আমার পথ প্রবন্ধের সৃজনশীল প্রশ্ন

Table of Contents

আমার পথ প্রবন্ধের সৃজনশীল প্রশ্ন

১। যেদিন অযোধ্যার লোকেরা সীতাকে বিসর্জন দিবার দাবি করিয়াছিল তাহার মধ্যে আমিও যে ছিলাম। আর সেই বিসর্জনের গৌরবের কথা যুগে যুগে যাহারা গান করিয়া আসিয়াছে আমিও যে তাহাদের মধ্য একজন। আর, আমিও তো সেদিন লোকরঞ্জনের জন্য স্ত্রী পরিত্যাগের গুণ বর্ণনা করিয়া মাসিকপত্রে প্রবন্ধ লিখিয়াছি।

ক) ‘আমার পথ’ প্রবন্ধটি কোন গ্রন্থ থেকে সংকলিত হয়েছে?

খ) লেখক নিজ সত্যকে সালাম জানিয়েছেন কেন? বুঝিয়ে লেখ।

গ) উদ্দীপকের লেখকের সঙ্গে ‘আমার পথ’ প্রবন্ধের লেখকের অমিলের ক্ষেত্রটি চিহ্নিত কর।

ঘ) “উদ্দীপকে আমাদের সমাজের যে সমস্যা বিদ্যমান ‘আমার পথ’ প্রবন্ধে তা থেকে উত্তরণের পথনির্দেশ রয়েছে।” মন্তব্যটি যাচাই কর।

 

২। মনুষ্য জাতি স্বভাবতই ক্ষমতার অন্ধ উপাসক। যে পক্ষে ক্ষমতা সেই পক্ষেই আমাদের সমবেদনা, অসহায়ের আমরা কেহ নই। এই জন্যই একজনের হাতে যথেচ্ছা ক্ষমতা থাকিলে ভয়ের বিষয়। তাহার ব্যবহারের ন্যায়ান্যায় বিচার করিবার লোক সংসারে পাওয়া যায় না।কাজেই তাহাকে আর বড়ো একটা ভাবিয়া চিন্তিয়া কাজ করিতে হয় না।

 

ক. কারা বাইরের গোলামি থেকে রেহাই পায় না?

খ. “আমি সে দাসত্ব হতে সম্পূর্ণ মুক্ত।”- ব্যাখ্যা কর।

গ. ‘আমার পথ’ প্রবন্ধের কোন দিকটির কটির প্রতি উদ্দীপকে ইঙ্গিত প্রদান করা হয়েছে?

ঘ. “সাদৃশ্য থাকলেও উদ্দীপকটি ‘আমার পথ’ প্রবন্ধের প্রতিরূপ নয়।”- সত্যতা যাচাই কর।

 

৩। মানুষ ভুল করে, পরে সেই ভুলের সংশোধন করেই সত্যের সন্ধান পায়। সাধারণের ধারণা, ঠেকে শেখার চেয়ে দেখে শেখাই বুদ্ধিমানের কাজ। কিন্তু ‘অতি চালাকের গলায় দড়ি’ বলেও একটা কথা আছে। জীবনের অভিজ্ঞতা ও বাস্তবলব্ধ যে জ্ঞান তার তুলনা নেই। স্বল্প পরিসরে টবের ভেতর জীবন ধারণ করার চেয়ে বাইরের বিস্তৃতির ভেতরে আনন্দে বিকশিত হওয়া অনেক বেশি স্বাস্থ্যকর। তবে অন্যের দুর্দশা দেখেও শিক্ষালাভ করতে হবে। কারণ একজনের পক্ষে সকল রকম অভিজ্ঞতা লাভ করা অসম্ভব। আমাদের এই বর্তমান কোটি কোটি অভিজ্ঞতার ফল। সুতরাং জীবনযাত্রায় অন্যের অভিজ্ঞতারও যে প্রয়োজন আছে, এ বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই।

ক. ‘আগুনের ঝান্ডা’ শব্দের অর্থ কী?

খ. আমি সে দাসত্ব হতে সম্পূর্ণ মুক্ত’- কথাটি দ্বারা কী বোঝানো হয়েছে?

গ. উদ্দীপকে ‘আমার পথ’ প্রবন্ধের কোন দিকটির প্রতিফলন ঘটেছে?- ব্যাখ্যা কর।

ঘ. “উদ্দিষ্ট দিকটি হৃদয়ে ধারণ করে মানুষ নিজে যেমন আলোকিত হতে পারে, তেমনি গড়তে পারে আলোকিত পৃথিবী”- বিশ্লেষণ কর।

৪। তরুণ নামের জয়মুকুট শুধু তাহারই যাহার শক্তি অপরিমাণ, গতিবেগ ঝঞ্ঝার ন্যায়, তেজ, নির্মেঘ আষাঢ় মধ্যাহ্নের মার্তণ্ডপ্রায়, বিপুল যাহার আশা, ক্লান্তিহীন যাহার উৎসাহ, বিরাট যাহার ঔদার্য, অফুরন্ত যাহার প্রাণ, অটল যাহার সাধনা, মৃত্যু যাহার মুঠিতলে।

ক. সবচেয়ে বড় ধর্ম কোনটি?

খ. যার মনে মিথ্যা, সে-ই মিথ্যাকে ভয় করে, ব্যাখ্যা কর।

গ. উদ্দীপকের তারুণ্যের সঙ্গে ‘আমার পথ’ প্রবন্ধের তারুণ্যের সাদৃশ্য দেখাও।

ঘ. তারুণ্যশক্তিতে বলীয়ান হলেই সত্য-সুন্দর পথে অগ্রসর হওয়া যায়;

৫। এমন কঠিন ঠাঁই যে, অনেক সময় এক কূল বজায় রাখতে গেলে আর এক কূলে ভাঙন লাগে। জীবনে এগুলোই সবচেয়ে বড় সমস্যা। এখানেই ভুল হয় বেশি। মানুষ এই রকম ভুলের উপর চরণ ফেলে সত্যকে খুঁজে পাচ্ছে এবং ক্রমশ অগ্রসর হয়ে চলেছে। ভুল না করলে যেন সত্যের প্রকৃত রূপটি ধরা পড়ে না। এ যেন আলো-আঁধারের লুকোচুরি খেলা। যেমন- একটা ফুলকে নানাভাবে চারদিক থেকে দেখলে তার নতুন নতুন সৌন্দর্য চোখে পড়ে। এরূপ সত্যকেও নানা ঘটনার ভেতর দিয়ে নানাভাবে পরখ করে মানুষ বড় জটিল জীব। তাকে দশ দিক বজায় রেখে কাজ করতে হয়। আবার পৃথিবীও দেখতে হয়। তবেই তার সমগ্র রূপ ধরা পড়ে।

ক. ‘আমার পথ’ প্রবন্ধটি কোথা থেকে সংকলিত হয়েছে?

খ. কবি নিজেকে ‘অভিশাপ-রথের সারথি’ বলে অভিহিত করেছেন কেন?

গ. উদ্দীপকের সঙ্গে ‘আমার পথ’ প্রবন্ধের কোন দিকটি সাদৃশ্যপূর্ণ? ব্যাখ্যা কর।উদ্দীপক ও ‘আমার পথ’ প্রবন্ধের আলোকে উক্তিটি বিশ্লেষণ কর।

ঘ. উদ্দীপকে ‘আমার পথ’ প্রবন্ধের মূলভাব প্রতিফলিত হয়েছে কি? তোমার উত্তরের সপক্ষে যুক্তি দেখাও।

৬। হে সূর্য!তুমি আমাদের উত্তাপ দিও- শুনেছি, তুমি এক জ্বলন্ত অগ্নিপিণ্ড, তোমার কাছে উত্তাপ পেয়ে পেয়ে একদিন হয়তো আমরা প্রত্যেকেই এক একটা জ্বলন্ত অগ্নিপিন্ডে পরিণত হব!

তারপর সেই উত্তাপে যখন পুড়বে আমাদের জড়তা, তখন হয়তো গরম কাপড়ে ঢেকে দিতে পারব রাস্তার ধারের ঐ উলঙ্গ ছেলেটাকে।

ক. মহাত্মা গান্ধী কে?

খ. স্পষ্ট কথা বলায় একটা অবিনয় থাকে কেন?

গ. উদ্দীপকটি ‘আমার পথ’ প্রবন্ধের যে দিকটিকে ধারণ করে তা নিরূপণ কর।

ঘ. ‘আমার পথ’ প্রবন্ধের আলোকে উদ্দীপকের আশাবাদ বিশ্লেষণ কর।

৭। জাতিতে জাতিতে ধর্মে নিশিদিন হিংসা ও বিদ্বেষ বিষয় মানুষে করিছে ক্ষুদ্র, বিষাইছে বিশ্বের আকাশ, মানবতা মহাধর্ম রোধ করি করিছে উল্লাস বর্বরে হিংস্র নীতি, ঘৃণা দেয় বিকৃতি নির্দেশ। জাতি-ধর্ম-দেশ ঊর্ধ্বে ঘৃণা উর্ধ্বে পাচ্ছ যেই দেশ, সেথায় সকলে এক, সেথায় মুক্ত সত্যের প্রকাশ, মানব সভ্যতা সেই মুক্ত সত্য লভুক বিকাশ, মহৎ সে মুক্তি-সংজ্ঞা মঙ্গল সে নির্বার অশেষ। জাতি-ধর্ম-রাষ্ট্র ন্যায় সকলি যে মানুষের তরে মানুষ সবার ঊর্ধ্বে- নহে কিছু তাহার অধিক।

ক. ‘সম্মার্জনা’ শব্দের অর্থ কী?

খ. ‘আত্মাকে চিনলে আত্মনির্ভরতা আসে।’- তাৎপর্য ব্যাখ্যা কর।

গ. উদ্দীপকের কবিতাংশে ‘আমার পথ’ প্রবন্ধের যে বিষয়টি প্রতিফলিত হয়েছে তা ব্যাখ্যা কর।

ঘ. উদ্দীপকের কবিতাংশে ‘আমার পথ’ প্রবন্ধের মূলভাবের প্রতিফলন ঘটেছে কি? বুঝিয়ে লেখ।

 

৮। গাহি সাম্যের গান- মানুষের চেয়ে বড় কিছু নাই, নহে কিছু মহীয়ান নাই দেশ-কাল-পাত্রের ভেদ, অভেদ ধর্মজাতি, সবদেশে সবকালে ঘরে ঘরে তিনি মানুষের জ্ঞাতি।

ক. এদেশের অস্থি-মজ্জায় কী ধরেছে?

খ. বিনয়ের চেয়ে অহংকারী পৌরুষ অনেক অনেক ভালো কেন?

গ. উদ্দীপকের কবিতাংশে ‘আমার পথ’ প্রবন্ধের যে বিষয়টি উপস্থাপিত হয়েছে তা ব্যাখ্যা কর।

ঘ. “উদ্দীপকে উপস্থাপিত বিষয়টি ‘আমার পথ’ প্রবন্ধের সম্পূর্ণ ভাব নয়।” মন্তব্যের যথার্থতা যাচাই কর।

 

৯। শিক্ষার অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো নিজেকে জানা, পরনির্ভরশীলতা থেকে মুক্ত হওয়া। কিন্তু বর্তমানে শিক্ষিত বেকারদের মধ্যে পরনির্ভরশীলতা বাড়ছে। নিজের সম্পর্কে জানলে আজ আর কেউ শিক্ষিত বেকার হয়ে বসে থাকত না। পরের উপর নির্ভরশীল থাকার জন্য শিক্ষিতদের মন আজ মানসিক দাসত্বে পরিণত হয়েছে।

ক. আমার পথ’ প্রবন্ধে আমরা কবে স্বাধীন হতে পারব বলে লেখক মনে করেন?

খ. “যে নিজের ধর্মের সত্যকে চিনেছে, সে কখনো অন্য ধর্মকে ঘৃণা করতে পারে না।”- ব্যাখ্যা কর।

গ. উদ্দীপকটি ‘আমার পথ’ প্রবন্ধের সঙ্গে কোন দিক দিয়ে সংগতিপূর্ণ বলে বেকারদের মানসিক দাসত্ব পরিবর্তনে প্রয়োজন তুমি মনে কর? বিস্তারিত আলোচনা কর।

ঘ. “উদ্দীপকের শিক্ষিত আত্মনির্ভরতা।”- ‘আমার পথ’ প্রবন্ধের আলোকে বিশ্লেষণ কর।

১০। অসহায় জাতি মরিছে ডুবিয়া জানে না সন্তরণ, কান্ডারি! আজ দেখিব তোমার মাতৃমুক্তি পণ। ‘হিন্দু না ওরা মুসলিম?’ ওই জিজ্ঞাসে কোন জন? কাণ্ডারি! বল ডুবিছে মানুষ, সন্তান মোর মার।

ক. মেকি শব্দের অর্থ কী?

খ. “প্রাবন্ধিক নজরুল ভুল করতে রাজি আছেন, কিন্তু ভণ্ডামি করতে প্রস্তুত নন।”- ‘ব্যাখ্যা কর।

গ. কবিতাংশের শেষ দুই চরণে ‘আমার পথ’ প্রবন্ধের যে চেতনার বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে তা ব্যাখ্যা কর।

ঘ. “উদ্দীপকে প্রতিফলিত চেতনাই গড়তে পারে মানবিক মূল্যবোধসম্পন্ন সুখী-সমৃদ্ধ এক পৃথিবী”- কবিতাংশ ও ‘আমার পথ’ প্রবন্ধের আলোকে বিশ্লেষণ কর।

১১। সক্রেটিস বলেছেন, ‘নিজেকে জানো’। আত্মোপলব্ধির মধ্য দিয়ে নির্মিত হয় ব্যক্তিত্ববোধ। প্রবল ইচ্ছাশক্তিই পারে মিথ্যার আবরণ থেকে বেরিয়ে এসে সত্যের আলোয় নিজেকে উদ্ভাসিত করতে। তাই সত্যকে ধারণ করে পৃথিবীর বুকে স্বাধীনভাবে বেঁচে থাকার জন্য নিজেকে তৈরি করতে হবে।

ক. সবচেয়ে বড় ধর্ম কোনটি?

খ. ‘যার মনে মিথ্যা, সেই মিথ্যাকে ভয় করে’- ব্যাখ্যা কর। গ. উদ্দীপকের সাথে আমার পথ’ প্রবন্ধের কোন দিকটি সাদৃশ্যপূর্ণ? ব্যাখ্যা কর।

ঘ. উদ্দীপকের ‘নিজেকে জানো’ এই কথাটি ‘আমার পথ’ প্রবন্ধের মূল বিষয়কে সমর্থন করে কিনা তা আলোচনা কর।

আমার পথ প্রবন্ধের সৃজনশীল প্রশ্ন

আমার পথ রচনার বক্তব্যবিষয় কী?

উঃ- বাংলা সাহিত্যে কাজী নজরুল ইসলাম রাজনৈতিক বিদ্রোহী কবি হিসেবে খ্যাত। তিনি গল্প, উপন্যাস, নাটক, গান এবং বেশকিছু মূল্যবান প্রবন্ধ লিখেছেন। ‘আমার পথ’ প্রবন্ধটি তাঁর সুবিখ্যাত প্রবন্ধগ্রন্থ ‘রুদ্র-মঙ্গল’ থেকে সংকলিত হয়েছে। ‘আমার পথ’ প্রবন্ধে তিনি এমন এক ‘আমি’র আহ্বান প্রত্যাশা করেছেন যার পথ সত্যের পথ, সত্য প্রকাশে তিনি নির্ভীক অসংকোচ। তাঁর এই ‘আমি’ ভাবনা বিন্দুতে সিন্ধুর উচ্ছ্বাস জাগায়। তিনি প্রত্যেকটি মানুষকে পূর্ণ এক ‘আমি’র সীমায় ব্যপ্ত করতে চেয়েছেন; একই সঙ্গে এক মানুষকে আরেক মানুষের সঙ্গে মিলিয়ে ‘আমরা’ হয়ে উঠতে চেয়েছেন। এখানে নিজেকেই নিজের কর্ণধার দাবি করেছেন। এই সত্যের উপলব্ধি কবির প্রাণপ্রাচুর্যের উৎসবিন্দু। তিনি তাই অনায়াসে বলতে পারেন, ‘আমার কর্ণধার আমি। আমার পথ দেখাবে আমার সত্য।’ রুদ্র-তেজে মিথ্যার ভয়কে জয় করে সত্যের আলোয় নিজেকে চিনে নিতে সাহায্য করে নজরুলের এই ‘আমি’ সত্তা। তাঁর পথনির্দেশক সত্য অবিনয়কে মেনে নিতে পারে কিন্তু অন্যায়কে সহ্য করে না। সমাজ ও সমকাল পর্যবেক্ষণের মধ্য দিয়ে প্রাবন্ধিক দেখেছেন যে, সুস্পষ্টভাবে নিজের বিশ্বাস আর সত্যকে প্রকাশ করতে না জানলে তৈরি হয় পরনির্ভরতা, আহত হয় আমাদের ব্যক্তিত্ব। নজরুলের কাছে এই ভগ্ন আত্মবিশ্বাসের গ্লানি গ্রহণযোগ্য নয়। এর পরিবর্তে তিনি প্রয়োজনে দাম্ভিক হতে চান; কেননা তাঁর বিশ্বাস- সত্যের দন্ড যাদের মধ্যে রয়েছে তাদের পক্ষেই কেবল অসাধ্য সাধন করা সম্ভব।নজরুল এই প্রবন্ধে দেখিয়েছেন যে, তিনি ভুল করতে রাজি আছেন কিন্তু ভণ্ডামি করতে প্রস্তুত নন। ভুল জেনেও তাকে ঠিক বলে চালিয়ে দেওয়ার কপটতা কিংবা জেদ তাঁর দৃষ্টিতে ভণ্ডামি। এই ভুল ব্যক্তির হতে পারে, সমাজের হতে পারে কিংবা হতে পারে কোনো প্রকার বিশ্বাসের। তবে তা যারই হোক আর যেমনই হোক এর থেকে বেরিয়ে আসাই নজরুলের একান্ত প্রত্যাশা। তিনি জানেন, এই বেরিয়ে আসা সম্ভব হলেই মানুষের সঙ্গে মানুষের প্রাণের সম্মিলন ঘটানো সম্ভব হবে। মনুষ্যত্ববোধে জাগ্রত হতে পারলেই ধর্মের সত্য উন্মোচিত হবে, এক ধর্মের সঙ্গে অপর ধর্মের বিরোধ মিটে যাবে। সম্ভব হবে গোটা মানব সমাজকে ঐক্যবদ্ধ করা; আর এই ঐক্যের মূল শক্তি হলো সম্প্রীতি। এই সম্প্রীতির বন্ধন শক্তিশালী হলে মানুষের মধ্যে সহনশীলতা বাড়ে। ভিন্ন ধর্ম-মত-পথের মানুষের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ জাগে। আর এই সম্প্রীতির মধ্য দিয়ে উৎকৃষ্ট মানব সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব।

 

আমার পথ নামকরণের সার্থকতা লিখ?

উঃ- ‘আমার পথ’ প্রবন্ধের নামকরণ করা হয়েছে মূল বিষয়বস্তুর ওপর ভিত্তি করে। এখানে লেখকের প্রচণ্ড আত্মবিশ্বাসে আমায় পথ দেখাবে আমার সত্য।’ তার মতে, যা কিছু সত্যবিরোধী তা-ই বিপথ। রাজভয় বা লোকভয় কোনোটাই তাঁকে বিপথে নিতে পারবে না। যার ভিতরে ভয়, সে-ই কেবল বাইরে ভয় পায়। তাঁর ভিতরেও ভয় নেই, মনেও মিথ্যা নেই। তাই তাঁর ভয় পাওয়ারও কোনো কারণ নেই। তিনি নিজেকে চেনেন, তাঁর মনে জোর আছে। এটি আত্মাকে চেনার সহজ স্বীকারোক্তি। কোমলতা নয়, অহংকারের পৌরুষই তাঁর কাছে গ্রহণযোগ্য। তাঁর কাছে নিজের শক্তির ওপর অটুট বিশ্বাসই স্বাবলম্বন। তিনি সাম্প্রদায়িকতাকে প্রশ্রয় দেন না। মানব-ধর্মই তাঁর কাছে সবচেয়ে বড় ধর্ম। যে নিজের ধর্মকে ভালো করে চেনে, সে কখনো অন্য ধর্মকে অবহেলা করতে পারে না। লেখক দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন, দেশের পক্ষে যা কিছু কল্যাণকর, সত্য, সুন্দর সেসবই তাঁর প্রত্যাশিত পথ।সত্য ও কল্যাণের পথকেই তিনি ‘আমার পথ’ বলেছেন। লেখক অসত্যকে, অন্যায়কে, ভণ্ডামিকে, সাম্প্রদায়িকতাকে কোনোভাবেই মানতে চান না। তিনি দেশের মানুষকে আত্মশক্তিতে বলীয়ান করে তাদেরকে আত্মনির্ভর ও স্বাবলম্বী করতে চান। দেশের যারা শত্রু, দেশের যা কিছু মিথ্যা, ভণ্ডামি, মেকি সেসব সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা প্রদান করে মানুষকে সচেতন করে তুলতে চান, যাতে তারা সত্যকে, কল্যাণকে চিনতে পারে। তাহলেই তারা নিজেদের চিনতে পারবে এবং সত্য ও কল্যাণের পথ অনুসরণ করে স্বাধীন সত্তার জয় ঘোষণা করতে পারবে। এসব বিষয় বিবেচনায় প্রবন্ধের নামকরণ ‘আমার পথ’ সুন্দর ও সার্থক হয়েছে।

মমতাদি গদ্যের সৃজনশীল প্রশ্ন