আমার পায়ের তলা থেকেও যেন মাটি সরে যাচ্ছে।- কে কোন প্রসঙ্গে এ কথা বলেছে?

Table of Contents

উদ্দীপকঃ-

নামকরা পীর মহসিন আলি সম্প্রতি মারা গেছেন। গ্রামের লোকজন ছেলে ইয়াকুবের হাতেপায়ে ধরে কান্নাকাটি করে এবং পিতার অবর্তমানে পীরের দায়িত্ব তাকে নিতে বলে। ইয়াকুব বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইনে স্নাতকোত্তর করেছে। সবার অনুরোধে সে পীরের দায়িত্ব নিতে রাজি হয়। চারদিকে ইয়াকুবের নামডাক ছড়িয়ে পড়ল। সর্বদা পানি পড়া, তেল পড়া, তাবিজ-কবচ এর জন্য লোকজনের ভিড় লেগেই থাকে। উপভোগ করে ইয়াকুব। আর মনে মনে ভাবে ওকালতি করার চেয়ে এ-ই ঢের ভালো।

ক) কার ঘাড়ে শয়তান চেপেছে কে জানে।- উক্তিটি কার?

খ) আমার পায়ের তলা থেকেও যেন মাটি সরে যাচ্ছে।- কে কোন প্রসঙ্গে এ কথা বলেছে?

গ) উদ্দীপকের ইয়াকুবের সাথে ‘বহিপীর’ নাটকের হাশেম আলি চরিত্রের বৈসাদৃশ্য তুলে ধর।

ঘ) উদ্দীপকে ফুটে ওঠা দিকটিই আজও আমাদের সামাজিক উন্নয়নে প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি করে- ‘বহিপীর’ নাটকের আলোকে মন্তব্যটি বিশ্লেষণ কর।

উত্তরঃ-

ক) ‘কার ঘাড়ে শয়তান চেপেছে কে জানে।’ উক্তিটি হাশেমের।

 

খ) ‘আমার পায়ের তলা থেকেও যেন মাটি সরে যাচ্ছে’- কথাটি হাতেম আলি বহিপীরকে বলেছেন।হাতেম আলি রেশমপুরের ক্ষয়িষ্ণু জমিদার। একসময় এই জমিদারের নামডাক থাকলেও আজ অন্তঃসারশূন্য। তবুও যা যৎসামান্য ছিল তাই দিয়ে কোনো প্রকারে মানমর্যাদা রেখে ভরণপোষণ চলত। কিন্তু সে জমিদারিও সান্ধ্য আইনে পড়ে নিলামে উঠবে, তাই হাতেম আলি দিশেহারা। তিনি বহিপীরের কাছে সাহায্য প্রার্থনা করতে গিয়ে উক্ত কথা বলেন।

 

গ) উদ্দীপকের ইয়াকুব চরিত্রের সাথে ‘বহিপীর’ নাটকের হাশেম আলি চরিত্রের কোন সাদৃশ্য নেই।উদ্দীপকের পীর মহসিন আলি মারা গেলে তার মুরিদদের অনুরোধে মহসিন আলির ছেলে ইয়াকুব পীরের দায়িত্ব গ্রহণ করে। অল্প দিনেই তার কদর বাড়তে থাকে। পানি পড়া, তেল পড়া, তাবিজ-কবচের বদৌলতে ব্যাপক অর্থের সমাগম ঘটতে থাকে। সে ভাবে ওকালতি করার চেয়ে এই পেশাই বেশি লাভজনক।’বহিপীর’ নাটকের জমিদার পুত্র হাশেম আলি ধর্মীয় কুসংস্কার ও সামাজিক অবিচারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের প্রতীক চরিত্র। সে অত্যন্ত শান্তভাবে বহিপীরের কূটচালকে মোকাবিলা করেছে। জমিদারপুত্র হলেও বৈষয়িক বিষয়বস্তু বিবেচনা না করে তাহেরাকে নিয়ে অনিশ্চিত অজানার উদ্দেশে রওনা দিয়েছে। তাই বলা যায়, হাশেম আলি অত্যন্ত যুক্তিবাদী, আধুনিক ও মানবিক অনুভূতিসম্পন্ন মানুষ। কিন্তু পীর ইয়াকুব ধূর্ত ও বাস্তব জ্ঞানসম্পন্ন মানুষ। সে শিক্ষিত হলেও ধর্ম ব্যবসাকে অর্থ সমাগমের মাধ্যম হিসেবে বেছে নিয়েছে। তাই ইয়াকুব ও হাশেম পরস্পরবিরোধী।

 

ঘ) ‘বহিপীর’ নাটকের মাধ্যমে বোঝা যায় যে উদ্দীপকে ফুটে ওঠা ধর্মব্যবসার বিষয়টি আজও আমাদের সামাজিক উন্নয়নে প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি করে।উদ্দীপকের ইয়াকুবের পিতা পীর মহসিন আলি মারা গেলে গ্রামের লোকজন তাকেই পীরের দায়িত্ব পালন করতে বলে। ইয়াকুব বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইনে পড়াশোনা করলেও সে পিতার ধর্ম ব্যবসাকেই পেশা হিসেবে বেছে নেয়। অল্প দিনেই তার খ্যাতি ছড়িয়ে পড়ে। সে পানি পড়া, তেল পড়া, তাবিজ-কবচের মধ্য দিয়ে অনেক টাকা উপার্জন করতে শুরু করে এবং ওকালতির থেকে এই ধর্ম ব্যবসাকেই অধিক প্রাধান্য দেয়।বহিপীর নাটকের কাহিনি গড়ে উঠেছে অসাধু ধর্ম ব্যবসাকে কেন্দ্র করে। বহিপীর অশিক্ষিত সাধারণ মানুষের কুসংস্কার ও ধর্ম বিশ্বাসকে পুঁজি করে তার ধর্ম ব্যবসা পরিচোলনা করে অগাধ অর্থের মালিক হয়। কিন্তু নতুন দিনের প্রতীক তাহেরা তাকে অবমাননা করার মধ্য দিয়ে বিদ্রোহের সূচনা করে। তাতে শামিল হয় জমিদার ‘পুত্র হাশেম আলি। শেষ পর্যন্ত তাহেরা ও হাশেম আলির যুক্তিবাদী, আধুনিক মানসিকতার কাছে বহিপীরকে পরাজিত হতে হয়। উদ্দীপকের ধর্ম ব্যবসার বিষয়টি আজও আমাদের সমাজে প্রচলিত আছে। ধর্মবিশ্বাসকে কাজে লাগিয়ে ধর্ম ব্যবসায়ীরা নিজের স্বার্থসিদ্ধি করছে। বহিপীর চরিত্র সেই ভণ্ড মানুষদের প্রতীক যাদের কারণে সহজ-সরল মানুষ প্রতারণার শিকার হচ্ছে এবং সামাজিক উন্নয়ন ব্যাহত হচ্ছে।

 

উদ্দীপকঃ-

রত্নার বাবা-মা দুইজনই আসাদ উদ্দীন পীরের মুরিদ। প্রতিবছরের মতো এবারও বাবা ওরসে শরিক হলো, সঙ্গে ছিল ১৫ বছরের রত্না। পীরের কাছে পৌঁছানোর পর তারা বুঝতে পারল পীরসাহেবের নজর পড়েছে তাদের মেয়ের উপর। তিন পুরুষের মুরিদ হওয়ায় তারা খুব খুশি হল। রত্নার প্রবল আপত্তি সত্ত্বেও তারা পীরের সাথে তার বিয়ে দিয়ে খুশি মনে তারা বাড়ি ফিরে এল, অথচ এতটুকুও তারা বুঝতে পারল না যে আদরের মেয়েকে তারা কোনো দুঃখের সাগরে ভাসিয়ে দিয়ে এলো।

ক) ‘বহিপীর’ নাটকে হাতেম আলির বন্ধুর নাম কী?

খ) বাঙালি মুসলিম সমাজে পীর সম্প্রদায় সৃষ্টির কারণ কী?

গ) উদ্দীপকটি ‘বহিপীর’ নাটকের সাথে কীভাবে সাদৃশ্যপূর্ণ- ব্যাখ্যা কর।

ঘ) ‘উদ্দীপকের রত্নার বাবা-মা নাটকের তাহেরার বাবা-মারই প্রতিনিধি’- বিশ্লেষণ কর।

 

উত্তরঃ-

ক) ‘বহিপীর’ নাটকে হাতেম আলির বন্ধুর নাম আনোয়ার উদ্দিন।

 

খ). কুসংস্কারে বিশ্বাস স্থাপন করার বিষয়টি থেকে বাঙালি মুসলিম সমাজে পীর সম্প্রদায়ের সৃষ্টি হয়েছে।ইসলাম ধর্মের সুফিবাদী ব্যাখ্যার সূত্র ধরেই পীর সমাজের সৃষ্টি। এ হিসেবে তারা ধর্মীয় ব্যাখ্যা মাসায়েল বইয়ের পাতা থেকে মানুষের সংস্কারকে পুঁজি করে সমাজে ছড়িয়ে পড়ে। তারা মানুষের অন্ধ ধর্ম বিশ্বাস ও অশিক্ষাকে পুঁজি করে নিজেদের স্বার্থোদ্ধার করে।

 

গ) অন্ধ ধর্মবিশ্বাস ও কুসংস্কারের বিষয়টিতে উদ্দীপক ও ‘বহিপীর’ নাটক সাদৃশ্যপূর্ণ।’বহিপীর’ নাটকে বহিপীর একজন ধর্ম ব্যবসায়ী। সে ধর্মের নামে অধর্মের কাজ করে বেড়ায়। তার কবলে মানুষ সর্বস্বান্ত হয়ে পড়ে। তার অপব্যাখ্যায় মানুষ বিভ্রান্ত হয়ে নিজের সবকিছু তার কাছে তুলে দেয়। এ বিষয়টি স্পষ্টভাবে লক্ষ করা যায় তাহেরার বাবা-মার মধ্যে। উদ্দীপকে একজন ধর্ম ব্যবসায়ীর কথা তুলে ধরা হয়েছে। যার ভণ্ডামির কাছে মানুষ পুতুলের মতো। তার কবলে পড়ে কিশোরী রত্নার বাবা-মা রত্নাকে তার হাতে তুলে দেয়। এভাবে সে মানুষের সবকিছু চুষে নেয়। নাটকে বহিপীর চরিত্রেও এ বিষয়টি লক্ষণীয়। তাই বলা যায়, কুসংস্কার ও ধর্মান্ধতার বিষয়টি উদ্দীপক ও নাটকটি সাদৃশ্যপূর্ণ।

 

ঘ) উদ্দীপকের রত্নার বাবা-মা ধর্ম ব্যবসায়ীর কবলে নিজের মেয়েকে তার হাতে তুলে দিয়েছে। যা ‘বহিপীর’ নাটকের তাহেরার বাবা- মার মধ্যেও লক্ষ করা যায়।’বহিপীর’ নাটকে তাহেরার বাবা-মা বহিপীরের মুরিদ। তারা কুসংস্কারাচ্ছন্ন ও ধর্মান্ধ। তাই বহিপীরের অপব্যাখ্যা শুনে বিভ্রান্ত হয়েছে। এতে তারা নিজেদের কিশোরী মেয়েকে তুলে দিয়েছে বৃদ্ধ পীরের হাতে। এক্ষেত্রে নিজের মেয়ের মতামত নেওয়ার সামান্য প্রয়োজনও মনে করেনি। মুরিদ। তারা প্রতিবারের উদ্দীপকে রত্নার বাবা-মাও এক পীরের মতো এবারও কিশোরী মেয়েকে নিয়ে পীরের ওরসে যায়। এ সময় পীরের লোলুপ দৃষ্টি পড়ে রত্নার উপর। তখন তার বাবা-মা পুণ্য লাভের আশায় কিশোরী মেয়েকে তুলে দেয় পীরের হাতে।নাটকে তাহেরার বাবা-মা পুণ্য লাভের আশায় কিশোরী মেয়েকে তুলে দিয়েছে বৃদ্ধ বহিপীরের হাতে। এ বিষয়টি উদ্দীপকের রত্নার বাবা-মার মধ্যেও বিদ্যমান। তারা যেন ধর্মান্ধতার বিষয়ে উভয়ে উভয়ের প্রতিনিধি।

আমার পায়ের তলা থেকেও যেন মাটি সরে যাচ্ছে।- কে কোন প্রসঙ্গে এ কথা বলেছে?

 উদ্দীপকঃ-

সম্প্রতি আহসান হাবিব নামে এক ভণ্ড পীরকে আটক করা হয়। সে দুস্থ অসহায়কে সাহায্যের নামে মানুষের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহ করত এবং সংগৃহীত এই অর্থ গরিব-দুঃখীদের কাছে না পাঠিয়ে নিজে আত্মসাৎ করত।

ক) ‘বহিপীর’ নাটকটি প্রথম প্রকাশিত হয় কত সালে?খ

) ‘বহিপীর’ নাটকের নামকরণের প্রতীকী তাৎপর্য ব্যাখ্যা কর।

গ) উদ্দীপকের সঙ্গে তোমার পঠিত নাটকের বৈসাদৃশ্য নিরূপণ কর।

ঘ) ‘সকল যুগে সকল কালে বহিপীররা বর্তমান’- উদ্দীপক ও তোমার পঠিত নাটক অবলম্বনে মন্তব্যটি বিশ্লেষণ কর।

উত্তরঃ-

ক) ‘বহিপীর’ নাটক ১৯৬০ সালে ঢাকা থেকে প্রথম প্রকাশিত হয়।

খ) বাঙালি মুসলমান সমাজে পীর প্রথার সৃষ্টি বইয়ের পাতা থেকে বলে বহিপীর নামটি এই প্রতীকী অর্থ প্রকাশ করে।বাঙালি মুসলমান সমাজে প্রচলিত পীর প্রথাকে কেন্দ্র করে ‘বহিপীর’ নাটক রচিত। নাটকটির কেন্দ্রীয় চরিত্র বহিপীর, যিনি বইয়ের ভাষায় কথা বলেন বলে তার নাম বহিপীর। কেন্দ্রীয় চরিত্রের নামেই নাটকটির নাম বহিপীর। কিন্তু বাংলা অঞ্চলে পীরপ্রথা সৃষ্টি হয় কুসংস্কার আর বইয়ের পাতা থেকে বলে প্রতীকী অর্থে ‘বহিপীর’ নামটির মধ্যে তা প্রকাশিত হয়েছে।

 

গ) ‘বহিপীর’ নাটকে বহিপীরের অর্থ উপার্জনের কৌশল মানুষের অন্ধ বিশ্বাস এবং তাকে কখনো পুলিশি ঝামেলায় পড়তে হয় না, যা উদ্দীপকের সাথে বৈসাদৃশ্য সৃষ্টি হয়।বহিপীর নাটকের বহিপীর ধর্মীয় মুখোশ ধারণ করে মানুষকে ঠকিয়ে অর্থ উপার্জন করে। এক্ষেত্রে তার প্রধান অস্ত্র সাধারণ মানুষের অন্ধবিশ্বাস ও কুসংস্কার। যাকে কাজে লাগিয়ে তিনি সারা বছর বিভিন্ন জায়গায় মুরিদদের বাড়িতে বাড়িতে ঘুরে অর্থ-সম্পদ সংগ্রহ করে। মুরিদরাও পীরের প্রতি অন্ধভক্ত হয়ে তাদের সর্বস্ব দিয়ে পীরকে খুশি করে থাকে। বহিপীর তার এই ধর্মব্যবসা পরিচালনা করে অত্যন্ত সাবধানে। তাই কেউ তার স্বরূপ উন্মোচন করতে পারে না।উদ্দীপকের আহসান হাবীব নামের ভণ্ড পীরের অর্থ উপার্জনের কৌশল ভিন্ন। এক্ষেত্রে তার প্রধান অস্ত্র মানুষে সহানুভূতি; যাকে কাজে লাগিয়ে সে গরিব মানুষদের সাহায্যের নামে অর্থ সংগ্রহ করে নিজে সব আত্মসাৎ করে। কিন্তু একসময় তার স্বরূপ উন্মোচিত হয় এবং তাকে আটক হতে হয়। তাই আমরা বলতে পারি অর্থ উপার্জনের কৌশল ও স্বরূপ উন্মোচিত হওয়ার দিক দিয়ে উদ্দীপকের সাথে ‘বহিপীর’ নাটকের বৈসাদৃশ্য সৃষ্টি হয়েছে।

 

ঘ) মানুষের মধ্যে অন্ধবিশ্বাস ও কুসংস্কার যতদিন থাকবে ততদিন মানবসমাজে বহিপীরের মতো মানুষরা বিরাজ করবে; যার উৎকৃষ্ট প্রমাণ উদ্দীপকের ঘটনা।বাংলাদেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে জেঁকে বসা পীর প্রথাকে কেন্দ্র করে ‘বহিপীর’ নাটক রচিত। নাটকের নামচরিত্র বহিপীর তার সর্বগ্রাসী স্বার্থ চরিতার্থ করতে ঘুরে বেড়ায় মানুষের মধ্যে। তিনি অশিক্ষিত সাধারণ মানুষের কুসংস্কার ও অন্ধ ধর্মবিশ্বাসকে কাজে লাগিয়ে ধর্ম ব্যবসা পরিচালনা করেন। তিনি সারা বছর মুরিদদের বাড়ি বাড়ি ঘুরে অর্থ, ধন-সম্পদ সংগ্রহ করেন। তার এই ধর্ম ব্যবসা পরিচালনা করতে খুব বেশি কষ্ট করতে হয় না বরং অশিক্ষিত, আবেগী মানুষরা নিজে থেকেই আসে মুরিদ হতে, তাদের অর্থ-সম্পদ পীরের পায়ে ঢেলে দিতে। এমনকী অন্ধভক্ত মুরিদরা নিজের বালিকা কন্যাকেও বৃদ্ধ পীরের সাথে বিয়ে দিতে সামান্য চিন্তা করে না।উদ্দীপকে সম্প্রতি আলোচনায় আসা ভণ্ড পীর আহসান হাবিবের ঘটনা তুলে ধরা হয়েছে। সে দুস্থ, অসহায়দের সাহায্যের নামে মানুষদের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহ করে নিজে আত্মসাৎ করে। যদিও এক সময় তার স্বরূপ উন্মোচিত হয় এবং তাকে আটক করা হয়।’বহিপীর’ নাটকে দেখানো সমাজবাস্তবতা আজ থেকে প্রায় একশো বছর আগের। তখন সমাজের মানুষের মধ্যে কুসংস্কার, অন্ধবিশ্বাস চরমভাবে বিরাজ করত বলে বহিপীরের মতো ভণ্ডরা সহজে মানুষকে ঠকাতে পেরেছিল। কিন্তু উদ্দীপকের ভণ্ড পীর আহসান হাবিব পীরের মুখোশ ধারণ করে ভিন্ন কৌশলে বহিপীরের মতো মানুষ ঠকিয়ে অর্থ উপার্জন করে। তাই উদ্দীপক ও ‘বহিপীর’ নাটকের আলোকে বলা যায়, সকল কালে সকল যুগে বহিপীররা বর্তমান, কেবল ভিন্ন ভিন্ন কৌশলের আশ্রয় গ্রহণ করে।

 

উদ্দীপকঃ-

নবকুমারকে বনে ফেলেই তার সহযাত্রীরা চলে গেল। নবকুমার ঘুরতে ঘুরতে এক কাপালিকের সন্ধান পেল। কাপালিক তাকে আশ্রয় দিল কিন্তু তার মনে দূরভিসন্ধি ছিল। কাপালিকদের পূজার জন্য নর বলি দিতে হয়। নবকুমারকে বলি দেয়ার পূর্ব মুহূর্তে কাপালিকের পালিত কন্যা কপালকুণ্ডলা নবকুমারকে নিয়ে পালিয়ে গেল।

ক) ‘বহিপীর’ নাটকের রচয়িতা কে?

খ) ‘বহিপীর’ কেন স্বীকার করলেন যে জমিদার সাহেবের ব্যাপারে তিনি নেহাতই ভুল করেছিলেন?

গ) কপালকুণ্ডলা ও হাশেমের সাথে সাদৃশ্য নির্ণয় কর।

ঘ) প্রমাণ কর যে, কাপালিক এক দিক থেকে বহিপীরের প্রতিনিধি।

 

উত্তরঃ-

ক) ‘বহিপীর’ নাটকের রচয়িতা সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ।

খ) বহিপীর বাস্তবতা উপলব্ধি করার কারণে স্বীকার করলেন, জমিদার সাহেবের ব্যাপারে তিনি নেহাতই ভুল করেছিলেন।বহিপীর অনেক হীনচেষ্টার পরও যখন তাহেরাকে পায় না তখন তিনি বাস্তবতা উপলব্ধি করেন। এতে তিনি বুঝতে পারেন যে জমিদারকে টাকার লোভ দেখিয়ে ভুল করেছেন। কেননা জমিদার মানবিকবোধসম্পন্ন মানুষ। মূলত বাস্তব জ্ঞান সম্পন্ন হওয়ায় তিনি এ বিষয়টি স্বীকার করেছিলেন।

 

গ) মানবিকতার বিষয়ে কপালকুণ্ডলা ও হাশেমের সাথে সাদৃশ্য রয়েছে। ‘বহিপীর’ নাটকে হাশেম আলি জমিদার পুত্র। সে শিক্ষিত ও প্রগতিশীল যুবক। তার মধ্যে রয়েছে মানবিক চেতনা। তাই সে তাহেরার পাশে দাঁড়িয়েছিল। শুধু তাই নয়, প্রতিবাদ করে সে বহিপীরের কবল থেকে তাহেরাকে রক্ষা করেছিল।উদ্দীপকে কপালকুণ্ডলা বনচারী। তার চোখের সামনে বিপদে পড়ে নবকুমার। এ সময় সে পাশে দাঁড়ায় নবকুমারের। নিশ্চিত মৃত্যুর হাত থেকে রক্ষা করে তাকে এবং পালিয়ে যেতে সাহায্য করে। নাটকে হাশেম আলিও তাহেরাকে বহিপীরের কবল থেকে রক্ষা করে। তাই বলা যায়, মানবিক গুণসম্পন্ন হওয়ার বিষয়ে কপালকুণ্ডলা ও হাশেম আলি চরিত্রের সাদৃশ্য রয়েছে।

ঘ) উদ্দীপকের কাপালিক ও ‘বহিপীর’ নাটকের বহিপীর দুজনেই ধর্ম ‘বহিপীর’ নাটকে বহিপীর একজন ধর্ম ব্যবসায়ী। সে ধর্মের নামে অধর্মের কাজ করে বেড়ায়। ধর্মীয় অপব্যাখ্যা দিয়ে মানুষকে শোষণ করে। তার কাছে ধর্ম মানেই স্বার্থোদ্ধারের সম্বল। তার কবলে পড়ে মানুষ সর্বস্বান্ত হয়। মূলত সে ধর্মকে ব্যবহার করে নিজের পকেট ভারী করতে পটু।উদ্দীপকের কাপালিক একজন নরকপালধারী ও শ্মশানবাসী বামাচারী। সে ধর্মান্ধ ও অমানবিক। তাই তো সে বিপদে পড়া নবকুমারকে আশ্রয় দিয়ে বলি দিতে চেয়েছে। এরূপ হীন আচরণ ও নিষ্ঠুরতা কোনো ধর্মের বিধান হতে পারে না।উদ্দীপকে কাপালিক ধর্মের নামে অধর্মের কাজ করেছে এবং নবকুমারের প্রতি নিষ্ঠুর আচরণ করতে উদ্যত হয়েছে। এ বিষয়টি নাটকের বহিপীর চরিত্রেও বিদ্যমান। তাই বলা যায়, তারা দুজনেই দুজনার প্রতিনিধি।

ইহা পুলিশের ব্যাপার নহে- বহিপীর এ কথা বলার কারণ কী?