ইহা পুলিশের ব্যাপার নহে- বহিপীর এ কথা বলার কারণ কী?

Table of Contents

উদ্দীপকঃ-

শাপলা বাড়ি থেকে পালিয়ে আশ্রয় নেয় করিমন খাতুনের কাছে। করিমন শাপলাকে বোঝায় স্বামী বুড়ো হলেও টাকা-পয়সার যেহেতু অভাব নেই, তার কাছে ফিরে গেলে সে সুখে থাকবে। কিন্তু শাপলা অনড়। জীবন গেলেও সে বুড়োর কাছে ফিরে যাবে না। করিমনের ছেলে শাহেদ আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত। সে তার মায়ের ধ্যান-ধারণার সাথে একমত না হয়ে শাপলার পক্ষ অবলম্বন করে।

ক) এরিস্টটল নাটকে কত প্রকার ঐক্যের কথা বলেছেন?

খ) ইহা পুলিশের ব্যাপার নহে- বহিপীর এ কথা বলার কারণ কী?

গ) শাপলার আচরণে ‘বহিপীর’ নাটকে তাহেরার কোন বৈশিষ্ট্যটি প্রকাশিত? ব্যাখ্যা কর।

ঘ) ‘করিমন খাতুন ও খোদেজা একই ভাবধারায় পরিপুষ্ট।’- ‘বহিপীর’ নাটক অবলম্বনে আলোচনা কর।

উত্তরঃ-

ক) এরিস্টটল নাটকে তিন প্রকার ঐক্যের কথা বলেছেন।

খ) অন্যায়ের ভয়ে ভীত হওয়ায় বহিপীর আলোচ্য উক্তিটি করেন।যেকোনো কূটকৌশল প্রয়োগ করে হলেও বহিপীর তাহেরাকে আয়ত্ত করতে চায়। তাই নানা ছলকলা প্রয়োগ করে যখন স্বার্থ হাসিল হয় না, তখন হকিকুল্লাকে পুলিশ খবর দিতে বলে। কিন্তু আইনের আশ্রয় নেওয়া যে অন্যায় ও অযৌক্তিক, তা বহিপীর উপলব্ধি করে। তাই হকিকুল্লাহর কথা প্রসঙ্গে সচেতন হয় আলোচ্য উক্তিটি করে।

গ) শাপলার আচরণে বহিপীর নাটকের তাহেরার অন্যায়ের প্রতিবাদী চেতনার বৈশিষ্ট্যটি প্রকাশিত।বহিপীর নাটকের কিশোরী তাহেরা অসম বিবাহের শিকার। পীরকে খুশি করতে তার বাবা-মা বৃদ্ধ পীরের সাথে তার বিয়ে দেয়। কিন্তু এ অন্যায় বিয়ে তাহেরা মেনে নিতে পারেনি। তাই সে কোনো কিছুতে পারোয়া না করে বাড়ি থেকে পালিয়ে যায় এবং জমিদার বজরায় আশ্রয় পায়। ঘটনাক্রমে বহিপীর সেখানে উপস্থিত হলে তাহেরার কথা জানতে পারে এ তাকে ফিরিয়ে নিতে সর্বাত্মক চেষ্টা করে। কিন্তু তাহেরা শর্ত দেয়। লোভ, কিংবা চাপ প্রয়োগে সিদ্ধান্তে অবিচল থেকেছে।উদ্দীপকের শাপলাও প্রতিবাদী নারী। বুড়ো স্বামীর সঙ্গে ঘর করতে সে কোনোভাবেই রাজি নয়। তাই আশ্রয়দাত্রী করিমন খাতুনের কথার প্রতিবাদে সে জানিয়ে দেয়। জীবন চলে যাবে তারপরও বুড়ো স্বামীর কাছে ফিরে যাবে না। শাপলার এই অন্যায়ের প্রতিবাদী রূপটি তাহেরার চরিত্রেও বহিপীরের কাছে ফিরে না যেতে চাওয়ায় প্রকাশ পায়। তাই বলা যায়, পঠিত নাটকের তাহেরার প্রতিবাদী বৈশিষ্ট্যটি উদ্দীপকের শাপলার আচরণে প্রকাশিত।

 

ঘ) সামাজিক কুপ্রথা ও অন্ধবিশ্বাস লালনে করিমন খাতুন ও খোদেজা একই ভাবধারায় পরিপুষ্ট। ‘বহিপীর’ নাটকের খোদেজা ধর্মান্ধ সমাজের পিছিয়ে পড়া মানুষ।অসম বিবাহের শিকার তাহেরা বাড়ি থেকে পালিয়ে এসে এক পর্যায়ে খোদেজার কাছে আশ্রয় পায়। খোদেজা মাতৃসম উদারতায় তাহেরাকে আশ্রয় দিলেও স্বামীর কাছে ফিলে যেতে বলে। তার মতে, স্বামী বৃদ্ধ হলেও তার সেবায় নিজেকে উৎসর্গ করতে হবে।তাই ঘটনাক্রমে তাহেরার স্বামী বহিপীর একই বজরায় আশ্রয় গ্রহণ করলে খোজেদা তার পরিচয় জানতে পেরে তাহেরার উপস্থিতির কথা জানিয়ে দেয়। বস্তুত, অন্ধবিশ্বাসে লালিত হওয়ায় কারণে তাহেরার প্রতি নিজ সন্তান হাশেমের সহানুভূতিকে সমর্থন না করে পীরের হাতেই তাহেরাকে তুলে দিয়ে মানসিক প্রশান্তি লাভ করতে চায়।উদ্দীপকের করিমন খাতুন ও সামাজিক কুপ্রথায় বিশ্বাসী নারী। বাড়ি থেকে পালিয়ে আসা শাপলাকে সে আশ্রয় দিলেও স্বামীর কাছে আবার ফিরে যেতে বলে। কারণ তার বিশ্বাস বয়স হরেও টাকা-পয়সা আছে শাপলা তাই স্বামীর ঘরে সুখে থাকবে। শাপলাকে স্বামীর কাছে ফিরে যেতে তাই সে চেষ্টা করে।করিমন খাতুন ও খোজেদা দুজনেই ধর্মান্ধ ও সামাজিক কুপ্রথায় বিশ্বাসী। মানবিক চেতনা অর্জিত হয়ে তারা অন্যায়কেই তাই সমর্থন করে। কুপ্রথায় ও সংস্কারে বিশ্বাসী বলে করিমন যেমন বৃদ্ধ স্বামীর কাছে শাপলাকে ফিরে যেতে বলেছে, ঠিক তেমনি খোজেদাও পুণ্যের আশায় তাহেরা বহিপীরের হাতে তুলে দিতে চেয়েছে। তাই বলা যায়, অন্ধ সংস্কার লালনে করিমন খাতুন ও খোদেজা একই ভাবধারাপুষ্ট- মন্তব্যটি যথার্থ।

উদ্দীপকঃ-

সোনাপুর গ্রামের হতদরিদ্র কৃষকের মেয়ে রূপা। টাকার লোভে তার গরিব বাবা এক বৃদ্ধ সম্পদশালী ব্যক্তির সাথে বিয়ে দেয়। এ বিয়েতে মত ছিল না রূপার। কিন্তু বাবার বিরুদ্ধে সে প্রতিবাদও করতে পারেনি।

ক) ‘বহিপীর’ নাটকের শেষ সংলাপ কার?

খ) ‘শাবাশ মেয়ে তুমি’ কথাটি কেনো বলা হয়েছিল?

গ) উদ্দীপকের রূপা চরিত্রের সঙ্গে ‘বহিপীর’ নাটকের যে চরিত্রের সাদৃশ্য আছে তা ব্যাখ্যা কর।

ঘ) “উদ্দীপকে বর্ণিত দিকটিই ‘বহিপীর’ নাটকের একমাত্র দিক নয়”- যুক্তিসহ বুঝিয়ে লেখ।

 

উত্তরঃ-

ক) ‘বহিপীর’ নাটকের শেষ সংলাপ বহিপীরের।

গ) উদ্দীপকের রূপা চরিত্রের সাথে ‘বহিপীর’ নাটকের তাহেরা চরিত্রের সাদৃশ্য রয়েছে। ‘বহিপীর’ নাটকে কিশোরী মেয়ে তাহেরা। তার মা-বাবা বহিপীরের অন্ধভক্ত। তাই তারা পুণ্য লাভের আশায় তাকে বহিপীরের সাথে বিয়ে দেয়। এক্ষেত্রে মেয়ে হিসেবে তাহেরার মতামত নেওয়ার কোনো প্রয়োজন মনে করে না, কিন্তু বিয়ের পূর্বে সে কোনো প্রতিবাদ করতে পারে না। উদ্দীপকে রূপা হতদরিদ্র পরিবারের মেয়ে। টাকার লোভে তার বাবা তাকে এক ধনী বয়স্ক পাত্রের সাথে বিয়ে দেয়। কিন্তু রূপার এই বিয়েতে মত ছিল না। কিন্তু এর বিরুদ্ধে সে কোনো প্রতিবাদও করতে পারে না; যা নাটকের তাহেরার মধ্যে বিদ্যমান। তাই বলা যায়, রূপার সাথে তাহেরার সাদৃশ্য রয়েছে।

ঘ) উদ্দীপকের ভাববস্তুতে অন্যায় বিয়ের বিষয়টি বর্ণিত হয়েছে, যা ‘বহিপীর’ নাটকের সামগ্রিক দিক প্রকাশ করে না।বহিপীর’ নাটকের মূল বিষয় ধর্ম, এখানে বহিপীর ধর্মকে পুঁজি করে স্বীয় স্বার্থোদ্ধারে তৎপর থাকে। তার অন্ধভক্ত মানুষেরা অশিক্ষার কারণে তার হাতে তুলে দেয় নিজেদের সর্বস্ব; যা তাহেরার বাবা-মায়ের কিশোরী তাহেরাকে তার সাথে বিয়ে দেওয়ার মধ্যে লক্ষ করা যায়। কিন্তু তাহেরা এই অন্যায় বিয়ে মেতে নিতে পারেনি। তাই সে বাড়ি থেকে পালিয়ে গিয়ে প্রতিবাদ করেছে। এ ছাড়া ধর্মীয় গোঁড়ামির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করে তাহেরা আধুনিক যুগের শুরুতে হয়ে উঠেছে নারীজাগরণের প্রতীক।উদ্দীপকে রূপা দরিদ্র ঘরের মেয়ে। তার বাবা তাকে অর্থের লোভে এক বৃদ্ধের সাথে বিয়ে দেয়। কিন্তু রূপার এ বিয়েতে মত ছিল না, কিন্তু এ অন্যায়ের বিরুদ্ধে সে প্রতিবাদও করতে পারে না। উদ্দীপকে শুধু অন্যায় বিয়ের কথা বর্ণিত হয়েছে। কিন্তু নাটকে এর পাশাপাশি ধর্মীয় গোঁড়ামি ও এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদের প্রতীক হিসেবে তাহেরার উপস্থিতির কথা তুলে ধরা হয়েছে। তাই বলা যায়, উদ্দীপকটি নাটকের সামগ্রিক দিক প্রকাশ করে না।

 

উদ্দীপকঃ-

আয়েশা বেগম পীর সাহেবের ভক্ত। পীর সাহেব ধর্মের কথা শোনান। অভিশাপের কথা শোনান। পীর সাহেব বাড়িতে এলে আয়েশা বেগম সেবা যত্নের ত্রুটি করেন না। তার বড় ছেলে এসব পছন্দ করে না। একদিন মাকে বাধা দিলে মা অভিশাপের ভয়ে শিউরে ওঠে।

ক) ‘লীলাবতী’ নাটকটি কার লেখা?

খ) তাকে বিয়ে করে হলেও বাঁচাবো- কে কেন এ উক্তি করেছে?

গ) উদ্দীপকের আমেনা বেগম কার প্রতিনিধিত্ব করে? চরিত্রটি ব্যাখ্যা কর।

ঘ) ‘উদ্দীপকটিতে ফুটে ওঠা ভাব ‘বহিপীর’ নাটকের সম্পূর্ণ প্রতিচ্ছবি নয়।’ মূল্যায়ন কর।

 

উত্তরঃ-

ক) ‘লীলাবতী’ নাটকটি দীনবন্ধু মিত্রের লেখা।

খ) তাহেরাকে বহিপীরের হাত থেকে বাঁচানোর জন্যে হাশেম আলি প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি করে।তাহেরার অসম্মতিতে তার পিতা-মাতা এক বয়স্ক পীরের সাথে তার বিয়ে দেয়। কিন্তু তাহেরা তাকে স্বামী হিসেবে গ্রহণ না করে পালিয়ে গিয়ে শহরগামী হাতেম আলির বজরায় আশ্রয় গ্রহণ করে। বহিপীরও সেখানে যায় এবং তাহেরাকে ফিরে পেতে নানা কৌশল অবলম্বন করে। কিন্তু হাতেম আলির ছেলে হাশেম তাকে বাঁচানোর জন্য তার মাকে বোঝায় এবং প্রয়োজনে বিয়ে করে হলেও বাঁচানোর কথা বলে।

গ) উদ্দীপকের আয়েশা বেগম ‘বহিপীর’ নাটকের খোদেজা চরিত্রের প্রতিনিধিত্ব করে।খোদেজা বজরার মালিক হাতেম আলির স্ত্রী, তিনি অত্যন্ত সহজ- সরল ও ধর্মভীরু। বজরায় তাহেরা নামক একটি মেয়ে আশ্রয় নিলে তিনি তার দুঃখের কাহিনি শুনে ব্যথিত হয়েছেন। তাহেরার বিয়ের বিষয় অন্যায় জেনেও তিনি পীর সাহেবের অভিশাপের ভয়ে ভীত থেকেছেন। তিনি ধর্ম ভীরু হলেও কুসংস্কারাচ্ছন্ন ছিলেন, তাই তাহেরার বিষয়ে তিনি পীরের পক্ষ নিয়েছিলেন। চিরায়ত বাঙালি মায়ের প্রতিমূর্তি তার মধ্যে প্রতিফলিত হয়েছে।উদ্দীপকে দেখা যায়, আয়েশা বেগম একজন ধর্মভীরু মহিলা। তিনি একজন পীর সাহেবের ভক্ত, পীর সাহেবের সব কথা তিনি মনোযোগ দিয়ে শোনেন। পীর সাহেব তার বাড়িতে আসলে তিনি খুবই সেবা যত্ন করেন। করেন। তার বড় ছেলে এসব পছন্দ করে না এবং মাকে বাধা দিলে তিনি পীর সাহেবের ভয়ে শিউরে ওঠেন। উদ্দীপকের আয়েশার মতো উপন্যাসের খোদেজাও পীর সাহেবের ভক্ত এবং ছেলের মঙ্গলের জন্য তিনি পীরসাহেবকেও খুবই ভয় করে চলেন। চারিত্রিক এই বৈশিষ্ট্যের কারণে বলা যায়, উদ্দীপকের আয়েশা বেগম নাটকের খোদেজার প্রতিনিধিত্ব করে।

ঘ) সামগ্রিক বিশ্লেষণে উদ্দীপকটিতে ‘বহিপীর’ নাটকের সমগ্রভাব ফুটে ওঠেনি।বহিপীর নাটকের পীর সাহেব বইয়ের ভাষায় কথা বলেন এবং ধর্মের বাণী প্রচার করেন বলে তাকে বহিপীর বলে। বাংলার বিভিন্ন অঞ্চলে তার অসংখ্য ভক্ত-মুরিদ রয়েছে এবং সারা বছর সেসব অঞ্চল ঘুরে ফিরে তার সময় কাটে। একজন মুরিদ পুণ্যলাভের আশায় তার মেয়ে তাহেরাকে পীর সাহেবের সাথে বিয়ে দিলে, সে মেয়ে পালিয়ে একটি বজরায় আশ্রয় নেয়। বজরার মালিক হাতেম আলির ছেলে হাশেম তাকে বাঁচাতে সর্বাত্মক চেষ্টা করে; এমনকি তাকে বিয়ে করে হলেও পীর সাহেবের হাত থেকে তাকে বাঁচাতে চায়। হাশেমের মা খোদেজা পীরের অভিশাপের ভয়ে ছেলের পক্ষ না নিয়ে পীরের পক্ষ নিয়ে মেয়েকে বোঝাতে থাকে। কিন্তু হাশেম পীর সাহেবের কৌশল উপেক্ষা করে তাহেরাকে নিয়ে নতুন পথে পা বাড়ায়।উদ্দীপকে ফুটে উঠেছে আয়েশা বেগমের পীর ভক্তির কাহিনি। তিনি পীর সাহেবকে খুবই শ্রদ্ধা-ভক্তি করেন, পীর সাহেবও তাকে নানা ধর্মের কথা শোনান এবং অভিশাপের কথা শোনান। পীর সাহেব তার বাড়িতে আসলে সেবা-যত্নের কোনো ত্রুটি করেন না, এমনকি তার বড় ছেলে বাধা দিলে তিনি পীরের বদদোয়ার কথা ভেবে আতঙ্কিত হন।উপরোক্ত আলোচনায় দেখা যায়, উদ্দীপকে শুধু পীরভক্তি এবং পীরের অভিশাপের বিষয়ে আয়েশা বেগমের মনোভাব প্রকাশ পেয়েছে। কিন্তু ‘বহিপীর’ নাটকে খোদেজার পীরভক্তি, পীরের অভিশাপের প্রসঙ্গ ছাড়াও নানা ঘটনা স্থান পেয়েছে। পীর সাহেবের পরিচয়, তাহেরার প্রতিবাদী চেতনা, জমিদারি প্রথা, মা ও সন্তানের মধ্যে যুক্তি-তর্ক, হাশেম-তাহেরার পালিয়ে যাওয়ার ঘটনাসহ নানা বিষয় সরস ভাষায় চিত্রিত হয়েছে। তাই প্রসঙ্গত বলা যায়, উদ্দীপকটিতে ফুটে ওঠা ভাব ‘বহিপীর’ নাটকের সম্পূর্ণ প্রতিচ্ছবি নয়।

উদ্দীপকঃ-

পাবনা জেলার অন্তর্গত ছাইকোলা গ্রামের একজন সম্ভ্রান্ত ব্যক্তি নিজাম উদ্দিন। তিনি পীর বংশের লোক। তাই সকলে তাঁকে পীর হিসেবেই মান্য করে। তিনিও সেভাবেই চলাফেরা করতেন। তার মৃত্যুর পর ছেলে তাপস সাহেব তাঁর স্থলাভিষিক্ত হন। তাপস সাহেব গ্রামের কলেজের প্রফেসর। মুরিদানেরা এখন তার কাছেই আসে এবং বিভিন্ন জিনিসপত্র তাকে নজরানা দেয়। তিনিও বাড়তি লাভের আশায় সবকিছু গ্রহণ করেন।

ক) নীল দর্পণ নাটকটি কার লেখা?

খ) তাহেরা পীর সাহেবের সাথে যেতে চাইল কেন?

গ) উদ্দীপক ও ‘বহিপীর’ নাটকের সাদৃশ্য বর্ণনা কর।

ঘ) ‘উদ্দীপকটি বহিপীর নাটকের খণ্ডাংশ মাত্র।’- বিশ্লেষণ কর।

উত্তরঃ-

ক) ‘নীল দর্পণ’ নাটকটি দীনবন্ধু মিত্রের লেখা।

খ) হাতেম আলির জমিদারি বাঁচাতে তাহেরা পীর সাঁহেবের সাথে যেতে চাইল।বালিকা তাহেরা বৃদ্ধ পীরকে স্বামী হিসেবে মেনে না নিয়ে হাতেম আলির বজরায় আশ্রয় নেয়। বহিপীর ত্রীর সন্ধানে একই বজরায় গমন করে, অন্যদিকে হাতেম আলির জমিদারি সূর্যাস্ত আইনে নিলামে উঠতে চলেছে। এ কারণে হাতেম আলি বড় চিন্তিত ছিলেন, কিন্তু পীর সাহেব জমিদারি বাঁচাতে তাকে তাহেরার বিনিময়ে টাকা দিতে চায়। তাহেরা আসল ঘটনা জানতে পেরে, হাতেম আলির জমিদারি ও পরিবারকে বাঁচাতে পীরের সাথে চলে যাওয়ার কথা বলে।

 

গ) উদ্দীপকের সাথে ‘বহিপীর’ নাটকের সাদৃশ্য হলো কুসংস্কারাচ্ছন্ন মানুষের ধর্ম বিশ্বাসকে পুঁজি করে ধর্ম ব্যবসা করার বিষয়টিতে।।’বহিপীর’ নাটকে বহিপীর একজন ধর্ম ব্যবসায়ী। সে মানুষের ধর্ম ব্যবসাকে পুঁজি করে স্বীয় স্বার্থোদ্ধার করে বেড়ায়। তার কবলে পড়ে সাধারণ মানুষ সর্বস্বান্ত হয়। সে ধর্মীয় অপব্যাখ্যা দিয়ে মানুষকে ভুল পথে পরিচালিত করে। এতে সাধারণ মানুষ তাকে অন্ধভাবে বিশ্বাস করে এবং তার তরে নিজেকে নিবেদন করার মধ্যে সুখ খুঁজে।উদ্দীপকে নিজাম উদ্দীন পীর বংশের লোক বলে সবাই তাকে পীর বলে মান্য করে। এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে সেও স্বার্থোদ্ধার করে। আবার দেখা যায় তার মৃত্যুর পর তার ছেলে সাধারণ মানুষের ধর্ম বিশ্বাসকে পুঁজি করে নিজের পকেট ভারি করে। নাটকেও ধর্ম ব্যবসাীদের ভণ্ডামির দিকটি বিদ্যমান। তাই বলা যায়, ধর্ম ব্যবসায়ের বিষয়টিতে উদ্দীপক ও ‘বহিপীর’ নাটক সাদৃশ্যপূর্ণ।

 

ঘ) উদ্দীপকে শুধু ধর্ম ব্যবসার কথা বলা হয়েছে, যা ‘বহিপীর’ নাটকের খণ্ডাংশ মাত্র।’বহিপীর’ নাটকের মূল বিষয় ধর্মকেন্দ্রিক পীর ব্যবসা। এখানে বহিপীর ধর্মকে পুঁজি করে মানুষের সবকিছু ব্যক্তিস্বার্থ চরিতার্থ লুট করে। তার কবলে পড়ে কিশোরী তাহেরাকে তার বাবা মা তার সাথে বিয়ে দেয়। কিন্তু এ অন্যায় বিয়ে সে মেনে নেয় না। সে বাধ্য হয়ে বাড়ি থেকে পালিয়ে বজরায় আশ্রয় নেয়। এ সময় হাশেম আলি ও সে একত্র হয়ে বহিপীরের ভণ্ডামির বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়ে ওঠে।উদ্দীপকের নিজাম উদ্দীন পীর বংশের লোক। এতে সাধারণ মানুষ তাকে পীর হিসেবে সম্মান করে। এই সুযোগে সাধারণ মানুষকে বোকা বানিয়ে স্বীয় স্বার্থোদ্ধার করে আবার তার মৃত্যুর পর তার ছেলে পীর নির্বাচিত হলে সেও বাবার মতো ভণ্ডামির আশ্রয় নেয়। নাটকে ধর্ম ব্যবসা, মানবিকতা, প্রতিবাদ, কুসংস্কার ও জমিদার প্রথার বিলুপ্তি দেখানো হয়েছে। আর উদ্দীপকে শুধু ধর্ম ব্যবসার দিকটি বিদ্যমান। তাই বলা যায়, উদ্দীপকটি নাটকের খন্ডাংশ মাত্র।

উদ্দীপকঃ-

ধনী পরিবারের ছেলে দেখে সালমার অমতে বিয়ে ঠিক করল তার বাবা। বিশ্ববিদ্যালয় পড়য়া সালমা চায় লেখাপড়া শেষ করে কর্মকর্তা হতে। যৌতুক লেনদেনের কাজ চলছে। এমন সময় পুলিশ এসে উপস্থিত হয়। কারণ সালমা আগে থেকেই পুলিশকে সবটা জানিয়েছিল। অনিচ্ছাকৃত বিয়ে থেকে রেহাই পায় সালমা।

ক) বজরা কোন ঘাটে থেমেছিল?

খ) জমিদার হাতেম আলির মনে শান্তি নেই কেন?

গ) উদ্দীপকের সাথে বহিপীর নাটকের বৈসাদৃশ্য নিরূপণ কর।

ঘ) বহিপীর’ নাটকের তাহেরা এবং উদ্দীপকের সালমা এই চরিত্রদ্বয়ের মধ্যে কার মনোভাব বর্তমান সমাজ পরিবর্তনের জন্য অধিকতর কার্যকরী বলে তুমি মনে কর? ব্যাখ্যা কর।

 

উত্তরঃ-

ক) বজরা ডেমরার ঘাটে থেমেছিল।

গ) নিজ ইচ্ছোর বিরুদ্ধে আয়োজন করা বিয়ের বিরুদ্ধাচার করার দিক দিয়ে উদ্দীপক ও বহিপীর নাটকের মধ্যে বৈসাদৃশ্য বিদ্যমান। বহিপীর নাটকের তাহেরা সৎমার সংসারে বড় হওয়া এক মেয়ে।তার কুসংস্কারাচ্ছন্ন বাবা আর সৎমাতা তাকে নিজ ইচ্ছের বিরুদ্ধে জোর করে বৃদ্ধ পীরের সাথে বিয়ের ব্যবস্থা করে। কিন্তু এ অসম বিয়ে মেনে নেয়নি সে। সে বিয়ে বন্ধ করার ব্যবস্থা না করতে পারলেও বিয়ের পর বাড়ি থেকে পালিয়ে যায়। পরবর্তীকালে সে বিয়ে ও স্বামীকে অস্বীকার করে।উদ্দীপকে সালমার বাবা তার অমতেই ধনী পরিবারের ছেলের সাথে বিয়ের আয়োজন করে। কিন্তু লেখাপড়া চালিয়ে যেতে চাওয়া সালমা এ বিয়ে মেনে নিতে পারে নি। তাই পুলিশকে খবর দিয়ে বিয়ে বন্ধ করে এবং অনিচ্ছাকৃত বিয়ের হাত থেকে রেহাই পায়। ফলে উদ্দীপকের সালমাকে বহিপীর নাটকের তাহেরার মতো বাধ্য হয়ে বিয়ে করতে হয়নি এবং পালাতেও হয়নি। তাই  উপর্যুক্ত আলোচনা শেষে আমরা বলতে পারি অনিচ্ছাকৃত বিয়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের ধরনের দিক দিয়ে উদ্দীপকের সাথে বহিপীর নাটকের বৈসাদৃশ্য সৃষ্টি হয়েছে।

ঘ) ‘বহিপীর’ নাটকের তাহেরা এবং উদ্দীপকের সালমা চরিত্রদ্বয়ের মধ্যে সমাজ পরিবর্তনের জন্য সালমা চরিত্রই অধিকতর কার্যকর।’বহিপীর’ নাটকের তাহেরা একটি অনমনীয়, স্বাধীনতার চেতনায় বিশ্বাসী একটি নারী চরিত্র। নিজ ইচ্ছের বিরুদ্ধে আয়োজিত বিয়ের পিঁড়িতে তাকে বসতে হয়। কিন্তু সেই বিয়ে ও বৃদ্ধ পীর স্বামীকে সে মেনে নিতে পারে না। তাই বাড়ি থেকে পালিয়ে অজানার উদ্দেশ্যে পাড়ি জমায়। একসময় জমিদারপুত্র হাশেম আলির হাত ধরে নবজীবনের পথে ধাবিত হয়ে বৃদ্ধ পীর স্বামীর কবল থেকে রক্ষা পায়।উদ্দীপকের বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া সালমা স্বপ্ন দেখে জীবনে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার, উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা হওয়ার। কিন্তু সালমার অমতেই যৌতুক প্রদানের মাধ্যমে ধনী পরিবারের এ ছেলের সাথে বিয়ের আয়োজন করে তার বাবা। বুদ্ধিমতী সালমা আগে থেকেই পুলিশকে খবর দিয়ে রাখে। বিয়ের আসর বসার আগেই যৌতুক লেনদেনের সময় পুলিশ উপস্থিত হয়ে বিয়ে বন্ধ করে দেয়। ফলে ব্যক্তিস্বাধীনতায় বিশ্বাসী সালমা জোর করে আয়োজিত বিয়ের কবল থেকে রক্ষা পায়। বিশ শতকের প্রারম্ভে তাহেরার মতো গ্রাম্য বালিকার অসম বিয়ের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ নিঃসন্দেহে প্রশংসার দাবি রাখে। কিন্তু উদ্দীপকে সালমা নিজের অনিচ্ছা সত্ত্বেও চাপিয়ে দেওয়া বিয়ে বন্ধ করতে যে কর্মতৎপরতা দেখিয়েছে তাতে একথা বলা যায়, সমাজের মানুষরা ভবিষ্যতে এমন বিয়ের আয়োজন থেকে বিরত থাকবে। তাই উপযুক্ত আলোচনা শেষে আমরা এ কথা বলতে পারি কন্যার অমতে বিয়ের আয়োজন করায় সমাজের বদ্ধমূল ধারণাকে প্রতিহত করতে বহিপীর নাটকের তাহেরার চেয়ে উদ্দীপকের সালমা অধিকতর কার্যকরী মনোভাবের পরিচয় দিয়েছেন।

 উদ্দীপকঃ-

অনেক ছোট বয়সে রাফেজা বেগমের বিয়ে হয়ে যায়। তার লেখাপড়ার আগ্রহ ছিল অদম্য। শুশুরবাড়ির লোকজন তার এ আগ্রহকে ভালো চোখে দেখেনি। কিন্তু রাফেজা এ সকল প্রতিবন্ধকতাকে দূরে ঠেলে স্বামীকে রাজি করিয়ে লেখাপড়া চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।

ক) তাহেরার চাচাতো ভাই কাঁদছিল কেন?

খ) তাহেরা বাড়ি থেকে পালাতে ভয় না করার কারণ বর্ণনা কর।

গ) উদ্দীপকে ‘বহিপীর’ নাটকের যে চরিত্রের ছবি ফুটে উঠেছে এবং কেন? বর্ণনা কর।

ঘ) “উদ্দীপকের রাফেজা এবং ‘বহিপীর’ নাটকের তাহেরা উভয়েই নবযুগের নারীর প্রতিনিধি”- মন্তব্যটির তাৎপর্য বিশ্লেষণ কর।

 

উত্তরঃ-

ক) তাহেরার চাচাতো ভাই ভয়ে আর ক্ষুধায় কাঁদছিল।

 

খ) তাহেরা একটি অন্যায় বিয়েকে কিছুতেই মেনে নিতে পারেনি বলে বাড়ি থেকে পালাতে তার ভয় করে না। ‘বহিপীর’ নাটকে তাহেরা নামক বালিকাকে জোর করে বিয়ে দেওয়া হয় পঞ্চাশোর্ধ্ব বয়সের এক পীরের সাথে। এমন অসম বিয়ে মেনে নিতে পারে না তাহেরা। সে আত্মহত্যা করবে তবুও পীরের ঘরে যাবে না। এমন অনমনীয় চরিত্রের অধিকারী বলেই তাহেরা বাড়ি থেকে পালাতে ভয় করে না

 

গ) নিজের স্বাধীন বিশ্বাসে অবিচল থাকার দিক দিয়ে উদ্দীপকটিতে বহিপীর নাটকের তাহেরা চরিত্রের ছবি ফুটে উঠেছে।’বহিপীর’ নাটকের বালিকা তাহেরা বৃদ্ধপীরকে বিয়ে করবে না। কিন্তু তার অন্ধবিশ্বাসী কুসংস্কারাচ্ছন্ন বাবা আর সৎ মা তাকে জোর করে বৃদ্ধ পীরের সাথে বিয়ে দেয়। এ বিয়েকে কিছুতেই মেনে নিতে পারে না স্বাধীন চেতনায় বিশ্বাসী তাহেরা। সে বৃদ্ধ পীরের কবল থেকে বাঁচতে বাড়ি থেকে পালিয়ে যায়। শেষে তাহেরা সকল প্রতিবন্ধকতা দূরে ঠেলে নবজীবনের পথে ধাবিত হয়।উদ্দীপকের রাফেজার লেখাপড়া করার আগ্রহ অদম্য। কিন্তু অল্প বয়সেই তার বিয়ে হয়ে যায়। তারপরও রাফেজা পড়ালেখা চালিয়ে যাবার সংকল্পে অটুট থাকে। এতে শ্বশুরবাড়ি থেকে নানা বাধার সম্মুখীন হতে হয় তাকে। শেষ পর্যন্ত সকল প্রতিবন্ধকতা দূরে ঠেলে সে লেখাপড়া চালিয়ে যাবার সিদ্ধান্ত নেয়। উদ্দীপকে নারীর স্বাধীন চেতনায় অটুট থাকার এই দিকটি বহিপীর নাটকে তাহেরা চরিত্রেও সমানভাবে প্রতিফলিত হয়েছে। তাই আলোচনা শেষে আমরা বলতে পারি উদ্দীপকে ‘বহিপীর’ নাটকের তাহেরা চরিত্রের ছবি ফুটে উঠেছে।

 

ঘ) লেখাপড়া চালিয়ে যাবার ক্ষেত্রে ও বৃদ্ধ পীরকে স্বামী হিসেবে মেনে নেওয়ার ক্ষেত্রে যথাক্রমে উদ্দীপকের রাফেজা এবং ‘বহিপীর’ নাটকের তাহেরা আধুনিক চেতনার পরিচয় দিয়েছে। ‘বহিপীর’ নাটকটির কাহিনী গড়ে উঠেছে একটি ধূর্ত পীরের সর্বগ্রাসী স্বার্থ ও তার বিরুদ্ধে এক বালিকার বিদ্রোহের কাহিনি নিয়ে। বালিকা তাহেরাকে জোর করে বিয়ে দেওয়া হয় একজন বৃদ্ধ পীরের সাথে, যা মেনে নিতে পারে না তাহেরা। কিন্তু আমাদের দেশে বিয়ে ও পীর সম্পর্কে ধারণা হলো বিয়ের পর স্বামীকে অস্বীকার করা মহাপাপ। পীরের ছায়াতলে সারা জীবন বাস করা সৌভাগ্যের কথা, পাশাপাশি পীরের অভিশাপের ভয় তো আছেই। কিন্তু তাহেরা সমাজের এই রকম কুসংস্কার আর অন্ধবিশ্বাসের পদমূলে আঘাত করে বৃদ্ধ পীরকে স্বামী হিসেবে মানতে অস্বীকার করে। তার এমন আধুনিক মনোভাবের জন্য তাহেরা নারী জাগরণ ও নারী অধিকারের প্রতীক চরিত্রে পরিণত ‘হয়েছে। উদ্দীপকের রাফেজাও নারীর অধিকারের প্রশ্নে আধুনিক চেতনার পরিচয় দিয়েছে। বিয়ের পরও রাফেজার লেখাপড়া করার প্রবল আগ্রহ। কিন্তু শ্বশুরবাড়ির লোকজন তার এ আগ্রহকে ভালো চোখে দেখে না। কিন্তু রাফেজা সব বাধা-বিপত্তি অতিক্রম করে স্বামীকে রাজি করিয়ে লেখাপড়া চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্তে অটুট থাকে।একজন নারীর স্বামী নির্বাচনের ক্ষেত্রে, মত প্রকাশের ক্ষেত্রে, পড়ালেখার ক্ষেত্রে নিজের স্বাধীনতা থাকবে। কিন্তু আমাদের সমাজের কুসংস্কার ও অন্ধবিশ্বাসের কাছে নারীর সেই ব্যক্তি স্বাধীনতাগুলো জিম্মি। কিন্তু উদ্দীপকের রাফেজা লেখাপড়া চালিয়ে যাওয়ার ইচ্ছেয় অবিচল থেকে এবং ‘বহিপীর’ নাটকের তাহেরা বৃদ্ধ পীরকে স্বামী হিসেবে মেনে নিতে অস্বীকৃতি জানিয়ে যে মানসিকতার পরিচয় দিয়েছে তাতে আমরা নিঃসন্দেহে বলতে পারি তারা উভয়েই নারী প্রতিনিধি।

উদ্দীপকঃ-

‘নিজের জলেই টলমল করে আঁখি। তোমার চোখের অশ্রু কোথায় রাখি।’- বিধবা মাকে নিয়ে রীনা চাচার বাড়িতে থাকে। চাচি তাকে সংসার থেকে বিদায় করতে পারলেই বাঁচে। চাচা সতীনের সংসারে বৃদ্ধের সাথে তার বিয়ে ঠিক করে। জীবন সচেতন রীনা বিয়ে মেনে না নিয়ে অজানার পথে পাড়ি জমায়।

ক) হাতেম আলির বাল্যবন্ধুর নাম কী?

খ) ‘দুনিয়াটা সত্যি কঠিন পরীক্ষাক্ষেত্র’- বহিপীর কেন একথা বলেছিলেন?

গ) উদ্দীপকে ‘বহিপীর’ নাটকের যে দিকটি প্রতিফলিত হয়েছে তা ব্যাখ্যা কর।

ঘ) উদ্দীপকটি ‘বহিপীর’ নাটকের সমগ্রভাব তুলে ধরেনি- উক্তিটির সত্যতা নিরূপণ কর।

 

উত্তরঃ-

 

ক) হাতেম আলীর বাল্যবন্ধুর নাম আনোয়ার উদ্দীন।

 

গ) উদ্দীপকে ‘বহিপীর’ নাটকের অন্যায় বিয়ের দিকটি তুলে ধরে।’বহিপীর’ নাটকে তাহেরা একজন কিশোরী। সে সৎমায়ের ঘরে বেড়ে উঠেছে। তার বাবা-মার ইচ্ছার বিরুদ্ধে তাকে এক বৃদ্ধ পীরের সাথে বিয়ে দেয়। কিন্তু তাহেরা এ বিয়ে মেনে নেয় না। সে বাঁচার জন্য বাড়ি থেকে পালিয়ে আশ্রয় পায় বজরায়।উদ্দীপকে রীনা তার বিধবা মাকে নিয়ে চাচার বাড়িতে থাকত। কিন্তু চাচি তা সহ্য করতে পারে না। তাকে বিদায় করতে বৃদ্ধার সাথে তার বিয়ে ঠিক করে। কিন্তু জীবন সচেতন রীণা এ অন্যায় মেনে নেয় না। সে বাধ্য হয়ে অজানার উদ্দেশ্যে পাড়ি জমায়। নাটকে তাহেরাও এরূপ পরিণতির শিকার। তাই বলা যায়, উদ্দীপকে নাটকের অন্যায় বিয়ের দিকটি প্রতিফলিত হয়েছে।

 

ঘ) উদ্দীপকে অন্যায় বিয়ের দিকটি তুলে ধরা হয়েছে, যা ‘বহিপীর’ নাটকের সমগ্রভাব তুলে ধরে না। ‘বহিপীর’ নাটকের মূল বিষয় ধর্মব্যবসা। এ নাটকের কেন্দ্রীয় চরিত্র বহিপীর। সে ধর্মের নামে মানুষকে শোষণ করে বেড়ায়। ধর্মীয় অপব্যাখ্যা দিয়ে হাতিয়ে নেয় সবকিছু। তার অপব্যাখ্যার কারণে কুসংস্কারাচ্ছন্ন মানুষগুলো নিঃস্ব হয়ে পড়ে। ঠিক যেমনটি ঘটেছে কিশোরী তাহেরার ক্ষেত্রে। এ ছাড়া এখানে প্রগতিশীল ও মানবিক যুবক হাশেম আলি ও নিঃস্ব জমিদারের কথা তুলে ধরা হয়েছে।উদ্দীপকে রীণা পিতহীন অনাথ কিশোরী। সে চাচির সংসারে বেড়ে উঠেছে। চামি তাকে জোরপূর্বক এক বৃদ্ধের সাথে বিয়ে দিতে চায়। কিন্তু জীবন সচেতন রীণা এ অন্যায় মেনে না নিয়ে বাড়ি থেকে পালিয়ে যায়।উদ্দীপকে এক অনাথ কিশোরীর প্রতি অন্যায় দেখানো হয়েছে। আর নাটকে এর পাশাপাশি ধর্ম ব্যবসা, মানবতা, প্রতিবাদ, জমিদার প্রথার বিলুপ্তি তুলে ধরা হয়েছে। তাই বলা যায়, উদ্দীপকটি নাটকের সমগ্রভাব তুলে ধরে না।

 

 উদ্দীপকঃ-

দীর্ঘদিন হলো কুতুব মিয়ার স্ত্রী গত হয়েছেন। এত দিন বিয়ের তাগিদ বোধ না করলেও এখন শেষ বয়সে একজন সঙ্গীর প্রয়োজন মনে করছেন। তাই তো বিয়ে করলেন চল্লিশোর্ধ একজন তালাকপ্রাপ্ত মহিলাকে।

ক) ধাক্কা খেয়ে বহিপীরের নৌকাটা কী হয়ে গেল?

খ) “কৃতজ্ঞতার তেজ নেশার মতো’- বলতে কী বোঝানো হয়েছে?

গ) উদ্দীপকের সঙ্গে ‘বহিপীর’ নাটকের বৈসাদৃশ্য বর্ণনা কর।

ঘ) বহিপীর যদি কুতুব মিয়ার মতো হতো তাহলে কি নাটকের পরিণতি অন্য রকম হতো? মতের পক্ষে যুক্তি দেখাও।

ইহা পুলিশের ব্যাপার নহে- বহিপীর এ কথা বলার কারণ কী?

উত্তরঃ-

ক) ধাক্কা খেয়ে বহিপীরের নৌকাটা এক মিনিটে আধা ডোবা হয়ে গেল।

খ) মানুষ উপকারীর প্রতি কৃতজ্ঞ হয়ে যেকোনো কাজ করতে পারে, যা আলোচ্য উক্তি দ্বারা বোঝানো হয়েছে।’বহিপীর’ নাটকের বালিকা তাহেরা সৎমায়ের সংসারে আদর-যত্নহীন, স্নেহ-মমতাহীনভাবে বড় হয়েছে। যেখানেই সে সামান্য স্নেহ-মমতার আভাস পাবে সেখানেই তার মন কৃতজ্ঞতায় উথলে উঠবে, তা বহিপীর ভালোই বুঝতে পারে। তাই হাতেম আলির বজরায় তাহেরা আশ্রয় পেয়ে তার স্ত্রীর আদর-যত্ন পেয়েছে বলে তার প্রতিদান স্বরূপ তাহেরাকে যা বলা হবে, তাই সে করবে। এমন প্রেক্ষাপটে বহিপীর আলোচ্য উক্তিটি করে এবং তাহেরার কৃতজ্ঞতাবোধের সুযোগ নিতে চাই।

 

গ) ‘বহিপীর’ নাটকে বৃদ্ধ বয়সে বহিপীরের বালিকা কন্যাকে বিয়ে করার ঘটনাটির সাথে উদ্দীপকটি বৈসাদৃশ্যপূর্ণ।বহিপীর নাটকের বহিপীর অত্যন্ত ধূর্ত একটি চরিত্র। তিনি অশিক্ষিত, অজ্ঞ মানুষের অন্ধবিশ্বাস ও কুসংস্কারকে কাজে লাগিয়ে ব্যক্তিগত হীন স্বার্থ বাস্তবায়ন করে। চৌদ্দ বছর আগে বহিপীরের প্রথম স্ত্রী মারা গেলে ধর্ম ব্যবসা চালিয়ে যেতে তিনি আর বিয়ে করেননি। এমন প্রেক্ষাপটে এক অন্ধবিশ্বাসী মুরিদ তার মাতৃহারা বালিকা কন্যাকে বহিপীরের সাথে বিয়ের আয়োজন করে।দেখাশোনা করার জন্য একজন স্ত্রীলোকের প্রয়োজন এই অজুহাতে বহিপীর এ বিয়েকে সমীচীন মনে করেন। তাই বয়স পঞ্চাশের বেশি হলেও এক বালিকা কন্যার অমতেই তাকে বিয়ে করে বসেন।উদ্দীপকের কুতুব মিয়ার স্ত্রী অনেক দিন আগে মারা যায়। পরবর্তীকালে তিনি বিয়ে না করলেও শেষ বয়সে একজন সঙ্গীর প্রয়োজন অনুধাবন করেন। এমন প্রেক্ষাপটে তিনি চল্লিশোর্ধ একজন তালাকপ্রাপ্ত মহিলাকে বিয়ে করেন। কিন্তু বহিপীর নাটকের ‘বহিপীর’ বৃদ্ধ বয়সে একটি বালিকা কন্যাকে বিয়ে করে, যা উদ্দীপকের সাথে ‘বহিপীর’ নাটকের বৈসাদৃশ্য সৃষ্টি করে।

 

ঘ) ‘বহিপীর’ নাটকের বহিপীর যদি উদ্দীপকের কুতুবমিয়ার মতো বিয়ের ক্ষেত্রে কাণ্ডজ্ঞানের পরিচয় দিতেন তাহলে তাকে শারীরিক ও মানসিক বিড়ম্বনার শিকার হতে হতো না। ‘বহিপীর’ নাটকের কেন্দ্রীয় চরিত্র বহিপীর একজন ধূর্ত, চালাক বাস্তবজ্ঞানসম্পূর্ণ মানুষ। মানুষকে ঠকিয়ে ব্যক্তিগত স্বার্থ চরিতার্থ করতে তিনি সর্বদা সচেষ্ট। তাই সারা বছর মুরিদদের বাড়িতে বাড়িতে ঘুরে অর্থ সম্পদ সংগ্রহ করতে তিনি ব্যস্ত। একবার সুযোগ বুঝে এক অন্ধবিশ্বাসী মুরিদের বালিকা কন্যা তাহেরাকে বিয়ে করে বসেন। তাহেরা এ বিয়ে মেনে না নিয়ে বাড়ি থেকে পালায় এবং বৃদ্ধ পীর তাকে অনুসরণ করতে গিয়ে বিপদে পড়ে, পানিতে ডুবে নাকানি-চুবানি খেতে হয়। পরবর্তীকালে বালিকাকে ফেরাতে নানা চক্রান্ত ও কূটকৌশলের আশ্রয় নিলেও তাহেরা চূড়ান্তভাবে তাকে ত্যাগ করে নবজীবনের সন্ধানে চলে যায়।উদ্দীপকের কুতুব মিয়া বিয়ের ক্ষেত্রে বাস্তবজ্ঞানের পরিচয় দিয়েছেন। বৃদ্ধ বয়সে তিনি স্ত্রী হিসেবে একজন বয়স্ক নারীকেই বেছে নিয়েছেন। ফলে বিয়ের ফলে তাকে আর বিড়ম্বনায় পড়তে হয়নি।বহিপীর নাটকে বহিপীর শেষ বয়সে সেবাযত্ন পাওয়ার জন্য একজন স্ত্রীর প্রয়োজন স্বীকার করেছেন। কিন্তু বৃদ্ধ বয়সে বিয়ের ক্ষেত্রে তিনি উদ্দীপকের কতব মিয়ার মতো কার্ডজ্ঞানের পরিচয় দিতে পারেননি। ফলে পীর সাহেবকে শারীরিকভাবে হেনস্থার শিকার হতে হয়েছে এবং মানসিকভাবে লাঞ্ছিত, অপমানিত হতে হয়েছে। তাই বলা যায়, বহিপীর যদি কুতুব মিয়ার মতো হতো তাহলে শেষ বয়সে তাকে আর কঠিন বিড়ম্বনায় পড়তে হতো না।

বহিপীর নাটকের অনুধাবনমূলক প্রশ্নোত্তর

উদ্দীপকঃ-

নিউইয়র্ক থেকে উড়ে আসা দিল্লিগামী একটি ফ্লাইট গন্তব্যের প্রায় তিনশ কিলো বাকি থাকতে পাইলট দেখেন তার ফুয়েল ট্যাঙ্ক একেবারে খালি। পাইলট তাৎক্ষণিকভাবে রাডার পর্যবেক্ষণ করে দেখেন কাছাকাছি একটি বিমান রয়েছে। এর পাইলটকে অনুরোধ জানালে তারা তাকে সাহায্যের জন্য এগিয়ে আসেন এবং উড়ন্ত অবস্থায়ই প্রয়োজনীয় ফুয়েল বরাদ্দ করেন। তার এই মহতী উদ্যোগে নিশ্চিত মৃত্যুর হাত থেকে অনেকগুলো প্রাণ বেঁচে যায়।

ক) বহিপীর ভুলবশত কোন ঘাটে গিয়েছিল?

খ) ‘বহিপীর’ নামকরণের কারণ ব্যাখ্যা কর।

গ) উদ্দীপকের দ্বিতীয় পাইলটের সাথে খোদেজার সাদৃশ্য নির্ণয় কর।

ঘ) উদ্দীপকের ঘটনা ‘বহিপীর’ নাটকের বিশেষ পরিস্থিতির প্রতিনিধিত্ব করে।’ এর যুক্তিযুক্ততা নিরূপণ কর।

 

উত্তরঃ-

ক) বহিপীর ভুলবশত ডেমরা ঘাটে গিয়েছিল।

 

খ) পীর সাহেব বইয়ের ভাষায় কথা বলেন, এজন্য তাঁকে বহিপীর বলা হয়। ‘বহিপীর’ নাটকের কাহিনি গড়ে উঠেছে এক পীরকে কেন্দ্র করে। এই পীর সারা বছর বিভিন্ন জেলায় তাঁর মুরিদ বা অনুসারীদের বাড়িতে বাড়িতে ঘুরে বেড়ান। এক এক এলাকায় এক এক ধরনের ভাষা প্রচলিত। তাই তিনি বিভিন্ন এলাকার ভাষা না শিখে বইয়ের ভাষায় কথা বলে থাকেন। এ কারণে পীর সাহেবকে বহিপীর বলা হয়।

 

গ) উদ্দীপকের দ্বিতীয় পাইলট ও ‘বহিপীর’ নাটকের খোদেজার মধ্যে সাদৃশ্য রয়েছে মানবিক চেতনায়।’বহিপীর’ নাটকে খোদেজা জমিদারের স্ত্রী। তিনি তার স্বামীর সাথে শহরে আসেন। এ সময় তিনি লক্ষ করেন, বজরার পাশে এক মুসলমান মেয়ে বিপদে পড়েছে। তখন তিনি কোনো প্রকার সংকোচ না করে মেয়েটিকে বজরায় আশ্রয় দিয়েছেন। এতে তার মধ্যে মানবিকতার দিকটি প্রকাশ পায়।উদ্দীপকের দ্বিতীয় পাইলট আকাশ পথে বিমানে অবস্থান করছিলেন। এ সময় তিনি লক্ষ করেন তার পাশে অন্য একটি বিমান বিপদে পড়েছে। তখন তিনি কোনো প্রকার সংকোচ না করে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেন। নাটকে খোদেজা ডেমরা ঘাটে বিপদে পড়া তাহেরাকে আশ্রয় দিয়েছিল। তাই বলা যায়, তারা দুজনেই মানবিক চেতনাসম্পন্ন।

 

ঘ) উদ্দীপকে মানবিক চেতনায় দিকটি প্রকাশ পেয়েছে যা ‘বহিপীর’ নাটকের বিশেষ পরিস্থিতির প্রতিনিধিত্ব করে। বহিপীর নাটকের মূল বিষয় ধর্ম। এখানে বহিপীর একজন ভণ্ড ধর্ম ব্যবসায়ী। সে ধর্ম দিয়ে মানুষকে শোষণ করে। তার ধর্মীয় অপব্যাখ্যা শুনে মানুষ বিভ্রান্ত হয়। তার কথায় বিভ্রান্ত হয়ে কিশোরী তাহেরাকে তার বাবা-মা তার সাথে বিয়ে দেয়। কিন্তু এ অন্যায় বিয়ে তাহেরা মেনে নেয় না। সে প্রতিবাদ স্বরূপ বাড়ি থেকে পালিয়ে গিয়ে আশ্রয় নেয় বজরায়। সেখানে তার পাশে দাঁড়ায় জমিদার পুত্র হাশেম আলি। তারা দুজনে মিলে বহিপীরের সকল অন্যায়ের প্রতিবাদ জানায়।উদ্দীপকে মানবিক চেতনার বিষয়টি বিদ্যমান। এখানে একজন পাইলট মাঝ পথে বিপদে পড়ে। এ সময় তার আহ্বানে সাড়া দিয়ে অন্য একজন পাইলট এগিয়ে আসে এবং তাকে বিপদ থেকে উদ্ধার করে।নাটকে ধর্মব্যবসা, প্রতিবাদ, মানসিকতা, জমিদার প্রথার বিলুপ্তির বিষয়গুলো তুলে ধরা হয়েছে। আর উদ্দীপকে শুধু মানবিক চেতনার কথা বিদ্যমান।তাই বলা যায় উদ্দীপকটি নাটকের বিশেষ পরিস্থিতি তুলে ধরে।

বহিপীর নাটকের সৃজনশীল প্রশ্ন