আহ্বান গল্পের সৃজনশীল প্রশ্ন

আহ্বান গল্পের সৃজনশীল প্রশ্ন

১। অত্যন্ত গরিবের মেয়ে। উপযুক্ত সহৃদয় আত্মীয়স্বজন এমন কেউ নেই যে তার ‘ভার’ নেয়। গরিবের মেয়ে হলেই বাধ্য হয়ে গৃহকর্মনিপুণা হতে হয়। তা না হলে বাসন মাজা, কাপড় কাচা, রান্না করা, উঠোন ঝাঁট দেওয়া, ঘর-নিকানো, গোয়াল পরিষ্কার করা কে করবে। পদি নিজের ঘরের কাজ তো সব করতই, পাড়াপড়শীর ফরমাশও শুনত। কারো বড়ি দিয়ে দিচ্ছে, কারো সেলাই করে দিচ্ছে, কারো ছেলে আগলাচ্ছে।

ক. বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের গ্রামের নাম কী?

খ. “পৈতক বাড়ি যা ছিল ভেঙেচুরে ভিটিতে জঙ্গল গজিয়েছে।”- ব্যাখ্যা কর।

গ. উদ্দীপকের পদি ‘আহ্বান’ গল্পের কোন চরিত্রের সঙ্গে সম্পর্কিত? ব্যাখ্যা কর।

ঘ. “উদ্দীপকের বিষয়টি ‘আহ্বান’ গল্পের একটি বিষয়কে নির্দেশ করে, পুরো ভাবকে নয়।”- মন্তব্যটির যথার্থতা প্রমাণ কর।

২। নন্তু শেখের মৃতদেহটা কবরে নামাতে গিয়ে চোখজোড়া পানিতে ঝাপসা হয়ে এল মঞ্জুর। “মইরলে পরে সব মিয়ারে যাইতে অইবো কবরে।” সারাদিন আর বাড়ি ফিরল। না মঞ্জু। দিঘির পাড়ে কাটিয়ে দিল সে। ওর মায়ের কবরটা দেখল। এককালে বেশ উঁচু। ছিল ওটা। অনেক দূর থেকে চোখে পড়ত, এখন মাটির নিচে খাদ হয়ে গেছে এক হাঁটু। অনেকগুলো ছোট ছোট গর্ত নেমে গেছে ভেতরের দিকে, সেখানে মায়ের দু-একখানা হাড় হয়তো আজও খুঁজে পাওয়া যাবে। মায়ের জন্যে আজ হঠাৎ ভীষণ কান্না পেল ওর।

ক. বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় কত সালে বিএ পাস করেন? এপাড়া-ওপাড়া যাওয়া আসা করত না কেন?

খ. বুড়ি আগে উদ্দীপকে ফুটে ওঠার দৃশ্যপটের সঙ্গে ‘আহ্বান’ গল্পের অনুরূপ কী?

গ. দৃশ্যপটের বৈসাদৃশ্যগুলো চিহ্নিত কর।

ঘ. “উদ্দীপকের মঞ্জুর কান্না আর ‘আহ্বান’ গল্পের লেখকের স্মৃতিকাতরতা একসূত্রে গাঁথা।”- যথার্থতা মূল্যায়ন কর।

৩। রাত থম থম স্তব্ধ নিঝুম, ঘোর-ঘোর-আম্বার,নিশ্বাস ফেলি তাও শোনা যায় নাই কোথা সাড়া কার।রুগ্ন ছেলের শিয়রে বসিয়া একেলা জাগিছে মাতা,করুণ চাহনি ঘুম ঘুম যেন ঢুলিছে চোখের পাতা।শিয়রের কাছে নিবু নিবু দীপ ঘুরিয়া ঘুরিয়া জ্বলে, তারি সাথে সাথে বিরহী মায়ের একেলা পরাণ দোলে।

ক. বুড়ি ছেঁড়া কাপড়ের প্রান্ত থেকে গোটা কতক আম কোথায় রেখেছিল?

খ. “আমার তো তেনার নাম করতে নেই বাবা”- বুড়ি একথা বলল কেন?

গ. উদ্দীপকের সঙ্গে ‘আহ্বান’ গল্পের বৈসাদৃশ্য নিরূপণ কর।

ঘ. “উদ্দীপকে ‘আহ্বান’ গল্পের মূলভাব সার্থকভাবে চিত্রিত হয়েছে।”মন্তব্যটি বিশ্লেষণ কর।

আহ্বান গল্পের সৃজনশীল প্রশ্ন

৪। রবিন ঢাকা মেডিকেলের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র। সে মেডিকেল কলেজ ছুটি থাকলেই বাড়িতে আসে। রবিন এলাকার দুস্থদের সেবা করে। নিজের নাস্তার খরচ বাঁচিয়ে দুস্থদের ফলমূল, ওষুধ, পথ্য কিনে দেয়। দরিদ্রদের মধ্যে কেউ মারা গেলে কাফনের কাপড়ও কিনে দেয়। নিজ এলাকার সবার সঙ্গে তার ভালো সম্পর্ক, সবাই তাকে স্নেহ করে, ভালোবাসে।

ক. বুড়ির স্বামীর নাম কী?

খ. লেখককে অনেকেই গ্রামে ঘর ওঠাতে বলে কেন?

গ. উদ্দীপকের রবিনের সঙ্গে ‘আহ্বান’ গল্পের কার সাদৃশ্য রয়েছে? নির্ণয় কর।

ঘ. ‘অসহায়-দরিদ্রদের সেবার জন্য গোপাল ও রবিনের মতো মানুষের বড় প্রয়োজন’ মন্তব্যটি বিশ্লেষণ কর।

৫. ফয়সাল সাহেব জীবিকার তাগিদে বহুদিন আগেই গ্রাম ছেড়েছেন। বিশেষ প্রয়োজন না হলে গ্রামে যাওয়াই হয় না। সপরিবারে ঢাকাতেই এখন বাস করেন। অফিসে ব্যস্ত থাকলেও গ্রামের স্মৃতিগুলো মনের চিলেকোঠায় দোলা দিয়ে যায়। একবার মনে হয় সবকিছু ছেড়ে গ্রামে ফিরে যাই, ফিরে যাই নাড়ির কাছে। জীবনের রস আস্বাদনে আবার শিকড়ের কাছে ফিরে যাই। নির্মম বাস্তবতা তাকে রেহাই দেয় না। তবে চাকরি থেকে অবসরগ্রহণের পর সপরিবারে পৈতৃক ভিটায় এসে আশ্রয় নেন ফয়সাল সাহেব। মনে হয় জীবনের অপূর্ণ বাসনাগুলো এখন পরিপূর্ণ।

ক. বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় কোথায় মৃত্যুবরণ করেছেন?

খ. লেখককে কেন বুড়ি চিনতে পারলেন না?

গ. উদ্দীপকের মধ্য দিয়ে ‘আহ্বান’ গল্পে প্রকাশিত ভাবের সাদৃশ্য দেখাও।

ঘ. “ফয়সাল সাহেব ও লেখকের মতো সকলেই গ্রামে এলে প্রাণ ফিরে পান”- মন্তব্যটির সার্থকতা যাচাই করতে তোমার মতামত ব্যক্ত কর। ৬। সে আগুন তো আগুন নয় কাঙালী, সে ত হরি! তার আকাশজোড়া ধুয়ো তা ধুয়ো নয় বাবা, সেই ত সগ্যের রথ! কাঙালীচরণ, বাবা আমার। কি মা?তোর হাতের আগুন যদি পাই বাবা, বামুন-মার মত আমিও সগ্যে যেতে পাবো। কাঙালী অস্ফুটে শুধু কহিল, যাঃ- বলতে নেই।মা সে কথা বোধ করি শুনিতেই পাইল না।

ক. বুড়িকে মা বলে ডাকত কে

খ. বড়ি কেন প্রায়ই লেখকের জন্য এটা-সেটা নিয়ে আসত?

গ. বুড়ির সাথে ‘আহ্বান’ গল্পের সাদৃশ্য কোথায় ও কীভাবে? আলোচনা কর।

ঘ. আপিলের ভিন্ন হলেও ‘আহ্বান’ গল্পে যে মাতৃত্বের পরিচয় পাওয়া যায় প্রোভালগকের উল্লিখিত মাতত্বের ন্যায় সমসূত্রে বাঁধা। মূল্যায়ন কর।

৭। “জাতি-ধর্ম-দেশ উর্ধ্বে ঘৃণা উর্ধ্বের পাচ্ছ যেই দেশ, সেথায় সকলে এক সেখায় সত্যের প্রকাশ মানব সভ্যতা যে সত্যে লডুক বিকাশ, মহৎ সে যুক্তি সংজ্ঞা মকাল সে নির্বার অশেষ। জাতি-ধর্ম-রাষ্ট্র-ন্যায় সকল যে মানুষের করে মানুষ সবার উর্ধ্বে নহে কিছু তার অধিক।”

ক ‘আহ্বান’ গল্পের লেখক কে?

খ. ‘ওর চেহাতুর আত্মা বহুদূর থেকে আমায় আহ্ববান করে এনেছে। ব্যাখ্যা কর।

গ. উদ্দীপকে ‘আহ্বান’ গল্পের কোন দিকটি প্রকাশ পেয়েছে? ব্যাখ্যা কর।

ঘ. উদ্দীপকটির মূলভাব ‘আহ্বান’ গল্পের সামগ্রিকতাকে কতটুকু ধারণ করেছে তা বিশ্লেষণ কর।

৮। বিধবা ও নিঃসন্তান জোহরা বিবি বিশ বছর ধরে পরিচারিকার কাজ করে শহরের একটি বাড়িতে। চাকরিজীবী দম্পতির ব্যস্ততার কারণে তাদের চার বছরের শিশুসন্তান সুমনের দেখাশুনার ভার পড়ে তার উপর। সুমনও তাকে ‘বুড়ি মা’ বলে সম্বোধন করে। আজ কঠিন অসুখে নিপতিত মৃত্যুপথযাত্রী ২৪ বছরের যুবক সুমন। তাই জোহরা দুই হাত তুলে খোদার কাছে আর্জি জানায়-‘আমাকে মৃত্যু দাও, খোদা। আমার বাকি পরমায়ু নিয়ে ওকে বাঁচিয়ে দাও।’

ক. লেখক কার বাড়িতে থাকে?

খ. চক্রবর্তী খুশি হলেন কেন?

গ. উদ্দীপকের জোহরা বিবির সঙ্গে ‘আহ্বান’ গল্পের বুড়ির সাদৃশ্য দেখাও।

ঘ. ‘আহ্বান’ গল্প অবলম্বনে উদ্দীপকের জোহরা চরিত্র আলোচনা কর।

৯। রতন সুখীপুর গ্রামের এক মুসলিম পরিবারের ছেলে। শহরে সে একটি অফিসের বড় কর্মকর্তা। গ্রামে আত্মীয়স্বজন বলার মতো কেউ নেই। তাই সে গ্রামে খুব একটা আসে না। কিন্তু গ্রামের সহজ-সরল মানুষগুলো চায় সে যেন গ্রামের সাথে সম্পর্ক রাখে। গ্রামকে এবং গ্রামের মানুষগুলোকে যেন একেবারে ভুলে না যায়। একদিন সে গ্রামে এলে তার এক প্রতিবেশী হিন্দু বিধবা হরিদাসীর বাড়িতে আতিথেয়তা গ্রহণ করে। হরিদাসী তাকে আপন ছেলের মতো যত্ন করে।

ক. ‘গ্রামের ছেলে গ্রামে বাস করবে’- এ কথাটি কে বলেছে?

খ. ‘ওর স্নেহাতুর আত্মা বহুদূর থেকে আমায় আহ্বান করে এনেছে।’কার স্নেহাতুর আত্মা কাকে আহ্বান করে এনেছে? লেখ।

গ. উদ্দীপকের সাথে ‘আহ্বান’ গল্পের সাদৃশ্য চিহ্নিত কর।

ঘ. উদ্দীপকটি ‘আহ্বান’ গল্পের পুরো ভাব ধারণ করে কি? ব্যাখ্যা কর।

১০। ঢাকার একটি বাণিজ্যিক ব্যাংকের কর্মকর্তা রহমান সাহেব গাইবান্ধার মায়াপুর গ্রামের খালার বাড়িতে বেড়াতে এলে খালা তাকে পুরো গ্রাম ঘুরে-ফিরে দেখান। গ্রামের ছায়াঘন মায়াবী পরিবেশ আর খালার আতিথেয়তায় মুগ্ধ রহমান সাহেব এরপর ছুটি পেলেই বেড়াতে আসেন সেই গ্রামে। রহমান সাহেবের খালা তাকে গ্রামের মানুষদের তৈরি নকশিকাঁথা ও মাটির তৈরি বাহারি জিনিসপত্র উপহার দেন। একদিন রহমান সাহেব তার খালার মৃত্যুর সংবাদ পেয়ে ঢাকা থেকে ছুটে আসেন। খালার আকস্মিক মৃত্যুতে রহমান সাহেব বেশ বিমর্ষ হয়ে পড়েন।

ক. পরশু সরদারের বউয়ের নাম কী?

খ. বুড়ির থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা সম্পর্কে বর্ণনা দাও।

গ. রহমান সাহেবের খালার সঙ্গে তোমার পঠিত ‘আহ্বান’ গল্পের কোন চরিত্রের মিল খুঁজে পাওয়া যায়? ব্যাখ্যা কর।

ঘ.”রহমান সাহেবের মায়াপুর গ্রামের প্রতি টান ও মমতা যেন ‘আহ্বান’ গল্পেরই মূল সুর”- উক্তিটির যথার্থতা নিরুপণ কর।

১১। সারা দুনিয়া অযুত নিযুত মানুষে ভরা। কত গোত্র, কত জাতি আর কত মত ও পথ। আছেন বারাক ওবামার মতো কালো চামড়ার ক্ষমতাবান মানুষ। ছিলেন প্রিন্সেস ভায়নার মতো সাদা চামড়ার কিংবদন্তি। আছে নৃশংস খুনি, আবার নির্ভেজাল গুণীর নামও শুনি। বিচিত্র এই মনুষ্যজগৎ। অথচ কী অদ্ভুত মিল সেই রানিতে আর এই দরিদ্রে। আমাদের সবার রক্তই যে লাল…। কবি তাই উচ্চারণ করেন অমোঘ বাণী:শুনহ মানুষ ভাই, সবার উপরে মানুষ সত্য, তাহার উপরে ” নাই।”

ক. ‘তিনি থাকতে অভাব ছিল না কোনো জিনিসের।’- তিনি কে?

খ. ‘অ গোপাল আমার, তোর জন্যি নিয়ে আলাম।’ কে কী নিয়ে এসেছে?

গ. “বিচিত্র এই মনুষ্যজগৎ’ কথাটি অনুচ্ছেদ এবং ‘আহ্বান’ গল্পের আলোকে বিশ্লেষণ কর।

ঘ.”সবার উপরে মানুষ সত্য ‘আহ্বান’ গল্পে কথাটি প্রমাণিত হলেও বাস্তব জীবনে সত্য নয়।”- পক্ষে বিপক্ষে যুক্তি দাও।

কর্তৃত্ব ও দায়িত্বের ভারসাম্য বিধান করতে হয় কেন?