আদা খাওয়ার ১০টি স্বাস্থ্য উপকারিতা

আদা খাওয়ার ১০টি স্বাস্থ্য উপকারিতা

আদা নিত্য ব্যবহৃত একটি মসলা। উপমহাদেশে মশলা ব্যবসার কারণে এটি এক সময় মূল্যবান পণ্য ছিল। খ্রিস্টীয় প্রথম শতাব্দীতে মসলা ইউরোপে রপ্তানি করা হয়। এটি ভারতীয় এবং চীনারা টনিক তৈরির জন্য ব্যবহার করেছিল। আদা এখনও বাংলাদেশ সহ ভারত উপমহাদেশে সর্বাধিক ব্যবহৃত মশলাগুলির মধ্যে একটি। বায়োঅ্যাকটিভ যৌগ এবং পুষ্টিতে সমৃদ্ধ আদার বেশ কিছু স্বাস্থ্য উপকারিতা রয়েছে।

আদার যাদুকরী ১০টি স্বাস্থ্য গুণাগুণ

আদা অন্যান্য ভেষজ এর তুলনায় বেশি গুরুত্বপূর্ণ। এটি সহজে চাষ করা যায়। এখন এর চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ায় এবং বহু উপকারের কারণে মানুষ বাড়িতে আদা চাষ করে। অনেকেই তাদের বাড়ীর আঙ্গিনায় বা বাসার ছাদে টবে আদা চাষ করছে। আদার গুণাগুণ বলে শেষ করা যাবেনা। এখানে আদার কিছু আশ্চর্যজনক স্বাস্থ্য উপকারিতার একটি তালিকা দেয়া হলো।

১। আদা হৃদরোগ এবং স্ট্রোকের ঝুঁকি কমায়

হৃদরোগ এবং স্ট্রোক প্রতিরোধে আদা অন্যতম সেরা ঘরোয়া প্রতিকার। আদায় প্রচুর পরিমাণে রক্ত ​​জমাট বাঁধা প্রতিরোধী বৈশিষ্ট্য রয়েছে। এটি আপনার হার্টকে সুস্থ রাখবে এবং স্ট্রোক অথবা হার্ট অ্যাটাক থেকে রক্ষা করবে।

২। আদা হজমে সাহায্য করে

আদা হজমে সাহায্য করে এবং আপনার পরিপাকতন্ত্রকে সুস্থ রাখতে আদার ভূমিকা অপরিসীম। আদা প্রাচীনকাল থেকে ঐতিহ্যগতভাবে পেটের ব্যথা এবং অস্বস্তির চিকিত্সার জন্য ব্যবহার করা হয়েছে। আদায় রয়েছে কারমিনেটিভ নামে একটি যৌগ, যা পরিপাকতন্ত্রকে প্রশমিত করে এবং সিস্টেম থেকে অতিরিক্ত গ্যাস দূর করে পরিপাকতন্ত্রকে সুস্থ রাখে।

৩। আদা গর্ভাবস্থায় বমি বমি ভাব দূর করে

গর্ভাবস্থার সাথে সম্পর্কিত সকালের অসুস্থতা, বমি বমি ভাব বা বমির বিরুদ্ধে আদা কার্যকর। এটি ক্যান্সার রোগীদের এবং অস্ত্রোপচারের পরে বমি করা থেকেও মুক্তি দিতে পারে। আপনি যদি সব সময় বমি বমি ভাব অনুভব করেন তবে এক টুকরো আদা মুখে দিয়ে চিবাতে থাকবেন। খুব দ্রুত বমি বমি ভাব দূর হবে। তবে এই বমি বমি ভাব প্রতিরোধ করতে আপনি ১-১.৫ গ্রাম আদা খেতে পারেন।

৪। আদা ইমিউন সিস্টেম উন্নত করে

আদা লিম্ফ্যাটিক সিস্টেমকে পরিষ্কার করার সাথে সাথে ইমিউন সিস্টেমকে উন্নত করে। অর্থাৎ রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে আদার রয়েছ যথেষ্ট ভূমিকা। এটি অঙ্গপ্রত্যঙ্গে জমে থাকা টক্সিন ভেঙ্গে শরীরকে উষ্ণ রাখে। আপনার শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি আদা শ্বাস-প্রশ্বাসকেও উন্নত করে।

৫। আদা পেশী ব্যথা কমায়

পেশী ব্যথা এবং ব্যথার বিরুদ্ধে আদা কার্যকর একটি ভেষজ। এটি আপনাকে ব্যথা থেকে তাৎক্ষণিক উপশম না দিলেও পেশীতে ব্যথার অগ্রগতি হ্রাস করবে। তাই আদার গুণাগুণ অগ্রাহ্য করা যায়না।

৬। বিরোধী প্রদাহজনক প্রভাব

অস্টিওপোরোসিসে আক্রান্ত রোগীদের ব্যথা কমানোর জন্য আদার গুরুত্ব রয়েছে। কারণ আদার মধ্যে রয়েছে জিঞ্জেরল, যার রয়েছে প্রদাহ বিরোধী বৈশিষ্ট্য। এটি নিয়মিত সেবনে রোগীদের ব্যথা কমবে। সেই সাথে তাদের গতিশীলতাও উন্নত করবে। অস্টিওপোরোসিসে আক্রান্ত ২৪৭ জন রোগীর উপর পরিচালিত একটি সমীক্ষা হয়েছিল। সেই সমীক্ষা অনুসারে আদার নির্যাস খাওয়া রোগীদের জন্য কম ব্যথার ওষুধের প্রয়োজন ছিল। আর তাদের ব্যথাও তুলনামূলক ভাবে কম ছিল।

৭। আদা মহিলাদের মাসিকের ব্যথা কমায়

মহিলাদের মাসিকের ব্যথা এবং অস্বস্তি দূর করতে আদা খাওয়া যেতে পারে। কারণ এই মসলাটি আইবুপ্রোফেন এবং মেফেনামিকের মতো ওষুধের মতোই কার্যকর। এর জন্য যা করতে হবে তা হল মাসিকের প্রথম তিন দিনে দিনে একবার ১ গ্রাম আদা খাওয়া। এটি মাসিকের রক্তপাতের সময় ব্যথা কমিয়ে দেবে।

৮। আদা ছত্রাক এবং ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণ রোধ করে

আদার মধ্যে উপস্থিত জিঞ্জেরল ছত্রাক এবং ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণের ঝুঁকি কমাতে পারে। আদার মধ্যে রয়েছে স্ট্রেপ্টোকক্কাস পাইজেনেস এবং স্ট্যাফিলোকক্কাস অরিয়াসের মতো ব্যাকটেরিয়া মেরে ফেলার ক্ষমতা। আদা বিভিন্ন ধরনের ক্ষতিকারক ব্যাকটেরিয়ার বৃদ্ধি রোধে কার্যকর। এছাড়াও আদায় আরও বেশ কিছু ছত্রাক-বিরোধী বৈশিষ্ট্যও রয়েছে।

৯। ডায়াবেটিস প্রতিরোধে আদা সাহায্য করে

বায়োঅ্যাকটিভ যৌগ জেরোল ইনসুলিন সংবেদনশীলতা বাড়ায় এবং ডায়াবেটিস প্রতিরোধে সাহায্য করে। এটি আপনাকে ডায়াবেটিস এবং ডায়াবেটিস সংক্রান্ত জটিলতা থেকে রক্ষা করতে পারে। এটি ডায়াবেটিসের সাথে সম্পর্কিত জটিলতা গুলিকেও উন্নত করে। আদার অন্যান্য গুণগুলোর মতো এটিও অনেক উপকারী।

১০। পাকস্থলীর আলসার নিরাময়ে আদার ভূমিকা

আদা পেটের আলসারের বিরুদ্ধে কার্যকর। আদা আপনার হজম ঠিক রাখবে এবং আপনার পেট সুস্থ রাখবে। আলসারের চিকিৎসায় ব্যবহৃত ওষুধের চেয়ে মশলাটি বেশি কার্যকর বলে জানা যায়।

এই লেখাটি আপনাদের কেমন লাগছে জানিনা। উপকার করার জন্য পোস্ট করেছি। যদি ভালো লেগে থাকে তবে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্টটি শেয়ার করুন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here