধানে সমগ্র কুরআন গ্রন্থাবদ্ধ করা হয়। তৃতীয় খলিফা হযরত উসমান (রা) তার খিলাফতকালে দ্বিতীয়বার সংকলন করা হয় এবং উসমান (রা) এর খিলাফতকালে সংকলিত কুরআন আজও পৃথিবীতে প্রচলিত।

সুতরাং বলা যায়, কুরআন প্রথমত মুখস্থকরণ পদ্ধতিতে সংরক্ষণ করে পরবর্তীতে গ্রন্থাবদ্ধ করা হয়েছে।

 

উদ্দীপকঃ-

=> মাওলানা আব্দুস সামাদ বলেন, সমাজে কিছু লোক আছে, যারা অতিশয় নিকৃষ্ট। তারা ব্যক্তি স্বার্থের জন্য একে অপরের মাঝে শত্রুতার সৃষ্টি করে। সমাজের ক্ষতি করে শান্তি বিনষ্ট করে। পরকালে তাদের জন্য কঠিন শাস্তি অপেক্ষা করছে। অন্যদিকে মাওলানা গোফরান বলেন, একটি সময় কিছু লোক মুহাম্মদ (স.) কে পাগল ও তাঁর উচ্চারিত বাণীকে পাগলের প্রলাপ বললে তাদেরকে এরূপ বাণী তৈরি করে নিয়ে আসতে বলা হয়। এতে তারা পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছিল।

 

খ. নিম্নোক্ত আয়াতের অর্থ কি?

 سُبْحَانَكَ لَا عِلْمَ لَنَا إِلَّا مَا عَلَّمْتَنَا.

গ. মাওলানা আব্দুস সামাদের বক্তব্যে কাদেরকে বুঝানো হয়েছে? ব্যাখ্যা করো।

ঘ. মাওলানা গোফরানের বক্তব্যে ইঙ্গিতবাহী ঘটনাটি বিস্তারিত আলোচনা কর।

 

 প্রশ্নের উত্তরঃ-

খ) প্রশ্নোল্লেখিত আয়াতে ফেরেশতাদের জ্ঞানগত সীমাবদ্ধতার বিষয়টি নির্দেশ করা হয়েছে।

ফেরেশতা আল্লাহর বিশেষ প্রজাতির সৃষ্টি। ফেরেশতাদেরকে ‘নূর’ দিয়ে সৃষ্টি করা হয়েছে। তাঁদের নিজ থেকে কোনো কাজ করার বা কোনো – বিষয়ে জ্ঞান লাভ করার ক্ষমতা নেই। ফেরেশতারা কেবল তাই করেন যা করার নির্দেশ আল্লাহ তাদের দেন। তাঁরা কেবল সেটুকুই জানতে পারেন যতটুকু জ্ঞান আল্লাহ তাদের দেন। তাঁরা সবসময় আল্লাহরই প্রশংসা করেন। তারা বলেন, “আপনি পূত-পবিত্র ও মহান। আপনি যা আমাদের শিখিয়েছেন, তাছাড়া আমাদের কোনো জ্ঞান নেই। সুনিশ্চিতভাবেই আপনি মহাজ্ঞানী এবং বিজ্ঞানময়।”

ওহি বলতে কী বোঝ?

গ) মাওলানা আব্দুস সামাদের বক্তব্যে মুনাফিকদেরকে বোঝানো হয়েছে। মুনাফিক )مُنَافِيٌّ( আরবি শব্দ। এর অর্থ ভণ্ড, প্রতারক, দ্বিমুখী নীতি বিশিষ্ট প্রভৃতি। অর্থাৎ যাদের অন্তরে নিফাক তথা ভণ্ডামি, প্রতারণা, বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি, ধোঁকাবাজি প্রভৃতি বৈশিষ্ট্য বিদ্যমান তারাই মুনাফিক। আব্দুস সামাদের বক্তব্যে এসব বৈশিষ্ট্যের লোকের ইঙ্গিত পাওয়া যায়। উদ্দীপকের মাওলানা আব্দুস সামাদ সমাজের নিকৃষ্ট, শত্রুতা সৃষ্টিকারী এবং শান্তি শৃঙ্খলা বিনষ্ট করে এমন কিছু লোকের ব্যাপারে আলোচনা করেন। অতএব বলা যায় তিনি মুনাফিক শ্রেণির কথা বলেছেন। বস্তুত মুনাফিকরা অন্তরে শত্রুতা ও বিরোধিতা গোপন রেখে বাইরে আনুগত্য প্রদর্শন করে মুসলমানদেরকে ধোঁকার মধ্যে ফেলে দেয়। তারা ব্যক্তি স্বার্থ উদ্ধারের জন্য মুসলমানদের কাছে নিজেদের মুসলিম এবং কাফিরদের কাছে কাফির বলে পরিচয় দেয়। তাছাড়া মুনাফিকরা সমাজে শান্তি শৃঙ্খলা বিনষ্ট করে বিশৃঙ্খলা ও বিপর্যয় সৃষ্টিতে মুখ্য ভূমিকা পালন করে। তাদের এসব কার্যকলাপের পরিণাম খুবই ভয়াবহ। আল্লাহ তায়ালা মুনাফিকদের শাস্তির কথা বর্ণনা করে বলেন, ‘নিশ্চয়ই মুনাফিকরা জাহান্নামের সর্বনিম্ন স্থানে অবস্থান করবে। (সুরা আন নিসা-১৪৫) সুতরাং দেখা যাচ্ছে মাওলানা আব্দুস সামাদ মুনাফিকদের বৈশিষ্ট্য বর্ণনা করেছেন।

 

ঘ) মাওলানা গোফরানের বক্তব্যে কাফিরদের প্রতি আল্লাহর কুরআন রচনার চ্যালেঞ্জ সম্পর্কিত ঘটনার ইঙ্গিত পাওয়া যায়।

কুরআন মজিদ মহান আল্লাহর ঐশী বাণী। পৃথিবীর একমাত্র নির্ভুল গ্রন্থের নাম কুরআন। স্বয়ং আল্লাহ তায়ালা কুরআনের সত্যতা ও নির্ভুলতার ঘোষণা দিয়েছেন। মাওলানা গোফরানের বক্তব্যে যার ইঙ্গিত লক্ষণীয়।উদ্দীপকের মাওলানা গোফরানের বক্তব্যে মক্কার কাফিররা যে নবিজিকে পাগল এবং কুরআনের বাণীকে পাগলের প্রলাপ বলত সে বিষয় প্রকাশ পেয়েছে। তাদের এরূপ বিদ্রুপের প্রতিবাদে আল্লাহ তায়ালা কুরআনের মত অন্য একটা গ্রন্থ রচনা করার জন্য কাফিরদের প্রতি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেন। বস্তুত কুরআন মজিদ আল্লাহর কালাম। তাঁর পক্ষ থেকে সত্য ও সন্দেহমুক্তভাবে এটি হযরত মুহাম্মদ (স) ওপর নাজিল হয়েছে। কুরআনের সব বক্তব্যই আল্লাহর। এতে মানুষের নিজস্ব বক্তব্য বলতে কিছু নেই। মানুষের পক্ষে কুরআনের মতো গ্রন্থতো নয়ই, এমনকি এর একটি ছোট সুরার ন্যায় সুরাও রচনা করা সম্ভব নয়। কুরআন মজিদ বিশ্বের সব দেশের মানুষের একমাত্র নির্ভুল হেদায়াত। কিন্তু এরপরেও একদল লোক কুরআনের ব্যাপারে সন্দেহ পোষণ করে। তাই তাদেরকে চ্যালেঞ্জ করে আল্লাহ বলেন, ‘আর আমি আমার বান্দার (মুহাম্মদ স.) ওপর যা নাজিল করেছি তার ওপর যদি তোমাদের সন্দেহ হয়, তাহলে তার অনুরূপ একটি সুরা নিয়ে আসো এবং আল্লাহ ব্যতীত তোমাদের সব সহযোগীকে ডাকো, যদি তোমরা সত্যবাদী হও। (সুরা বাকরা: ২৪)’। আল্লাহর এ চ্যালেঞ্জের জবাবে কাফিররা কখনো কুরআনের অনুরূপ গ্রন্থ রচনা করতে সক্ষম হবে না।

কিতাব বলতে কী বোঝায়?