অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং থেকে আয় করার উপায়

https://puratondiary.com/%e0%a6%b8%e0%a6%bf%e0%a6%aa%e0%a6%bf%e0%a6%8f-%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%95%e0%a7%87%e0%a6%9f%e0%a6%bf%e0%a6%82-%e0%a6%a5%e0%a7%87%e0%a6%95%e0%a7%87-%e0%a6%87%e0%a6%a8%e0%a6%95/

অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং থেকে আয় করার উপায়

অনলাইনে আয় ও মার্কেটিং, একটি যেনো অন্যটি ছাড়া চলতেই পারেনা। ২০২২ সালে এসে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করে আয় করার উপায় অনেকেই জানেনা। অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং (affiliate marketing) এর দিকে আপনার ঝুঁকে পড়াটা বাস্তবেই বুদ্ধিমানের মত কাজ হবে। তবে, তার জন্য প্রয়োজন এ সম্পর্কে যথাযথ জ্ঞান। তাই চলুন, অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং (affiliate marketing) এর অলি গলিতে ছোট্ট একটা ট্যুর দিয়ে আসি। অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং থেকে আয় করার পূর্ণাঙ্গ বিষয়ে লিখার চেষ্টা করেছি।

অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং কি? (what is affiliate marketing)

অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং হলো, কোনো প্রোডাক্ট বিক্রয় করে দেয়ার মাধ্যমে কমিশন গ্রহণ করা। অনেকটা সেলস এক্সিকিউটিভ এর মতো। বিভিন্ন কোম্পানি এখন তাদের প্রোডাক্ট বিক্রয় করার জন্য অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং সিস্টেম ব্যবহার করে থাকে। এটি একটি অনলাইন মার্কেটিং মডিউল। এই মার্কেটিং সিস্টেম এ, বিভিন্ন অ্যাফিলিয়েট মার্কেটার এর সাহায্যে প্রোডাক্ট বিক্রয় করানো হয়।

অর্থ্যাৎ, আপনি যদি কোনো কোম্পানির অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং প্রোগ্রামে জয়েন করে তাদের পণ্য বিক্রয় করে দেন, তবে ওই বিক্রয় মূল্যের একটি অংশ আপনাকে কমিশন হিসেবে দেয়া হবে।

অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং মূলত একটি passive income ব্যাবস্থা। এখানে আপনার কাছে একটি লিঙ্ক দেয়া থাকবে। যা ব্যবহার করেই আপনাকে বিক্রয় এর কাজটি করতে হবে। তার মানে হলো, আপনাকে সারাদিন এর পেছনে লেগে থাকতে হবে না। দিনে মাত্র ২ থেকে ৩ ঘন্টা কাজ করলেই যথেষ্ট।  এরপর থেকে যতোবার কেউ ওই লিঙ্ক ব্যবহার করে পণ্য ক্রয় করবে, ততবার আপনি আয় করতে পারবেন। এখন প্রশ্ন হলো অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং কাজ করে কিভাবে? অ্যামাজন অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং, এফিলিয়েট মার্কেটিং কোর্স, ফেসবুকে এফিলিয়েট মার্কেটিং বিষয়ের সব উত্তর পেয়ে যাবেন।

অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করে কিভাবে আয় করে

অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং থেকে আয় করার উপায় যখনি আপনি চিন্তা করবেন, তখনই কতগুলো বিষয় মিলিয়ে নিতে হবে। যেকোনো কাজের পূর্বেই কিছু প্রস্তুতি দরকার হয়। এই ক্ষেত্রেও তাই। আপনি তখনই একজন অ্যাফিলিয়েট মার্কেটার হিসেবে কাজ শুরু করতে পারবেন, যখন আপনার পর্যাপ্ত পরিমাণ ট্রাফিক থাকবে।

এর জন্য প্রয়োজন হবে একটি ওয়েবসাইট, যেখানে আপনি কোনো নির্দিষ্ট একটি বিষয়ের উপর ব্লগ প্রকাশ করেন। আর তা যথেষ্ট পরিমাণ SEO Optimized ও হতে হবে। অথবা একটি ইউটিউব চ্যানেল থাকা জরুরি। অবশ্যই আপনার চ্যানেল এ ভালো পরিমাণে সাব্সক্রাইবার ও ভিউ থাকতে হবে। আবার ফেসবুক বা ইন্সটাগ্রাম এ যথেষ্ট ফলোয়ার সহ পেইজ থাকলেও চলবে। এইবার আপনি অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং এর জন্য সামনে এগুতে পারেন। কারণ প্রোডাক্ট বিক্রয় এর লিঙ্ক, এই ওয়েবসাইট, ইউটিউব চ্যানেল বা পেইজ এর মাধ্যমেই মার্কেটিং করতে হবে।

এবার আসি আপনি কি বিক্রয় করবেন, সে বিষয়ে। অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং মূলত physical এবং digital উভয় ধরণের product এর উপরেই প্রযোজ্য। ফিজিক্যাল প্রোডাক্ট হলো বই, কাপড়, ফিটনেস টুল, টিভি ইত্যাদি, যেগুলো আমরা স্পর্শ করতে পারি। আর ডিজিটাল প্রোডাক্ট হলো ওয়েবসাইট, app, ebook ইত্যাদি। সাধারণত ডিজিটাল প্রোডাক্ট এর অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং এ কমিশন বেশি পাওয়া যায়।

২০২২ সালের বেস্ট ১০টি অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং সাইট

কি কি লাগবে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করতে

এবার আসা যাক কি কি প্রয়োজন হবে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং শুরু করতে। অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং থেকে আয় করার জন্য আপনার কিছু বিষয়ে স্কিল থাকা জরুরি। যেমন Basic SEO, Basic WordPress, Basic English, Email marketing, Blogging এবং ধৈর্য। কারণ মার্কেটিং এর মূল বিষয় হলো কাস্টমার রিসার্চ ও proper niche selection. কোন ধরণের প্রোডাক্ট আপনি মার্কেটিং করবেন, কাদের কাছে প্রোডাক্ট লিঙ্ক পৌঁছাতে হবে সেই বিষয়গুলো খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

https://puratondiary.com/%e0%a6%b8%e0%a6%bf%e0%a6%aa%e0%a6%bf%e0%a6%8f-%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%95%e0%a7%87%e0%a6%9f%e0%a6%bf%e0%a6%82-%e0%a6%a5%e0%a7%87%e0%a6%95%e0%a7%87-%e0%a6%87%e0%a6%a8%e0%a6%95/
Photo credit: canva.com
  • নিশ বা বিষয়

অনেকে বলে থাকেন, কোনো স্কিল ছাড়াই অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং শুরু করা সম্ভব। কিন্তু আপনি যদি খুব দ্রুত ভালো একটা ইনকাম করতে চান, তবে উপরোক্ত বিষয়ে জ্ঞান থাকা আবশ্যক। পাশাপাশি খেয়াল রাখতে হবে, আপনি যেকোনো একটি বিষয় বা niche (নিশ) নিয়েই কাজ করছেন। যেমন, স্বাস্থ্য একটি নিশ, খেলাধুলা একটি নিশ, ফিটনেস একটি নিশ।

এতক্ষন তো আলোচনা করলাম পূর্ব প্রস্তুতি নিয়ে। এবার মাঠে নামা যাক। অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং থেকে আয় করার জন্য আপনাকে কোনো অ্যাফিলিয়েট প্রোগ্রামে জয়েন করতে হবে। এর জন্য দুই ধরণের উপায় আছে।

  • অ্যাফিলিয়েট মার্কেটপ্লেস এবং
  • ইনডিভিডুয়াল কোম্পানি

সিপিএ মার্কেটিং থেকে ইনকাম করার উপায়

  • অ্যাফিলিয়েট মার্কেটপ্লেস

অ্যাফিলিয়েট মার্কেটপ্লেস গুলো হল এমন কোম্পানি যারা নিজেদের কোনো পণ্য বিক্রয় করে না। বিভিন্ন কোম্পানির পণ্য বিক্রয় এর জন্য পুরো কোম্পানিটিই অ্যাফিলিয়েট হিসেবে কাজ করে। তারাই আবার অ্যাফিলিয়েট মার্কেটার নিয়োগ দিয়ে থাকে। আপনার বা আমার মত অনেকেই এখানে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং নিয়ে কাজ করে থাকে। আপনি চাইলে এমন কোনো কোম্পানি তে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং এর কাজ করতে পারেন।

অন্য দিকে ইনডিভিডুয়াল কোম্পানি গুলো নিজেরাই অ্যাফিলিয়েট মার্কেটার নিয়োগ দিয়ে থাকে। মনে রাখতে হবে, অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং থেকে আপনি প্রতি মাসে একই পরিমাণ টাকা আয় করতে পারবেন না। তখনই টাকা পাবেন, যখন আপনার লিঙ্ক ব্যবহার করে কেউ সেই পণ্য কিনে নিবে।

অ্যাফিলিয়েট মার্কেটপ্লেস সাইটে জয়েন করার জন্য, ওই কোম্পানির অ্যাফিলিয়েট ওয়েবসাইটে একটি একাউন্ট সাইন আপ করতে হবে। একাউন্ট approve হওয়ার পর আপনি আপনার পছন্দ মতো ক্যাটাগরি থেকে প্রোডাক্ট সিলেক্ট করে তার জন্য একটি  ইউনিক লিঙ্ক পেয়ে যাবেন।

এই লিঙ্কটি আপনার ব্লগ, ইউটিউব চ্যানেল বা সোশ্যাল মিডিয়া তে শেয়ার করে দিতে হবে। লিঙ্কটি আপনি সরাসরি ব্যবহার করতে পারেন, অথবা অ্যাড এর ব্যানার হিসেবে ও ব্যবহার করতে পারেন। আবার ইমেইল এর নিউজলেটার বা, ইমেইল মার্কেটিং এ ও ব্যবহার করতে পারবেন। যখনই কেউ আপনার দেয়া লিঙ্কটি তে প্রবেশ করে পন্য ক্রয় করবে, আপনি কমিশন পাবেন। প্রতিটি অ্যাফিলিয়েট মার্কেটারের জন্য এই লিঙ্ক ভিন্ন ভিন্ন হয়। তাই, কোম্পানি গুলো সহজেই ট্র্যাক করতে পারে, কার মাধ্যমে কোন পণ্য বিক্রয় হয়েছে।

অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং এর একটি ইন্টারেস্টিং বিষয় হলো cookies. ব্রাউজার এ প্রবেশ করলে আমরা cookies শব্দটি দেখতে পাই । এই কুকি আসলে কি?

যখন কেউ আপনার দেয়া লিঙ্ক এ প্রবেশ করে, তা থেকে ওই ব্যক্তির ব্রাউজারে কিছু কোড জমা হয়। এই কোড গুলোই কুকি। মজার বিষয় হলো, এই cookie একটি নির্দিষ্ট দিন পর্যন্ত জমা থাকা অবস্থায়, buyer যদি ওই ওয়েবসাইট থেকে আপনার পন্য ছাড়া অন্য কোনো পন্য ও কিনে থাকেন, তা আপনার সেল হিসেবে গন্য হবে।

শেষ কথা

অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করার ক্ষেত্রে কয়েকটি বিষয় খেয়াল রাখলে খুব দ্রুতই সাফল্য লাভ করা যায়। এর একটি হলো আপনার ওয়েবসাইটের ব্লগ। উন্নত মানের SEO Optimized ব্লগ বা কন্টেন্ট, সাইটের রিচ বাড়ায় দ্রুত। তাছাড়া review ব্লগ এবং দুই বা ততোধিক পন্যের মধ্যে তুলনা করে দেখানো হলে, সহজেই buyer কে পণ্য টি ক্রয় করতে উৎসাহী করা যায়।

আশা করছি এই ব্লগ টি পড়ে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং থেকে আয় করার উপায় সম্পর্কে সামগ্রিক একটি ধারণা পেয়েছেন। আর অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং শুরুর পথে পা রাখতে পারবেন সহজেই। এরপরও যদি কোন কিছু জানার থাকে তাহলে কমেন্ট করে জানাবেন। ধন্যবাদ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here