আল কুরআনকে পূর্ণাঙ্গ জীবনবিধান বলা হয় কেন?

উদ্দীপকঃ-

=> সোনিয়া ও তানিয়া দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্রী। একদা তারা একটি বিশেষ গ্রন্থের গুরুত্ব ও ফজিলত সম্পর্কে কথা বলছিল। এমতাবস্থায় অধ্যাপক ইলিয়াস শ্রেণিকক্ষে প্রবেশ করলেন। শিক্ষক তাদের আলোচনা শুনে বললেন, প্রতিটি মানুষের উক্ত গ্রন্থ তিলাওয়াত ও শিক্ষা গ্রহণ করা আবশ্যক। এর মাধ্যমে মানব মনের সকল কলুষতা দূরীভূত হয়ে মানবাত্মা পূত-পবিত্র হয়ে ওঠে।

 প্রশ্ন-

খ. আল কুরআনকে পূর্ণাঙ্গ জীবনবিধান বলা হয় কেন?

গ. উদ্দীপকে উল্লেখিত অধ্যাপক ইলিয়াস সাহেবের বক্তব্য শিক্ষার্থীদের মাঝে ব্যাপক প্রচলন ঘটাতে কীরূপ ভূমিকা রাখতে পারে? ব্যাখ্যা করো।

ঘ. “উদ্বৃত্ত গ্রন্থ তিলাওয়াত মানবাত্মাকে কলুষমুক্ত করে” পাঠ্য পুস্তকের আলোকে ব্যাখ্যা করো।

প্রশ্নের উত্তরঃ-

খ) মানুষের সার্বিক জীবন পরিচালনার সুস্পষ্ট নির্দেশনা থাকায় আল কুরআনকে পূর্ণাঙ্গ জীবনবিধান বলা হয়। মানবজীবনের সব সমস্যার পূর্ণাঙ্গ সমাধান গ্রন্থ হলো আল কুরআন। এ গ্রন্থটি আগত-অনাগত সব মানুষের জন্য আল্লাহ তায়ালা প্রদত্ত পূর্ণাঙ্গ জীবনবিধান। মানুষের জীবনের এমন কোনো প্রসঙ্গ, দিক ও বিষয় নেই, যা আল কুরআনে উপস্থাপন করা হয়নি। এ প্রসঙ্গে সুরা আনআমের ৩৮ নং আয়াতে আল্লাহ বলেন, এ কিতাবে আমি কোনো কিছু লিপিবদ্ধ করা বাকি রাখিনি।

 

গ) অধ্যাপক ইলিয়াস সাহেবের কুরআন তিলওয়াত ও শিক্ষার গুরুত্ব সম্বলিত বক্তব্যটি শিক্ষার্থীদের মাঝে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। মহাগ্রন্থ আল কুরআন মানুষের জীবনযাপনের সংবিধান। এর মধ্যে মানুষের ইহকালীন ও পরকালীন সফলতার দিকনির্দেশনা এবং ব্যর্থতার কারণ নিহিত রয়েছে। নফল ইবাদতের মধ্যে কুরআন তিলাওয়াত করা সর্বোচ্চ ইবাদত। কুরআন তিলাওয়াত ও এর শিক্ষা মানুষকে মর্যাদাবান করে তোলে। রাসুল (স) বলেন, ‘তোমাদের মধ্যে সে ব্যক্তি সর্বোত্তম যে, নিজে কুরআন শেখে ও অন্যকে শিক্ষা দেয়।’ কুরআনের শিক্ষা যেমন নেকি আদায়ের মাধ্যম, তেমনি গুনাহ ও শয়তানের কুমন্ত্রণা থেকে মুক্তি পাওয়ার অন্যতম উপায়। তাই উদ্দীপকের অধ্যাপক ইলিয়াস সাহেবের বক্তব্য শিক্ষার্থীদের মাঝে কুরআন তিলাওয়াত ও শিক্ষার ব্যাপক প্রচলন ঘটাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।উদ্দীপকে অধ্যাপক ইলিয়াস সাহেব কুরআনের গুরুত্ব দিয়ে শিক্ষার্থীদের বলেন, প্রতিটি মানুষের কুরআন তিলাওয়াত ও শিক্ষা গ্রহণ আবশ্যক। এর মাধ্যমে মনের সব কলুষতা দূরীভূত হয়ে মানবাত্মা পূত-পবিত্র হয়। সুতরাং বলা যায়, আদর্শ ও নৈতিক জীবন গঠনে এবং আত্মাকে পূত পবিত্র রাখতে ইলিয়াস সাহেবের বক্তব্য শিক্ষার্থীদের মাঝে কুরআন তিলাওয়াত ও শিক্ষার ব্যাপক প্রচলন ঘটাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

 

ঘ) উদ্ধৃত গ্রন্থ অর্থাৎ কুরআন তিলাওয়াত মানবাত্মাকে কলুষমুক্ত রাখে এবং শয়তানের কুমন্ত্রণা থেকে রক্ষা করে। কুরআন তিলাওয়াতের ফলে যেমন অধিক সওয়াব অর্জিত হয়, তেমনি অন্তরের কলুষ-কালিমাও বিদূরিত করা যায়। যে ব্যক্তি কুরআন তিলাওয়াত করে না তার অন্তরে মরিচা পড়ে যায়। এ প্রসঙ্গে রাসুল (স) বলেন, ‘নিশ্চয় এ অন্তরেও মরিচা পড়ে, যেমন পানি পড়লে লোহায় মরিচা পড়ে। বলা হলো, হে রাসুল (স), এ মরিচা দূর করার উপায় কী? তিনি বললেন, বেশি বেশি মৃত্যুকে স্মরণ করা এবং কুরআন তিলাওয়াত করা।’ শিক্ষকের বক্তব্যে কুরআন তিলাওয়াতের ফজিলত স্পষ্ট হয়ে ওঠে। উদ্দীপকের শিক্ষক অধ্যাপক ইলিয়াস সাহেব তার শিক্ষার্থীদের বলেন, মানবাত্মার কলুষতা দূর করে অন্তর পূত-পবিত্র রাখতে কুরআন তিলওয়াত করা আবশ্যক। কারণ রাসুল (সা) এর উল্লিখিত হাদিস অনুযায়ী লোহায় মরিচা পড়ার মতো মানবাত্মায় ও মরিচা পড়ে। আর এই মরিচা দূর করার জন্য কুরআন তিলাওয়াত করা অপরিহার্য। তাছাড়া কুরআন তেলাওয়াত না করা শূন্য ঘরের ন্যায়। রাসুল (স) বলেন, যে অন্তরে কুরআনের কোনো অংশ নেই, নিশ্চয়ই তা একটি শূন্য ঘরের ন্যায়। সুতরাং আমাদের প্রত্যেকেরই উচিত কুরআন তিলাওয়াতপূর্বক তার মর্ম অনুধাবন করে বাস্তবজীবনে তার বিধান কার্যকর করা। যাতে করে অন্তরের শূন্যতা ও কলুষতা দূর করে একটি পূত-পবিত্র জীবন গড়া সম্ভব হয়।

 

উদ্দীপকঃ-

=> জুমআর খুতবায় মাওলানা আলী আহসান বলেন মানব সৃষ্টি নিয়ে ফেরেশতাদের আপত্তি ছিল। তাই মহান আল্লাহ মানুষের শ্রেষ্ঠত্ব প্রদানের জন্য ফেরেশতাদের সিজদার নির্দেশ দেন। তারা বিনা বাক্য বলে সিজদা করেন। কিন্তু তাদের মধ্যে এক জিন ছিল সে অহংকারবশত সিজদা করতে অস্বীকার করল। অহংকারের কারণেই তার সকল ইবাদত নিষ্ফল হয়ে যায়।

 প্রশ্ন-

ক. আল কুরআনের সর্ববৃহৎ সুরার নাম কী?

 খ. ফেরেশতা কারা? ব্যাখ্যা করো।

গ. উদ্দীপকে উল্লেখিত জিন বলতে কাকে বলা হয়েছে? ব্যাখ্যা করো।

ঘ. অহংকারের কারণেই তার সকল ইবাদত নিষ্ফল হয়ে যায়? উদ্দীপকে উল্লেখিত বক্তব্যের সত্যতা নিরূপণ করো।

 

প্রশ্নের উত্তরঃ-

 

ক) আল-কুরআনের সর্ববৃহৎ সুরার নাম হলো সুরা আল বাকারা।

 

খ) ফেরেশতা আল্লাহর বিশেষ প্রজাতির এক সৃষ্টি, যাদেরকে নুর দিয়ে তৈরি করা হয়েছে।

ফেরেশতাদের মধ্যে নর-নারী, সংসার, সন্তান, বংশবৃদ্ধি বলতে কিছু নেই। তারা কেবল সেসব কাজই করেন, যা পালনের ব্যাপারে আল্লাহর নির্দেশ রয়েছে। তারা অদৃশ্য। আল্লাহ চাইলে তাদেরকে দৃশ্যমানও করতে পারেন। তাদের নিজে থেকে কোনো কাজ করা বা জ্ঞানলাভ করার ক্ষমতা নেই। বরং তাদের সবকিছুই আল্লাহর আদেশকে ঘিরে আবর্তিত।

 

গ) উদ্দীপকে উল্লেখিত জিন বলতে আযাযিলকে বোঝানো হয়েছে।

ফেরেশতাদের দলে আযাযিল নামের এক জিন ছিল। নিজের ইবাদতের জন্য জিন হওয়ার পরও সে ফেরেশতাদের নেতায় পরিণত হয়েছিল। কিন্তু তার দম্ভ ও অহঙ্কার তাকে অবস্থানচ্যুত করে। মানসৃষ্টির প্রথম পর্যায়ে আল্লহ তায়ালা সব ফেরেশতাদের একত্রিত করেন। মানুষের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করানোর জন্য আল্লাহ আদম (আ) কে কিছু বস্তুর নাম শিখিয়ে দেন, যা ফেরেশতারা জানতো না। তারপর আদম (আ) উত্ত বস্তুগুলোর নাম বলেন। তখন আল্লাহ তায়ালা সব ফেরেশতাদের আদম (আ) কে সিজদা করার জন্য বলে। কিন্তু ইবলিস ব্যতীত সেখানে সব ফেরেশতাই তাকে সিজদা করে। আল্লাহর নির্দেশ অমান্য করে আগুনের তৈরি ইবলিস অহংকারবশত মাটির তৈরি আদমকে সিজদা করতে অস্বীকৃতি জানান। এই একটি নির্দেশ অমান্য করায় সে কাফিরদের দলভূক্ত হয়ে যায় এবং তার সকল ইবাদত নিষ্ফল হয়ে যায়। উদ্দীপকের এই ঘটনারই স্বরূপ প্রতিফলিত হয়েছে।উদ্দীপকে উল্লেখিত মাওলানা আলী আহসানের খুতবার মধ্যে আলোচিত জিন দ্বারা আযাযিল বা ইবলিসের কর্মেরই প্রতিফলন করা হয়েছে। মাওলানা আলী আহসানের ভাষ্যমতে, সব ফেরেশতা বিনা বাক্যে আদমকে সিজদা করলেও তাদের মধ্যে এক জিন ছিল, যে কিনা অহঙ্কারের জন্য সিজদা করতে অস্বীকার করে। যার ফলাফল স্বরূপ তার সব ইবাদতই নিষ্ফল হয়ে যায়। এ থেকে বোঝা যায় উদ্দীপকের বর্ণনায় ইবলিসকেই নির্দেশ করা হয়েছে।

ঘ) অহংকারের কারণেই ইবলিসের সব ইবাদত নষ্ট হয়ে যায়-বক্তব্যটি যথার্থ।

প্রথম পর্যায়ে ইবলিস ছিল ফেরেশতাদের সরদার। জিন হওয়া সত্ত্বেও ইবাদতের জন্য সে ফেরেশতাদের সরদার হয়ে যায়। তখন তার নাম ছিল আযাযিল। আল্লাহর একটিমাত্র নির্দেশ অমান্য করায় তার পূর্বের সব ইবাদত নষ্ট হয়। উপরন্তু দুষ্ট জিনদের আলামতস্বরূপ তার নামও পরিবর্তন করে ইবলিস রাখা হয়। মূলত ইসলামে দুষ্ট জিনদের বলা হয় শয়তান। উদ্দীপকেও ইবলিসের অবাধ্যতার ফলে তার সব ইবাদত নিষ্ফল হওয়ার কথা বর্ণিত হয়েছে।উদ্দীপকে জুমআর খুবতায় মানবসৃষ্টি সম্পর্কে আলোচনার সময় মাওলানা আলী আহসান ইবলিসের কর্মকাণ্ড ও তার পরিণতি নিয়ে আলোকপাত করেন। তার আলোচনা মতে, সব ফেরেশতা আদমকে সিজদা করলেও তাদের মধ্যে এক জিন ছিল, যে অহংকারের জন্য আদমকে সিজদা করেনি। ফলস্বরূপ তার সব ইবাদতই নিষ্ফল হয়ে যায়। আল্লাহ বলেন, ‘আর যখন আমি ফেরেশতাদের বললাম, তোমরা আদমকে সিজদা করো, তখন ইবলিস ব্যতীত সবাই সিজদা করলো। সে (ইবলিস) অমান্য করলো এবং অহংকার করলো। আর সে ছিল কাফিরদের অন্তর্ভুক্ত।’ (সুরা আল বাকারা : ৩৪)। এ থেকে বোঝা যায়, ইবলিসের ইবাদত নিষ্ফল হওয়ার কারণ হলো আল্লাহর অবাধ্যতা করে আত্মগর্ব প্রকাশ করা। সুতরাং, উদ্দীপকে উল্লেখিত ইবলিসের ইবাদত নিষ্ফল হওয়ার কারণটি যথাযথ।

সুরা বাকারার আলোকে মুমিনের বৈশিষ্ট্য কি?